প্রবা প্রতিবেদক
প্রকাশ : ০৩ সেপ্টেম্বর ২০২৫ ০৯:২৫ এএম
ছবি: সংগৃহীত
ধুঁকতে থাকা দেশের অর্থনীতি ধীরে ধীরে ঘুরে দাঁড়াচ্ছে। বর্তমানে দেশের মোট বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ বেড়ে এখন ৩১ দশমিক ৩৯ বিলিয়ন ডলারে পৌঁছেছে বলে জানিয়েছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক। গতকাল মঙ্গলবার বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্বাহী পরিচালক ও মুখপাত্র আরিফ হোসেন খান এ তথ্য জানিয়েছেন।
কেন্দ্রীয় ব্যাংকের সবশেষ তথ্যানুযায়ী, ২ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত দেশের গ্রস রিজার্ভের পরিমাণ ৩১ দশমিক ৩৯ বিলিয়ন ডলার। আর আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) হিসাব পদ্ধতি বিপিএম-৬ অনুযায়ী রিজার্ভ এখন ২৬ দশমিক ৪০ বিলিয়ন ডলার।
২০২৪ সালের জুলাইয়ে দেশের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ ২০ বিলিয়ন ডলারের নিচে ছিল। অন্তর্বর্তী সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর এক বছরের ব্যবধানে, ২০২৫ সালের সেপ্টেম্বরে তা বেড়ে ৩১ বিলিয়ন ডলার ছাড়িয়েছে, যা দেশের অর্থনীতি পুনরুদ্ধারে ইতিবাচক অগ্রগতির ইঙ্গিত বহন করছে।
অর্থনীতিবিদ ও বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, অর্থনীতি ও ব্যাংকিং খাতে আস্থা ফিরে আসাই বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ বাড়ায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে। তাদের পর্যবেক্ষণ অনুযায়ী, সাম্প্রতিক মাসগুলোতে বিনিময় হার স্থিতিশীল থাকায় রিজার্ভ কমে যাওয়া থেমে গেছে এবং এটি ধীরে ধীরে পুনর্গঠিত হচ্ছে।
শিল্প খাত সংশ্লিষ্টরা বলেছেন, শেখ হাসিনার স্বৈরশাসনের অবসানের পর হুন্ডি, অর্থ পাচার ও দুর্নীতির লাগাম টেনে ধরার ফলে দেশে রেমিট্যান্স প্রবাহও বেড়েছে। এর ফলে বৈদেশিক খাতেও ইতিবাচক পরিবর্তন এসেছে।
বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্বাহী পরিচালক ও মুখপাত্র আরিফ হোসেন খান বলেন, ‘ডলার সংকট কমে যাওয়ায় বৈদেশিক খাতের ঘাটতি উল্লেখযোগ্যভাবে কমেছে। ফলে রিজার্ভের স্থিতিশীল অবস্থান দেশের চলতি হিসাব ও আর্থিক হিসাবের ভারসাম্যেও প্রতিফলিত হয়েছে। রপ্তানি আয় ও প্রবাসী আয়ের জোরালো প্রবাহ রিজার্ভ পুনর্গঠনে সহায়তা করেছে।’
আরও ৪ কোটি ৭৫ লাখ ডলার কিনল কেন্দ্রীয় ব্যাংক
ডলারের বাজার স্থিতিশীল রাখতে বিগত তিন অর্থবছর ধরে রিজার্ভ থেকে বিপুল পরিমাণে ডলার বিক্রি করলেও ২০২৫-২৬ অর্থবছরে ভিন্ন পথে হাঁটছে বাংলাদেশ ব্যাংক। চলতি অর্থবছরে এখন পর্যন্ত ছয় দফায় মোট ৬৮ কোটি ডলারের বেশি কিনে নিয়েছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক। সবশেষ গতকাল মঙ্গলবার ষষ্ঠ দফায় ৮টি বাণিজ্যিক ব্যাংকের কাছ থেকে কেনা হয়েছে ৪ কোটি ৭৫ লাখ ডলার। বাজারের ভারসাম্য বাজায় রাখতেই এই পদক্ষেপ নিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক।
বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্বাহী পরিচালক ও মুখপাত্র আরিফ হোসেন খান জানান, বাজারে বর্তমানে ডলারের চাহিদার তুলনায় সরবরাহ বেশি। এ কারণেই রিজার্ভ থেকে বিক্রি না করে কেন্দ্রীয় ব্যাংক বাজার থেকেই ডলার কিনছে। বাজার স্থিতিশীল রাখতে ভবিষ্যতেও এই প্রক্রিয়া অব্যাহত থাকবে।
গতকালের কেনাকাটা হয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংকের ফরেন এক্সচেঞ্জ (এফএক্স) নিলাম কমিটির মাধ্যমে, মাল্টিপল প্রাইস অকশন পদ্ধতিতে। প্রতিটি ডলারের বিনিময় হার ছিল ১২১ টাকা ৭০ পয়সা থেকে ১২১ টাকা ৭৫ পয়সা পর্যন্ত।
বাংলাদেশ ব্যাংকের কর্মকর্তারা বলছেন, ডলারের দাম হঠাৎ করে অতিরিক্ত বেড়ে যাওয়া বা অস্বাভাবিকভাবে কমে যাওয়া, দুটিই অর্থনীতির জন্য ক্ষতিকর। বর্তমানে দেশে খাদ্যের পর্যাপ্ত মজুদ রয়েছে এবং বিদেশি দায় পরিশোধও সঠিকভাবে সম্পন্ন হয়েছে। ফলে নিকট ভবিষ্যতে ডলারের তীব্র চাহিদা তৈরি হওয়ার সম্ভাবনা নেই।
তাদের মতে, কেন্দ্রীয় ব্যাংকের এই ডলার ক্রয় রিজার্ভকে আরও শক্তিশালী করবে। আর জাতীয় নির্বাচন-পরবর্তী রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা এলে বিনিয়োগ বাড়বে। ফলে ডলারের চাহিদাও বাড়তে পারে।