× ই-পেপার প্রচ্ছদ সর্বশেষ বাংলাদেশ রাজনীতি দেশজুড়ে বিশ্বজুড়ে বাণিজ্য খেলা বিনোদন মতামত চাকরি শিক্ষা আজকের কার্টুন ফিচার সকল বিভাগ ছবি ভিডিও লেখক আর্কাইভ কনভার্টার

সঞ্চয়পত্র বিক্রির চেয়ে পরিশোধ বেশি

আহমেদ ফেরদাউস খান

প্রকাশ : ০৯ আগস্ট ২০২৫ ২২:০০ পিএম

আপডেট : ০৯ আগস্ট ২০২৫ ২২:১৫ পিএম

সঞ্চয়পত্র বিক্রির চেয়ে পরিশোধ বেশি

সঞ্চয়পত্র আর আগের মতো বিক্রি হচ্ছে না। উচ্চ মূল্যস্ফীতির কারণে সাধারণ মানুষের সঞ্চয় প্রবণতা কমছে। ফলে টানা ৩ বছর সঞ্চয়পত্র থেকে কোনো ঋণ পাচ্ছে না সরকার। গত অর্থবছরে সঞ্চয়পত্রে নতুন বিনিয়োগের চেয়ে আগে বিক্রি হওয়া সঞ্চয়পত্রের সুদ-আসল পরিশোধের পরিমাণ ৬ হাজার ৬৩ কোটি ৩৩ লাখ টাকা বেশি ছিল। অর্থাৎ গত ২০২৪-২৫ অর্থবছরে সঞ্চয়পত্র থেকে কোনো ঋণ পায়নি সরকার। উল্টো এই অর্থ সরকারের কোষাগার বা ব্যাংক থেকে ঋণ নিয়ে শোধ করতে হয়েছে। শুধু গত অর্থবছর নয়, গত তিন অর্থবছর ধরে সঞ্চয়পত্র খাত থেকে কোনো ঋণ পাচ্ছে না সরকার। অথচ বাজেটে এ খাতে মোটা অঙ্কের অর্থ বরাদ্দ রেখে এসেছে সরকার।

উচ্চ মূল্যস্ফীতির কারণে মানুষের আয় কমেছে। ফলে সঞ্চয় করতে পারছে না। অন্যদিকে সুদের হার হ্রাস ও নানা কড়াকড়ির কারণেও সঞ্চয়পত্রে বিনিয়োগ কমে গেছে। এসব কারণেই আগের দুই অর্থবছরের (২০২২-২৩ ও ২০২৩-২৪) মতো গত অর্থবছরেও (২০২৪-২৫) সঞ্চয়পত্রের নিট বিক্রি ঋণাত্মক হয়েছে।

জাতীয় সঞ্চয় অধিদপ্তর সবশেষ সঞ্চয়পত্র বিক্রির যে তথ্য প্রকাশ করেছে তাতে দেখা যায়, গত ২০২৪-২৫ অর্থবছরের শেষ মাস জুনে সঞ্চয়পত্রে নিট বিক্রির পরিমাণ ছিল ১৬৯ কোটি ৪২ লাখ টাকা ঋণাত্মক। আগের মাস মে মাসে নিট বিক্রির পরিমাণ ছিল ১ হাজার ৫৩৭ কোটি ৩৫ লাখ টাকা। এপ্রিলে নিট বিক্রির পরিমাণ ছিল ১ হাজার ২৬০ কোটি টাকা। আগের মাস মার্চে সঞ্চয়পত্রের নিট বিক্রির পরিমাণ ছিল ৮০ কোটি ৬০ লাখ টাকা।

এর আগে টানা পাঁচ মাস (অক্টোবর থেকে ফেব্রুয়ারি) সঞ্চয়পত্রের নিট বিক্রি ছিল ঋণাত্মক। অর্থাৎ ওই পাঁচ মাসে যত টাকার সঞ্চয়পত্র বিক্রি হয়েছে, তার চেয়ে বেশি আগে বিক্রি হওয়া সঞ্চয়পত্রের সুদ-আসল বাবদ পরিশোধ করেছে সরকার। এই অর্থ সরকারের কোষাগার বা ব্যাংক থেকে ঋণ নিয়ে শোধ করা হয়েছে।

