একনেক
প্রবা প্রতিবেদক
প্রকাশ : ১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৫ ১১:৩১ এএম
অনিয়ম ও অস্বচ্ছতা দূর করতে সব প্রকল্পের টেন্ডার প্রক্রিয়া অনলাইনে করা হবে বলে জানিয়েছেন পরিকল্পনা উপদেষ্টা ওয়াহিদউদ্দিন মাহমুদ। তিনি বলেন, ‘এতে করে গুটিকয়েক মাফিয়া প্রতিষ্ঠানের আধিপত্য বন্ধ হবে। আগামী সপ্তাহেই অনলাইন প্রক্রিয়ার বিষয়টি গেজেট আকারে প্রকাশ করা হবে।’
বুধবার (১৭ সেপ্টেম্বর) জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির (একনেক) সভা শেষে সংবাদ সম্মেলনে এ সিদ্ধান্তের কথা জানান পরিকল্পনা উপদেষ্টা ড. ওয়াহিদউদ্দিন মাহমুদ। রাজধানীর পরিকল্পনা কমিশন চত্বরে এনইসি সম্মেলন কক্ষে অনুষ্ঠিত একনেক সভায় প্রধান উপদেষ্টা ও একনেক চেয়ারপারসন ড. মুহাম্মদ ইউনূসের সভাপতিত্বে এই একনেক সভা হয়।
পরিকল্পনা উপদেষ্টা বলেন, অনলাইনে সবকিছু হলে রেল খাত, জ্বালানিসহ বিভিন্ন খাতে গুটিকয়েক মাফিয়া প্রতিষ্ঠানের আধিপত্য বন্ধ হবে। কারও প্রভাব দেখে নয়, যোগ্যতা আছে এমন প্রতিষ্ঠানকে মূল্যায়ন করেই কাজ দেওয়া হবে। কোনো প্রতিষ্ঠান ঋণখেলাপি হলে, আগে কোনো অনিয়মে জড়িত হলে, সেই প্রতিষ্ঠানকে দরপত্রে যোগ্য হিসেবে বিবেচনা করা হবে না।
এখন দেখা হবে তাদের দক্ষতা কেমন, বিভিন্ন জায়গায় তাদের রেকর্ড কেমন ছিল দেখা হবে। একজনের নামে কাজ নিয়ে অন্যদের কাজ দেওয়া সম্ভব হবে না। নতুন যারা আছে তাদের সুযোগ দেওয়া হবেÑ যোগ করেন তিনি।
তিনি জানান, বাংলাদেশের অধিকাংশ প্রকল্প সঠিক সময়ে বাস্তবায়ন হয় না ভূমি অধিগ্রহণের জটিলতার কারণে। এ ছাড়া খাস জমি রেখে কৃষিজমিতে সরকারি প্রকল্প বাস্তবায়নের নজিরও রয়েছে অনেক। ভূমি অধিগ্রহণকে কেন্দ্র করে আমলাদের অনৈতিক চর্চাও রয়েছে।
ড. ওয়াহিদউদ্দিন মাহমুদ বলেন, সারা দেশে খাস জমি পড়ে আছে। এ বিষয়ে কয়েকজন উপদেষ্টা সিদ্ধান্ত নিয়েছি, এগুলো কী অবস্থায় আছে তা বের করব। কী পরিমাণ খাস জমি অপব্যবহার হয়েছে তা দেখা হবে। যত খাস জমি পড়ে আছে তা দুই মাসের মধ্যে হিসাব নেওয়া হবে। সেজন্য চার উপদেষ্টার নেতৃত্বে কমিটি গঠন করা হয়েছে। এ চার উপদেষ্টা হলেনÑ ভূমি মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা আলী ইমাম মজুমদার, জ্বালানি উপদেষ্টা ফওজুল কবির খান, গৃহায়ন ও গণপূর্ত উপদেষ্টা আদিলুর রহমান ও পরিবেশ উপদেষ্টা সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান।
খাস জমি খোঁজার কারণ উল্লেখ করে ড. ওয়াহিদউদ্দিন মাহমুদ বলেন, ‘ভূমি অধিগ্রহণ করতে অনেক সময় লেগে যায়, অনেক কৃষিজমিও ধ্বংস হয়ে গেছে। তাই আমরা সিদ্ধান্ত নিয়েছি সরকারের বহু খাস জমি অব্যবহৃত পড়ে আছে, সেগুলো খুঁজে বের করার। সেজন্য এ চার উপদেষ্টার নেতৃত্বে কমিটি গঠন করা হয়েছে। এ কমিটি মাঠ পর্যায়ে, বিশেষ করে জেলা পর্যায়ের খাস জমির তথ্যগুলো একত্রিত করে রিপোর্ট করবেন।’
তিনি বলেন, ‘গাজীপুর টেক্সটাইল ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজটির প্রস্তাব নাকচ করে দেওয়া হয়েছে। কারণ এখানে ভূমি অধিগ্রহণের ব্যাপার রয়েছে। অথচ পাশেই জিন ব্যাংকের ক্যাম্পাস খালি পড়ে রয়েছে।’
