× ই-পেপার প্রচ্ছদ সর্বশেষ বাংলাদেশ রাজনীতি দেশজুড়ে বিশ্বজুড়ে বাণিজ্য খেলা বিনোদন মতামত চাকরি শিক্ষা আজকের কার্টুন ফিচার সকল বিভাগ ছবি ভিডিও লেখক আর্কাইভ কনভার্টার

বিশ্বব্যাংকের কড়াকড়ি

শর্ত না মানলেই অর্থ ছাড় বন্ধ

আরমান হেকিম

প্রকাশ : ১৬ আগস্ট ২০২৫ ২৩:৫০ পিএম

আপডেট : ১৬ আগস্ট ২০২৫ ২৩:৫৩ পিএম

ছবি: সংগৃহীত

ছবি: সংগৃহীত

বিদেশি ঋণে বাস্তবায়ন করা প্রকল্পে আন্তর্জাতিক দরপত্রের মাধ্যমে ঠিকাদারকে কাজ দেওয়া হয়। এতে ঠিকাদার চাইলে বাংলাদেশ থেকে শ্রমিক নিতে পারত আবার বিদেশি শ্রমিক দিয়েও কাজ করাতে পারত। এতে স্থানীয় শ্রমিকদের স্বার্থ সুরক্ষা হতো না। তবে এই নীতির পরিবর্তন আনছে বিশ্বব্যাংক। নতুন নীতিমালা অনুযায়ী, বিশ্বব্যাংকের অর্থায়নে বাস্তবায়িত প্রকল্পে শ্রম ব্যয়ের অন্তত ৩০ শতাংশ স্থানীয় শ্রমিক নিয়োগে ব্যয় করতে হবে। এ শর্ত মানা না হলে প্রকল্পের অর্থ ছাড় বন্ধ হয়ে যাবে। এ-সংক্রান্ত নির্দেশনা বিশ্বব্যাংকের ঢাকা অফিস থেকে অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগে (ইআরডি) পাঠানো হয়েছে। এ নিয়ম আগামী ১ সেপ্টেম্বর থেকে কার্যকর হবে। 

বিশ্লেষকরা বলছেন, বিশ্বব্যাংকের এই সিদ্ধান্ত স্থানীয় জনগণের উন্নয়ন, কর্মসংস্থান ও দক্ষতা গঠনের ক্ষেত্রে সমান গুরুত্বপূর্ণ। এই নীতির ফলে অদক্ষ শ্রমিকদের দক্ষতা বাড়বে এবং আরও কর্মমুখী করে তুলবে। শর্ত না মানলেই অর্থ ছাড় বন্ধ রাখার বিধান দিয়ে বিশ্বব্যাংক কার্যত স্থানীয় জনগণের স্বার্থকে উন্নয়ন সহায়তার কেন্দ্রবিন্দুতে নিয়ে এসেছে।

বিশ্বব্যাংকের এই নতুন নীতি অনুযায়ী, আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতামূলক দরপত্রে অংশগ্রহণ করতে হলে প্রতিটি দরদাতাকে একটি লোকাল লেবার মেথড স্টেটমেন্ট জমা দিতে হবে। এতে দেখাতে হবে কীভাবে শ্রম ব্যয়ের অন্তত ৩০ শতাংশ স্থানীয় শ্রমিক নিয়োগে ব্যয় করা হবে। শুধু তাই নয়, নিম্ন ও অর্ধদক্ষ স্থানীয় শ্রমিকদের দক্ষতা উন্নয়নের জন্য কী ধরনের উদ্যোগ নেওয়া হবে- তাও উল্লেখ করতে হবে।

প্রকল্প বাস্তবায়নের সময় সংশ্লিষ্ট প্রকৌশলী বা তদারকি কর্তৃপক্ষ যাচাই করবে এই শর্ত পূরণ হয়েছে কি না। যদি দেখা যায় শর্ত মানা হয়নি, তবে ঠিকাদারের পাওনা টাকার একটি অংশ আটকে রাখা হবে। নিয়ম পূরণ করার পরই কেবল সেই অর্থ ছাড় হবে। অর্থাৎ, স্থানীয় শ্রমিক নিয়োগ বাধ্যতামূলক করতে এটিই হবে আর্থিক শাস্তি বা কড়াকড়ি শর্ত।

বিশ্বব্যাংক থেকে পাঠানো চিঠিতে বলা হয়েছে, শ্রম ব্যয়ের কমপক্ষে ৩০ শতাংশ স্থানীয় শ্রমিকদের জন্য বরাদ্দ রাখা বাধ্যতামূলক। আর শর্ত লঙ্ঘন হলে বাংলাদেশসহ ঋণগ্রহীতা দেশগুলো অর্থ আটকে রাখার ক্ষমতা প্রয়োগ করতে পারবে।

বাংলাদেশে কেন গুরুত্বপূর্ণ

অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগের (ইআরডি) কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, এত দিন বিশ্বব্যাংক অর্থায়িত প্রকল্পে স্থানীয় শ্রমিক নিয়োগ বা শ্রম ব্যয়ের নির্দিষ্ট অংশ বরাদ্দের কোনো বাধ্যবাধকতা ছিল না। অনেক ক্ষেত্রে ঠিকাদারেরা নিজেদের মতো করে স্থানীয় শ্রমিক নিয়োগ দিতেন। তবে এতে কোনো নীতিগত ধারাবাহিকতা ছিল না।

