প্রবা প্রতিবেদক
প্রকাশ : ০৭ সেপ্টেম্বর ২০২৫ ১৫:৪০ পিএম
প্রতীকী ছবি
আগস্ট মাসে দেশের সার্বিক মূল্যস্ফীতি কমে তিন বছরেরও বেশি সময়ের মধ্যে সর্বনিম্ন পর্যায়ে নেমে এসেছে। এ সময়ে পয়েন্ট-টু-পয়েন্ট ভিত্তিতে মূল্যস্ফীতি দাঁড়িয়েছে ৮ দশমিক ২৯ শতাংশে। তবে জুলাইয়ের তুলনায় আগস্টে খাদ্য খাতে মূল্যস্ফীতি সামান্য বৃদ্ধি পেয়েছে।
রবিবার (৭ সেপ্টেম্বর) বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরো (বিবিএস) গত আগস্ট মাসের মূল্যস্ফীতি চিত্র প্রকাশ করেছে।
বিবিএসের হিসাব অনুযায়ী, আগস্টে খাদ্য মূল্যস্ফীতি বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৭ দশমিক ৬০ শতাংশে, যা জুলাইয়ে ছিল ৭ দশমিক ৫৬ শতাংশ। তবে গত বছরের আগস্টে এ হার ছিল ১১ দশমিক ৩৬ শতাংশ। অন্যদিকে, খাদ্যবহির্ভূত খাতের মূল্যস্ফীতি জুলাইয়ের ৯ দশমিক ৩৮ শতাংশ থেকে কমে আগস্টে ৮ দশমিক ৯০ শতাংশে দাঁড়িয়েছে। ২০২৪ সালের আগস্টে খাদ্যবহির্ভূত খাতে মূল্যস্ফীতির হার ছিল ৯ দশমিক ৭৪ শতাংশ।
২০২২ সালের জুলাই মাসে দেশে মূল্যস্ফীতি হয়েছিল ৭ দশমিক ৪৮ শতাংশ। এরপর থেকে আর কখনো ৮ শতাংশের নিচে নামেনি। গত তিন বছর ধরে দেশে উচ্চ মূল্যস্ফীতি বিরাজ করছে। ২০২৪-২৫ অর্থবছরে গড় মূল্যস্ফীতি দাঁড়িয়েছে ১০ দশমিক ০৩ শতাংশ।
বিবিএসের সর্বশেষ তথ্যে দেখা যায়, আগস্টে স্বল্প আয়ের দক্ষ ও অদক্ষ শ্রমিকদের মজুরি বৃদ্ধির হার সামান্য কমে দাঁড়িয়েছে ৮ দশমিক ১৫ শতাংশে। টানা ৪৩ মাস ধরে মজুরি বৃদ্ধির হার মূল্যস্ফীতির চেয়ে পিছিয়ে থাকায় নিম্ন আয়ের পরিবারগুলোর জীবনযাত্রার ব্যয় সংকট আরও গভীর হচ্ছে।
অর্থনীতিবিদরা বলছেন, খাদ্যপণ্যের দামে গত বছরের তুলনায় কিছুটা স্বস্তি ফিরলেও খাদ্যবহির্ভূত খাতে চাপ অব্যাহত থাকায় সার্বিক মূল্যস্ফীতি এখনও চড়া রয়ে গেছে। এর ফলে মানুষের প্রকৃত আয় কমছে, জীবনযাত্রার ব্যয় বেড়ে যাচ্ছে।
মূল্যস্ফীতি এক ধরনের করের মতো। ধরুন, ২০২৪ সালের আগস্টে বাজার থেকে পণ্য ও সেবা কিনতে যদি কারও খরচ হয় ১০০ টাকা, তবে ২০২৫ সালের আগস্টে একই পণ্য ও সেবা কিনতে তাকে খরচ করতে হয়েছে ১০৮ টাকা ২৯ পয়সা। অর্থাৎ প্রতি ১০০ টাকায় খরচ বেড়েছে ৮ টাকা ২৯ পয়সা। তবে মূল্যস্ফীতি কমা মানে দাম কমা নয়, বরং দাম বৃদ্ধির গতি কিছুটা ধীর হয়েছে।
কেন্দ্রীয় ব্যাংক আগামী ২০২৫-২৬ অর্থবছরের জন্য মূল্যস্ফীতি ৬ দশমিক ৫ শতাংশের মধ্যে রাখার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছে।