সোনামসজিদ স্থলবন্দর
চাঁপাইনবাবগঞ্জ প্রতিবেদক
প্রকাশ : ২৫ আগস্ট ২০২৫ ২১:৫৩ পিএম
ভারত সরকার বাংলাদেশ থেকে তৈরি পোশাক আমদানি বন্ধ করে দিয়েছে। এতে চাঁপাইনবাবগঞ্জের সোনামসজিদ স্থলবন্দর দিয়ে ভারতে পোশাক রপ্তানি করতে না পেরে বড় ক্ষতির মুখে পড়েছেন রপ্তানিকারকরা। গত ৪ মাসে সাড়ে ২১ কোটি টাকার বেশি ক্ষতি হয়েছে বলে দাবি করেছে সোনামসজিদ স্থলবন্দর সিঅ্যান্ডএফ এজেন্ট অ্যাসোসিয়েশন।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, গত ১৭ মে তৈরি পোশাকসহ কয়েক ধরনের পণ্য বাংলাদেশ থেকে রপ্তানিতে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে ভারত সরকার। তৈরি পোশাক ছাড়াও রপ্তানি নিষেধাজ্ঞা আরোপ হয়েছে ফলমূল, খাদ্য, কোমলপানীয়, সুতা, প্লাস্টিক ও পিভিসি সামগ্রী এবং কাঠের তৈরি ফার্নিচার ইত্যাদি। এর মধ্যে বেশি ক্ষতির মুখে পড়েছেন তৈরি পোশাকপণ্যের রপ্তানিকারকরা।
পূর্বঘোষণা ছাড়াই ভারত সরকার বাংলাদেশ থেকে পোশাকপণ্য আমদানিতে নিষেধাজ্ঞা জারি করে। পোশাকপণ্য রপ্তানিকারকদের দাবি, এমন সিদ্ধান্তে উভয় দেশের আমদানি-রপ্তানিকারকরা ক্ষতির সম্মুখীন হবেন। অনেক প্রতিষ্ঠান বন্ধ হয়ে যাবে। এ খাতে সংশ্লিষ্ট শ্রমিকরাও কাজ হারিয়ে চরম বিপাকে পড়বেন। সেজন্য কূটনৈতিক তৎপরতায় এ সমস্যা সমাধানের তাগিদ দিয়েছেন তৈরি পোশাকপণ্যের রপ্তানিকারকরা।
সুমন আলী নামে এক রপ্তানিকারক বলেন, ‘ভারত সরকারের বিধিনিষেধের কারণে ব্যবসায়ীরা বিপাকে পড়েছেন। আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন অনেকেই। বিশেষ করে ছোট ছোট গার্মেন্টস পণ্য প্রস্তুতকারকরা। তাদের অনেকের কারখানা বন্ধ হয়ে যাওয়ার আশঙ্কাও তৈরি হয়েছে। ভারতে বাংলাদেশে তৈরি টি-শার্ট রপ্তানি করি। এ নিষেধাজ্ঞার কারণে আমিও ব্যবসা করতে পারছি না।
রপ্তানিকারক মুকুল ইসলাম বলেন, ভারতের এ নিষেধাজ্ঞার ফলে প্রায় ২ কোটি টাকার গার্মেন্টস পণ্য ভারতে পাঠাতে না পেরে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছি। এই বিধিনিষেধের ফল শুধু ব্যবসায়ীরা নন, সরকারও রাজস্ব আয় থেকে বঞ্চিত হচ্ছে। সেজন্য উচিত কূটনৈতিক তৎপরতার মাধ্যমে এ সমস্যার সমাধান করা।
সোনামসজিদ স্থলবন্দর সিঅ্যান্ডএফ এজেন্ট অ্যাসোসিয়েশনের প্রতিনিধি ও পোশাকপণ্য রপ্তানিকারক রওশান আলী বলেন, গত ১৭ মে ৩টি ট্রাকে ভারতে গার্মেন্টস পণ্য পাঠানো হয়েছিল। এদিন রাতেই তৈরি পোশাকসহ আরও কয়েকটি পণ্য আমদানিকে ভারত সরকারের নিষেধাজ্ঞার খবরটি জানতে পারি। এরপর থেকে ভারতে পোশাকপণ্য পাঠানো বন্ধ রয়েছে। সেসময় অনেক রপ্তানিকারক ভারতে পাঠানোর উদ্দেশ্যে প্রায় ১০৫টি ট্রাকে গার্মেন্ট পণ্য প্রস্তুত রেখেছিল। কিন্তু বিধিনিষেধের কারণে ট্রাকগুলো ভারতে পাঠানো সম্ভব হয়নি।
তিনি বলেন, ভারত সরকারের এই সিদ্ধান্তের ফলে উভয় দেশের ব্যবসায়ীরা আর্থিকভাবে ক্ষতির সম্মুখীন হচ্ছেন। গত ৪ মাসে এ বন্দরের রপ্তানিকারকরা গার্মেন্ট পণ্য ভারতে রপ্তানি করতে না পেরে প্রায় ২১ কোটি ৫৫ লাখ ৯৪ হাজার ৪৯৬ টাকার ক্ষতির সম্মুখীন হয়েছেন।