× ই-পেপার প্রচ্ছদ সর্বশেষ বাংলাদেশ রাজনীতি দেশজুড়ে বিশ্বজুড়ে বাণিজ্য খেলা বিনোদন মতামত চাকরি শিক্ষা আজকের কার্টুন ফিচার সকল বিভাগ ছবি ভিডিও লেখক আর্কাইভ কনভার্টার

৯ আর্থিক প্রতিষ্ঠান বন্ধের সিদ্ধান্ত, বন্ধ হতে পারে আরও ১১টি

প্রবা প্রতিবেদক

প্রকাশ : ২৩ আগস্ট ২০২৫ ১০:১৩ এএম

ফাইল ফটো

ফাইল ফটো

আমানতকারীদের টাকা ফেরত দিতে না পারা ও খেলাপি ঋণে বন্ধ হয়ে যাচ্ছে ৯টি ব্যাংক-বহির্ভূত আর্থিক প্রতিষ্ঠান। দেশের ৩৫টি আর্থিক প্রতিষ্ঠানের মধ্যে ২০টি অবসায়নের কথা ভাবছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক। এর মধ্যে প্রথমবারের মতো ৯টি প্রতিষ্ঠান বন্ধ হতে যাচ্ছে। আরও ১১টি প্রতিষ্ঠান বন্ধ হতে পারে। গ্রাহকদের স্বার্থ রক্ষায় এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হচ্ছে বলে জানিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক।

খাতসংশ্লিষ্টরা বলেন, বেশিরভাগ এনবিএফআই ঋণ প্রদানের ক্ষেত্রে গ্রাহক নির্বাচনে ব্যর্থ হয়েছে। ঋণ প্রদানের ক্ষেত্রে জামানতকে অগ্রাধিকার দেওয়া উচিত ছিল। এনবিএফআইগুলো দীর্ঘমেয়াদি অর্থায়ন প্রদানের জন্য প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল, কিন্তু বেশিরভাগই সেই লক্ষ্যে ব্যর্থ হয়েছে। সামনে একটি শক্তিশালী এনবিএফআই খাত প্রয়োজন। কিন্তু বাস্তবতা হলো, তাদের বেশিরভাগই ভালো করছে না।

বন্ধ হতে যাওয়া আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলো হলোÑ এফএএস ফাইন্যান্স, বাংলাদেশ ইন্ডাস্ট্রিয়াল ফাইন্যান্স কোম্পানি, প্রিমিয়ার লিজিং, ফারইস্ট ফাইন্যান্স, জিএসপি ফাইন্যান্স, প্রাইম ফাইন্যান্স, আভিভা ফাইন্যান্স, পিপলস লিজিং এবং ইন্টারন্যাশনাল লিজিং।

বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, গত বছরের শেষে আর্থিক খাতে মোট খেলাপি ঋণের পরিমাণ ছিল ২৫ হাজার ৮৯ কোটি টাকা। তার মধ্যে ৫২ শতাংশ খেলাপি ঋণ এই ৯টি প্রতিষ্ঠানের।

এ প্রসঙ্গে বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর আহসান এইচ মনসুর বলেন, ‘এই ৯টি প্রতিষ্ঠান লিকুইডেট করা হবে, সরকার নীতিগতভাবে এ বিষয়ে মত দিয়েছে।’

আগামী মাসেই ফাইন্যান্স কোম্পানি আইন-২০২৩ অনুযায়ী কিছু প্রতিষ্ঠানের লিকুইডেশন (বন্ধ করে দেওয়ার) প্রক্রিয়া শুরু হতে পারে। এই আইনে বলা আছে, সরকারের অনুমতি নিয়ে আর্থিক প্রতিষ্ঠান বন্ধে বাংলাদেশ ব্যাংক হাইকোর্টে আবেদন করতে পারবে। কোনো আর্থিক প্রতিষ্ঠান যদি আমানত, ঋণ বা ধার শোধ করতে না পারে, তবে কোম্পানি আইনেও তাদের রক্ষা করা যাবে না।

বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর বলেন, ‘আমরা এটা করছি শুধু আমানতকারীদের টাকা ফেরত দেওয়ার জন্য। তাদের স্বার্থই আমাদের প্রথম অগ্রাধিকার।’

লিকুইডেশন হবে আইনি প্রক্রিয়ার মাধ্যমে এবং বাংলাদেশ ব্যাংক এজন্য লিকুইডেটর (প্রতিষ্ঠান বন্ধের দায়িত্বপ্রাপ্ত ব্যক্তি/সংস্থা) নিয়োগ করবে বলে জানিয়েছেন গভর্নর। তিনি আরও জানান, শেষ পর্যন্ত ৯টির বেশি ব্যাংক-বহির্ভূত আর্থিক প্রতিষ্ঠান (এনবিএফআই) বন্ধ হয়ে যেতে পারে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, গত বছরের শেষে পুরো খাতের মোট খেলাপি ঋণের ৭৩ দশমিক ৫ শতাংশ কেবল ১২টি আর্থিক প্রতিষ্ঠানের দখলে।

