সরকারের ৩৬৫ দিন
প্রবা প্রতিবেদক
প্রকাশ : ১১ আগস্ট ২০২৫ ১০:৪০ এএম
ছবি: সংগৃহীত
বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর আহসান এইচ মনসুর বলেছেন, দক্ষ নেতৃত্ব ও স্বাধীনতা ছাড়া কেন্দ্রীয় ব্যাংকের কার্যকর ভূমিকা সম্ভব নয়। আর্থিক খাতকে রাজনীতির ঊর্ধ্বে রাখতে হবে এবং সরকারি-বেসরকারি সব ব্যাংককে বাংলাদেশ ব্যাংকের অধীনেই পরিচালিত হতে হবে, নইলে অর্থনীতি গতিশীল পথে এগোবে না।
গতকাল রবিবার রাজধানীর গুলশানের হোটেল লেকশোরে সেন্টার ফর পলিসি ডায়লগ (সিপিডি) আয়োজিত ‘অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের ৩৬৫ দিন’ শীর্ষক আলোচনা সভায় তিনি এসব কথা বলেন।
আমাদের স্থিতিশীলতা আনতে হবে জানিয়ে গভর্নর বলেন, আর্থিক খাতে কেবল স্থিতিশীলতা এসেছে। রাজনৈতিক খাতে তো আসেনি। সিকিউরিটি সিচ্যুয়েশন তো এখনও আনস্টেবল। সবকিছু মিলিয়ে এখনই কেউ বিনিয়োগে ঝাঁপিয়ে পড়বে এই প্রত্যাশা যদি কারো থাকে, আমি বলব, সেটা কাল্পনিক। আমাকে বাস্তবসম্মত হতে হবে।
বিনিয়োগ প্রসঙ্গে গভর্নর আহসান এইচ মনসুর বলেন, আমরা পাইপলাইনে বিনিয়োগ দেখতে পারছি। দেয়ার আর পজিটিভ সাইনস অব দ্যাট। কিন্তু আরেকটু সময় লাগবে। সামনে নির্বাচন, এই মুহূর্তে হয়তো বড় কোনো বিনিয়োগকারী আসতে চাইবে না। বিদেশি বিনিয়োগকারীরাও আসতে চাইবে না; পরবর্তী সরকার যদি সব চেঞ্জ করে ফেলে। লেটস টক টু দ্য নেক্সট গভর্মেন্ট, এটা খুব স্বাভাবিক পলেটিক্যাল প্রসেস।
তিনি বলেন, ‘৫ বিলিয়ন ডলার করে পণ্য আমদানি করছি। তাতে কী আমদানি কম হচ্ছে। বাজারে কী কোনো শর্টেজ আছে। কোনো পণ্যের অভাব আছে। হয়তো বলতে পারেন ক্যাপিটাল মেশিনারি ইমপোর্ট করছি না। লেজিটিমেট কোয়েশ্চেন? দ্য আনসার ইজ হু ইজ গোয়িং টু ইনভেস্ট ইন দিস এনভারনমেন্ট (এখন এখানে কে বিনিয়োগ করবে?)। আমরা খাদের কিনারায় ছিলাম, সেখান থেকে যদি দ্রুত ফেরত আসতে না পারিÑ তা হলে খাদে পড়ে যাওয়ার সম্ভাবনাটা অনেক বেশি, যোগ করেন গভর্নর।
গভর্নর বলেন, আমাদের দুটি চ্যালেঞ্জ ছিল। একটি হলো- সামষ্টিক অর্থনীতির স্থিতিশীলতা, আর রিফর্ম এজেন্ডাকে এগিয়ে নেওয়া। যাতে ভবিষ্যতে যে সরকারই আসুক, তারা যেন এটাকে সামনের দিকে নিয়ে যেতে পারে। আরও সুদৃঢ়ভাবে আর্থিক খাতকে প্রতিষ্ঠা করতে পারে। এটা চলমান প্রক্রিয়া। এই প্রক্রিয়ার শুরুটা আমরা করে দিতে পারি সেটাই আমাদের প্রত্যাশা।
আহসান এইচ মনসুর বলেন, আর্থিক খাতকে টেকসই করতে ম্যাক্রো ইকোনমিকে গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। অতীতের সংকট থেকে উত্তরণ সম্ভব হয়েছে আন্তর্জাতিক ব্যাংকগুলোর সহযোগিতার কারণে। বর্তমানে ২০০ আন্তর্জাতিক ব্যাংক বাংলাদেশের সঙ্গে লেনদেন করে এবং তারা অর্থ পাচাররোধে সহায়তা করছে, ফলে বৈদেশিক মুদ্রা পাচার কমেছে।
তিনি জানান, রেমিট্যান্স ও বৈদেশিক বাণিজ্যের উন্নতি আর্থিক খাতকে সহায়তা করেছে। মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে ডলার এক্সচেঞ্জ রেট সমন্বয় ও দুবাইভিত্তিক মানি হাউসগুলোর ওপর চাপ প্রয়োগ করা হয়েছে। তার মতে, মূল্যস্ফীতি শিগগিরই ৫ শতাংশের নিচে নেমে আসতে পারে।
ব্যাংক কমিশন না করার বিষয়ে গভর্নর বলেন, সমস্যাগুলো জানা থাকায় সরাসরি সমাধানমুখী পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। কমিশন করলে সময় বেশি লাগত, তাই ব্যাংক ও সরকারি বিভিন্ন সংস্থার সঙ্গে সমন্বয় করে কাজ করা হয়েছে।
আহসান এইচ মনসুর বলেন, ২৪ হাজার এজেন্ট ব্যাংকিং ইউনিট চালু করা হয়েছে। স্কুল ব্যাংকিংকে গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। বর্তমানে ৪ দশমিক ৫ মিলিয়ন অ্যাকাউন্ট রয়েছে, সেটি ৯ মিলিয়নে উন্নীত করা হবে।
তিনি বলেন, আমাদের ক্রেডিড কার্ড ভারতের চেয়ে বাংলাদেশে ১০ ভাগের কম। এক্ষেত্রে এটি বাড়াতে কাজ করা হচ্ছে। ৪ শতাংশ হাউজিং ঋণ দেওয়া হয়, এটি ২০ শতাংশ করা হবে। কেননা বিশ্বের বিভিন্ন দেশে ৩৭ শতাংশ।
অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন সিপিডির সম্মাননীয় ফেলো অধ্যাপক ড. মোস্তাফিজুর রহমান এবং মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন সিপিডির নির্বাহী পরিচালক ড. ফাহমিদা খাতুন। মঞ্চে আরও উপস্থিত ছিলেন- নৌপরিবহন, শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) ড. এম সাখাওয়াত হোসেন, বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ও সাবেক বাণিজ্যমন্ত্রী আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী এবং সিপিবি নেতা রুহিন হোসেন প্রিন্স।