ইআরডির একজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, ‘এই শর্ত কার্যকর হলে বাংলাদেশে দক্ষ ও অদক্ষ উভয় শ্রেণির শ্রমিকের জন্য কর্মসংস্থানের সুযোগ বাড়বে। একই সঙ্গে প্রকল্পের মাধ্যমে স্থানীয় শ্রমশক্তির দক্ষতাও বৃদ্ধি পাবে, যা দীর্ঘমেয়াদে শ্রমবাজারের জন্য ইতিবাচক।’

বিশ্বব্যাংকের ঢাকা অফিসের সাবেক প্রধান অর্থনীতিবিদ ড. জাহিদ হোসেন এ বিষয়ে বলেন, ‘এই পদক্ষেপ আসলে বিশ্বব্যাংকের বৈশ্বিক নীতির অংশ, যা কর্মসংস্থান বাড়ানোর ওপর গুরুত্ব দিচ্ছে।’

তার ভাষায়, কর্মসংস্থানবিহীন প্রবৃদ্ধি এখন বৈশ্বিক চ্যালেঞ্জ। এই নীতি একধরনের ‘চ্যারিটি বিগিনস অ্যাট হোম’। এর মাধ্যমে বিশ্বব্যাংক তার কর্মসংস্থান এজেন্ডাকে প্রকল্প বিনিয়োগের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ করছে।

তিনি আরও বলেন, ‘দীর্ঘদিন ধরে সমালোচনা ছিল যে, বিশ্বব্যাংকের প্রকল্প ব্যয়ের একটি বড় অংশ দাতা দেশগুলোর কাছেই ফিরে যায়, বিশেষ করে পরামর্শক ফি ও সেবার মাধ্যমে। স্থানীয় শ্রমিক নিয়োগে নির্দিষ্ট কোটা বরাদ্দ দেওয়ার মাধ্যমে সেই সমালোচনার একটি অংশ প্রশমিত হতে পারে। তবে তিনি সতর্ক করেন, বাস্তবায়ন কতটা কার্যকরভাবে হবে সেটিই এখন বড় প্রশ্ন।’

ঋণগ্রহীতাদের বাড়তি দায়িত্ব

নতুন শর্ত কার্যকরে শুধু ঠিকাদারদেরই নয়, ঋণগ্রহীতা দেশগুলোকেও (যেমন বাংলাদেশ) বাড়তি দায়িত্ব নিতে হবে। তাদের প্রকল্প বাস্তবায়ন কৌশলে স্থানীয় শ্রমবাজারের বিস্তারিত বিশ্লেষণ যুক্ত করতে হবে। পাশাপাশি প্রতি তিন মাস অন্তর বিশ্বব্যাংকে নিয়মিত প্রতিবেদন পাঠাতে হবে। এর জন্য একটি নির্ধারিত ফরম ব্যাংকের ওয়েবসাইটে দেওয়া হবে।

তদুপরি, বিশ্বব্যাংক জানিয়েছে, এই নীতি বাস্তবায়নে সুবিধা দিতে তারা বিস্তারিত নির্দেশিকা, গাইডলাইন ও অনলাইন প্রশিক্ষণ উপকরণ তৈরি করছে। এর মাধ্যমে ঋণগ্রহীতা দেশ, প্রকল্প বাস্তবায়নকারী সংস্থা এবং ঠিকাদারেরা নিয়মগুলো সহজে বুঝতে পারবে এবং মানতে পারবে।

উন্নয়ন সহায়তায় দৃষ্টিভঙ্গির পরিবর্তন

বিশ্বব্যাংকের এই নীতি তার ২০১৬ সালে প্রণীত প্রোকিউরমেন্ট ফ্রেমওয়ার্কের একটি হালনাগাদ সংস্করণ। তখন থেকে ব্যাংক উন্নয়ন প্রকল্পে প্রতিযোগিতা, স্বচ্ছতা ও দক্ষতার ওপর জোর দিচ্ছিল। নতুন সংযোজনের মাধ্যমে স্থানীয় জনগণের কর্মসংস্থান ও দক্ষতা উন্নয়নের বিষয়টিও এখন সরাসরি প্রকল্পের শর্তে যুক্ত হলো। এ নীতি কার্যকর হলে উন্নয়ন প্রকল্প থেকে কেবল অবকাঠামোগত সুবিধা নয়, স্থানীয় জনগোষ্ঠীরও সরাসরি আর্থিক ও দক্ষতা উন্নয়নমূলক সুবিধা আসবে- এমন প্রত্যাশা করা হচ্ছে।

শেয়ার করুন-

মন্তব্য করুন

Protidiner Bangladesh

সম্পাদক : মারুফ কামাল খান

প্রকাশক : কাউসার আহমেদ অপু

রংধনু কর্পোরেট, ক- ২৭১ (১০ম তলা) ব্লক-সি, প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড) ঢাকা -১২২৯

যোগাযোগ

প্রধান কার্যালয়: +৮৮০৯৬১১৬৭৭৬৯৬ । ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন (প্রিন্ট): +৮৮০৯৬১১৬৭৭৮১০, +৮৮০১৮৮০৭৪৪৫৮০ | ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন (অনলাইন): +৮৮০১৮৮০৭৪৪৫৮০, +৮৮০১৭৯৯৪৪৯৫৫৯ । ই-মেইল: [email protected]

সার্কুলেশন: +৮৮০৯৬১১৬৭৭৮০৭, +৮৮০১৮৮০৭৪৪৩৩২ । ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন মূল্য তালিকা