× ই-পেপার প্রচ্ছদ সর্বশেষ বাংলাদেশ রাজনীতি দেশজুড়ে বিশ্বজুড়ে বাণিজ্য খেলা বিনোদন মতামত চাকরি শিক্ষা আজকের কার্টুন ফিচার সকল বিভাগ ছবি ভিডিও লেখক আর্কাইভ কনভার্টার

সরবরাহ স্বাভাবিক, তবু বেড়েছে আটার দাম

কাউসার আহমেদ

প্রকাশ : ৩০ সেপ্টেম্বর ২০২৫ ০৯:৫৩ এএম

সরবরাহ স্বাভাবিক, তবু বেড়েছে আটার দাম

রাজধানীর বাজারে হঠাৎ বেড়ে গেছে আটার দাম। মাত্র এক সপ্তাহের ব্যবধানে কেজিপ্রতি ৫ থেকে ১০ টাকা পর্যন্ত দাম বাড়ায় সীমিত আয়ের মানুষ পড়েছে চরম ভোগান্তিতে।

বাজার ঘুরে দেখা গেছে, কয়েকদিন আগেও প্রতি কেজি প্যাকেটজাত আটা বিক্রি হয়েছিল ৫০ টাকায়। ২৮ সেপ্টেম্বর রবিবার প্রতি কেজি আটা বিক্রি হয় ৬০ টাকায়। অর্থাৎ এক সপ্তাহের ব্যবধানে কেজিপ্রতি বেড়েছে ১০ টাকা। অপরদিকে খোলা আটা এক সপ্তাহ আগে বিক্রি হয়েছে ৪০ টাকা। এখন বিক্রি হচ্ছে ৪৫ টাকা।

বিক্রেতারা বলেছেন, পূজায় চার দিন বন্ধ থাকবে, সে ক্ষেত্রে মানুষ বাজার থেকে আটা বেশি কেনার ফলে চাহিদার তুলনায় সরবরাহ কম হওয়ায় দাম বেড়ে গেছে। এখন গম আমদানি কম হচ্ছে। এটি বাড়লে সরবরাহ বাড়বে। ফলে বাজার স্বাভাবিক হবে। এদিকে, খুচরা বিক্রেতারা বলছে পাইকারি বিক্রেতারা দাম বাড়াচ্ছে আর পাইকারি বিক্রেতারা বলছে মিলের মালিকরা ইচ্ছা করে দাম বাড়াচ্ছে।

চট্টগ্রামের চাক্তাই খাতুনগঞ্জ আড়তদার সাধারণ ব্যবসায়ী কল্যাণ সমিতির সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ মহিউদ্দিন জানিয়েছেন, বর্তমানে গমের আমদানি কম হওয়ায় চাহিদার তুলনায় সরবরাহ কম হওয়ায় দাম বাড়ছে। দ্বিতীয়ত, পরবর্তী চার দিন আড়ত বন্ধ থাকায় বাজারে পণ্যের অতিরিক্ত চাহিদা তৈরি হয়েছে, যা দাম বাড়ার জন্য দায়ী। তবে তিনি বলেন, আন্তর্জাতিক বাজারে গমের দাম কম থাকার কারণে আমদানি বৃদ্ধি পেলে দেশীয় বাজারে দামও কমে আসবে।

ইনডেক্স মুন্ডির তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালে আন্তর্জাতিক বাজারে গমের দাম তুলনামূলকভাবে নিম্নমুখী অবস্থায় রয়েছে। গত বছরের তুলনায় দাম কিছুটা কমেছে, যা বৈশ্বিক উৎপাদন বৃদ্ধি ও রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের পর সরবরাহ পরিস্থিতির উন্নতির কারণে হয়েছে। তবে অঞ্চলভেদে পরিবহন খরচ ও মানের পার্থক্যের কারণে দাম ভিন্ন হতে পারে।

দেশে গমের মোট চাহিদার মাত্র ১৪-১৫ শতাংশ স্থানীয়ভাবে উৎপাদিত হয়, বাকিটা আমদানিনির্ভর। ২০২৪ সালে প্রায় ৭২ লাখ ৭৫ হাজার টন গম আমদানি হয়েছে, যা আগের বছরের তুলনায় ৩৪ শতাংশ বেশি এবং গত আট বছরে সর্বোচ্চ। চলতি বছরেও ৯ মাসে আমদানি ৪৫ লাখ টন ছাড়িয়েছে।

