× ই-পেপার প্রচ্ছদ সর্বশেষ বাংলাদেশ রাজনীতি দেশজুড়ে বিশ্বজুড়ে বাণিজ্য খেলা বিনোদন মতামত চাকরি শিক্ষা আজকের কার্টুন ফিচার সকল বিভাগ ছবি ভিডিও লেখক আর্কাইভ কনভার্টার

সিপিডির গবেষণা

বছরে পৌনে ২ লাখ কোটি টাকার ভ্যাট হাতছাড়া

প্রবা প্রতিবেদক

প্রকাশ : ২৭ আগস্ট ২০২৫ ১০:০৪ এএম

ফাইল ফটো

ফাইল ফটো

ভ্যাট ব্যবস্থায় ফাঁকি ও অব্যাহতির কারণে সরকারের রাজস্ব আহরণ লক্ষ্যমাত্রার অনেক নিচে রয়েছে। সেন্টার ফর পলিসি ডায়লগের (সিপিডি) গবেষণা বলছে, ২০২২-২৩ অর্থবছরে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) প্রায় ১ লাখ ৮৮ হাজার কোটি টাকা আদায় করতে ব্যর্থ হয়েছে। এই অর্থ আদায় হলে ভ্যাট বাবদ সরকারি কোষাগারে জমা হওয়ার কথা ছিল ৩ লাখ ২০ হাজার ১১৭ কোটি টাকা। কিন্তু আদায় হয়েছে মাত্র ১ লাখ ৩২ হাজার ৩৬ কোটি টাকা।

গতকাল মঙ্গলবার (২৬ আগস্ট) রাজধানীর একটি হোটেলে আয়োজিত কর ও ভ্যাট সংস্কার বিষয়ক সংলাপে এই গবেষণা তুলে ধরে সিপিডি। সংলাপে প্রধান অতিথি ছিলেন এনবিআর চেয়ারম্যান আবদুর রহমান খান, সঞ্চালনা করেন সংস্থাটির গবেষণা পরিচালক খন্দকার গোলাম মোয়াজ্জেম।

সিপিডির জ্যেষ্ঠ গবেষণা সহযোগী তামীম আহমেদ বলেন, আমরা ইফেক্টিভ রেট (ভ্যাটের কার্যকর হার) বের করেছি, যেটা আসছে ১১ দশমিক ৭ শতাংশ। সেটি দিয়ে দেখেছি, আমাদের অ্যাকচুয়াল ভ্যাট আদায় কত হওয়া উচিত। ভ্যাট আদায় যত হয়েছে, সেটা বাদ দিয়ে হিসাব করলে দেখা যায়, ১ লাখ ৮৮ হাজার কোটি টাকা আদায় হওয়া উচিত ছিল।

গবেষণায় বলা হয়েছে, দেশে স্ট্যান্ডার্ড ভ্যাট হার ১৫ শতাংশ। তবে বর্তমানে বিভিন্ন পণ্য ও সেবায় অব্যাহতি থাকায় কার্যকর ভ্যাট হার ১১ দশমিক ৭৩ শতাংশে দাঁড়িয়েছে। এ গবেষণার জন্য ঢাকা ও চট্টগ্রামের ১২৩টি কোম্পানি থেকে করপোরেট কর এবং বিভিন্ন এলাকার ৩৮৯টি ব্যবসা প্রতিষ্ঠান থেকে ভ্যাটের তথ্য সংগ্রহ করা হয়।

গবেষণায় দেখা গেছে, ৭২ শতাংশ কোম্পানি মনে করে, কর কর্মকর্তাদের দুর্নীতি করপোরেট করের ক্ষেত্রে সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ। ৮২ শতাংশ ব্যবসায়ী মনে করেন, তাদের ওপর ‘অন্যায্য’ হারে কর বসানো হয়েছে। 

তামীম আহমেদ বলেন, এনবিআরে ডেটা আনতে গেলে দুঃখজনকভাবে আমার কাছেও ঘুষ দাবি করা হয়েছিল। গবেষণা পরিচালক খন্দকার গোলাম মোয়াজ্জেম বলেন, আমরা চেয়েছিলাম ’২৫ সালের ডেটা নিয়ে গবেষণা করতে। কিন্তু আনফরচুনেটলি এনবিআরে তথ্য চেয়ে বিড়ম্বনায় পড়তে হয়েছে। 

ভ্যাট বিষয়ক অন্য সমীক্ষায় ব্যবসায়ীরা বহুমাত্রিক ভ্যাটহারের জটিলতাকে প্রধান প্রতিবন্ধকতা হিসেবে উল্লেখ করেছেন। ৭৩ দশমিক ৫ শতাংশ ব্যবসায়ী জানিয়েছেন, জটিল ভ্যাট আইন তাদের জন্য বড় বাধা। এছাড়া অস্পষ্ট নীতিমালা, কর কর্মকর্তাদের সীমিত সহযোগিতা, প্রশিক্ষণ ও সচেতনতার ঘাটতি, পণ্য ও সেবার শ্রেণিবিন্যাসে জটিলতা এবং উচ্চ অনুবর্তন ব্যয় ব্যবসায়ীদের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

