× ই-পেপার প্রচ্ছদ সর্বশেষ বাংলাদেশ রাজনীতি দেশজুড়ে বিশ্বজুড়ে বাণিজ্য খেলা বিনোদন মতামত চাকরি শিক্ষা আজকের কার্টুন ফিচার সকল বিভাগ ছবি ভিডিও লেখক আর্কাইভ কনভার্টার

কার্গো ভাড়ায় বন্দি ফল ও সবজি রপ্তানির অগ্রযাত্রা

হুমায়ুন মাসুদ, চট্টগ্রাম

প্রকাশ : ১৫ সেপ্টেম্বর ২০২৫ ১০:২৩ এএম

ফাইল ফটো।

ফাইল ফটো।

২০২৩-২৪ অর্থবছরে দেশ থেকে কাঁঠাল রপ্তানি হয়েছিল দুই হাজার ২৪ মেট্রিক টন। পরের বছর রপ্তানি আরও বাড়বেÑ এমনটাই প্রত্যাশা করেছিলেন রপ্তানিকারকরা। কিন্তু সেটি হয়নি, উল্টো পরের বছর কাঁঠাল রপ্তানি নেমে এসেছে অর্ধেকে। ২০২৪-২৫ অর্থবছরে কাঁঠাল রপ্তানি হয়েছে এক হাজার ৮৩ টন। আম রপ্তানির ক্ষেত্রেও একই অবস্থা। ২০২৩-২৪ অর্থবছরে যেখানে বিভিন্ন দেশে আম রপ্তানি হয়েছিল দুই হাজার ৪৯৭ টন, সেখানে পরের বছর ২০২৪-২৫ অর্থবছরে আমদানি হয়েছে এক হাজার ৮৪৭ টন।

কাঁচা সবজি এবং ফল রপ্তানিকারকদের অভিযোগ, কার্গো বিমান ভাড়া এবং পর্যাপ্ত কার্গো স্পেস না পাওয়ার কারণেই আগের অর্থবছরের তুলনায় কাঁঠাল রপ্তানি কমছে। তারা জানিয়েছেন, অনিয়মতান্ত্রিকভাবে ভাড়া বৃদ্ধিসঠিকভাবে কার্গো স্পেস বরাদ্দ না দেওয়ায় রপ্তানিকারকরা বিভিন্নভাবে হয়রানির শিকার হচ্ছেনফলে কৃষিজ পণ্যের রপ্তানি হ্রাস পাচ্ছেকার্গো ভাড়া বেশি হওয়ায় দীর্ঘদিনের চেষ্টায় তৈরি করা এই কৃষিপণ্যের রপ্তানি বাজার প্রতিবেশী দেশ ভারত, পাকিস্তান, নেপালশ্রীলঙ্কার হাতে চলে যাচ্ছে

শুধু আম-কাঁঠাল নয়, একই কারণে আগের অর্থবছরের তুলনায় ২০২৪-২৫ অর্থবছরে অধিকাংশ সবজি রপ্তানিও কমেছে। একই সময়ে আবার লেবু, পেয়ারা, আনারসসহ কিছু কিছু ফলের রপ্তানি বেড়েছে। ফুলকপি, কুমড়া, টমেটো রপ্তানিও কিছুটা বেড়েছে।

কৃষি মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, দেশ থেকে ৪৮ ধরনের দেশীয় ফল বিশ্বের বিভিন্ন দেশে রপ্তানি হয়। অন্যদিকে প্রায় ৫০ ধরনের সবজি রপ্তানি হয়।

ফল রপ্তানির তথ্য বিশ্লেষণ করে দেখা যায়, আগের অর্থবছরের তুলনায় ২০২৪-২৫ অর্থবছরে আম, আমড়া, তেঁতুল, বড়ই, শুকনো আম রপ্তানি কমেছে। অন্যদিকে সবজি রপ্তানির তথ্য বিশ্লেষণ করে দেখা যায়, আগের অর্থবছরের তুলনায় ২০২৪-২৫ অর্থবছরে রপ্তানি কমেছে দেশীয় শিম, বরবটি, বেগুন, পটোল, কচুর ছড়া, লাউ, শসা, কাঁচামরিচ ও কাঁচা পেপের।

কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উদ্ভিদ সংঘ নিরোধ উইং জানায়, ফল রপ্তানির তথ্য অনুযায়ী, ২০২৩-২৪ অর্থবছরে বিভিন্ন দেশে আম রপ্তানি হয়েছে দুই হাজার ৪৯৭ টন, সেখানে ২০২৪-২৫ অর্থবছরে রপ্তানি হয়েছে এক হাজার ৮৪৭ টনআমড়া রপ্তানি কমেছে ৯৯ টন। ২০২৩-২৪ অর্থবছরে বিভিন্ন দেশে আমড়া রপ্তানি হয়েছে ২৬০ টন, সেখানে ২০২৪-২৫ অর্থবছরে রপ্তানি হয়েছে ১৬১ টন। ২০২৩-২৪ অর্থবছরে বরই রপ্তানি হয়েছে ২১৭ টন, সেখানে ২০২৪-২৫ অর্থবছরে রপ্তানি হয়েছে ২১০ টন। ২০২৩-২৪ অর্থবছরে তেঁতুল রপ্তানি হয়েছে ৮১ টন, সেখানে ২০২৪-২৫ অর্থবছরে ৮০ টনশুকনো আম রপ্তানি কমেছে ৭৭০ কেজি। ২০২৩-২৪ অর্থবছরে শুকনো আম রপ্তানি হয় দুই হাজার ২৬০ কেজি, সেখানে ২০২৪-২৫ অর্থবছরে রপ্তানি হয়েছে এক হাজার ৪৯০ কেজি।

এদিকে কিছু কিছু ফল রপ্তানি কমলেও আনারস, লিচু, পেয়ারা ও লেবু রপ্তানি কিছুটা বেড়েছে। আগের অর্থবছরের তুলনায় ২০২৪-২৫ অর্থবছরে আনারস রপ্তানি বেড়েছে প্রায় ৩০ টন। ২০২৩-২৪ অর্থবছরে বিভিন্ন দেশে আনারস রপ্তানি হয় ৭১ টন, সেখানে ২০২৪-২৫ অর্থবছরে আনারস রপ্তানি হয়েছে ১০০ টন। অন্যদিকে লিচু রপ্তানি বেড়েছে ৭৯ টন। ২০২৩-২৪ অর্থবছরে বাংলাদেশ থেকে বিভিন্ন দেশে লিচু রপ্তানি হয় ১৬৮ টন, সেখানে ২০২৪-২৫ অর্থবছরে লিচু রপ্তানি হয়েছে ২৪৭ টন। পেয়ারা রপ্তানি বড়েছে ২৭ টন। ২০২৩-২৪ অর্থবছরে বিভিন্ন দেশে পেয়ারা রপ্তানি হয় ৫৬৯ টন, সেখানে ২০২৪-২৫ অর্থবছরে পেয়ারা রপ্তানি হয়েছে ৫৯৬ টন। লেবু রপ্তানি বেড়েছে ৪১ টন। ২০২৩-২৪ অর্থবছরে বিভিন্ন দেশে লেবু রপ্তানি হয় ৮১৭ টন আর ২০২৪-২৫ অর্থবছরে লেবু রপ্তানি হয়েছে ৮৫৮ টন।

অন্যদিকে সবজি রপ্তানির তথ্য অনুযায়ী, আগের অর্থবছরের তুলনায় ২০২৪-২৫ অর্থবছরে বরবটি রপ্তানি কমেছে ৭৭ টন। ২০২৩-২৪ অর্থবছরে বরবটি রপ্তানি হয় ১৮৩ টন, সেখানে ২০২৪-২৫ অর্থবছরে রপ্তানি হয়েছে ১০৬ টন। দেশীয় শিম রপ্তানি কমেছে ২২৯ টন। ২০২৩-২৪ অর্থবছরে দেশীয় শিম রপ্তানি হয় এক হাজার ৫৫ টন, ২০২৪-২৫ অর্থবছরে রপ্তানি হয়েছে ৮২৬ টন। বেগুন রপ্তানি কমেছে ৭২ টন। ২০২৩-২৪ অর্থবছরে বেগুন রপ্তানি হয় ৪৫৩ টন, সেখানে ২০২৪-২৫ অর্থবছরে লেবু রপ্তানি হয়েছে ৩৮১ টন।

