প্রবা প্রতিবেদক
প্রকাশ : ২২ সেপ্টেম্বর ২০২৫ ১৯:৩৭ পিএম
দেশের বাজারে ভোজ্য তেলের দাম বৃদ্ধির সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। তবে কত টাকা বাড়বে সেটা আনুষ্ঠানিকভাবে জানানো হয়নি। সূত্র বলছে, বাণিজ্য মন্ত্রণালয় প্রতি লিটারে এক টাকা বাড়ানোর সিদ্ধান্ত জানিয়েছে। আর ব্যবসায়িরা আরও বেশি বাড়াতে দাবি জানিয়েছে।
সোমবার (২২ সেপ্টেম্বর) বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের উদ্যোগে বাংলাদেশ ভেজিটেবল অয়েল রিফাইনার্স অ্যান্ড বনস্পতি মেনুফ্যাকচারারস অ্যাসোসিয়েশনের সঙ্গে এক বৈঠকে এই সিদ্ধান্ত নেয়া হয়। বস্ত্র ও পাট মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে আয়োজিত এ বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন বাণিজ্য উপদেষ্টা শেখ বশিরউদ্দীন, বাণিজ্যসচিব মাহবুবুর রহমানসহ সিটি, মেঘনা, টিকে গ্রুপ ও বাংলাদেশ এডিবল অয়েলের প্রতিনিধিরা।
সভা সূত্রে জানা যায়, ব্যবসায়ীরা সম্প্রতি প্রতি লিটার সয়াবিন ও পাম তেলের দাম ১০ টাকা বাড়ানোর প্রস্তাব দিয়েছিল। কিন্তু বাণিজ্য মন্ত্রণালয় আন্তর্জাতিক বাজারের তুলনায় প্রস্তাবিত দাম অতিরিক্ত বলে মন্তব্য করে। তাদের পর্যবেক্ষণ অনুযায়ী, প্রতি কেজি সয়াবিন তেলের দাম সাড়ে চার টাকা এবং পাম তেলের দাম প্রায় সাত টাকা বাড়ার যৌক্তিকতা রয়েছে। তবুও মন্ত্রণালয় এককভাবে প্রতি লিটার তেলের দাম মাত্র এক টাকা বৃদ্ধির সিদ্ধান্ত নেয়।
বাণিজ্যসচিব মাহবুবুর রহমান বলেন, ব্যবসায়ীরা যে দাম বৃদ্ধির প্রস্তাব দিয়েছেন তা আন্তর্জাতিক বাজারের সঙ্গে সঙ্গতিপূর্ণ নয়। বিষয়টি এখন পর্যালোচনায় রয়েছে, পরবর্তী বৈঠকে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। তবে সভা শেষে কোনো আনুষ্ঠানিক ব্রিফিং দেওয়া হয়নি।
অন্যদিকে, বৈঠকে অংশ নেওয়া এক কোম্পানির প্রতিনিধি নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, আন্তর্জাতিক বাজারে বর্তমানে প্রতি টন সয়াবিন তেলের দাম ১ হাজার ২০০ ডলার ছুঁয়েছে। গত কয়েক সপ্তাহে আন্তর্জাতিক বাজারে ১৮-২০ শতাংশ মূল্যবৃদ্ধি হয়েছে, একই প্রবণতা রয়েছে পাম ওয়েলেও। এই পরিস্থিতিতে মাত্র এক টাকা সমন্বয় ব্যবসার বাস্তবতা প্রতিফলিত করে না।
এর আগে গত ১২ আগস্ট বাণিজ্য মন্ত্রণালয় বোতলজাত সয়াবিন তেলের দাম ১৮৯ টাকা অপরিবর্তিত রেখে খোলা পাম তেলের দাম ১৯ টাকা কমিয়ে ১৫০ টাকা নির্ধারণ করে। তারও আগে গত ১৩ এপ্রিল প্রতি লিটার সয়াবিন তেলের দাম ১৮৯ এবং পাম তেলের দাম ১৬৯ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছিল। বর্তমানে বাজারে বোতলজাত সয়াবিন তেল ১৮৯ টাকা, খোলা সয়াবিন ১৭৪ টাকা এবং পাম তেল ১৫০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।
ব্যবসায়ীরা আরও অভিযোগ করেন, সম্প্রতি জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) এক প্রজ্ঞাপনে সয়াবিন, সানফ্লাওয়ার, পাম ও ভুট্টার তেল আমদানিতে এক শতাংশ উৎসে কর আরোপ করেছে। এর ফলে ভোজ্যতেলের আমদানি খরচ বেড়েছে। কিন্তু এই বাড়তি চাপের প্রতিফলন বাজারমূল্যে যথাযথভাবে প্রতিফলিত হচ্ছে না।
বাণিজ্য মন্ত্রণালয় সাধারণত বাংলাদেশ ট্রেড অ্যান্ড ট্যারিফ কমিশনের পর্যবেক্ষণ ও বিশ্লেষণের ভিত্তিতে দাম সমন্বয়ের সিদ্ধান্ত নেয়। তবে এ ক্ষেত্রে ব্যবসায়ীদের দাবি ও কমিশনের পর্যবেক্ষণ পাশ কাটিয়ে মন্ত্রণালয় এককভাবে প্রতি লিটারে এক টাকা দাম বাড়ানোর সিদ্ধান্ত দিয়েছে। এই সিদ্ধান্ত মানতে নারাজ কোম্পানিগুলো।