এর আগে জানুয়ারিতে কেন্দ্রীয় ব্যাংক ২০টি এনবিএফআইকে দুর্বল আর্থিক প্রতিষ্ঠান হিসেবে (যেখানে খেলাপি ঋণের পরিমাণ অনেক বেশি) শনাক্ত করে এবং তাদের ‘লাল তালিকায়’ রাখে। এই ২০টি আর্থিক প্রতিষ্ঠানÑ সিভিসি ফাইন্যান্স, বে লিজিং, ইসলামিক ফাইন্যান্স, মেরিডিয়ান ফাইন্যান্স, জিএসপি ফাইন্যান্স, হজ ফাইন্যান্স, ন্যাশনাল ফাইন্যান্স, আইআইডিএফসি, প্রিমিয়ার লিজিং, প্রাইম ফাইন্যান্স, উত্তরা ফাইন্যান্স, আভিভা ফাইন্যান্স, ফিনিক্স ফাইন্যান্স, পিপলস লিজিং, ফার্স্ট ফাইন্যান্স, ইউনিয়ন ক্যাপিটাল, ইন্টারন্যাশনাল লিজিং, বিআইএফসি, ফারইস্ট ফাইন্যান্স ও এফএএস ফাইন্যান্স।

এর আগে, বাংলাদেশ ব্যাংক ২০টি আর্থিক প্রতিষ্ঠানকে চিঠি দিয়ে ১৫ কর্মদিবসের মধ্যে জানাতে বলেছিল, কেন তাদের লাইসেন্স বাতিল করা হবে না। এই ২০টির মধ্যে ৯টি প্রতিষ্ঠানকে প্রথমে বন্ধ করার জন্য বেছে নেওয়া হয়েছে, কারণ তাদের জবাব সন্তোষজনক ছিল না। বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর বলেছেন, ‘তাদের সব পরিকল্পনা গ্রহণযোগ্য ছিল না।’

বন্ধ হতে যাওয়া বেশিরভাগ প্রতিষ্ঠান ব্যবস্থাপনা পরিচালক বা প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা ছাড়াই চলছে। এ ছাড়া কিছু প্রতিষ্ঠান স্বতন্ত্র পরিচালকের মাধ্যমে পরিচালিত হচ্ছে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের মুখপাত্র আরিফ হোসেন খান বলেন, কেন্দ্রীয় ব্যাংক নোটিস দিয়েছিল আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোকে। যাদের ব্যাখ্যা সন্তোষজনক হয়নি, তাদের অবসায়নের আওতায় আনা হবে। তবে এই প্রক্রিয়া সম্পন্ন হতে কিছুটা সময় লাগবে। তিনি বলেন, এই এনবিএফআইগুলোতে ঋণ জালিয়াতির সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

তবে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের প্রতিবেদনে তুলনামূলক ভালো হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে ১৫টি আর্থিক প্রতিষ্ঠানকে। এই ১৫টি প্রতিষ্ঠানের মোট ঋণের পরিমাণ ৪৯ হাজার ৬৪৩ কোটি টাকা। এর মধ্যে শ্রেণিকৃত ঋণের পরিমাণ মাত্র ৩ হাজার ৬২৭ কোটি টাকা, যা তাদের মোট ঋণের ৭ দশমিক ৩১ শতাংশ। 

গবেষণা ও নীতিসহায়ক সংস্থা ইনস্টিটিউট ফর ইনক্লুসিভ ফাইন্যান্স অ্যান্ড ডেভেলপমেন্টের (আইএনএফ) সাবেক নির্বাহী পরিচালক এবং বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক প্রধান অর্থনীতিবিদ ড. মোস্তফা কে মুজেরী প্রতিদিনের বাংলাদেশকে বলেন, ‘এখন অবসায়ন কীভাবে করবে, সেটা দেখার বিষয়। এই ব্যাংক-বহির্ভূত আর্থিক প্রতিষ্ঠানে যাতে গ্রাহকের আস্থা নষ্ট না হয়, সেটার প্রতি খেয়াল রাখতে হবে। আমানতকারীদের অর্থ অবশ্যই ফেরত দেওয়া উচিত।’

শেয়ার করুন-

মন্তব্য করুন

Protidiner Bangladesh

সম্পাদক : মারুফ কামাল খান

প্রকাশক : কাউসার আহমেদ অপু

রংধনু কর্পোরেট, ক- ২৭১ (১০ম তলা) ব্লক-সি, প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড) ঢাকা -১২২৯

যোগাযোগ

প্রধান কার্যালয়: +৮৮০৯৬১১৬৭৭৬৯৬ । ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন (প্রিন্ট): +৮৮০৯৬১১৬৭৭৮১০, +৮৮০১৮৮০৭৪৪৫৮০ | ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন (অনলাইন): +৮৮০১৮৮০৭৪৪৫৮০, +৮৮০১৭৯৯৪৪৯৫৫৯ । ই-মেইল: [email protected]

সার্কুলেশন: +৮৮০৯৬১১৬৭৭৮০৭, +৮৮০১৮৮০৭৪৪৩৩২ । ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন মূল্য তালিকা