সঞ্চয় অধিদপ্তরের তথ্যে দেখা যায়, গত বছরের অক্টোবরে সঞ্চয়পত্রের নিট বিক্রির পরিমাণ ছিল ৩ হাজার ২২৫ কোটি টাকা ঋণাত্মক। তেমনি নভেম্বরে নিট বিক্রির পরিমাণ ছিল ৩ হাজার ৪৩১ কোটি টাকা ঋণাত্মক। ডিসেম্বরে নিট বিক্রির পরিমাণ ছিল ৩ হাজার ৯২১ কোটি টাকা ঋণাত্মক। চলতি বছরের প্রথম মাস জানুয়ারিতে নিট বিক্রির পরিমাণ ছিল ৪ হাজার ৭৬৯ কোটি ঋণাত্মক। ফেব্রুয়ারিতে সঞ্চয়পত্রের নিট বিক্রির পরিমাণ ছিল ১ হাজার ৭৫৮ কোটি টাকা ঋণাত্মক।

সব মিলিয়ে গত ২০২৪-২৫ অর্থবছরে সঞ্চয়পত্রে নিট বা প্রকৃত বিক্রর পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ৬ হাজার ৬৩ কোটি ৩৩ লাখ টাকা নেগেটিভ বা ঋণাত্মক। ২০২৩-২৪ অর্থবছরে নিট বিক্রির পরিমাণ ছিল ২১ হাজার ১২৪ কোটি ৩৮ লাখ টাকা ঋণাত্মক। ২০২২-২৩ অর্থবছরে ছিল ৩ হাজার ২৯৬ কোটি টাকা ঋণাত্মক। ২০২১-২২ অর্থবছরে নিট বিক্রির পরিমাণ ছিল ১৯ হাজার ৯১৬ কোটি টাকা ধনাত্মক বা পজিটিভ। ২০২০-২১ অর্থবছরে ছিল ৪১ হাজার ৯৬০ কোটি টাকা ধনাত্মক।

বিক্রি কমে যাওয়ায় চলতি বছরের প্রথম মাস জানুয়ারিতে সব ধরনের সঞ্চয়পত্রের সুদ বা মুনাফার হার বাড়ানো হয়। মেয়াদ পূরণ সাপেক্ষে সঞ্চয়পত্রের ধরন অনুসারে এ হার বেড়ে হয় সর্বোচ্চ ১২ দশমিক ৫৫ শতাংশ। সবচেয়ে জনপ্রিয় পরিবার সঞ্চয়পত্রের সুদের হার ১১ দশমিক ৫২ শতাংশ থেকে বাড়িয়ে সাড়ে ১২ শতাংশ করে অন্তর্বর্তী সরকার। কিন্তু ছয় মাস না যেতেই সব ধরনের সঞ্চয়পত্রের মুনাফার হার ফের কমিয়েছে সরকার। ২০২৫-২৬ অর্থবছরের প্রথম দিন ১ জুলাই থেকে সঞ্চয়পত্রের সর্বোচ্চ সুদহার হবে ১১ দশমিক ৯৮ শতাংশ এবং সর্বনিম্ন সুদহার হবে ৯ দশমিক ৭২ শতাংশ।

আগে বিক্রি হওয়া সঞ্চয়পত্রের সুদ-আসল গ্রাহকদের পরিশোধের পর যেটা অবশিষ্ট থাকে, তাকে বলা হয় নিট বিক্রি। ওই অর্থ সরকারের কোষাগারে জমা থাকে এবং সরকার তা রাষ্ট্রীয় কর্মসূচি বাস্তবায়নে কাজে লাগায়। বিনিময়ে সঞ্চয়পত্রের গ্রাহকদের প্রতি মাসে সুদ দিতে হয়। এ কারণে অর্থনীতির পরিভাষায় সঞ্চয়পত্রের নিট বিক্রিকে সরকারের ‘ঋণ’ বা ‘ধার’ হিসেবে গণ্য করা হয়।

গত ২০২৪-২৫ অর্থবছরের সরকার সঞ্চয়পত্র থেকে কোনও ঋণ বা ধার নিতে পারেনি। উল্টো ৬ হাজার ৬৩ কোটি টাকা কোষাগার থেকে গ্রাহকদের সুদ-আসল বাবদ দিতে হয়েছে। গত অর্থবছরের মূল বাজেটে সঞ্চয়পত্র বিক্রি থেকে ১৫ হাজার ৪০০ কোটি টাকার নিট ঋণ নেওয়ার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়। বিক্রিতে নেতিবাচক ধারা অব্যাহত থাকায় সংশোধিত বাজেটে সেটি কমিয়ে ১৪ হাজার কোটি টাকায় নামিয়ে আনা হয়।

