বিএসটিআই
হুমায়ুন মাসুদ, চট্টগ্রাম
প্রকাশ : ১১ সেপ্টেম্বর ২০২৫ ১১:০৬ এএম
আপডেট : ১১ সেপ্টেম্বর ২০২৫ ১১:০৬ এএম
রাইটিং অ্যান্ড প্রিন্টিং পেপারস আমদানি অথবা বিক্রি করতে হলে নিতে হয় বিএসটিআইয়ের মান সনদ। বিএসটিআইয়ের বাধ্যতামূলক মান সনদের আওতায় এই পণ্যটি থাকলেও এতদিন এটি পরীক্ষার সুযোগ ছিল না চট্টগ্রামে। তাই চট্টগ্রাম বন্দর দিয়ে রাইটিং অ্যান্ড প্রিন্টিং পেপারস আমদানি করা হলেও এটি পরীক্ষার জন্য পাঠিয়ে দেওয়া হতো ঢাকায়। তাই ঢাকা থেকে পরীক্ষার রিপোর্ট আসার আগ পর্যন্ত অপেক্ষায় থাকতে হতো আমদানিকারকদের। এতে একদিকে তৈরি হতো দীর্ঘসূত্রিতা, অন্যদিকে সময়ক্ষেপণের কারণে পণ্য খালাসে বিলম্ব হওয়ায় বাড়ত আমদানিকারকের খরচ।
আমদানিকারকদের এই ভোগান্তি এখন ঘুচে যাচ্ছে বলে জানিয়েছেন বিএসটিআইয়ের কর্মকর্তারা। তারা জানিয়েছেন, সম্প্রতি বিএসটিআই চট্টগ্রাম কার্যালয় নতুন ভবনে স্থানান্তরিত হওয়ার পর এখন পণ্য পরীক্ষায় সক্ষমতা বেড়েছে। ৩১৫টি বাধ্যতামূলক পণ্যের মধ্যে আগে যেখানে চট্টগ্রাম কার্যালয়ে ১০৭টির মতো পণ্য পরীক্ষা করা সম্ভব হতো। সেখানে এখন নতুন ভবনে ল্যাব চালু হওয়ার পর ১৭৪টি পণ্যের পরীক্ষা করা সম্ভব হচ্ছে বলে তারা জানান।
এ সম্পর্কে জানতে চাইলে বিএসটিআইয়ের উপ-পরিচালক (সিএম উইং) খালিদ রেজা চৌধুরী প্রতিদিনের বাংলাদেশকে বলেন, 'নতুন ভবনে স্থানান্তরিত হওয়ার পর আমাদের কার্যক্রমে অনেক গতি এসেছে। বিশেষ করে ল্যাবের কার্যক্রম অনেক প্রসারিত হয়েছে। আগে যেসব পণ্য চট্টগ্রামে পরীক্ষা করা সম্ভব হতো না, এখন সেগুলো করা সম্ভব হচ্ছে।'
বিএসটিআইয়ের তথ্য অনুযায়ী, পণ্য আমদানি এবং বিক্রির ক্ষেত্রে বর্তমানে সর্বমোট ৩১৫টি পণ্যের মান সনদ বাধ্যতামূলক করেছে প্রতিষ্ঠানটি। এর মধ্যে গত সেপ্টেম্বর মাসে ইলেকট্রোলাইট ড্রিংকস (স্পোর্টস ড্রিংকস), প্রিন্টেড সিল্ক শাড়ি, ডিস ওয়াশার্স, ওয়াশিং মেশিন, কিচেন মেশিনস, কিচেন হুডস, বেড ম্যাট্রেসসহ নতুন করে ১৬টি পণ্যকে বাধ্যতামূলক মান সনদের আওতাভুক্ত করা হয়। এই ৩১৫টি পণ্যের মধ্যে চট্টগ্রাম কার্যালয়ে এতদিন মাত্র ১০৭টি পণ্যের পরীক্ষা করা সম্ভব হতো। এর মধ্যে কেমিক্যাল টেস্টিং ল্যাবে ৯০টি পণ্যের পরীক্ষা হতো। বাকি ১৭টি পণ্যের পরীক্ষা হতো ফিজিক্যাল টেস্টিং ল্যাবে। কিন্তু গত ২৮ জুন প্রতিষ্ঠানটির কার্যক্রম নতুন ভবনে স্থানান্তর হওয়ার পর আরও ৬৭টি পণ্য পরীক্ষার সক্ষমত্য তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে কেমিক্যাল টেস্টিং ল্যাবে ২০টি পণ্যের পরীক্ষা করার সক্ষমতা তৈরি হয়েছে। ফিজিক্যাল টেস্টিং ল্যাবে ৪৭টি পণ্যের পরীক্ষা করার সুযোগ তৈরি বাংলাদেশ হয়েছে।
বিএসটিআইয়ের উপ-পরিচালক (পদার্থ উইং) এএসএম ফয়সাল প্রতিদিনের বাংলাদেশকে বলেন, 'নতুন ভবনের স্থানান্তরের আগে ফিজিক্যাল টেস্টিং ল্যাবে আমরা মাত্র ১৭টি পণ্যের পরীক্ষা করতে পারতাম। কিন্তু এখন নতুন ভবনে স্থানান্তরের পর ৬৪টি পণ্যের পরীক্ষার করার সক্ষমতা তৈরি হয়েছে। এতে নতুন করে আমরা ৪৭টি পণ্য পরীক্ষা করার সক্ষমতা অর্জন করেছি। ইতোমধ্যে অধিকাংশ পণ্যের পরীক্ষা করা শুরুও হয়ে গেছে এখানে।'
