× ই-পেপার প্রচ্ছদ সর্বশেষ বাংলাদেশ রাজনীতি দেশজুড়ে বিশ্বজুড়ে বাণিজ্য খেলা বিনোদন মতামত চাকরি শিক্ষা আজকের কার্টুন ফিচার সকল বিভাগ ছবি ভিডিও লেখক আর্কাইভ কনভার্টার

ব্যাংক খাত

মুদ্রা সরবরাহ কমে বেড়েছে ডিজিটাল পেমেন্ট

আহমেদ ফেরদাউস খান

প্রকাশ : ৩০ সেপ্টেম্বর ২০২৫ ১১:০২ এএম

আপডেট : ৩০ সেপ্টেম্বর ২০২৫ ১১:৫০ এএম

মুদ্রা সরবরাহ কমে বেড়েছে ডিজিটাল পেমেন্ট

সারা বিশ্বেই দিন দিন বাড়ছে প্রযুক্তির ব্যবহার। বিশ্বের সঙ্গে তাল মিলিয়ে প্রযুক্তিগতভাবে এগিয়ে যাচ্ছে বাংলাদেশও। একটা সময় ব্যাংকের সব ধরনের লেনদেন হতো চেকের মাধ্যমে। এসব হিসাব মেন্টেইন করতে হতো রেজিস্টারের মাধ্যমে। আগে এক ব্যাংকের চেক অন্য ব্যাংক গ্রহণ করত না। পরবর্তী সময়ে অন্য ব্যাংকের চেক গ্রহণ পদ্ধতি চালু হলেও সেই টাকা জমা হতে বেশ কয়েক দিন লেগে যেত। এর ধারাবাহিকতায় জুলাই মাসে বাংলাদেশে মুদ্রা সরবরাহ এবং ঋণের প্রবৃদ্ধি মন্থর। তবে ডিজিটাল লেনদেনের পরিমাণ, মোবাইল ওয়ালেট থেকে শুরু করে ইন্টারনেট ব্যাংকিং এবং চলতি প্রবৃদ্ধি অব্যাহত রেখেছে। বাংলাদেশের কেন্দ্রীয় ব্যাংকের সর্বশেষ তথ্যে এ চিত্র দেখা গেছে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের মাসিক অর্থনৈতিক প্রবণতা (সেপ্টেম্বর) অনুযায়ী, জুলাই মাসে ব্যাপক মুদ্রা সরবরাহ (এম২), জুন মাসের তুলনায় শূন্য দশমিক ৩১ শতাংশ কমে গেছে। যদিও বার্ষিক ভিত্তিতে এটি ৬ দশমিক ৯৯ শতাংশ বেড়েছে, যা দেশীয় এবং বিদেশি সম্পদ বৃদ্ধির মাধ্যমে সমর্থিত।

ব্রড মানি হলো সেই মুদ্রা এবং জমা যা নাগরিক, ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠান এবং সরকারের কাছে থাকে। এটি ব্যাংকগুলোর সময় ও চাহিদা ভিত্তিক জমার সঙ্গে সম্পর্কিত। এ ছাড়া দেশীয় ঋণ জুলাই মাসে শূন্য দশমিক ৩৬ শতাংশ বেড়েছে, যা আগের মাসে ছিল ১ দশমিক শূন্য ৮ শতাংশ। বার্ষিক ভিত্তিতে ঋণের পরিমাণ বেড়েছে ৭ দশমিক ৯৬ শতাংশ, তবে গত বছরের দুই অঙ্ক বৃদ্ধির তুলনায় এটি অনেকটাই কম।

বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য বলছে, ঋণপ্রদান ব্যবস্থা ধীরগতিতে চলছে। বেসরকারি খাতে ঋণ প্রবৃদ্ধি গত বছরের ১০ শতাংশের থেকে কমে ৬ দশমিক ৫২ শতাংশে দাঁড়িয়েছে। তবে সরকারি ঋণ বেড়েছে ১৪ দশমিক ৫১ শতাংশ, যা রাজস্ব ঘাটতি পূরণের জন্য ব্যাংকের ওপর সরকারের নির্ভরশীলতা বাড়ানোর ইঙ্গিত দেয়।

লিকুইডিটি সূচকগুলোও সংকুচিত হয়েছে। রিজার্ভ মানি জুলাইয়ে ৩ দশমিক ৪২ শতাংশ কমে গেছে এবং আগস্টে একদিনের ঋণের জন্য কল-মানি রেট গড়ে ১০ শতাংশের কাছাকাছি ছিল, যা গত বছরের তুলনায় এক শতাংশ বেশি। যেখানে ঋণ সৃষ্টি মন্থর হচ্ছে, সেখানে ডিজিটাল অর্থনৈতিক সেবা দ্রুত বৃদ্ধি পাচ্ছে। চেক ক্লিয়ারিং ভলিউম জুলাই মাসে বছর ভিত্তিতে ১৩ শতাংশ কমে দাঁড়িয়েছে টাকায় ১ লাখ ৫৮ হাজার ৪৯ কোটি, যা কাগজি লেনদেনের ধীরে ধীরে কমে যাওয়ার দিকনির্দেশ করছে।

এর বিপরীতে, বৈদ্যুতিক ফান্ড ট্রান্সফারের পরিমাণ বেড়েছে ১৮ শতাংশ বছরভিত্তিক, যা দাঁড়িয়েছে ৮৭ হাজার ৮১২ কোটি টাকায়, ইঙ্গিত দেয় ডিজিটাল পেমেন্ট সিস্টেমের দিকে দৃশ্যমান স্থানান্তর।