কচুর ছড়া রপ্তানি কমেছে ৪৬৩ টন। ২০২৩-২৪ অর্থবছরে কচুর ছড়া রপ্তানি হয় এক হাজার ২৪১ টন, ২০২৪-২৫ অর্থবছরে রপ্তানি হয়েছে ৭৭৮ টন। পটোল রপ্তানি কমেছে ৮৬৩ টন। ২০২৩-২৪ অর্থবছরে পটোল রপ্তানি হয় তিন হাজার ৬৬৮ টন, সেখানে ২০২৪-২৫ অর্থবছরে পটোল রপ্তানি হয়েছে দুই হাজার ৮০৫ টন। আগের বছরের তুলনায় ২০২৪-২৫ অর্থবছরে কাঁচা মরিচ রপ্তানি কমেছে ১৪৫ টন। ২০২৩-২৪ অর্থবছরে কাঁচা মরিচ রপ্তানি হয় ২৬৮ টন, ২০২৪-২৫ অর্থবছরে রপ্তানি হয়েছে ১২৩ টন। লাউ রপ্তানি কমেছে ৩৪১ টন। ২০২৩-২৪ অর্থবছরে লাউ রপ্তানি হয় ৬৪০ টন, সেখানে ২০২৪-২৫ অর্থবছরে লাউ রপ্তানি হয়েছে ২৯৯ টন।

কাঁচা পেপে রপ্তানি কমেছে ১৩৪ টন। ২০২৩-২৪ অর্থবছরে কাঁচা পেপে রপ্তানি হয় ২৩৪ টন, ২০২৪-২৫ অর্থবছরে রপ্তানি হয়েছে ১০০ টন। শসা রপ্তানি কমেছে ৯০ টন। ২০২৩-২৪ অর্থবছরে শসা রপ্তানি হয় ২০৫ টন, সেখানে ২০২৪-২৫ অর্থবছরে শসা রপ্তানি হয়েছে ১১৫ টন। মুলা রপ্তানি কমেছে ৪ টন।

এদিকে অধিকাংশ সবজির রপ্তানি কমলেও আগের অর্থবছরের তুলনায় ২০২৪-২৫ অর্থবছরে ফুলকপি, কুমড়া ও টমেটো রপ্তানি বেড়েছে। টমেটো রপ্তানি বেড়েছে ২৮ টন। ২০২৩-২৪ অর্থবছরে টমেটো রপ্তানি হয় মাত্র দুই টন, সেখানে ২০২৪-২৫ অর্থবছরে রপ্তানি হয়েছে ৩০ টন। অন্যদিকে ২০২৩-২৪ অর্থবছরে দেশে ফুলকপি রপ্তানি হয় ৫৬ টন, আর ২০২৪-২৫ অর্থবছরে রপ্তানি হয়েছে ৭০ টন। এ ছাড়া কুমড়া রপ্তানি বেড়েছে ২৮৭ টন। ২০২৩-২৪ অর্থবছরে কুমড়া রপ্তানি হয় ৪১১ টন, সেখানে ২০২৪-২৫ অর্থবছরে রপ্তানি হয়েছে ৬৯৮ টন।

তাজা শাকসবজি, ফল রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠান তাহুরা ইন্টারন্যাশনালের মালিক ফয়েজ আহমেদ প্রতিদিনের বাংলাদেশকে বলেন, ফল ও সবজি রপ্তানিতে অন্যতম বাধা হলো কার্গো ভাড়া এবং কার্গো স্পেস। একদিকে বছর বছর ভাড়া বাড়ার কারণে পার্শ্ববর্তী দেশের সঙ্গে প্রতিযোগিতায় পিছিয়ে পড়ছি। অন্যদিকে চাহিদামতো স্পেস না পাওয়ায় পণ্য রপ্তানিও কমছে।

তিনি আরও বলেন, ফল ও সবজি রপ্তানি শুরু করেছিলাম ১৯৯৮ সালের দিকে। তখন ঢাকা থেকে দুবাইতে পণ্য পাঠাতে খরচ হতো কেজিতে ১৭ টাকাকিন্তু সেটি বেড়ে এখন আমাদের খরচ হয় প্রায় ১৪৪ টাকাগত বছরও ঢাকা থেকে দুবাই রুটে এক কেজি পণ্য পাঠাতে খরচ হতো ৯৬ টাকার মতো

