× ই-পেপার প্রচ্ছদ সর্বশেষ বাংলাদেশ রাজনীতি দেশজুড়ে বিশ্বজুড়ে বাণিজ্য খেলা বিনোদন মতামত চাকরি শিক্ষা আজকের কার্টুন ফিচার সকল বিভাগ ছবি ভিডিও লেখক আর্কাইভ কনভার্টার

বাস র‌্যাপিড ট্রানজিট

চার বছরের প্রকল্প ঠেকছে ১৭ বছরে

প্রবা প্রতিবেদক

প্রকাশ : ২১ আগস্ট ২০২৫ ১১:০২ এএম

গ্রাফিক্স : প্রবা

গ্রাফিক্স : প্রবা

গাজীপুর থেকে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর পর্যন্ত ২০ দশমিক ৫০ কিলোমিটার নির্দিষ্ট লেনে দ্রুত গণপরিবহণ ব্যবস্থা চালুর উদ্দেশ্যে ২০১২ সালে হাতে নেওয়া হয় বাস র‌্যাপিড ট্রানজিট (বিআরটি) প্রকল্প। প্রকল্পটি মাত্র চার বছরে শেষ হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু একের পর এক সংশোধন, সময় বাড়ানো আর ব্যয়ের লাগামহীন বৃদ্ধি শেষে সেই প্রকল্প এখন ঠেকছে ১৭ বছরে।

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, শেখ হাসিনার সরকারের লোকদেখানো উন্নয়নের প্রতীক হয়ে দাঁড়িয়েছে বিআরটি। কোনো সঠিক সম্ভাব্যতা যাচাই ছাড়াই বৈদেশিক ঋণ নিয়ে শুরু হওয়া এ প্রকল্প এখন অন্তর্বর্তী সরকারের জন্য অভিশাপে পরিণত হয়েছে। কাজ এমন পর্যায়ে এসে ঠেকেছে যে, এটিকে পুরোপুরি বাতিল করা সম্ভব নয়, আবার সম্পন্ন করতেও আরও কয়েক হাজার কোটি টাকা ব্যয় করতে হবে।

জানা গেছে, আওয়ামী লীগ সরকারের সময়ে এশীয় উন্নয়ন ব্যাংক (এডিবি) ও ফরাসি উন্নয়ন সংস্থা (এএফডি) থেকে ৩ হাজার ৬৯৭ কোটি টাকার বৈদেশিক ঋণ নিয়ে এ উদ্যোগ শুরু হয়। 

শুরুতে ২০১৬ সালের ডিসেম্বরের মধ্যে প্রকল্প শেষ করার লক্ষ্য থাকলেও কাজ এগোয়নি। একের পর এক পাঁচ দফায় সময় বাড়ানো হয়। সর্বশেষ মেয়াদ গড়িয়েছে ২০২৯ সালের ডিসেম্বর পর্যন্ত। এভাবে ৪ বছরের প্রকল্প এখন টেনে নেওয়া হচ্ছে ১৭ বছরে। শুধু সময় নয়, ব্যয়ও লাফিয়ে লাফিয়ে বেড়েছে। মূল অনুমোদিত ব্যয় ছিল ২ হাজার ৩৯ কোটি টাকা, কিন্তু এখন তা দাঁড়িয়েছে ৬ হাজার ৫৯৭ কোটি টাকায়। অর্থাৎ প্রায় সাড়ে চার হাজার কোটি টাকা অতিরিক্ত ব্যয় হবে। অথচ এত কিছুর পরও প্রকল্পের মূল উদ্দেশ্য- বাস আনার ব্যবস্থা এখনো হয়নি।

পরিকল্পনা উপদেষ্টা ড. ওয়াহিদউদ্দিন মাহমুদ এ প্রসঙ্গে বলেন, বিআরটি প্রকল্প নিয়ে সরকার এখন ‘আমরা কী করিব’ অবস্থায় আছে। ইতোমধ্যে অবকাঠামো নির্মাণে বিপুল অর্থ ব্যয় হয়েছে, কাজও অনেকটা এগিয়েছে। কিন্তু পরিবহণ বাস আনার ব্যবস্থা হয়নি। এর ফলে প্রকল্পের সুফল পাওয়া যায়নি। বরং সাধারণ মানুষ ফুটপাত ব্যবহার করতে পারছে না, সড়কের একপাশ থেকে অন্যপাশে হাঁটা কঠিন হয়ে পড়েছে, যানবাহনের পাশ পরিবর্তনেও জটিলতা তৈরি হয়েছে। তাঁর মতে, প্রকল্পটি শেষ করতে হলে আরও প্রায় চার হাজার কোটি টাকা ব্যয় করতে হবে।

প্রকল্পের অর্থায়ন কাঠামো শুরু থেকেই জটিল। মূল অনুমোদিত ব্যয়ে সরকারি তহবিল ছিল ৩৮৯ কোটি টাকা আর বৈদেশিক ঋণ ১ হাজার ৬৫০ কোটি টাকা। পরে তিনবার সংশোধনের পর ব্যয় বেড়ে দাঁড়ায় ৪ হাজার ২৬৮ কোটি টাকা। আর চতুর্থ সংশোধনী প্রস্তাবে তা দাঁড়ায় ৬ হাজার ৫৯৭ কোটি টাকা। এর মধ্যে বৈদেশিক ঋণ রাখা হয়েছে ৩ হাজার ৬৯৭ কোটি টাকা এবং সরকারি তহবিল থেকে ব্যয় ধরা হয়েছে ২ হাজার ৯০০ কোটি টাকা।

অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগের (ইআরডি) তথ্যানুযায়ী, ২০১২ সালের ডিসেম্বরে এডিবির সঙ্গে ১৬ কোটি ডলারের ঋণ চুক্তি হয়। ২০১৩ সালের জানুয়ারিতে আরও সাড়ে ৪ কোটি ডলার ঋণ নেওয়া হয়। ২০২২ সালের নভেম্বরে অতিরিক্ত ১০ কোটি ডলার ঋণ মঞ্জুর হয় এবং ২০২৩ সালের জুনে এএফডির সঙ্গে ১০ কোটি ইউরো ঋণ চুক্তি হয়। এসব ঋণের শর্ত অনুযায়ী সুদের হার ২ শতাংশ, ম্যাচুরিটি প্রিমিয়াম শূন্য দশমিক ১০ শতাংশ এবং অব্যয়িত অর্থের ওপর শূন্য দশমিক ১৫ শতাংশ হারে কমিটমেন্ট চার্জ দিতে হবে। পাঁচ বছরের রেয়াতকালসহ ২৫ বছরে এ ঋণ শোধ করতে হবে। তবে ইতোমধ্যে রেয়াতকাল শেষ হয়ে গেছে। ফলে প্রকল্পের সুফল না আসার আগেই ঋণ শোধ শুরু হয়ে গেছে।

প্রকল্প সংশ্লিষ্টদের তথ্যমতে, গত মে পর্যন্ত ব্যয় হয়েছে ২ হাজার ৮১০ কোটি টাকা। এতে আর্থিক অগ্রগতি হয়েছে ৬৫ দশমিক ৮৫ শতাংশ, আর বাস্তব অগ্রগতি ৭৭ দশমিক ৪৭ শতাংশ। কিন্তু প্রকল্পের কাঙ্ক্ষিত ফল এখনো অধরাই।

এ প্রকল্প বাস্তবায়নে যুক্ত আছে চারটি সরকারি সংস্থা-সড়ক ও জনপথ অধিদপ্তর, সেতু কর্তৃপক্ষ, স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর এবং ঢাকা বাস র‌্যাপিড ট্রানজিট কোম্পানি। একাধিক সংস্থার মধ্যে সমন্বয়হীনতাই প্রকল্প বিলম্বের বড় কারণ বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা। তাঁদের মতে, দায়বদ্ধতা না থাকা ও দীর্ঘসূত্রতার কারণে প্রকল্প অকার্যকর হয়ে পড়ছে।

জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির (একনেক) সর্বশেষ বৈঠকে প্রকল্পের চতুর্থ সংশোধনী প্রস্তাব অনুমোদন দেওয়া হয়নি। বরং পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ের অধীনে বাস্তবায়ন, পরিবীক্ষণ ও মূল্যায়ন বিভাগকে (আইএমইডি) প্রকল্পটি খতিয়ে দেখতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এর ফলে প্রকল্পের ভবিষ্যৎ আরও অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, যেকোনো বৈদেশিক ঋণনির্ভর প্রকল্পের মূল লক্ষ্য থাকে নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে বাস্তবায়ন করে অর্থনৈতিক ও সামাজিক সুফল নিশ্চিত করা। কিন্তু বিআরটি প্রকল্পে সেই লক্ষ্যই প্রশ্নবিদ্ধ হয়ে পড়েছে। সময় ও ব্যয়ের লাগামহীন বৃদ্ধি, পরিকল্পনার ঘাটতি ও বাস্তবায়নে গাফিলতির কারণে জনগণও ভোগান্তিতে পড়েছে। ফলে প্রকল্পটি এখন সরকারের জন্য আর্থিক চাপ, আর সাধারণ মানুষের কাছে দুর্ভোগের নাম হয়ে দাঁড়িয়েছে।

শেয়ার করুন-

মন্তব্য করুন

Protidiner Bangladesh

সম্পাদক : মারুফ কামাল খান

প্রকাশক : কাউসার আহমেদ অপু

রংধনু কর্পোরেট, ক- ২৭১ (১০ম তলা) ব্লক-সি, প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড) ঢাকা -১২২৯

যোগাযোগ

প্রধান কার্যালয়: +৮৮০৯৬১১৬৭৭৬৯৬ । ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন (প্রিন্ট): +৮৮০৯৬১১৬৭৭৮১০, +৮৮০১৮৮০৭৪৪৫৮০ | ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন (অনলাইন): +৮৮০১৮৮০৭৪৪৫৮০, +৮৮০১৭৯৯৪৪৯৫৫৯ । ই-মেইল: [email protected]

সার্কুলেশন: +৮৮০৯৬১১৬৭৭৮০৭, +৮৮০১৮৮০৭৪৪৩৩২ । ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন মূল্য তালিকা