প্রবা প্রতিবেদক
প্রকাশ : ২৮ সেপ্টেম্বর ২০২৫ ১৭:১১ পিএম
বামে চেয়ারে বসে রয়েছেন ফাহমিদা খাতুন।
সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগের (সিপিডি) নির্বাহী পরিচালক ও বাংলাদেশ ব্যাংকের বোর্ড সদস্য ড. ফাহমিদা খাতুন বলেছেন, ঢালাওভাবে ব্যবসায়ীদের ব্যাংক হিসাব জব্দ রাখা ঠিক নয়। কোনো বড় ধরনের বিচ্যুতি বা সুনির্দিষ্ট অভিযোগ না থাকলে জব্দকৃত হিসাবগুলো খুলে দেওয়া যেতে পারে। তা না হলে সার্বিক ব্যবসা-বাণিজ্য, দারিদ্র্য ও কর্মসংস্থানের ওপর বিরাট প্রভাব ফেলবে।
শনিবার (২৭ সেপ্টেম্বর) এফডিসিতে ব্যাংকিং খাতের শৃঙ্খলায় ব্যাংক একীভূতকরণ নিয়ে ছায়া সংসদে তিনি এসব কথা বলেন।
ফাহমিদা খাতুন বলেন, গত এক বছরে অর্থনীতির কিছু সূচকের পতন ঠেকানো গেলেও সংকট কাটেনি, দারিদ্র্য কমছে না। ব্যাংকিং খাতে বিগত সরকারের সময় সুশাসন ছিল না। প্রতিটি সূচকেই খারাপ অবস্থা বিরাজ করেছিল। অর্থনীতির আকারের চেয়ে রাজনৈতিক বিবেচনায় অনেক বেশি ব্যাংক অনুমোদন দেওয়া হয়েছে, যা পৃথিবীর অন্য কোথাও নেই। বিগত সময়ে নিজেদের সম্পদ বাড়ানোর হাতিয়ার হিসেবে ব্যাংকগুলো ব্যবহার করা হয়েছে। অন্তর্বর্তী সরকার দুর্বল ব্যাংকসমূহকে একীভূত করার যে চেষ্টা চালাচ্ছে, তার প্রক্রিয়াটি জটিল ও ঝুঁকিপূর্ণ। এ বিষয়ে মানুষের মধ্যে ধোঁয়াশা রয়েছে।
তিনি বলেন, অর্থনীতি ও রাজনীতি পাশাপাশি চলে, একে অপরের পরিপূরক। দুর্বল শাসন ব্যবস্থার মাধ্যমে অর্থনীতি চলতে পারে না। সঠিক রাজনীতি ছাড়া সঠিক অর্থনীতি হয় না। স্বল্পমেয়াদি সরকার দীর্ঘায়িত হওয়া অর্থনীতির জন্য মঙ্গলজনক নয়। এতে বিনিয়োগ ও কর্মসংস্থান বাধাগ্রস্ত হয়। তাই আর্থিক খাতের শৃঙ্খলার জন্য দ্রুত নির্বাচনের মাধ্যমে রাজনৈতিক সরকার দরকার।
সভাপতির বক্তব্যে ডিবেট ফর ডেমোক্রেসির চেয়ারম্যান হাসান আহমেদ চৌধুরী কিরণ বলেন, বিগত আওয়ামী সরকারের আমলে বাংলাদেশ ব্যাংকের কিছু কর্মকর্তা ক্ষমতার অপব্যবহার করে আর্থিক খাতের মাফিয়াদের অনৈতিক সুবিধা দিয়েছিল। তখন দেশে ছিল মাফিয়া ইকোনমির শাসন। চোখের সামনে ইসলামী ব্যাংকসহ বেশ কয়েকটি ভালো ব্যাংক লুণ্ঠিত হয়েছে। আর্থিক খাতের মাফিয়ারা এসব ব্যাংকের আমানতকারীদের টাকা শুধু আত্মসাতই করেনি, বিদেশেও পাচার করেছে। এর ফলে ব্যাংক গ্রাহকরা উদ্বেগ, উৎকণ্ঠা ও আতঙ্কে রয়েছে। অনেকেই চিকিৎসার খরচ মেটানোর জন্য ব্যাংক থেকে টাকা তুলতে পারছেন না। এ অবস্থায় কেউ কেউ মৃত্যুবরণও করেছেন।
তিনি আরও বলেন, আওয়ামী সরকারের আমলে রাজনৈতিক বিবেচনায় দেওয়া ব্যাংকগুলোর মালিকরা কেবল অর্থ আত্মসাতই করেনি, ব্যাংকের স্থাবর-অস্থাবর সব সম্পদ লুট করেছে। বর্তমানে যে ৬ থেকে ৭ লাখ কোটি টাকার খেলাপি ঋণ রয়েছে তা আদায় করা যাচ্ছে না। আর্থিক খাতের মাফিয়ারা যেসব সম্পত্তি মর্টগেজ রেখে ঋণ নিয়েছিল, সেগুলো জটিল ও নিষ্কণ্টক না হওয়ায় নিলামে তোলা সম্ভব হচ্ছে না। আবার অনেক সম্পত্তি প্রভাবশালীদের হওয়ায় ক্রেতারাও আগ্রহ দেখাচ্ছেন না।
ছায়া সংসদে বক্তারা বলেন, যেসব ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠানের দেশের অভ্যন্তরে দৃশ্যমান বিনিয়োগ রয়েছে কিংবা যাদের ঋণ পরিশোধের সক্ষমতা আছে, তাদের সম্পদ বা ব্যাংক হিসাব জব্দ করে হয়রানি করলে প্রতিষ্ঠানগুলো অর্থনৈতিকভাবে দুর্বল হয়ে পড়বে। এতে তারা ঋণ পরিশোধে অক্ষম হয়ে যাবে। ঢালাওভাবে তদন্ত ছাড়া অনুমাননির্ভর হস্তক্ষেপ অর্থনীতিতে বিরূপ প্রভাব ফেলবে।
ডিবেট ফর ডেমোক্রেসির আয়োজনে অনুষ্ঠিত ‘ব্যাংক একীভূতকরণ ব্যাংকিং খাতে শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনবে’ শীর্ষক প্রতিযোগিতায় সাউথইস্ট ইউনিভার্সিটির বিতার্কিকদের হারিয়ে বিজয়ী হয় ঢাকার সরকারি টিচার্স ট্রেনিং কলেজের দল।
প্রতিযোগিতায় বিচারক ছিলেন অধ্যাপক ড. তাজুল ইসলাম চৌধুরী তুহিন, সিনিয়র সাংবাদিক মাঈনুল আলম, প্রফেশনাল অ্যাকাউন্টেন্ট আবুল বশির খান, সাংবাদিক মো. আলমগীর হোসেন ও সাংবাদিক রেফায়েত উল্লাহ মীরধা।