প্রবা ডেস্ক
প্রকাশ : ১২ ডিসেম্বর ২০২২ ১৭:৩৫ পিএম
ছবি : সংগৃহীত
কাঁচামালের বাড়তি দাম, কর্মী সংকট, ব্যাংক ঋণে উচ্চ সুদের হার এবং ভোক্তার চাহিদা কমায় যুক্তরাজ্যের শিল্পোৎপাদন বিগত সময়ের তুলনায় ৪ শতাংশ কমেছে। একে আশঙ্কাজনক হিসেবে বিবেচনা করছেন নীতি নির্ধারকরা। তবে ২০২৩ সালে ৩ দশমিক ২ শতাংশ হারে কমে যাওয়ার আশঙ্কা করা হচ্ছে। ফলে দুই বছর পর আবারও এ খাতে নেতিবাচক প্রভাব পড়তে শুরু করেছে।
ব্রিটিশ গণমাধ্যম দ্য গার্ডিয়ানের এক প্রতিবেদনে বলা হয়, আগামী বছরের শেষ নাগাদ শিল্পোৎপাদন খাত ৭ শতাংশ সংকুচিত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। ২০২১ সালে করোনা মহামারির বিরূপ প্রভাব এ বছরের উৎপাদন খাতে পড়েছে। একই ভাবে বর্তমান অর্থনৈতিক সংকটের প্রভাব আগামীতেও পড়বে। আগামী বৃহস্পতিবার পুনরায় সুদের হার বাড়ানো হবে কিনা তা নিয়ে আলোচনায় বসবে ব্যাংক অব ইংল্যান্ডের নীতিনির্ধারকরা। আলোচনার পূর্বেই তাদের হাতে পৌঁছেছে নেতিবাচক অর্থনীতির চিত্র। প্রতিবেদরন ৩৩০ টিরও বেশি কোম্পানির ওপর চালানো জরিপে দেখা যায়, চলতি বছরের প্রথম প্রান্তিকে শিল্পোৎপাদন কমেছিল ৩ শতাংশ, দ্বিতীয় প্রান্তিকে ১ দশমিক ৭ শতাংশ , তৃতীয় প্রান্তিকে শূন্য দশমিক ৬ শতাংশ। তবে অবাক করা বিষয় হল শেষ প্রান্তিকে এসে সংকোচনের হার মাইনাস ৪ দশমিক ৪ শতাংশ।
ব্রিটেনের নীতিনির্ধারকরা বলছেন, এ বছর মোট দেশজ উৎপাদন- শিল্প খাতের অবদান ৪ দশমিক ৪ শতাংশ হবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। তবে আগামী বছর জিডিপিতে শিল্প খাতের অবদান শূন্য দশমিক ৯ শতাংশ কমতে পারে। সার্বিক পরিস্থিতি বিবেচনা করে ব্যাংক অব ইংল্যান্ড ব্যাংক ঋণে সুদের হার ৩ থেকে ৩ দশমিক ৫ শতাংশ পর্যন্ত বৃদ্ধি করতে পারেন বলে ধারণা করছেন বিশ্লেষকরা। যদি বিশ্লেষকদের ধারণা ঠিক হয় তাহলে এটিই হবে ১৪ বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ সুদের হার। আগের দেওয়া পূর্বাভাসে ব্যাংকগুলোর পক্ষ থেকে বলা হয়েছিল, আগামী বছর ব্যাংক ঋণে বছর সুদের হার ৫ দশমিক ২৫ শতাংশ পর্যন্ত হতে পারে। তবে সে পূর্বাভাস থেকে সরে এসেছে ব্যাংকগুলো। এখন বলা হচ্ছে, ব্যাংক ঋণে সুদের হার ৪ দশমিক ৫ শতাংশ পর্যন্ত হতে পারে। তবে হঠাৎ এমন সুদের হার বৃদ্ধি এবং জ্বালানি খরচের সঙ্গে লড়াই করা পরিবারগুলোর ওপর আরও চাপ সৃষ্টি করতে পারে বলে হুশিয়ারি দিয়েছে ডয়েচে ব্যাংক।
সোমবার তৃতীয় প্রান্তিকের জিডিপি প্রকাশ করেছে অফিস ফর ন্যাশনাল স্ট্যাটিস্টিকস (ওএনএস)। প্রকাশিত পরিসংখ্যানে বলা হয়, ক্রমবর্ধমান মূল্যস্ফীতির সঙ্গে পরিবার এবং ব্যবসা প্রতিষ্ঠানগুলো লড়াই করছে। সম্ভাব্য অর্থনৈতিক মন্দার ফলে বছরের তৃতীয় প্রান্তিকে জিডিপি কমেছে শূন্য দশমিক ২ শতাংশ।
দেশের অর্থনীতিকে সচল রাখতে শিল্প প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে আলাপ করে দীর্ঘ মেয়াদি পরিকল্পনা করার আহ্বান জানিয়েছেন শিল্প প্রতিষ্ঠান মেক ইউকের প্রধান নির্বাহী স্টিফেন ফিপসন। তিনি বলেন, "আমাদের দেশ এমন একটি সংকটের মধ্যদিয়ে যাচ্ছে যেখানে সামান্য প্রবৃদ্ধি কোন সমাধান নয়। দেশের অর্থনীতিকে সচল রাখতে এবং শিল্পকে বাঁচাতে সরকারকে দীর্ঘমেয়াদী শিল্প কৌশল অবলম্বন করতে হবে। এজন্য অবশ্যই শিল্প প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে বসে সিদ্ধান্ত নিতে হবে।"
শ্রমিক সংকট দূর করতে অভিবাসন নীতি সংশোধনের ওপর গুরুত্বারোপ করে ফিপসন ব্রিটিশ মন্ত্রীদের উদ্দেশ্যে বলেন, "স্বল্প সময়ের জন্য হলেও অভিবাসন নীতি সহজ করে দেশের শ্রম ঘাটতি দূর করতে হবে। কর্ম-সম্পর্কিত প্রশিক্ষণের জন্য কর ছাড়ের পরিমাণ বাড়াতে হবে। ছোট ব্যবসার জন্য গবেষণা এবং উন্নয়ন ট্যাক্স মকুফের সিদ্ধান্ত গুলো পুনর্বিবেচনা করতে হবে।"
বিডিওর ন্যাশনাল হেড অফ ম্যানুফ্যাকচারিং রিচার্ড অস্টিন বলেন, যেখানে যন্ত্রাংশ উৎপাদন খাত নিয়ে সরকারের কার্যকর কোন পরিকল্পনা নেই , সেখানে তারা কীভাবে দীর্ঘমেয়াদী শিল্প পরিকল্পনা করবে তা নিয়ে প্রশ্ন থেকেই যায়।
এদিকে আগামী বৃহস্পতিবার মনিটারি পলিসি কমিটির (এমপিসি) নয়জন সদস্য সুদের হার নির্ধারণের বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেবেন। সে আলোচনায় ব্যাংক অফ ইংল্যান্ড শিল্পোৎপাদন খাত কীভাবে সংকট ও সংগ্রামের বিষয় তুলে ধরবেন। তবে বিশ্লেষকরা বলছেন, নতুন সুদের হার যেমন ব্যবসায়ীদের ঋণ নেওয়ার খরচ বাড়িয়ে দেবে, তেমনই লক্ষ লক্ষ বন্ধকী ঋণ গ্রহীতাদের প্রতিমাসে অধিক পরিমাণ অর্থ পরিশোধ করতে বাধ্য করবে।