প্রকল্প বাস্তবায়নের গতি সম্পর্কে পরিকল্পনা উপদেষ্টা বলেন, ‘দুই মাসে এডিপি বাস্তবায়ন ২ দশমিক ৩৯ শতাংশ। এটি অনেক কম। অন্যান্য বছর ৩ থেকে ৪ শতাংশের মধ্যে থাকে। এখন বাস্তবায়ন না করার কোনো অজুহাত চলবে না। এজন্য আমরা আগামী সপ্তাহে আন্তঃমন্ত্রণালয় বৈঠক ডেকেছি।’
কোনো সরকারি কর্মকর্তা এখন প্রকল্প পরিচালক হতে চান না উল্লেখ করে ড. ওয়াহিদউদ্দিন মাহমুদ আরও বলেন, ‘প্রকল্প পরিচালক (পিডি) সাধারণত সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় থেকেই নেওয়া হয়। এখন এমন অবস্থা হয়েছে কেউ পিডি হতে চান না।’
একনেক সভা দেশের উন্নয়ন কার্যক্রমে গতি আনতে ৮ হাজার ৩৩৩ কোটি ২৮ লাখ টাকা ব্যয় সংবলিত ১৩টি প্রকল্প অনুমোদন করেছে। এর মধ্যে সরকারি অর্থায়ন ৪ হাজার ৪৩৭ কোটি ৮২ লাখ টাকা, প্রকল্প ঋণ ১ হাজার ২২৫ কোটি ৩৬ লাখ টাকা এবং সংস্থার নিজস্ব অর্থায়ন ২ হাজার ৬৭০ কোটি ৯ লাখ টাকা ধরা হয়েছে।
সভায় পরিকল্পনা উপদেষ্টা ওয়াহিদউদ্দিন মাহমুদ, অর্থ, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি উপদেষ্টা ড. সালেহউদ্দিন আহমেদ, স্বরাষ্ট্র ও কৃষি উপদেষ্টা অবসরপ্রাপ্ত লেফটেন্যান্ট জেনারেল মো. জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী, পররাষ্ট্র উপদেষ্টা মো. তৌহিদ হোসেন, মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা উপদেষ্টা ফারুক ই আজম, শিক্ষা উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. চৌধুরী রফিকুল আবরার, শিল্প ও গৃহায়ন উপদেষ্টা আদিলুর রহমান খান, বিদ্যুৎ ও জ্বালানি উপদেষ্টা মুহাম্মদ ফাওজুল কবির খান, পরিবেশ ও পানিসম্পদ উপদেষ্টা সৈয়দা রিজওয়ানা হাসানসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
সভায় অনুমোদিত ১৩টি প্রকল্প হলো : মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের একটি প্রকল্প ‘তথ্য আপা : তথ্য যোগাযোগ প্রযুক্তির মাধ্যমে নারীদের ক্ষমতায়ন প্রকল্প প্রকল্প। শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের একটি প্রকল্প ঢাকা প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়, গাজীপুরের গবেষণাগারসমূহের সক্ষমতা বৃদ্ধিসহ আধুনিকায়ন এবং প্রয়োজনীয় অবকাঠামো উন্নয়ন প্রকল্প। বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়ের ৩টি প্রকল্প, (১) ২০০০ হর্স পাওয়ার রিগ ক্রয় প্রকল্প’ এবং ৪টি মূল্যায়ন উন্নয়ন কূপ ও ১টি অনুসন্ধান কুপ খনন’নেসকো এলাকায় নেটওয়ার্ক অবকাঠামো উন্নয়ন এবং বিদ্যুৎ বিতরণ ব্যবস্থার মর্ডানাইজেশন প্রকল্প।
বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের ১টি প্রকল্প, এক্সপোর্ট কমপিটিটিভনেস ফর জবস প্রকল্প। দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের ১টি প্রকল্প, উপকূলীয় ও ঘূর্ণিঝড়প্রবণ এলাকায় বহুমুখী ঘূর্ণিঝড় আশ্রয়কেন্দ্র নির্মাণ প্রকল্প। বস্ত্র ও পাট মন্ত্রণালয়ের ১টি প্রকল্প, শেখ হাসিনা স্পেশালাইজড জুট টেক্সটাইল মিল প্রস্তাবিত ‘যমুনা স্পেশালাইজড জুট অ্যান্ড টেক্সটাইল মিল’।