ভারতের ওপর যুক্তরাষ্ট্রের ৫০% শুল্কারোপ
প্রবা প্রতিবেদন
প্রকাশ : ০৭ আগস্ট ২০২৫ ১১:৫৬ এএম
ছবি : সংগৃহীত
রাশিয়া থেকে তেল আমদানির জেরে ভারতের ওপর অতিরিক্ত ২৫ শতাংশ শুল্ক আরোপ করেছে যুক্তরাষ্ট্র। এরই ধারাবাহিকতায় পোশাকসহ বিভিন্ন পণ্যে ভারতের ওপর ৫০ শতাংশ পর্যন্ত শুল্ক আরোপের ফলে দেশটির মার্কিন বাজারে প্রতিযোগিতায় ধাক্কা খাওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। এই পরিস্থিতিতে বাংলাদেশের জন্য তৈরি হয়েছে বড় রপ্তানি সম্ভাবনা এবং বিদেশি বিনিয়োগ আকর্ষণের সুযোগ।
ভারতের তুলনায় বাংলাদেশের ওপর যুক্তরাষ্ট্রের শুল্ক ২০ শতাংশ হওয়ায় মার্কিন ক্রেতারা তুলনামূলক সস্তায় বাংলাদেশ থেকে পোশাক আমদানিতে আগ্রহী হয়ে উঠতে পারেন। ইতোমধ্যেই যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশের পোশাক রপ্তানি ২০২৪-২৫ অর্থবছরে প্রায় ১৪ শতাংশ এবং চলতি বছরের প্রথম পাঁচ মাসে ২১ শতাংশের বেশি বৃদ্ধি পেয়েছে।
এছাড়া, চামড়াজাত পণ্য, বিশেষ করে জুতা ও ব্যাগ খাতে বাংলাদেশ আন্তর্জাতিক বাজারে দ্রুত জনপ্রিয়তা পাচ্ছে। ভারতের এই খাতেও মার্কিন বাজারে শুল্কজনিত প্রতিকূলতা দেখা দিলে বাংলাদেশ সেই শূন্যস্থান পূরণে সক্ষম হতে পারে। জার্মানি, জাপান ও দক্ষিণ কোরিয়ায় চামড়াজাত পণ্যের রপ্তানি ইতোমধ্যেই বাংলাদেশের সক্ষমতা তুলে ধরছে। এখন যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে প্রবেশে সরকার-বেসরকারি অংশীদারিত্ব ও নীতিগত সহায়তা জোরদার করতে হবে।
বাংলাদেশের কৃষিপণ্য—যেমন হিমায়িত মাছ, চিংড়ি, শাকসবজি ও ফলমূল—এর রপ্তানি মধ্যপ্রাচ্য ও ইউরোপে বাড়ছে। মার্কিন বাজারেও ভারতের উচ্চ শুল্কজনিত ঘাটতি পূরণে বাংলাদেশ প্রতিযোগিতামূলক সরবরাহকারী হতে পারে, বিশেষ করে গুণগত মান ও আন্তর্জাতিক সার্টিফিকেশন নিশ্চিত করা গেলে।
তথ্যপ্রযুক্তি খাতে বাংলাদেশ ইতোমধ্যে সফটওয়্যার, ফ্রিল্যান্সিং ও আইটি সেবা রপ্তানিতে ভালো অবস্থানে রয়েছে। ভারতের ওপর শুল্ক বাড়লে মার্কিন প্রযুক্তি কোম্পানিগুলোর কাছে বাংলাদেশ কম খরচে বিকল্প হয়ে উঠতে পারে। দক্ষ তরুণ জনশক্তি ও প্রতিযোগিতামূলক শ্রমমূল্য বাংলাদেশের বড় সম্পদ।
বিশ্লেষকরা বলছেন, যুক্তরাষ্ট্রের এই নতুন শুল্কনীতি বিদেশি কোম্পানিগুলোর জন্য ভারতের বিকল্প হিসেবে বাংলাদেশকে বিবেচনার সুযোগ তৈরি করেছে। চীন থেকেও যেহেতু অনেক কোম্পানি উৎপাদন সরিয়ে নিচ্ছে, দক্ষিণ এশিয়ায় ‘তৃতীয় দেশ’ হিসেবে বাংলাদেশের গুরুত্ব বাড়ছে।
তবে, এ সুযোগ কাজে লাগাতে বাংলাদেশকে ভিয়েতনাম, পাকিস্তান, ইন্দোনেশিয়ার মতো প্রতিযোগীদের সঙ্গে পাল্লা দিতে হবে। সে জন্য দরকার পণ্যের গুণগত মান উন্নয়ন, উৎপাদন দক্ষতা বৃদ্ধি, শ্রমিকদের প্রশিক্ষণ এবং নীতিনির্ধারণে স্বচ্ছতা।