প্রবা প্রতিবেদক
প্রকাশ : ০৪ সেপ্টেম্বর ২০২৫ ১০:৪৫ এএম
আপডেট : ০৪ সেপ্টেম্বর ২০২৫ ১০:৪৭ এএম
ফাইল ফটো
ফার্স্ট সিকিউরিটি ইসলামী ব্যাংকের পর এবার মার্জার বা একীভূতকরণ উদ্যোগে সম্মতি জানিয়েছে ইউনিয়ন ব্যাংক। অন্যদিকে একীভূতকরণে রাজি হয়নি এক্সিম ব্যাংক। ব্যাংকটির দাবি, তারা সময় পেলে ঘুরে দাঁড়াবে। তবে এই যুক্তির সপক্ষে প্রমাণ দিতে বলেছে বাংলাদেশ ব্যাংক।
গতকাল বুধবার বাংলাদেশ ব্যাংকের সভাকক্ষে অনুষ্ঠিত বৈঠকে এ সিদ্ধান্ত হয় বলে প্রতিদিনের বাংলাদেশকে নিশ্চিত করেছেন বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্বাহী পরিচালক ও মুখপাত্র আরিফ হোসেন খান।
তিনি বলেন, ‘ফার্স্ট সিকিউরিটি ইসলামী ব্যাংক গতকালই (গত মঙ্গলবার) একীভূতকরণ উদ্যোগে সম্মতি জানিয়েছে। আজকে (গতকাল) ইউনিয়ন ব্যাংকও সম্মতি জানিয়েছে। এ ছাড়া তাদের তো আর কোনো উপায় নেই। তবে ভিন্ন মত পোষণ করেছে এক্সিম ব্যাংক।’
তিনি বলেন, ‘এক্সিম ব্যাংক এক বছর সময় পেলে ঘুরিয়ে দাঁড়াবে বলে দাবি করেছে। বাংলাদেশ ব্যাংক তাদের এই দাবির সপক্ষে ডকুমেন্টস দিতে বলেছি। দেখি তারা কী ডকুমেন্টস দেয়। এরপর তাদের বিষয়ে সিদ্ধান্ত।’
গতকালও সভায় বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর ড. আহসান এইচ মনসুর ভার্চুয়ালি যুক্ত ছিলেন। এ সময় চার ডেপুটি গভর্নর, রেজল্যুশন বিভাগের কর্মকর্তারা, ইউনিয়ন ব্যাংকের চেয়ারম্যান এম ফরিদ উদ্দীন ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) হুমায়ুন কবির উপস্থিত ছিলেন।
বৈঠক শেষে চেয়ারম্যান এম ফরিদ উদ্দীন বলেন, ‘আমানতকারীরা টাকা তুলতে আসছেন। কিন্তু আমরা দিতে পারছি না। যত দ্রুত এসব ব্যাংক নিয়ে সিদ্ধান্ত হবে, ততই সবার জন্য ভালো। এক্ষেত্রে ব্যাংকগুলো একীভূত, পুনর্গঠন বা অন্য কোনো পদক্ষেপ নেওয়া হতে পারে।’
তিনি আরও জানান, ইউনিয়ন ব্যাংক থেকে প্রায় ২৮ হাজার কোটি টাকা এস আলম গ্রুপ নিয়ে গেছে। যাদের নামে ঋণ নেওয়া হয়েছে, তাদের খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না। ফলে আমানতকারীদের অর্থ ফেরত দিতে ব্যাংকটি মারাত্মক সমস্যায় পড়েছে।
আজ বৃহস্পতিবার সকালে গ্লোবাল ইসলামী ব্যাংক এবং বিকালে সোশ্যাল ইসলামী ব্যাংকের সঙ্গে বৈঠক নির্ধারিত আছে।
এর আগে, গতকাল পাঁচটি দুর্বল ব্যাংক একীভূত করে গঠিত হতে যাওয়া ব্রিজ ব্যাংকের পক্ষে সমর্থন জানায় ফার্স্ট সিকিউরিটি ইসলামী ব্যাংক। গত মঙ্গলবার বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের আব্দুল মান্নান বলেন, ‘বাংলাদেশ ব্যাংক যে সিদ্ধান্ত নিয়েছে তার সঙ্গে আমরা একমত। আমানতকারীদের সুরক্ষার বিষয়টি কেন্দ্রীয় ব্যাংক দেখবে।’
ব্রিজ ব্যাংক হলোÑ একটি অস্থায়ী আর্থিক প্রতিষ্ঠান, যেটি এক বা একাধিক ব্যর্থ ব্যাংকের কার্যক্রম পরিচালনার জন্য গঠন করে কেন্দ্রীয় ব্যাংক।
আবদুল মান্নান জানান, তিনটি পৃথক অডিটে নিশ্চিত হয়েছে যে এস আলম গ্রুপ বেনামি হিসাবে ৩৮ হাজার কোটি টাকা ঋণ নিয়েছে। কারণ তারা নিজেদের নামে ঋণ নিতে পারেনি।
তিনি বলেন, ‘এই ঋণ আদায় না হওয়ায় ব্যাংকটি মারাত্মক সংকটে পড়েছে।’
ফার্স্ট সিকিউরিটি ইসলামী ব্যাংকের সঙ্গে বৈঠকটি ছিল পাঁচ ব্যাংকের সঙ্গে ধারাবাহিকভাবে অনুষ্ঠিত পূর্বনির্ধারিত আলোচনার অংশ। এর আগে এক্সিম ব্যাংক ও সোশ্যাল ইসলামী ব্যাংকের সঙ্গে বৈঠক হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু গভর্নরের অসুস্থতার কারণে তা স্থগিত হয়।
এক প্রশ্নের জবাবে বাংলাদেশ ব্যাংকের মুখপাত্র বলেন, ‘সরকার অর্থ দিলেই মার্জার হবে। কিছু ব্যাংক তো অনেক আগ থেকেই মার্জারে রাজি। তাদের অবস্থা খুবই খারাপ। বাংলাদেশ ব্যাংক অন্য ব্যাংকগুলোর অবস্থা দেখছে। তাতে এই পাঁচ ব্যাংক আগে মার্জারে আনা জরুরি। এখন সরকারের দিকে তাকিয়ে আছি। তারা অর্থ দিলেই মার্জার করা হবে।’