প্রতিষ্ঠানটির তথ্য অনুযায়ী ফিজিক্যাল টেস্টিং ল্যাবে নতুন করে যেসব পণ্য পরীক্ষা করা যাচ্ছে সেগুলো হলো- ফ্লাইউড, রাইটিং অ্যান্ড প্রিন্টিং পেপারস, টাইপ রাইটারের কার্বন পেপার, নিউজপ্রিন্ট, টেবিলওয়্যার তৈরির মেলামাইন মোল্ডিং যৌগ, ফেসিয়াল টিস্যু পেপার, টেবিলওয়্যার তৈরির ইউরিয়া মোল্ডিং যৌগ, জেল কালির বলপেন্ট, পাইপ স্টিল ব্ল্যাক অ্যান্ড হট ডিপড জিঙ্ক কৌটেড ওয়েলডেড অ্যন্ড সিমলেস, হলো ক্লে ব্রিকস অ্যান্ড ব্লকস, হাউসহোল্ড রিফরিজারেটিং অ্যাপ্লিয়ান্সেস, পিভিসি পাইপ, অ্যালমনিয়াম অ্যান্ড অ্যালমনিয়াম অ্যালয়স, সিমেন্ট, গ্রেডেড অ্যাসফল্ট ব্লিন্ডার, ড্রেনেজ এবং সুয়ারেজ লাইনে ব্যবহৃত প্লাস্টিক পাইপ, স্টিল, বৈদ্যুতিক কাজে ব্যবহৃত পিভিসি পাইপ, স্ট্রাকচারাল স্টিল অ্যান্ড অ্যাংগেল, কংক্রিট ম্যাসনারি ইউনিট, গৃহস্থলি কাজে ব্যবহৃত টাঙস্টেন ফিলামেন্ট ল্যাম্প, এসিড স্টার্টার বেটারিজ, ইনসুলেটেড ফ্লেক্সিবল কর্ডস, পিভিসি ইনসুলেটেড ক্যাবলস, উইন্ডিং ওয়্যারস, কাটআউট সুইচ, ক্রস লিংকড পলিথিন ইনসুলেটেড পিভিসি শিটেড ক্যাবলস, পোর্সলেইন ইনসুলেটর, সেল্ফ ব্যালাস্টেড ফ্লাওয়ারসেন্ট ল্যাম্প, সেল্ফ ব্যালাস্টেড ল্যাম্পের এনার্জি ইফিসিয়েন্সি রেটিং, ডাবল ক্যাপড ফ্লাওয়ারসেন্ট ল্যাম্প, গৃহস্থলি ব্যবহারের ইলেকট্রিক আইরন, এক্সট্রডেড ইনসুলেশন পাওয়ার ক্যাবল, টিইবুলার ফ্লাওয়ারসেন্ট ল্যাম্পের ব্যালাস্ট, টিইবুলার ফ্লাওয়ারসেন্ট ল্যাম্পের এসি সাপ্লাইড ইলেকট্রনিক ব্যালাস্ট, ইলেকট্রিসিটি মিটারিং ইকুইপমেন্ট, ইলেকট্রিসিটি মিটারিং পেমেন্ট সিসটেম, সেল্ফ ব্যালাস্টেড এলইডি ল্যাম্প, লিড এসিড ট্রাকশন বেটারিজ, আনইন্টারেপটিবল পাওয়ার সিসটেম, ব্যাটারিচালিত ওয়াল ক্লক এবং গৃহস্থলি ব্যবহারের কেটলি। অন্যদিকে নতুন ভবনে স্থানান্তরের পর এখন কেমিক্যাল টেস্টিং ল্যাবে আগের চেয়ে ২০টি বেশি পণ্যের পরীক্ষা করা সম্ভব হচ্ছে।
এ সম্পর্কে জানতে চাইলে বিএসটিআইয়ের উপ-পরিচালক (রসায়ন উইং) মো. খলিলুর রহমান প্রতিদিনের বাংলাদেশকে বলেন, 'নতুন ভবনে স্থানান্তরের আগে আমরা ৯০টির মতো পণ্যের পরীক্ষা করতে পারতাম। এখন নতুন ভবনে আসার পর আমাদের ল্যাব সক্ষমতা বেড়েছে। এখন আমরা নতুন করে আরও ২০ পণ্যের পরীক্ষা করার সক্ষমতা অর্জন করেছি। সব মিলিয়ে এখন আমরা ১১০টির মতো পণ্যের পরীক্ষা করতে পারছি।'
কেমিক্যাল টেস্টিং ল্যাবে নতুন করে যেসব পণ্য পরীক্ষা করা যাচ্ছে সেগুলো হলো- নেইল পলিশ, হ্যান্ডওয়াশ, ফেইসওয়াশ, বডিওয়াশ, অলিভ অয়েল, লিকুইড ডিসওয়াশ, বনস্পতি, টয়লেট ক্লিনার, ফ্লোর ক্লিনার, আই কেয়ার প্রোডাক্টস, আই লাইনার, হেয়ার কালার, হেয়ার ক্রিম/জেল, ফুট ড্রিংকস, আর্টিফিশিয়াল ফুট ড্রিংকস, বেকিং পাউডার, লিপিস্টিক, শেভিং ফোম, মধু এবং পানি।