বিমানের কর্মকর্তাদের অনিয়ম প্রসঙ্গ তুলে তিনি বলেন, অন্যান্য কেরিয়ারে ভাড়া কেজিতে ৫ থেকে ১০ টাকা বেশি হলেও অন্যান্য সুযোগ-সুবিধা ভালো। কারণ সেগুলোতে স্পেসের জন্য কর্মকর্তাদের টাকা দিতে হয় না। কিন্তু বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসের ক্ষেত্রে স্পেসের জন্য কর্মকর্তাদের ঘুষ দিতে হয়। না হয়, চাহিদামতো স্পেস পাওয়া যায় না। ধরুন, আমি চাইলাম ১০ হাজার কেজি পণ্য পাঠাতে, ঘুষ না দিলে তারা বলবে স্পেস নেই, ২০০ কেজি নেবে। তারা টাকা ছাড়া স্পেস দেয় না।

একই ধরনের মন্তব্য করেছেন তাজা শাকসবজি, ফল রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠান এমকে এন্টারপ্রাইজের মালিক দীপক কুমার দাশ। প্রতিদিনের বাংলাদেশকে তিনি বলেন, কার্গো ভাড়ার জন্যই আমরা পিছিয়ে পড়ছি। আমাদের প্রতিবেশী দেশগুলো থেকে কার্গো বিমানে পণ্য পাঠাতে যে পরিমাণ খরচ হয়, আমাদের এখান থেকে পাঠাতে তার দুই থেকে তিনগুণ বেশি টাকা খরচ হয়। এতে আমরা প্রতিযোগিতায় পিছিয়ে পড়ছি। আমাদের কার্গো স্পেস কম থাকাতে চাহিদা বেশি হওয়ায় এয়ারলাইনসগুলো বেশি টাকা দাবি করে। ক্রেতা ধরে রাখতে তখন আমাদের বেশি দিয়ে হলেও পণ্য পাঠাতে হয়। তবে এবার সবজি এবং ফল রপ্তানি কিছুটা কম হওয়ার পেছনে অন্য একটি কারণ রয়েছে। বিমানের কার্গোতে তৈরি পোশাক বেশি রপ্তানি হওয়ায় স্পেসের অভাবে শাকসবজি, ফল রপ্তানি কিছুটা কমেছে।

এই সংকট নিরসনে তিনি বিমানে শাকসবজি ও ফল রপ্তানির জন্য ডেডিকেটেড কার্গো স্পেস রাখার অনুরোধ জানান। তিনি বলেন, সংকট উত্তরণে আমাদের কার্গো বিমান বাড়াতে হবে। এ ছাড়া একটি উড়োজাহাজের মোট কার্গো স্পেসের একটি অংশ যদি তাজা শাকসবজি এবং ফল রপ্তানির জন্য নির্ধারণ করে দেওয়া হয় যে, একটি বিমানে তাজা শাকসবজি ও ফলের জন্য কমপক্ষে এই পরিমাণ স্পেস দিতে হবে। তখন শাকসবজি, ফল রপ্তানি আরও বাড়বে।

শেয়ার করুন-

মন্তব্য করুন

Protidiner Bangladesh

সম্পাদক : মারুফ কামাল খান

প্রকাশক : কাউসার আহমেদ অপু

রংধনু কর্পোরেট, ক- ২৭১ (১০ম তলা) ব্লক-সি, প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড) ঢাকা -১২২৯

যোগাযোগ

প্রধান কার্যালয়: +৮৮০৯৬১১৬৭৭৬৯৬ । ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন (প্রিন্ট): +৮৮০৯৬১১৬৭৭৮১০, +৮৮০১৮৮০৭৪৪৫৮০ | ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন (অনলাইন): +৮৮০১৮৮০৭৪৪৫৮০, +৮৮০১৭৯৯৪৪৯৫৫৯ । ই-মেইল: [email protected]

সার্কুলেশন: +৮৮০৯৬১১৬৭৭৮০৭, +৮৮০১৮৮০৭৪৪৩৩২ । ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন মূল্য তালিকা