হিলি (দিনাজপুর) প্রতিবেদক
প্রকাশ : ১৪ আগস্ট ২০২৫ ২১:০১ পিএম
আপডেট : ১৪ আগস্ট ২০২৫ ২১:২৭ পিএম
দীর্ঘ ৪ মাস পর চাল আমদানিতে সরকারের অনুমতি পেলেও কাস্টমস শুল্ককর বেশি থাকায় আমদানিতে আগ্রহ দেখাচ্ছেন না দিনাজপুরের হিলি স্থলবন্দরের আমদানিকারকরা। শুল্ককর কমার আশায় অনেক আমদানিকারক ব্যাংকে এলসি করলেও আর্থিক লোকসানের ভয়ে ভারত থেকে চাল আমদানি বন্ধ রেখেছেন তারা।
বৃহস্পতিবার (১৪ আগস্ট) বিকাল সাড়ে ৪টা পর্যন্ত জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) থেকে চালের ডিউটি কমেছে এমন কোনো
আদেশ পাওয়া যায়নি। এদিকে গত মঙ্গল-বুধবার দুপুর পর্যন্ত ভারত থেকে ১৫টি ট্রাকে চাল
আমদানি করা হয়েছে। তবে চালের চালান দেশে আনা হলেও শুল্ক বেশির কারণে কাস্টমস থেকে খালাস
করে নেননি আমদানিকারকরা।
চাল আমদানিকারকরা
বলছেন, এ অবস্থায় চাল আমদানি করলে প্রতি কেজিতে কাস্টমস শুল্ককর পড়বে ৩১ টাকা। আবার
ভারতে চালের আমদানি মূল্য ৫৩০-৫২০ ডলার। তাতে প্রতি কেজি বাংলাদেশি টাকায় ৬৩-৬৫ টাকা।
সবমিলে প্রতি কেজিতে চাল আমদানি করতে পড়বে ৯৫-৯৬ টাকা। ফলে বর্তমান পরিস্থিতিতে চাল
আমদানি সম্ভব না। সরকার যদি আগের মতো চাল আমদানিতে দুই শতাংশ শুল্ককর ধার্য করে তাহলে
আমদানি করা যাবে।
খোঁজ নিয়ে জানা
গেছে, দেশে চালের মজুদ ও ভোক্তা পর্যায়ে দাম স্বাভাবিক রাখতে সরকার বেসরকারিভাবে ৫
লাখ টন সেদ্ধ ও আতপ চাল আমদানি করার সিদ্ধান্ত নেয়। এজন্য ২৩ জুলাই থেকে ৭ আগস্ট পর্যন্ত
আবেদনের সময়সীমা বেঁধে দিয়ে দেশের আমদানিকারকদের কাছে আবেদন আহ্বান করে। আমদানিকারকরা
আবেদন করলে সরকার প্রথম পর্যায়ে গত ১০ আগস্ট ২৪২ জন আমদানিকারক প্রতিষ্ঠানকে চাল আমদানির
অনুমতি দেয়।
হিলি স্থলবন্দরের
আমদানিকারক প্রতিষ্ঠান মেসার্স সায়রাম ইন্টারন্যাশনালের স্বত্বাধিকারী ললিত কেশরা জানান,
সরকারের ৬২ দশমিক ৫০ শতাংশ শুল্ক দিয়ে চাল আমদানি করা সম্ভব না। আমরা এলসি করে রাখব।
সরকার যদি শুল্ক প্রত্যাহার করে বা আগের ২ শতাংশ শুল্ক যেটা ছিল সেইটা শুল্ক করে তাহলে
চাল আমদানি করা যাবে। বর্তমান শুল্ক দিয়ে চাল আমদানি করতে প্রতি কেজিতে ৩৫ টাকা পড়বে।
আর চাল কিনতে পড়বে ৬৮-৭০ টাকা।
গত মঙ্গলবার নওগাঁর
মিঠুন সাহা নামে একজন আমদানিককারক ৩টি ভারতীয় ট্রাকে ১২৫ টন ৯৪৪ কেজি চাল আমদানি করেন।
তিনি বলেন, সরকার চালের ডিউটি কমাবে এই আশায় আমদানি করেছি। কিন্তু সরকার এখনও চালের
ডিউটি কমায়নি। শুল্ক না কমালে বাজারে আমদানি করা চালের দাম কমবে না। এতে সরকারের উদ্দেশ্য
পূরণ হবে না। দাম আরও বেড়ে যাবে।
হিলি স্থলবন্দরের
শুল্ক স্টেশনের রাজস্ব কর্মকর্তা নিজাম উদ্দিন জানান, বৃহস্পতিবার বেলা সাড়ে ৩টা পর্যন্ত
জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) থেকে চালের ডিউটি কমেছে এমন কোনো আদেশ আমাদের কাছে আসেনি।
তাই বর্তমান যে ডিউটি আছে অর্থাৎ ৬২ দশমিক ৫০ শতাংশ শুল্ক পরিশোধ করে আমদানিকারকরা
চাইলে তাদের চাল বন্দর থেকে খালাস করে নিতে পারবেন।