নতুন বাজার এলাকার গৃহিণী সেলিনা আক্তার বলেন, বাজারে গেলে প্রতিদিনই কোনো না কোনো জিনিসের দাম বাড়ছে। সংসার চালাতে হিমশিম খেতে হচ্ছে।

কুড়িল এলাকার চাকরিজীবী রফিকুল ইসলাম বলেন, বেতন তো আগের মতোই আছে। কিন্তু আটা-চাল, তেল সবকিছুর দাম প্রতিদিনই বাড়ছে। এভাবে চলতে থাকলে সংসার সামলানো কঠিন হয়ে যাবে।

মালিবাগের কলেজছাত্রী নুসরাত জাহান বলেন, হোস্টেলে আটা কিনে খেতে হয়। আগে দুই কেজি প্যাকেট ১১০ টাকায় কিনতাম, এখন ১৩০ টাকা দিতে হচ্ছে। ছাত্র-ছাত্রীদের জন্য এটা বড় চাপ।

কারওয়ান বাজারের মুদি দোকানদার আশিকুর রহমান বলেন, আমরা তো পাইকারি বাজার থেকে যে দামে কিনছি, সেই দামে বিক্রি করছি। দাম বাড়ার পেছনে আমাদের কোনো হাত নেই।

জোয়ার সাহারা বাজারের বিক্রেতা মিজানুর রহমান বলেন, পাইকারি বাজারে প্রতিদিন দাম পরিবর্তন হচ্ছে। আমরা বাধ্য হয়ে বাড়তি দামে বিক্রি করছি।

খিলক্ষেতের আরেক ব্যবসায়ী রাশেদুল হক বলেন, আমদানি ঠিক আছে, সরবরাহেও সমস্যা নেই। কিন্তু মিলমালিকরা ইচ্ছা করে দাম বাড়াচ্ছে। আমাদেরও তখন সেই দামেই বিক্রি করতে হয়।

কনজ্যুমারস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (ক্যাব)-এর ভাইস প্রেসিডেন্ট এস এম নাজের হোসাইন প্রতিদিনের বাংলাদেশকে বলেন, বিশ্ববাজারে গমের দাম দীর্ঘদিন ধরে কমলেও দেশীয় আটা-ময়দার দাম কমেনি। ফলে আটা-ভিত্তিক সব খাদ্যপণ্যের দামও ঊর্ধ্বমুখী ছিল। সরকারের কোনো সংস্থা এ নিয়ে কার্যকর পদক্ষেপ নেয়নি। সামনে রমজান আসছে- এ সুযোগে ব্যবসায়ীরা আগে থেকেই মজুদ ও দাম বাড়াচ্ছে। এতে রমজানে আলাদা করে দাম বাড়ানোর প্রয়োজন হবে না, আবার তখন প্রশ্নও তোলা যাবে না।

কৃষি বিশেষজ্ঞ জাহাঙ্গীর আলম প্রতিদিনের বাংলাদেশকে বলেন, এ সময় সাধারণত চালের পরিমাণ কমে যাওয়ায় মানুষের মধ্যে আটার চাহিদা বেড়ে যায়। তবে এবার আন্তর্জাতিক বাজারের প্রভাব দেখিয়ে ব্যবসায়ীরা দাম আরও বাড়াচ্ছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, এ প্রবণতা বেশি দিন থাকবে না। আগামী এক মাসের মধ্যে আমন ধান উঠতে শুরু করলে বাজারে চাপ কমবে এবং তখন আটার দামও কমতে শুরু করবে।

শেয়ার করুন-

মন্তব্য করুন

Protidiner Bangladesh

সম্পাদক : মারুফ কামাল খান

প্রকাশক : কাউসার আহমেদ অপু

রংধনু কর্পোরেট, ক- ২৭১ (১০ম তলা) ব্লক-সি, প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড) ঢাকা -১২২৯

যোগাযোগ

প্রধান কার্যালয়: +৮৮০৯৬১১৬৭৭৬৯৬ । ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন (প্রিন্ট): +৮৮০৯৬১১৬৭৭৮১০, +৮৮০১৮৮০৭৪৪৫৮০ | ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন (অনলাইন): +৮৮০১৮৮০৭৪৪৫৮০, +৮৮০১৭৯৯৪৪৯৫৫৯ । ই-মেইল: [email protected]

সার্কুলেশন: +৮৮০৯৬১১৬৭৭৮০৭, +৮৮০১৮৮০৭৪৪৩৩২ । ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন মূল্য তালিকা