আলোচনায় সাবেক অর্থ সচিব সিদ্দিকুর রহমান বলেন, প্রবন্ধে ৬১টি সুপারিশ করা হয়েছে। ব্যক্তির অনলাইন রিটার্ন বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। করপোরেট ক্ষেত্রে দ্রুত বাস্তবায়ন প্রয়োজন। তিনি বলেন, শিক্ষা ও শিক্ষার ব্যবসা আলাদা করে করের চিন্তাভাবনা করা যেতে পারে। করপোরেট ট্যাক্স কাঠামো এমনভাবে সংস্কার করতে হবে, যাতে রপ্তানিমুখী ও অরপ্তানি উভয় খাতের জন্য আইনগত করহার ১৫ শতাংশের নিচে না থাকে।

এনবিআর চেয়ারম্যান আবদুর রহমান খান অনুষ্ঠানে বলেন, স্বয়ংক্রিয় পদ্ধতি বা অটোমেশন চালু হওয়ার আগ পর্যন্ত ভ্যাট নিরীক্ষা বন্ধ থাকবে। ব্যবসায়ীরা যেন কোনোভাবেই মনে না করেন অহেতুক হয়রানি করার জন্য এমন পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। আমরা একটি একক ভ্যাটহার নির্ধারণ করতে চাই। কিন্তু এতে ব্যবসায়ীরাই বাধা হয়ে দাঁড়ান। এখন ভ্যাট দিতে কারও কাছে যেতে হয় না। এক ক্লিকেই নিজের সিস্টেম থেকে ভ্যাট দেওয়া যায়।

করছাড় নিয়ে তিনি বলেন, কর্মসংস্থান বাড়াতে দেশি-বিদেশি কোম্পানিগুলোকে করছাড় দিয়ে বিনিয়োগের আহ্বান জানাই। কিন্তু দেখা যায়, আট বছরের জন্য করছাড়ের কথা হলেও ৪০ বছর পর্যন্ত সেই ছাড় চলতে থাকে। রাজস্ব ব্যবস্থাপনায় অদক্ষতা আছে, যেটা স্বীকার করেই আমাদের এগোতে হবে। বিদেশি ঋণের বোঝা অনেক বেড়েছে। নিজস্ব রাজস্ব বাড়াতে না পারলে এসব ঋণ পরিশোধ করাও বিপজ্জনক হয়ে যাবে।

রাজস্ব খাতের সংস্কার নিয়ে এনবিআর চেয়ারম্যান বলেন, আমি দেখেছি, নীতিসংক্রান্ত বিভিন্ন ইস্যুতেই ৯০ শতাংশ সময় চলে যায়। তাহলে রাজস্ব আদায়ের সময় দেবে কীভাবে? তাই রাজস্ব খাত দুটি বিভাগে আলাদা করছি। একজনের জায়গায় দুজন কাজ করলে আশা করি পরিস্থিতির উন্নতি হবে। ন্যূনতম করহারের বিধানকে কালাকানুন আখ্যা দিয়ে তিনি বলেন, ভবিষ্যতে এসব উঠিয়ে দেওয়া হবে। তবে এখন করলে রাজস্ব আদায় অনেক কমে যাবে।

ট্যাক্স বার অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি এএইচ মাহবুব সালেকিন বলেন, কর অফিসে দুর্নীতি একটু বেশিই হয়। যদি আমাদের মামলাগুলো দ্রুত ও স্বচ্ছতার সঙ্গে সমাধান করা যেত, তাহলে রাজস্ব আহরণ বেশি হতো। তাহলে বিদেশি সাহায্যের ওপর নির্ভর করা লাগত না। এনবিআর চেয়ারম্যানের এ বিষয়ে আন্তরিকতা দেখা গেছে।

অন্যদিকে ভ্যাট বিভাগের প্রথম সচিব মশিউর রহমান বলেন, আগামী ১০ বছরের রাজস্ব কৌশলপত্র ঘোষণা করা হয়েছে। ভ্যাটের আওতায় বাড়ানো ফোকাস করতে পারলে দীর্ঘমেয়াদে ভালো ফলাফল পাওয়া সম্ভব। তখন ভ্যাট রেট নিয়ে অভিযোগ কমে যেত। এই মুহূর্তে ভ্যাট রেট কমালে রাজস্ব আহরণে বড় প্রভাব পড়বে।

শেয়ার করুন-

মন্তব্য করুন

Protidiner Bangladesh

সম্পাদক : মারুফ কামাল খান

প্রকাশক : কাউসার আহমেদ অপু

রংধনু কর্পোরেট, ক- ২৭১ (১০ম তলা) ব্লক-সি, প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড) ঢাকা -১২২৯

যোগাযোগ

প্রধান কার্যালয়: +৮৮০৯৬১১৬৭৭৬৯৬ । ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন (প্রিন্ট): +৮৮০৯৬১১৬৭৭৮১০, +৮৮০১৮৮০৭৪৪৫৮০ | ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন (অনলাইন): +৮৮০১৮৮০৭৪৪৫৮০, +৮৮০১৭৯৯৪৪৯৫৫৯ । ই-মেইল: [email protected]

সার্কুলেশন: +৮৮০৯৬১১৬৭৭৮০৭, +৮৮০১৮৮০৭৪৪৩৩২ । ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন মূল্য তালিকা