× ই-পেপার প্রচ্ছদ সর্বশেষ বাংলাদেশ রাজনীতি দেশজুড়ে বিশ্বজুড়ে বাণিজ্য খেলা বিনোদন মতামত চাকরি শিক্ষা আজকের কার্টুন ফিচার সকল বিভাগ ছবি ভিডিও লেখক আর্কাইভ কনভার্টার

সুদহার কমার পরও বিক্রি বেড়েছে সঞ্চয়পত্রে

আহমেদ ফেরদাউস খান

প্রকাশ : ১৩ সেপ্টেম্বর ২০২৫ ২২:১৭ পিএম

আপডেট : ১৩ সেপ্টেম্বর ২০২৫ ২২:১৯ পিএম

সুদহার কমার পরও বিক্রি বেড়েছে সঞ্চয়পত্রে

সঞ্চয়পত্র ভেঙে ফেলার প্রবণতা ছিল গত তিন অর্থবছর জুড়ে। ২০২৪-২৫ অর্থবছরে নিট বিক্রির পরিমাণ ছিল ৬ হাজার ৬৩ কোটি টাকা ঋণাত্মক। এর মানে হচ্ছে গত অর্থবছরে সঞ্চয়পত্র থেকে কোনো ঋণ পায়নি সরকার। উল্টো ওই অর্থ সরকার আগে বিক্রি হওয়া সঞ্চয়পত্রের সুদ-আসল গ্রাহকদের পরিশোধ করতে হয়েছে। এর মধ্যেই কমেছে সুদহার। তবে সুদহার কমার পরও সঞ্চয়পত্রে বিক্রি বেড়েছে।

জাতীয় সঞ্চয় অধিদপ্তরের সঞ্চয়পত্র বিক্রির হালনাগাদ তথ্যে দেখা যায়, ২০২৫-২৬ অর্থবছরের প্রথম মাস জুলাইয়ে সঞ্চয়পত্রের নিট বিক্রি পরিমাণ ছিল ১ হাজার ২৯৩ কোটি ৪৮ লাখ টাকা ধনাত্মক। এই অর্থ সরকার ঋণ হিসেবে নিয়ে উন্নয়ন কর্মকাণ্ডসহ রাষ্ট্রীয় অন্যান্য কাজে খরচ করেছে।

অথচ টানা তিন অর্থবছর সঞ্চয়পত্র থেকে কোনো ঋণ পায়নি সরকার। অর্থাৎ ওই তিন বছরে যত টাকার সঞ্চয়পত্র বিক্রি হয়েছিল, তার থেকে বেশি আগে বিক্রি হওয়া সঞ্চয়পত্রের সুদ-আসল বাবদ গ্রাহকদের পরিশোধ করতে হয়েছে। ফলে নিট বা প্রকৃত বিক্রির পরিমাণ ছিল ঋণাত্মক বা নেগেটিভ।

সঞ্চয় অধিদপ্তরের তথ্য বলছে, ২০২০-২১ অর্থবছরে সঞ্চয়পত্রের নিট বা প্রকৃত বিক্রির পরিমাণ ছিল ৪১ হাজার ৯৬০ কোটি টাকা ধনাত্মক। অর্থাৎ ওই অর্থবছরে সঞ্চয়পত্র থেকে ৪১ হাজার ৯৬০ কোটি টাকা ঋণ পেয়েছিল সরকার। ২০২১-২২ অর্থবছরে সঞ্চয়পত্র থেকে ১৯ হাজার ৯১৬ কোটি টাকার ঋণ পেয়েছিল সরকার। কিন্তু পরের অর্থবছর থেকে এই খাত থেকে কোনো ঋণ পায়নি সরকার। ২০২২-২৩ অর্থবছরে নিট বিক্রির পরিমাণ ছিল ৩ হাজার ২৯৬ কোটি টাকা ঋণাত্মক। ২০২৩-২৪ অর্থবছরে নিট বিক্রির অঙ্ক ছিল ২১ হাজার ১২৪ কোটি ৩৮ লাখ টাকা ঋণাত্মক।

সবশেষ গত ২০২৪-২৫ অর্থবছরে সঞ্চয়পত্রে নিট বা প্রকৃত বিক্রর পরিমাণ দাঁড়ায় ৬ হাজার ৬৩ কোটি ৩৩ লাখ টাকা ঋণাত্মক।

সঞ্চয় অধিদপ্তরের তথ্যে দেখা যায়, গত অর্থবছরে সব মিলিয়ে ৬৮ হাজার ৪৩৯ হাজার কোটি টাকার বিভিন্ন ধরনের সঞ্চয়পত্র বিক্রি হয়েছে। অন্যদিকে আগে বিক্রি হওয়া সঞ্চয়পত্রের সুদ-আসল পরিশোধ এবং মেয়াদ পূর্তির আগেই ভাঙানো বাবদ ৭৪ হাজার ৫০৩ কোটি টাকা পরিশোধ করা হয়েছে। এ হিসাবেই নিট বিক্রির পরিমাণ ছিল ৬ হাজার ৬৩ কোটি টাকা।

২০২৩-২৪ অর্থবছরে ৭৮ হাজার ৮৪৮ হাজার কোটি টাকার বিভিন্ন ধরনের সঞ্চয়পত্র বিক্রি হয়। আগে বিক্রি হওয়া সঞ্চয়পত্রের সুদ-আসল পরিশোধ এবং মেয়াদ পূর্তির আগেই ভাঙানো বাবদ পরিশোধ করা হয় ৯৯ হাজার ৯২৩ কোটি টাকা। নিট বিক্রির পরিমাণ ছিল ২১ হাজার ১২৪ কোটি টাকা ঋণাত্মক।

আগে বিক্রি হওয়া সঞ্চয়পত্রের সুদ-আসল গ্রাহকদের পরিশোধের পর যেটা অবশিষ্ট থাকে, তাকে বলা হয় নিট বিক্রি। ওই অর্থ সরকারের কোষাগারে জমা থাকে এবং সরকার তা রাষ্ট্রীয় কর্মসূচি বাস্তবায়নে কাজে লাগায়। বিনিময়ে সঞ্চয়পত্রের গ্রাহকদের প্রতি মাসে সুদ দিতে হয়।

চলতি ২০২৫-২৬ অর্থবছরে সঞ্চয়পত্র বিক্রির লক্ষ্যমাত্রা কমানো হয়েছে। এবার সঞ্চয়পত্র বিক্রির নিট লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে মাত্র ১২ হাজার ৫০০ কোটি টাকা। এ ছাড়া গত অর্থবছরের মাঝামাঝিতে এসে প্রতিষ্ঠান ব্যতীত ব্যক্তিপর্যায়ের সব সঞ্চয়পত্রের ক্ষেত্রে মেয়াদ শেষে পুনর্বিনিয়োগ সুবিধা চালু করা হয়। ডাকঘর সঞ্চয় ব্যাংকে মেয়াদি হিসাবের পুনর্বিনিয়োগ সুবিধা আবার চালু করা হয়। পেনশনার সঞ্চয়পত্রে মুনাফা তিন মাসের পরিবর্তে প্রতি মাসে দেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়।

এদিকে বিক্রি কমে যাওয়ায় চলতি বছরের প্রথম মাস জানুয়ারিতে সব ধরনের সঞ্চয়পত্রের সুদ বা মুনাফার হার বাড়ানো হয়। মেয়াদ পূরণ সাপেক্ষে সঞ্চয়পত্রের ধরন অনুসারে এ হার বেড়ে হয় সর্বোচ্চ ১২ দশমিক ৫৫ শতাংশ। সবচেয়ে জনপ্রিয় পরিবার সঞ্চয়পত্রের সুদের হার ১১ দশমিক ৫২ শতাংশ থেকে বাড়িয়ে সাড়ে ১২ শতাংশ করেছিল অন্তর্বর্তী সরকার। কিন্তু ছয় মাস না যেতেই সব ধরনের সঞ্চয়পত্রের মুনাফার হার কমানো হয়। চলতি ২০২৫-২৬ অর্থবছরের প্রথম দিন ১ জুলাই থেকে সঞ্চয়পত্রের সর্বোচ্চ সুদহার নির্ধারণ করা হয় ১১ দশমিক ৯৮ শতাংশ এবং সর্বনিম্ন সুদহার ৯ দশমিক ৭২ শতাংশ।

জাতীয় সঞ্চয় অধিদপ্তর সবশেষ সঞ্চয়পত্র বিক্রির যে তথ্য প্রকাশ করেছে তাতে দেখা যায়, গত ২০২৪-২৫ অর্থবছরের শেষ মাস জুনে সঞ্চয়পত্রে নিট বিক্রির পরিমাণ ছিল ১৬৯ কোটি ৪২ লাখ টাকা ঋণাত্মক। আগের মাস মে মাসে নিট বিক্রির পরিমাণ ছিল ১ হাজার ৫৩৭ কোটি ৩৫ লাখ টাকা। এপ্রিলে নিট বিক্রির পরিমাণ ছিল ১ হাজার ২৬০ কোটি টাকা। আগের মাস মার্চে সঞ্চয়পত্রের নিট বিক্রির পরিমাণ ছিল ৮০ কোটি ৬০ লাখ টাকা।

