× ই-পেপার প্রচ্ছদ সর্বশেষ বাংলাদেশ রাজনীতি দেশজুড়ে বিশ্বজুড়ে বাণিজ্য খেলা বিনোদন মতামত চাকরি শিক্ষা আজকের কার্টুন ফিচার সকল বিভাগ ছবি ভিডিও লেখক আর্কাইভ কনভার্টার

টেকসই বিদ্যুৎ খাতে ৩২ বিলিয়ন ডলার সংগ্রহ করা সম্ভব

প্রবা প্রতিবেদক

প্রকাশ : ২৪ আগস্ট ২০২৫ ১৩:৩৫ পিএম

রবিবার সকালে মহাখালীর ব্র্যাক সেন্টার ইন-এ ‘এনডিসি ৩.০: ভবিষ্যৎ টার্গেট’ শীর্ষক আলোচনাসভার আয়োজন করা হয়। প্রবা ফটো

রবিবার সকালে মহাখালীর ব্র্যাক সেন্টার ইন-এ ‘এনডিসি ৩.০: ভবিষ্যৎ টার্গেট’ শীর্ষক আলোচনাসভার আয়োজন করা হয়। প্রবা ফটো

বাংলাদেশে টেকসই বিদ্যুৎ খাত গড়ে তুলতে আগামী দুই দশকে বিপুল বিনিয়োগ প্রয়োজন হবে। সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগের (সিপিডি) এক গবেষণায় বলা হয়েছে, ১৬ হাজার ৬৫৫ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদনে প্রয়োজন ১৮ বিলিয়ন মার্কিন ডলার। ২০৩৫ সালে ১২ হাজার ৮৩২ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদনে লাগবে ১৩ বিলিয়ন ডলার এবং ২০৪১ সালে ১১ হাজার ১২৪ মেগাওয়াট উৎপাদনে প্রয়োজন হবে ১১ বিলিয়ন ডলার। সর্বমোট ৩২ বিলিয়ন ডলার ৩০টি বৈশ্বিক জলবায়ু তহবিল থেকে সংগ্রহ করা সম্ভব বলে গবেষণায় উঠে এসেছে।

রবিবার (২৪ আগস্ট) সকালে রাজধানীর মহাখালীর ব্র্যাক সেন্টার ইন-এ ‘এনডিসি ৩.০: ভবিষ্যৎ টার্গেট’ শীর্ষক আলোচনাসভায় এই তথ্য জানানো হয়। সেশনটি পরিচালনা করেন সিপিডির গবেষণা পরিচালক ড. খোন্দকার গোলাম মোআজ্জেম।

বাংলাদেশের বিদ্যুৎ খাত দেশের সর্বাধিক কার্বন নিঃসরণকারী খাত। জাতিসংঘ জলবায়ু পরিবর্তন ফ্রেমওয়ার্ক কনভেনশনের (UNFCCC) নির্দেশনা অনুযায়ী, বাংলাদেশকে আরও উচ্চাভিলাষী কার্বন নির্গমন হ্রাসের লক্ষ্য নির্ধারণ করতে হবে। বর্তমানে পরিবেশ অধিদপ্তর ২০২৫ সালের জন্য এনডিসি ৩.০ খসড়া প্রণয়ন করছে। ইতোমধ্যে বাংলাদেশ ২০৩০ সালের মধ্যে মোট বিদ্যুৎ উৎপাদনের ২০ শতাংশ নবায়নযোগ্য জ্বালানি থেকে উৎপাদনের লক্ষ্য নিয়েছে, যা ২০৪০ সালের মধ্যে ৩০ শতাংশে উন্নীত করার পরিকল্পনা রয়েছে। তবে এ লক্ষ্য অর্জনে দেশীয় ও আন্তর্জাতিক বিনিয়োগ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

আলোচনাসভায় দুটি গবেষণাপত্র উপস্থাপন করা হয়। সিপিডির গবেষণা সহকারী মেহেদী হাসান শামীন উপস্থাপন করেন ‘এনডিসি ২.০ বাস্তবায়নের অগ্রগতি’ বিষয়ক গবেষণা। অপর গবেষণা উপস্থাপন করেন হেলেন মাশিয়াত প্রিয়তি, যেখানে ২০৪০ সালের মধ্যে জলবায়ু লক্ষ্য পূরণে উপযুক্ত জ্বালানি মিশ্রণ ও প্রয়োজনীয় বিনিয়োগ বিশ্লেষণ করা হয়। গবেষণায় উঠে আসে, নবায়নযোগ্য জ্বালানির সম্ভাবনা কাজে লাগাতে না পারলে জলবায়ু অভিযোজন ও নির্গমন হ্রাসের লক্ষ্য অর্জন কঠিন হয়ে যাবে।

সংলাপে বিশেষ অতিথি ছিলেন পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব মোহাম্মদ নাভিদ সাফিউল্লাহ এবং একই মন্ত্রণালয়ের পরিবেশ উইং-এর অতিরিক্ত সচিব ড. ফাহমিদা খানম। এছাড়া উপস্থিত ছিলেন পাওয়ার গ্রিড বাংলাদেশ পিএলসি-এর চেয়ারম্যান প্রফেসর ড. এম. রেজওয়ান খান এবং বাংলাদেশ উন্নয়ন গবেষণা প্রতিষ্ঠানের (বিআইডিএস) সাবেক মহাপরিচালক ড. এম আসাদুজ্জামান।

