× ই-পেপার প্রচ্ছদ সর্বশেষ বাংলাদেশ রাজনীতি দেশজুড়ে বিশ্বজুড়ে বাণিজ্য খেলা বিনোদন মতামত চাকরি শিক্ষা আজকের কার্টুন ফিচার সকল বিভাগ ছবি ভিডিও লেখক আর্কাইভ কনভার্টার

ঘরের কাজে চার গুণ বেশি সময় ব্যয় করেন নারীরা

প্রবা প্রতিবেদক

প্রকাশ : ২৫ আগস্ট ২০২৫ ২১:৫১ পিএম

ঘরের কাজে চার গুণ বেশি সময় ব্যয় করেন নারীরা

বাংলাদেশের নারীরা পুরুষের তুলনায় গৃহস্থালি কাজে চার গুণ বেশি সময় ব্যয় করেন। বিশেষ করে ১৫ থেকে ২৪ বছর বয়সি তরুণীরা সপ্তাহে গড়ে ২০ ঘণ্টা গৃহস্থালি কাজ করেন, যেখানে একই বয়সি পুরুষরা মাত্র পাঁচ ঘণ্টা সময় দেন। এই অতিরিক্ত দায়িত্ব নারীর শ্রমবাজারে অংশগ্রহণের পথে প্রধান অন্তরায় হয়ে দাঁড়িয়েছে। তবে যৌথ পরিবারের নারীরা তুলনামূলকভাবে কম চাপের মুখে থাকেন। ফলে তাদের জন্য উৎপাদনশীল কাজে অংশগ্রহণের সুযোগ বেশি থাকে।

সোমবার (২৫ আগস্ট) রাজধানীর আগারগাঁওয়ে বাংলাদেশ উন্নয়ন গবেষণা প্রতিষ্ঠান (বিআইডিএস) অডিটোরিয়ামে আয়োজিত ‘যত্নের দায়িত্ব ও নারীর কর্মসংস্থান’ শীর্ষক সেমিনারে এ তথ্য উঠে আসে। মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন সাজেদা ফাউন্ডেশনের জ্যেষ্ঠ গবেষণা উপদেষ্টা ড. সাজেদা আমিন। অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন জাতিসংঘের নারী বিভাগের উপপ্রতিনিধি নবনীতা সিনহা এবং সভাপতিত্ব করেন বিআইডিএসের মহাপরিচালক অধ্যাপক একে এনামুল হক।

গবেষণায় বলা হয়, ১৯৯১ সালে নারীর শ্রমশক্তিতে অংশগ্রহণ ছিল ১৪ শতাংশ, যা ২০১৬ সালে বেড়ে দাঁড়ায় ৩৬ শতাংশে। তবে এর বড় অংশই সীমাবদ্ধ রয়েছে ঘরে বসে করা কাজে। শহরে বাইরে গিয়ে কাজ করা নারীর সংখ্যা কমছে, যদিও গ্রামে কৃষি ও ঘরভিত্তিক কাজে তাদের অংশগ্রহণ বাড়ছে। জরিপে অংশ নেওয়া ৮১ শতাংশ নারী জানিয়েছেন, গৃহস্থালি কাজ ও শিশু দেখাশোনা তাদের বাইরে গিয়ে চাকরি করার পথে বড় অন্তরায়। অন্যদিকে পুরুষরা শ্রমবাজারে না থাকার কারণ হিসেবে শিক্ষা-সংক্রান্ত সীমাবদ্ধতার কথা উল্লেখ করেছেন। 

প্রতিবেদনে বলা হয়, শিশুর যত্ন নারীর কাজে বড় প্রভাব ফেলে। বাড়িতে যদি পাঁচ বছরের কম বয়সি শিশু থাকে, তবে নারীর উত্পাদনশীল কাজে সময় কমে যায়, আর গৃহস্থালি কাজে সময় বেড়ে যায়। শিক্ষার ক্ষেত্রেও ভিন্নতা রয়েছে। প্রাথমিক বা মাধ্যমিক শিক্ষায় বড় পার্থক্য না থাকলেও উচ্চশিক্ষা পাওয়া নারীরা বাইরে কাজ করার ক্ষেত্রে তুলনামূলকভাবে বেশি স্বাধীনতা পান। গবেষণায় আরও দেখা গেছে, গ্রামে নারীর কাজের অংশগ্রহণ বাড়ছে, বিশেষ করে কৃষি ও ঘরভিত্তিক কাজে। তবে শহরে বাইরে গিয়ে কাজ করা নারীর সংখ্যা কমছে, যা নতুন এক চ্যালেঞ্জ তৈরি করছে।

ড. সাজেদা আমিন বলেন, যৌথ পরিবার নারীর কর্মসংস্থানে ইতিবাচক ভূমিকা রাখছে। যৌথ পরিবারে অন্য সদস্যরা গৃহস্থালি ও শিশুর যত্নে সহায়তা করে, ফলে নারীরা উৎপাদনশীল কাজে গড়ে দুই ঘণ্টা বেশি সময় দিতে পারেন এবং গৃহস্থালি কাজে তিন ঘণ্টা কম সময় ব্যয় করতে হয়।

বিআইডিএসের মহাপরিচালক অধ্যাপক একে এনামুল হক বলেন, পোশাক কারখানার অনেক নারীকে এক কিলোমিটারের বেশি পথ হেঁটে কর্মস্থলে যেতে হয়। এতে তারা সন্তানকে সঙ্গে নিতে পারেন না। এ কারণে শিল্পকারখানার অনেক দিবাযত্ন কেন্দ্র খালি পড়ে থাকে। যদি কর্মস্থল বাসার কাছাকাছি হতো, তবে এসব কেন্দ্র কার্যকরভাবে ব্যবহার হতো।

বিআইডিএসের সাবেক গবেষণা পরিচালক ড. রুশিদান ইসলাম রহমান বলেন, নারীর শ্রমবাজারে অংশগ্রহণ বাড়াতে হলে কাজের চাহিদা তৈরি করতে হবে। বর্তমানে কর্মসংস্থানের সুযোগ সীমিত এবং যে সামান্য সুযোগ তৈরি হচ্ছে, তা পুরুষরা দখল করে নিচ্ছেন। তাই প্রযুক্তি ও আধুনিক খাতে নারীদের জন্য বেশি সুযোগ তৈরি জরুরি।

শেয়ার করুন-

মন্তব্য করুন

Protidiner Bangladesh

সম্পাদক : মারুফ কামাল খান

প্রকাশক : কাউসার আহমেদ অপু

রংধনু কর্পোরেট, ক- ২৭১ (১০ম তলা) ব্লক-সি, প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড) ঢাকা -১২২৯

যোগাযোগ

প্রধান কার্যালয়: +৮৮০৯৬১১৬৭৭৬৯৬ । ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন (প্রিন্ট): +৮৮০৯৬১১৬৭৭৮১০, +৮৮০১৮৮০৭৪৪৫৮০ | ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন (অনলাইন): +৮৮০১৮৮০৭৪৪৫৮০, +৮৮০১৭৯৯৪৪৯৫৫৯ । ই-মেইল: [email protected]

সার্কুলেশন: +৮৮০৯৬১১৬৭৭৮০৭, +৮৮০১৮৮০৭৪৪৩৩২ । ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন মূল্য তালিকা