ক্রেডিট কার্ড ব্যবহারে প্রবৃদ্ধি হয়েছে ৩২ শতাংশ, জুলাইয়ে এই পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ৩ হাজার ৫০৯ কোটি টাকায়, তবে জুনের তুলনায় কিছুটা কমেছে। পয়েন্ট অব সেল লেনদেন ৮ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে মাসিক ভিত্তিতে, যদিও ই-কমার্স পেমেন্ট ১৪ শতাংশ কমেছে, যা ইঙ্গিত দেয় গ্রাহকের আগ্রহ আবারও স্টোরে শপিংয়ের দিকে ফিরে এসেছে। ডেবিট কার্ডে লেনদেনের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ৪৩ হাজার ৮০৪ কোটি টাকায়, যা বছরে ১৭ শতাংশ বেড়েছে।

কেন্দ্রীয় ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরের জুনে দেশে ইন্টারনেট ব্যাংকিং ব্যবহারকারী গ্রাহকের সংখ্যা ছিল ১ কোটি ১৩ লাখ ৬৬ হাজার ৫৬৩ জন। আর পরের মাস জুলাইয়ে তা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১ কোটি ১৬ লাখ ৪২ হাজার ৫৯৪ জন। সেই হিসাবে জুলাইয়ে গ্রাহক বেড়েছে ২ লাখ ৭৬ হাজার ৩১ জন।

বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রকাশিত ইন্টারনেট ব্যাংকিংয়ের সর্বশেষ তথ্য বলছে, ইন্টারনেট ব্যাংকিং ও অ্যাপস ব্যবহার করে চলতি বছরের জুন মাসে লেনদেন হয়েছিল ১ লাখ ৪ হাজার ৯৩৫ কোটি টাকা। আর পরের জুলাই মাসে লেনদেনের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ১ লাখ ১৩ হাজার ৪৭০ কোটি টাকা। সেই হিসাবে এক মাসে ইন্টারনেট ব্যবহার করে লেনদেন বেড়েছে ৮ হাজার ৫৩৫ কোটি।

মোবাইল আর্থিক সেবা দেশটির প্রধান খুচরা পেমেন্ট চ্যানেল হিসেবে রয়েছে; যা জুলাইয়ে ২১ শতাংশ বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১ লাখ ৪৮ হাজার ৫৬৭কোটি টাকায়। এজেন্ট ব্যাংকিং, যা এক সময় গ্রামীণ এলাকার অন্তর্ভুক্তির জন্য গুরুত্বপূর্ণ ছিল, বর্তমানে তা মাত্র ১ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়ে ৬৫ হাজার ৪০৩ কোটি টাকায় দাঁড়িয়েছে।

গৃহস্থালির বিনিয়োগও নিরাপদ সম্পদে প্রবাহিত হচ্ছে। জাতীয় সঞ্চয় স্কিমে বিনিয়োগ ৬১ শতাংশ বেড়ে জুলাই মাসে দাঁড়িয়েছে ৭ হাজার ৯১৬ কোটি টাকায়, যা দুর্বল মানসিকতার পাশাপাশি উচ্চ মুদ্রাস্ফীতির কারণে গ্যারান্টেড রিটার্নের প্রতি আগ্রহকে প্রকাশ করে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক প্রধান অর্থনীতিবিদ ড. মোস্তফা কে মুজেরী প্রতিদিনের বাংলাদেশকে বলেন, 'মানুষ এখন ঘরে বসে সেবা নিতে স্বাচ্ছন্দ্য বোধ করেন। ব্যাংকগুলোও আগ্রহ দেখাচ্ছে বেশ। এটিএমের মাধ্যমে লেনদেনের তুলনায় ইলেকট্রনিক লেনদেনে খরচ কম। ডিজিটাল ব্যাংকিংয়ে লেনদেন বেড়ে যাওয়ায় ব্যাংকগুলো নতুন নতুন সেবা নিয়ে আসছে।' তিনি বলেন, 'প্রযুক্তি এগিয়ে চলেছে, তাই ডিজিটাল ব্যাংকিংয়ের ভবিষ্যৎ ভালো। অনেক মানুষ ব্যাংকে যেতে আগ্রহী না। সারা বিশ্বেই এমনটা ঘটছে। একবার ইন্টারনেট ব্যাংকিংয়ে যুক্ত হলে আর বিচ্ছিন্ন হচ্ছে না।'

শেয়ার করুন-

মন্তব্য করুন

Protidiner Bangladesh

সম্পাদক : মারুফ কামাল খান

প্রকাশক : কাউসার আহমেদ অপু

রংধনু কর্পোরেট, ক- ২৭১ (১০ম তলা) ব্লক-সি, প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড) ঢাকা -১২২৯

যোগাযোগ

প্রধান কার্যালয়: +৮৮০৯৬১১৬৭৭৬৯৬ । ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন (প্রিন্ট): +৮৮০৯৬১১৬৭৭৮১০, +৮৮০১৮৮০৭৪৪৫৮০ | ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন (অনলাইন): +৮৮০১৮৮০৭৪৪৫৮০, +৮৮০১৭৯৯৪৪৯৫৫৯ । ই-মেইল: [email protected]

সার্কুলেশন: +৮৮০৯৬১১৬৭৭৮০৭, +৮৮০১৮৮০৭৪৪৩৩২ । ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন মূল্য তালিকা