পরিবেশ অধিদপ্তরের পরিচালক (জলবায়ু পরিবর্তন ও আন্তর্জাতিক কনভেনশন) মির্জা শওকত আলী বলেন, এনডিসি ২.০ বাস্তবায়নে আমরা উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি করতে পারিনি। তবে জাপানের সঙ্গে নতুনভাবে কাজ শুরু করেছি। ২০২৬ সালের মধ্যে ৯ শতাংশ নির্গমন কমানোর লক্ষ্য আছে। বিশ্বব্যাপী যে উদ্যোগ চলছে, যেখানে নির্গমনকারী দেশগুলো অন্য উপায়ে অফসেট করছে, সেই প্রক্রিয়ায় আমরাও অংশ নেব।

বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের আইপিপি সেল-৩-এর পরিচালক জারিফা খাতুন বলেন, সরকারি পরিকল্পনার সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে আমাদের খাতেও ছোট ছোট উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। এনডিসি ৩.০ বাস্তবায়নে ধাপে ধাপে এগোনো হচ্ছে।

বাংলাদেশ ইনডিপেনডেন্ট পাওয়ার প্রোডিউসার্স অ্যাসোসিয়েশনের (বিপিপিএ) সাবেক সভাপতি ইমরান করিম বলেন, কার্বন নিঃসরণ কমাতে হলে বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতকেই এগিয়ে আসতে হবে। বর্তমানে মোট বিদ্যুতের মাত্র ২ শতাংশ নবায়নযোগ্য উৎস থেকে আসে। ২০৩০ সালের মধ্যে এ হার ৩০ শতাংশে নিতে হলে ১২ থেকে ২৪ মিলিয়ন ডলারের বিনিয়োগ প্রয়োজন হবে। তবে বিনিয়োগকারীদের আস্থা অর্জন না করলে তা সম্ভব নয়।

ইউরোপীয় ইউনিয়নের বাংলাদেশ মিশনের পরিবেশ ও জ্বালানি বিষয়ক প্রোগ্রাম ম্যানেজার তানজিনা দিলশাদ বলেন, প্রতি পাঁচ বছর পর পর এনডিসি আপডেট করতে হবে। সেপ্টেম্বরে আমাদের নতুন এনডিসি জমা দিতে হবে। আজকের সিপিডির গবেষণা সেই প্রক্রিয়ায় সহায়ক হবে। অতীতে নবায়নযোগ্য নিয়ে অনাগ্রহ থাকলেও এখন পাওয়ার সেক্টরের সবাই একসঙ্গে কাজ করতে চাইছে। কার্বন ক্রেডিট বাজারে আসলে নতুন সুযোগ তৈরি হবে।

আইইউবি’র পরিবেশ বিজ্ঞান ও ব্যবস্থাপনা বিভাগের সহকারী অধ্যাপক শেখ মুহাম্মদ মেহেদী আহসান বলেন, প্রতি বছর দুই লাখ মানুষ বায়ুদূষণে মারা যায়। এর অন্যতম কারণ গ্রিনহাউস গ্যাস। গাড়ির কার্বন নির্গমন নিয়ন্ত্রণ এবং বিদ্যুৎ খাতকে সবুজায়নের মাধ্যমে এ সমস্যার সমাধান সম্ভব।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, বাংলাদেশের জলবায়ু অভিযোজন ও বিদ্যুৎ খাতের টেকসই রূপান্তরের সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হলো পর্যাপ্ত বিনিয়োগ। নবায়নযোগ্য জ্বালানি প্রকল্পে বিনিয়োগকারীদের আস্থা তৈরি না হলে এ খাতে কাঙ্ক্ষিত প্রবৃদ্ধি আসবে না। সরকারকে শুধু পরিকল্পনা নয়, বরং কার্যকর গ্যারান্টি এবং নীতি সহায়তাও দিতে হবে।

সিপিডির গবেষণা বলছে, ২০৩৫ সালের মধ্যে নবায়নযোগ্য জ্বালানির লক্ষ্যমাত্রা পূরণ করতে না পারলে দেশের বিদ্যুৎ খাত আরও বেশি কার্বন নির্ভর হয়ে পড়বে, যা আন্তর্জাতিক জলবায়ু প্রতিশ্রুতি অর্জনে বড় বাধা হয়ে দাঁড়াবে। ফলে নবায়নযোগ্য খাতে আন্তর্জাতিক তহবিল, দেশীয় বিনিয়োগ এবং কার্যকর নীতির সমন্বয় ছাড়া জলবায়ু লক্ষ্য অর্জন সম্ভব নয়।

শেয়ার করুন-

মন্তব্য করুন

Protidiner Bangladesh

সম্পাদক : মারুফ কামাল খান

প্রকাশক : কাউসার আহমেদ অপু

রংধনু কর্পোরেট, ক- ২৭১ (১০ম তলা) ব্লক-সি, প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড) ঢাকা -১২২৯

যোগাযোগ

প্রধান কার্যালয়: +৮৮০৯৬১১৬৭৭৬৯৬ । ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন (প্রিন্ট): +৮৮০৯৬১১৬৭৭৮১০, +৮৮০১৮৮০৭৪৪৫৮০ | ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন (অনলাইন): +৮৮০১৮৮০৭৪৪৫৮০, +৮৮০১৭৯৯৪৪৯৫৫৯ । ই-মেইল: [email protected]

সার্কুলেশন: +৮৮০৯৬১১৬৭৭৮০৭, +৮৮০১৮৮০৭৪৪৩৩২ । ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন মূল্য তালিকা