আগের দুই অর্থবছরেও সঞ্চয়পত্রের নিট বিনিয়োগ ঋণাত্মক ধারায় ছিল। এর মধ্যে ২০২৩-২৪ অর্থবছরে মূল বাজেটে সঞ্চয়পত্র বিক্রি থেকে নিট ঋণ নেওয়ার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছিল ১৮ হাজার কোটি টাকা। বিক্রি ধারাবাহিক কমতে থাকায় সংশোধিত বাজেটে এই লক্ষ্যমাত্রা কমিয়ে ৭ হাজার ৩১০ কোটি টাকায় নামিয়ে আনা হয়। তবে পুরো অর্থবছরে নিট বিনিয়োগ ঋণাত্মক হয়েছিল ২১ হাজার ১২৪ কোটি টাকা। আর ২০২২-২৩ অর্থবছরে নিট বিনিয়োগ ঋণাত্মক হওয়ার পরিমাণ ছিল ৩ হাজার ২৯৬ কোটি টাকা।

প্রতি বছরই বড় অঙ্কের ঘাটতি রেখে জাতীয় বাজেট পাস করে সরকার। এ ঘাটতি অভ্যন্তরীণ ও বৈদেশিক উৎস থেকে ঋণ নিয়ে মেটানো হয়। অভ্যন্তরীণ উৎসের মধ্যে আছে ব্যাংক ব্যবস্থা ও সঞ্চয়পত্র খাত।

অর্থনীতিবিদ ও তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সাবেক অর্থ উপদেষ্টা এবি মির্জ্জা আজিজুল ইসলাম প্রতিদিনের বাংলাদেশকে বলেন, ‘দেশে দীর্ঘদিন ধরে উচ্চ মূল্যস্ফীতি থাকায় নিম্ন ও মধ্যবিত্তদের সঞ্চয় প্রবণতা কমে গেছে। এ ছাড়া আমানত ও সরকারের বিল-বন্ডের সুদের হার বেড়ে যাওয়ায় প্রাতিষ্ঠানিক ও ব্যক্তিপর্যায়ের বিনিয়োগের একটি বড় অংশ ব্যাংক ও বিল-বন্ডে স্থানান্তর হয়েছে। এসব কারণে নিট বিনিয়োগে প্রভাব পড়েছে।’

তিনি বলেন, ‘অন্যদিকে সম্পদশালীদের মধ্যে যারা নামে-বেনামে একসময় সঞ্চয়পত্রে বিপুল বিনিয়োগ করত, কড়াকড়ির কারণে তারা এখন আর বিনিয়োগ করতে পারছে না। ফলে সামগ্রিক হিসাবে সঞ্চয়পত্রের নিট বিক্রি কমে গেছে। দেশের সাধারণ মানুষ সবচেয়ে বেশি অর্থ জমা রাখে ব্যাংকে। তারপর নিরাপত্তা ও অধিক মুনাফার আশায় সঞ্চয়পত্রে বিনিয়োগ করে। সঞ্চয়পত্রে বিনিয়োগকে সবচেয়ে নিরাপদ বিনিয়োগ বলা হয়ে থাকে।’

শেয়ার করুন-

মন্তব্য করুন

Protidiner Bangladesh

সম্পাদক : মারুফ কামাল খান

প্রকাশক : কাউসার আহমেদ অপু

রংধনু কর্পোরেট, ক- ২৭১ (১০ম তলা) ব্লক-সি, প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড) ঢাকা -১২২৯

যোগাযোগ

প্রধান কার্যালয়: +৮৮০৯৬১১৬৭৭৬৯৬ । ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন (প্রিন্ট): +৮৮০৯৬১১৬৭৭৮১০, +৮৮০১৮৮০৭৪৪৫৮০ | ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন (অনলাইন): +৮৮০১৮৮০৭৪৪৫৮০, +৮৮০১৭৯৯৪৪৯৫৫৯ । ই-মেইল: [email protected]

সার্কুলেশন: +৮৮০৯৬১১৬৭৭৮০৭, +৮৮০১৮৮০৭৪৪৩৩২ । ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন মূল্য তালিকা