প্রবা প্রতিবেদক
প্রকাশ : ২৭ আগস্ট ২০২৫ ২১:৪৫ পিএম
দেশে পতিত আওয়ামী সরকারের সময়ে নজিরবিহীন লুটপাটের পাশাপাশি বিপুল অর্থ পাচারের অভিযোগ উঠেছে। ২০২৪ সালের পাঁচ আগস্ট আওয়ামী সরকারের পতনের পরপরই বিত্তশালীরা ব্যাংক থেকে আমানত তুলতে ব্যস্ত হয়ে পড়েন। তবে বিপরীত চিত্র দেখা গেছে প্রান্তিক মানুষের সঞ্চয়ে। ২০২৫ সালের জুন শেষে স্বল্প আয়ের মানুষের সঞ্চয় ও হিসাব সংখ্যা দুটোই বেড়েছে।
খাত সংশ্লিষ্টরা বলছেন, গত কয়েক মাস আগেও দেশে ব্যাপক রাজনৈতিক অস্থিরতা
বিরাজ করছিল। তবে এরপরে পরিবর্তিত পরিস্থিতিতে সংকট কিছুটা কাটতে শুরু করেছে। আর এতেই
দেশের ব্যাংকিং খাতের ওপর মানুষের আস্থা ফিরতে শুরু করেছে। এর ফলে স্বল্প আয়ের মানুষেরাও
ব্যাংকে টাকা রাখতে শুরু করেছে। পাশাপাশি ব্যাংকগুলোকে ঠিক করতে আর্থিক খাতের নিয়ন্ত্রক
সংস্থা বাংলাদেশ ব্যাংকও বেশ কিছু উদ্যোগ নিয়েছে। এসব কারণে ব্যাংকে আমানত ফিরতে শুরু
করেছে।
সাধারণ চলমান সঞ্চয় হারের তুলনায় নো-ফ্রিলস অ্যাকাউন্টগুলোতে বেশি
হারে সুদ দেওয়া হয়। এই ব্যাংকিং সুবিধাভোগীর মধ্যে আছেনÑ কৃষক, পোশাক শ্রমিক, অতি দরিদ্র,
সামাজিক সুরক্ষা কর্মসূচির সুবিধাভোগীরাসহ অনেকে। ২০২৫ সালের জুন শেষে এসব মানুষের
সঞ্চয় ও হিসাব সংখ্যা বেড়েছে।
কেন্দ্রীয় ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালের মার্চ শেষে ১০, ৫০ ও
১০০ টাকা দিয়ে খোলা স্বল্প আয়ের মানুষের ব্যাংক হিসাবে আমানতের পরিমাণ ছিল ৪ হাজার
৮৮৮ কোটি টাকা। আর চলতি বছরের জুন শেষে এসব হিসাবে আমানতের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ৫ হাজার
৩৬ কোটি টাকা। সেই হিসাবে তিন মাসের ব্যবধানে ১০, ৫০ ও ১০০ টাকা দিয়ে খোলা হিসাবে আমানত
বেড়েছে ১৪০ কোটি টাকা বা ৩ দশমিক শূন্য ৩ শতাংশ।
তথ্যানুযায়ী ২০২৫ সালের মার্চ শেষে ব্যাংকগুলোতে নো ফ্রিল অ্যাকাউন্টের
সংখ্যা ছিল ২ কোটি ৮২ লাখ ৩৬ হাজার ৭৭০টি। আর চলতি বছরের জুন শেষে ব্যাংকগুলোতে স্বল্প
আয়ের মানুষের অ্যাকাউন্ট সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ২ কোটি ৮৭ লাখ ৬ হাজার ৭৯৯টি। সেই হিসাবে
তিন মাসে অ্যাকাউন্ট সংখ্যা বেড়েছে ৪ লাখ ৭০ হাজার ২৯টি।
তথ্য বলছে, চলতি বছরের মার্চ শেষে এসব হিসাবের মাধ্যমে আসা মোট প্রবাসী আয়ের পরিমাণ ছিল ৭৭৭ কোটি ৮০ লাখ টাকা। আর চলতি বছরের জুন শেষে এসব হিসাবের মাধ্যমে প্রবাসী আয় এসেছে ৮০০ কোটি ৪৫ লাখ টাকা। সেই হিসাবে তিন মাসে এসব হিসাবে প্রবাসী আয় বেড়েছে ২৩ কোটি টাকা। এ ছাড়া চলতি বছরের মার্চ শেষে নো-ফ্রিলস হিসাবের আওতায় কৃষকদের আমানতের পরিমাণ ছিল ৭১৮ কোটি, অতি দরিদ্রদের ২৩১ কোটি, পোশাক শ্রমিকদের ছিল ৪৬৭ কোটি, মুক্তিযোদ্ধাদের হিসাবে ১০১৩ কোটি, সামাজিক সুরক্ষা কর্মসূচির সুবিধাভোগীদের হিসাবে ১ হাজার ৭৩১ কোটি টাকা। আর চলতি বছরের জুন শেষে কৃষকদের আমানতের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ৭৭০ কোটি, অতি দরিদ্রদের দাঁড়িয়েছে ২৪৬ কোটি, পোশাক শ্রমিকদের দাঁড়িয়েছে ৪৬৫ কোটি, মুক্তিযোদ্ধাদের হিসাবে ৯৬১ কোটি, সামাজিক সুরক্ষা কর্মসূচির সুবিধাভোগীদের হিসাবে ১ হাজার ৮২১ কোটি টাকা।
অর্থনীতিবিদরা বলছেন, পরিবর্তিত পরিস্থিতিতে বাংলাদেশ ব্যাংকের গৃহীত
পদক্ষেপের ফলে ব্যাংক খাতে কিছুটা স্থিতিশীলতা ফিরে আসায় সাধারণ আমানতকারীদের আস্থা
ফিরেছে, যা ইতিবাচক। এক্ষেত্রে বাংলাদেশ ব্যাংকের চলমান সংস্কার কার্যক্রম অব্যাহত
রাখতে হবে।