× ই-পেপার প্রচ্ছদ সর্বশেষ বাংলাদেশ রাজনীতি দেশজুড়ে বিশ্বজুড়ে বাণিজ্য খেলা বিনোদন মতামত চাকরি শিক্ষা আজকের কার্টুন ফিচার সকল বিভাগ ছবি ভিডিও লেখক আর্কাইভ কনভার্টার

এবার সমুদ্রপথে ৬ দেশে রপ্তানি ৩৯ টন আম

হুমায়ুন মাসুদ, চট্টগ্রাম

প্রকাশ : ০২ সেপ্টেম্বর ২০২৫ ১২:৫৪ পিএম

ছবি: সংগৃহীত

ছবি: সংগৃহীত

সমুদ্রপথে ফল পাঠানো সময়সাপেক্ষ। তাই কার্গো বিমানেই এত দিন আম রপ্তানি করে আসছেন দেশের ফল রপ্তানিকারকরা। তবে এবার সেখানে আসতে যাচ্ছে পরিবর্তন। সদ্য বিদায়ি মৌসুমে প্রথমবারের মতো চট্টগ্রাম সমুদ্রবন্দর দিয়ে ৩৯ মেট্রিক টন আম রপ্তানি হয়েছে। 

যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্যসহ ছয়টি দেশে এসব আম রপ্তানি করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন উদ্ভিদ সংঘনিরোধ কেন্দ্রের (চট্টগ্রাম সমুদ্রবন্দর) উপপরিচালক মো. শাহ আলম। প্রতিদিনের বাংলাদেশকে তিনি বলেন, ‘এবার প্রথমবারের মতো সমুদ্রপথে ছয়টি দেশে আম রপ্তানি হয়েছে। এর মধ্যে দুবাইতে ফ্রেশ আম পাঠানো হয়েছে। আর বাকি ৫টি দেশে ফ্রোজেন আকারে আম রপ্তানি করা হয়। সমুদ্রপথে আম রপ্তানি সময়সাপেক্ষ হওয়ায় রপ্তানি করা আমগুলোর মান ঠিক থাকবে কি না, সেটি নিয়ে দুশ্চিন্তায় ছিলেন রপ্তানিকারকরা। দুবাইতে পাঠানো আমের মান কিছুটা খারাপ হয়েছে শুনেছি। তবে অন্য দেশগুলোয় পাঠানো আম নিয়ে খারাপ কোনো তথ্য আমরা পাইনি।’

উদ্ভিদ সংঘনিরোধ কেন্দ্রের (চট্টগ্রাম সমুদ্রবন্দর) তথ্য অনুযায়ী, এবার সমুদ্রপথে ৬টি দেশে মোট ৩৯ হাজার ১৪১ কেজি আম রপ্তানি করা হয়। এর মধ্যে সবচেয়ে বেশি আম রপ্তানি হয়েছে যুক্তরাজ্যে। ওই দেশে সমুদ্রপথে এবার আম রপ্তানি করা হয় ১৭ হাজার ৮৭৭ কেজি। এর পরে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ আম রপ্তানি হয় সংযুক্ত আরব আমিরাতে। সেদেশে আম রপ্তানি হয় ১৪ হাজার ৫৮০ কেজি। এরপর যুক্তরাষ্ট্রে আম রপ্তানি হয় ৩ হাজার ৮৩৪ কেজি। ইতালিতে আম রপ্তানি হয় ১ হাজার ৯৫০ কেজি। বেলজিয়ামে ৫০৪ কেজি এবং কানাডায় সমুদ্রপথে আম রপ্তানি হয় ৩৯৬ কেজি। এর মধ্যে দুবাইতে রপ্তানি করা আমগুলো পাঠানো হয়েছে গত ৩১ জুলাই।

সমুদ্রপথে আম রপ্তানির পথ সুগম হলে রপ্তানি আরও বাড়বে বলে আশা প্রকাশ করেছেন সংশ্লিষ্টরা। তারা বলছেন, সমুদ্রপথে আম রপ্তানিতে জটিলতা আছে। বেশি সময় লাগে বিধায় আম নষ্ট হয়ে যাওয়ার সম্ভাবনা থাকে। তাই খরচ বেশি হলেও রপ্তানিকারকরা কার্গো বিমানেই আম রপ্তানি করেন। কিন্তু প্রক্রিয়াজাত করে যদি সমুদ্রপথে আম রপ্তানি করা যায়। তবে অচিরেই দেশ থেকে আম রপ্তানি অনেক বাড়বে। কারণ কার্গো বিমানের তুলনায় সমুদ্রপথে আম রপ্তানিতে পরিবহন খরচ পড়বে অনেক কম। 

কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উদ্ভিদ সংঘনিরোধ উইংয়ের পরিচালক মোহাম্মদ আব্দুর রহিম প্রতিদিনের বাংলাদেশকে বলেন, ‘আমরা ওইসব দেশে আমাদের নেটিভ মার্কেটগুলোয় আম পাঠাচ্ছি। কিন্তু সুপার মার্কেটগুলোয় দিতে হলে আমাদের উদ্ভিদ স্বাস্থ্য সুরক্ষা বিষয়ে আরও অনেক কাজ করতে হবে। ফল রপ্তানির ক্ষেত্রে একেক দেশ একেক রকম শর্ত দিয়ে থাকে। তাদের শর্ত অনুযায়ী ট্রিটমেন্ট করে পাঠাতে হয়। কেউ হট ওয়াটার ট্রিটমেন্ট করে পাঠানোর কথা বলেন। কিন্তু আমাদের এখানে তো এখনও হট ওয়াটার ট্রিটমেন্ট প্ল্যান্ট তৈরি হয়নি। আমরা এসব বিষয় সংযোজন করার চেষ্টা করছি।’

বাংলাদেশ থেকে আম রপ্তানির যথেষ্ট সুযোগ রয়েছে জানিয়ে তিনি বলেন, ‘বর্তমানে দেশে চাহিদার তুলনায় বেশি আম উৎপাদন হয়। মৌসুমে দেশে ২৫ থেকে ২৬ লাখ মেট্রিক টন আম উৎপাদন হয়। গত বছর দেশে ২৫ লাখ মেট্রিক টনের মতো আম উৎপাদন হয়েছে। এই আম থেকে আমরা চাইলে এক থেকে দুই লাখ মেট্রিক টন আম রপ্তানি করতে পারি। কিন্তু আমরা তার আশপাশেও নেই। এ বছর এখন পর্যন্ত দেশে থেকে আম রপ্তানি হয়েছে ২ হাজার ২০০ মেট্রিক টন।’

রপ্তানি বাড়ানোর জন্য রপ্তানিযোগ্য আম উৎপাদন প্রকল্প বাস্তবায়ন করছে কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর। প্রকল্পটির অধীনে আম চাষিদের ভালো মানের আম উৎপাদনে সহায়তা প্রদান করা হয়। 

প্রকল্পটির পরিচালক মোহাম্মদ আরিফুর রহমান প্রতিদিনের বাংলাদেশকে বলেন, ‘আগে রপ্তানিযোগ্য আম উৎপাদন কম হতো। কিন্তু এখন আমরা কৃষকদের রপ্তানিযোগ্য (ভালো মানের) আম উৎপাদনে সহযোগিতা দিচ্ছি। প্রচুর পরিমাণে রপ্তানিযোগ্য আম উৎপাদন হচ্ছে। কিন্তু কিছু প্রতিবন্ধকতার কারণে আমরা সেই পরিমাণ উৎপাদিত আম রপ্তানি করতে পারছি না। এর পেছনে প্রধান কারণ হচ্ছে কার্গো ভাড়া বেশি এবং অনেক সময় বেশি ভাড়া দিয়েও কার্গো না পাওয়া। এর জন্য রপ্তানিকারকরা সমুদ্রপথে আম রপ্তানি করা যায় কি না, সেটি নিয়ে কাজ করছেন। এবার প্রথমবারের মতো কিছু আম সমুদ্রপথে রপ্তানি করা হয়েছে। কিন্তু আমাদের কাছে যেই তথ্য আছে সময় বেশি লাগায় আমগুলোর মান শতভাগ ঠিক ছিল না।’

তিনি আরও বলেন, ‘গাছ থেকে আম সংগ্রহ করার পর ১২ থেকে ১৪ দিন মান ভালো থাকে। কোনো দেশে আম রপ্তানিতে যদি এর চেয়ে কম সময় লাগে তাহলে সেই ক্ষেত্রে সমুদ্রপথে আম রপ্তানি করা সম্ভব।’

শেয়ার করুন-

মন্তব্য করুন

Protidiner Bangladesh

সম্পাদক : মারুফ কামাল খান

প্রকাশক : কাউসার আহমেদ অপু

রংধনু কর্পোরেট, ক- ২৭১ (১০ম তলা) ব্লক-সি, প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড) ঢাকা -১২২৯

যোগাযোগ

প্রধান কার্যালয়: +৮৮০৯৬১১৬৭৭৬৯৬ । ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন (প্রিন্ট): +৮৮০৯৬১১৬৭৭৮১০, +৮৮০১৮৮০৭৪৪৫৮০ | ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন (অনলাইন): +৮৮০১৮৮০৭৪৪৫৮০, +৮৮০১৭৯৯৪৪৯৫৫৯ । ই-মেইল: [email protected]

সার্কুলেশন: +৮৮০৯৬১১৬৭৭৮০৭, +৮৮০১৮৮০৭৪৪৩৩২ । ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন মূল্য তালিকা