এর আগে টানা পাঁচ মাস (অক্টোবর থেকে ফেব্রুয়ারি) সঞ্চয়পত্রের নিট বিক্রি ছিল ঋণাত্মক। অর্থাৎ ওই পাঁচ মাসে যত টাকার সঞ্চয়পত্র বিক্রি হয়েছে, তার চেয়ে বেশি আগে বিক্রি হওয়া সঞ্চয়পত্রের সুদ-আসল বাবদ পরিশোধ করেছে সরকার। এই অর্থ সরকারের কোষাগার বা ব্যাংক থেকে ঋণ নিয়ে শোধ করা হয়েছে।

সঞ্চয় অধিদপ্তরের তথ্যে দেখা যায়, গত বছরের অক্টোবরে সঞ্চয়পত্রের নিট বিক্রির পরিমাণ ছিল ৩ হাজার ২২৫ কোটি টাকা ঋণাত্মক। তেমনই নভেম্বরে নিট বিক্রির পরিমাণ ছিল ৩ হাজার ৪৩১ কোটি টাকা ঋণাত্মক। ডিসেম্বরে নিট বিক্রির পরিমাণ ছিল ৩ হাজার ৯২১ কোটি টাকা ঋণাত্মক। চলতি বছরের প্রথম মাস জানুয়ারিতে নিট বিক্রির পরিমাণ ছিল ৪ হাজার ৭৬৯ কোটি ঋণাত্মক। ফেব্রুয়ারিতে সঞ্চয়পত্রের নিট বিক্রির পরিমাণ ছিল ১ হাজার ৭৫৮ কোটি টাকা ঋণাত্মক।

অর্থনীতিবিদ সাবেক তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অর্থ উপদেষ্টা এবি মির্জ্জা আজিজুল ইসলাম প্রতিদিনের বাংলাদেশকে বলেন, ‘মূল্যস্ফীতি বৃদ্ধির ফলে মানুষের আয় কমছে। ফলে আগের মতো সঞ্চয় করতে পারছে না। ফলে দীর্ঘদিন ধরেই সঞ্চয়পত্রে বিনিয়োগ কমছে। তবে এখন কমতে শুরু করেছে মূল্যস্ফীতি। যদিও এখনেও সহনীয় পর্যায়ে আসেনি। তবে এর ইতিবাচক প্রভাব পড়েছে।’

তিনি বলেন, সঞ্চয়পত্রের সুদের হার কমছে, তবে তা ব্যাংক থেকে অনেক বেশি। এ ছাড়া ব্যাংক খাতে অস্থিরতা চলছে, কয়েকটি ব্যাংক আমানতকারীর টাকা ফেরত দিতে পারছে না। কয়েকটি ব্যাংক একীভূত করার আলোচনা চলছে। সব কিছু মিলিয়ে সবাই সঞ্চয়পত্রের দিকেই এখন ঝুঁকছে। দেশের সাধারণ মানুষ সবচেয়ে বেশি অর্থ জমা রাখে ব্যাংকে। তারপর নিরাপত্তা ও অধিক মুনাফার আশায় সঞ্চয়পত্রে বিনিয়োগ করে। সঞ্চয়পত্রে বিনিয়োগকে সবচেয়ে নিরাপদ বিনিয়োগ বলা হয়ে থাকে।

শেয়ার করুন-

মন্তব্য করুন

Protidiner Bangladesh

সম্পাদক : মারুফ কামাল খান

প্রকাশক : কাউসার আহমেদ অপু

রংধনু কর্পোরেট, ক- ২৭১ (১০ম তলা) ব্লক-সি, প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড) ঢাকা -১২২৯

যোগাযোগ

প্রধান কার্যালয়: +৮৮০৯৬১১৬৭৭৬৯৬ । ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন (প্রিন্ট): +৮৮০৯৬১১৬৭৭৮১০, +৮৮০১৮৮০৭৪৪৫৮০ | ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন (অনলাইন): +৮৮০১৮৮০৭৪৪৫৮০, +৮৮০১৭৯৯৪৪৯৫৫৯ । ই-মেইল: [email protected]

সার্কুলেশন: +৮৮০৯৬১১৬৭৭৮০৭, +৮৮০১৮৮০৭৪৪৩৩২ । ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন মূল্য তালিকা