প্রবা প্রতিবেদক
প্রকাশ : ১২ আগস্ট ২০২৫ ১৪:৪১ পিএম
প্রবা ফটো
চলতি ২০২৫-২৬ অর্থবছরের সরকার রপ্তানি আয়ের লক্ষ্যমাত্রা ৬৩.৫০ বিলিয়ন বা ৬ হাজার ৩৫০ কোটি ডলার নির্ধারণ করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন বাণিজ্য সচিব মাহবুবুর রহমান।
মঙ্গলবার (১২ আগস্ট) সচিবালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানান তিনি৷
তিনি বলেন, সদ্য বিদায় নেওয়া ২০২৪-২৫ অর্থবছরে রপ্তানি আয়ের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছিল ৫৭.৫০ বিলিয়ন বা ৫ হাজার ৭৫০ কোটি টাকা। সে হিসেবে এবার রপ্তানি আয়ের লক্ষ্যমাত্রা বাড়ানো হয়েছে ৬ বিলিয়ন ডলার বা ৬০০ কোটি টাকা।
তিনি বলেন, সাম্প্রতিক অর্থবছরে রপ্তানি খাতে অর্জিত প্রবৃদ্ধির গতিধারা, পণ্য ও বাজার সম্প্রসারণ ও বহুমুখীকরণ, বিশ্ব বাণিজ্যের সাম্প্রতিক গতিধারা, ভূ-রাজনৈতিক প্রভাব, দেশীয় ও বৈশ্বিক অর্থনীতিতে মধ্যপ্রাচ্য সংকট, ইউক্রেন যুদ্ধের প্রভাব, অংশীজনদের মতামত, বিগত অর্থবছরের রপ্তানি লক্ষ্যমাত্রা এবং লক্ষ্যমাত্রার বিপরীতে অর্জনের হার ও পূর্ববর্তী অর্থবছরের তুলনায় প্রবৃদ্ধির হার নির্ধারণ করা হয়েছে।
সচিব বলেন, লক্ষ্যমাত্রা পণ্য খাতে ২০২৫-২৬ অর্থ বছরের জন্য প্রায় ১৩.৪০ শতাংশ প্রবৃদ্ধি প্রাক্কলন করে ৫৫.০০ বিলিয়ন মার্কিন ডলারের রপ্তানি। আর সেবা খাতে ২০২৫-২৬ অর্থ বছরের জন্য প্রায় ১৮.৬৭ শতাংশ প্রবৃদ্ধি প্রাক্কলন করে ৮.৫০ বিলিয়ন মার্কিন ডলারের অথ্যাৎ ৬৩.৫০ বিলিয়ন মার্কিন ডলারের রপ্তানি লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়। যা ২০২০-২১ অর্থবছর কে ভিত্তি বছর ধরে ২০২৪-২৫ অর্থ বছরে কমপাউন্ড বার্ষিক বৃদ্ধির হার পণ্য খাতে হয়েছে ২৪.৫৮ শতাংশ এবং সেবা খাতে হয়েছে ৮.৩৮ শতাংশ।
তিনি বলেন, তৈরি পোশাক খাত (ওভেন) এর রপ্তানির লক্ষ্যমাত্রা ১৪.৩১ শতাংশ প্রবৃদ্ধি ধরে মার্কিন ডলার ২০ হাজার ৭৯০ মিলিয়ন নির্ধারণ করা হয়েছে। তৈরি পোশাক খাত (নিট) এর রপ্তানির লক্ষমাত্রা ১২.০১% প্রবৃদ্ধি ধরে মার্কিন ডলার ২৩ হাজার ৭০০ মিলিয়ন নির্ধারণ করা হয়েছে। হোম-টেক্সটাইল খাতের রপ্তানির বিশ্ব বাজার আকৃতি, প্রবৃদ্ধি এবং আমাদের সক্ষমতার প্রেক্ষাপটের আলোকে প্রবৃদ্ধি ১৭.০৩ শতাংশ ধরে মার্কিন ডলার ১ হাজার ০২০ মিলিয়ন নির্ধারণ করা হয়েছে।
সচিব আরো বলেন, দেশের দ্বিতীয় বৃহত্তম রপ্তানি খাত লেদার ও লেদার গুডস এর রপ্তানি লক্ষ্যমাত্রা ২০২৪-২৫ অর্থবছরে ০৯.১৬ শতাংশ প্রবৃদ্ধি ধরে মার্কিন ডলার ১ হাজার ২৫০.০০ মিলিয়ন নির্ধারণ করা হয়েছে। তবে বিশ্ববাজার পরিস্থিতি, রপ্তানি প্রবৃদ্ধি এবং এ খাতের সক্ষমতার বিষয়টি বিবেচনাপূর্বক তিনি ৩০ শতাংশ প্রবৃদ্ধি ধরে এ খাতের রপ্তানি লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণের বিষয়ে এ খাতের প্রতিনিধি প্রস্তাব করেন।
হিমায়িত ও জীবন্ত মাছ এর রপ্তানির লক্ষ্যমাত্রা ২২.০৬ প্রবৃদ্ধি ধরে মার্কিন ডলার ৫৩৯ মিলিয়ন নির্ধারণ করা হয়েছে। এ খাতের নীতিগত সহায়তা, ভেনামি চিংড়ির হ্যাচারির লাইসেন্স প্রদান ও কোয়ারেন্টিন সুবিধা বৃদ্ধি করার বিষয়ে সরকারের যথাযথ সহায়তা এবং সহযোগিতা পেলে প্রস্তাবিত হারের চেয়েও বেশি রপ্তানি প্রবৃদ্ধি অর্জন করার বিষয়ে এ খাতের প্রতিনিধি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
পাট ও পাট পণ্যের রপ্তানির লক্ষ্যমাত্রার ৯.৭৩ শতাংশ প্রবৃদ্ধি ধরে মার্কিন ডলার ৯০০ মিলিয়ন নির্ধারণ করা হয়েছে। পণ্যের গুণগত মান যাচাই করার জন্য ল্যাব টেস্টিং উপর গুরুত্বারোপ এবং বাংলাদেশ পাট গবেষণা ইনস্টিটিউট (বিজেআরআই) এর সক্ষমত বৃদ্ধির বিষয়ে দ্রুত পদক্ষেপ গ্রহণ করা হলে এ খাতে একটি টেকসই পণ্য রপ্তানিকারক দেশ হিসেবে আবির্ভূত হবে।
কৃষি পণ্যের লক্ষ্যমাত্রা ২২.৪৩ শতাংশ প্রবৃদ্ধি ধরে মার্কিন ডলার ১২১০.৪০ মিলিয়ন নির্ধারণ করা হয়েছে। কার্গো বিমান, বিমা বন্দরে কুলিং সিস্টেম এবং ইডিএস মেশিন এর বিষয়াদি অগ্রাধিকার ভিত্তিতে গুরুত্বোরোপ করে অবকাঠামো উন্নয়ন করা গেলে রপ্তানি লক্ষ্যমাত্রা অর্জন করা সম্ভব হবে।
বিকেএমইএ প্রেসিডেন্ট মোহাম্মদ হাতেম বলেন, যে লক্ষ্যমাত্রা দেওয়া হয়েছে সেটি অর্জন হবে। আমাদের আশা আরো বেশি হবে। কারণ ইউএস ট্রেড এর ক্ষেত্রে নেগোসিয়েশন ভালো হয়েছে। তবে ব্যাংক খাত, বিদ্যুৎ-জ্বালানি ও হয়রানির কিছু সমস্যা রয়েছে। সেটা দূর করলে রপ্তানি আয় আরো বাড়বে৷