প্রবা প্রতিবেদক
প্রকাশ : ১৪ আগস্ট ২০২৫ ২১:০৮ পিএম
স্বল্পোন্নত দেশের (এলডিসি) তালিকা থেকে উত্তরণের সময়সীমা আরও তিন থেকে পাঁচ বছর বাড়ানোর আহ্বান জানিয়েছেন ব্যবসায়ীরা। ইন্টারন্যাশনাল চেম্বার অব কমার্স, বাংলাদেশের (আইসিসিবি) সভাপতি মাহবুবুর রহমান এই আহ্বান জানান। বৃহস্পতিবার (১৪ আগস্ট) রাজধানীর বনানীতে শেরাটন হোটেলে আয়োজিত ‘স্বল্পোন্নত দেশ থেকে উত্তরণ : বাংলাদেশের সামনে বিকল্পসমূহ’ শীর্ষক সেমিনারে ব্যবসায়ীদের পক্ষে এ আহ্বান জানান তিনি।
মাহবুবুর রহমান
বলেন, ২০২৩ সালের তুলনায় ২০২৪ সালে ১৩ শতাংশ কম বিদেশি বিনিয়োগ এসেছে। এ সময় তিনি
এলডিসি থেকে উত্তরণের সময় বাড়ানোর জন্য পাঁচটি কারণ বা যুক্তি তুলে ধরেন। সেগুলো
হচ্ছেÑ ১. ভালো বাণিজ্য দরকষাকষির জন্য, ২. তৈরি পোশাকের বাইরে রপ্তানি বৈচিত্র্য আনা,
৩. শিল্প খাতে দক্ষ মানবসম্পদ গড়ে তোলা, ৪. বিদেশি বিনিয়োগ আকর্ষণ ও ৫. প্রতিষ্ঠানের
সক্ষমতা বাড়ানো এবং জলবায়ু সহনশীলতা টেকসই করা। মাহবুবুর রহমান জানান, এলডিসি থেকে
উত্তরণ হলে বাংলাদেশের পণ্য রপ্তানিতে শুল্ক বাড়বে ১২ শতাংশ। আর জিএসপিসহ অন্যান্য
বাণিজ্য সুবিধা নিশ্চিত করতে না পারলে রপ্তানি কমবে ৬ থেকে ১৪ শতাংশ।
আলোচনায় ব্যবসায়ীদের
শীর্ষ সংগঠন এফবিসিসিআইয়ের সাবেক সভাপতি এবং হা-মীম গ্রুপের ব্যবস্থাপনা পরিচালক একে
আজাদ বলেন, সার্বিক পরিস্থিতিতে এখন এলডিসি থেকে উত্তরণ হবে আত্মঘাতী সিদ্ধান্ত।
এলডিসি থেকে উত্তরণে
রপ্তানি বাণিজ্যে কী ধরনের প্রভাব পড়বে সেই পরিসংখ্যান তুল ধরে তিনি বলেন, জোটগত সবচেয়ে
বড় বাজার ইউরোপীয় ইউনিয়নে (ইইউ) বাংলাদেশের রপ্তানি পণ্যে বর্তমানে শুল্ক নেই। উত্তরণের
পর শুল্ক হবে ১২ শতাংশ, কানাডায় হবে ১৬ থেকে ১৮ শতাংশ। জাপানে হবে ১২ দশমিক ৮ শতাংশের
মতো। এতে রপ্তানি বাণিজ্যে নেতিবাচক প্রভাব পড়বে। বিনিময়ে তাহলে লাভ কী দাঁড়াল?
উৎপাদন ব্যবস্থায়
গ্যাস, বিদ্যুৎসহ বিভিন্ন অবকাঠামো দুর্বলতার কথা তুলে ধরে একে আজাদ বলেন, আমরা এলডিসি
থেকে উত্তরণ চাই, তবে এটি হতে হবে যথাযথ প্রস্তুতি নেওয়ার পর। এজন্য অন্যান্য বক্তার
সঙ্গে তিনিও অন্তত ছয় বছর উত্তরণ প্রক্রিয়া পিছিয়ে দেওয়ার দাবি জানান।
তিনি আরও বলেন,
আজকের সেমিনারের বিভিন্ন সুপারিশ নিয়ে একটি ড্রাফট তৈরি করে সব বাণিজ্য সংগঠনের সই
নিয়ে তা প্রধান উপদেষ্টা ড. ইউনূসের অফিসে পাঠাতে হবে। আইসিসিবি সভাপতি মাহবুবুর রহমানকে
এ দায়িত্ব নেওয়ার অনুরোধ জানান এফবিসিসিআইয়ের সাবেক সভাপতি।
অনুষ্ঠানে মূল
প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন গবেষণা সংস্থা দ্য থার্ড ওয়ার্ল্ড নেটওয়ার্কের (টিডব্লিউএন)
লিগ্যাল অ্যাডভাইজার ও গবেষক সানিয়া রেইড স্মিথ। সেমিনারে ব্যবসায়ীদের মধ্যে উপস্থিত
ছিলেন তৈরি পোশাক শিল্প মালিকদের সংগঠন বিজিএমইএর সভাপতি মাহমুদ হাসান খান, লেদার গুডস
অ্যান্ড ফুটওয়্যার ম্যানুফ্যাকচারার্স অ্যান্ড এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি
সৈয়দ নাসিম মঞ্জুর, বাংলাদেশ অ্যাসোসিয়েশন অব ব্যাংকসের (বিএবি) চেয়ারম্যান আবদুল
হাই সরকার, বহুজাতিক স্ট্যান্ডার্ড চার্টার্ড ব্যাংক (এসসিবি) বাংলাদেশের প্রধান নির্বাহী
কর্মকর্তা নাসের এজাজ বিজয়।
এ ছাড়া অর্থনীতিবিদ
ও গবেষকদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন বেসরকারি গবেষণা সংস্থা পলিসি রিসার্চ ইনস্টিটিউটের
(পিআরআই) চেয়ারম্যান জাইদি সাত্তার, সেন্টার ফর পলিসি ডায়লগের (সিপিডি) নির্বাহী পরিচালক
ফাহমিদা খাতুন, সাউথ এশিয়ান নেটওয়ার্ক অন ইকোনমিক মডেলিংয়ের (সানেম) নির্বাহী পরিচালক
সেলিম রায়হান, পলিসি এক্সচেঞ্জ বাংলাদেশের চেয়ারম্যান মাসরুর রিয়াজ প্রমুখ।