× ই-পেপার প্রচ্ছদ সর্বশেষ বাংলাদেশ রাজনীতি দেশজুড়ে বিশ্বজুড়ে বাণিজ্য খেলা বিনোদন মতামত চাকরি শিক্ষা আজকের কার্টুন ফিচার সকল বিভাগ ছবি ভিডিও লেখক আর্কাইভ কনভার্টার

ফের লাইসেন্স পাচ্ছে ডিজিটাল ব্যাংক

আহমেদ ফেরদাউস খান

প্রকাশ : ০৪ আগস্ট ২০২৫ ১২:৪২ পিএম

আপডেট : ০৪ আগস্ট ২০২৫ ১২:৪৫ পিএম

ছবি: সংগৃহীত

ছবি: সংগৃহীত

দেশের ব্যাংকিং খাতে প্রযুক্তিনির্ভরতার নতুন অধ্যায়ের সূচনা হতে যাচ্ছে। বাংলাদেশ ব্যাংকের অনুমোদন পেলেই দেশে প্রথমবারের মতো চালু হতে যাচ্ছে ডিজিটাল ব্যাংক। শাখাবিহীন, সম্পূর্ণ অনলাইনভিত্তিক এই ব্যাংকগুলোর মাধ্যমে ব্যাংকিং সেবা পৌঁছে যাবে স্মার্টফোনেই, যা আর্থিক অন্তর্ভুক্তির নতুন দুয়ার খুলবে বলে মনে করছেন খাতসংশ্লিষ্টরা।


২০২৩ সালের আগস্টে বাংলাদেশ ব্যাংক ডিজিটাল ব্যাংক গঠনের নীতিমালা প্রকাশ করে। এরপর ৫০টিরও বেশি প্রতিষ্ঠান আবেদন করে। এরপর নানা কারণে থেমে যায় এর কার্যক্রম। তবে চলতি মাসেই ডিজিটাল ব্যাংকের লাইসেন্স পেতে আবেদন গ্রহণ শুরু হবে। 

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, নতুন প্রজন্মের ছেলেমেয়েরা সশরীরে ব্যাংকে যাওয়া এড়িয়ে চলতে চান। মহামারির কারণে এই প্রবণতা আরও বেড়েছে। কেননা ডিজিটাল ব্যাংক সম্পূর্ণ অনলাইনভিত্তিক। ফলে একজন গ্রাহক বাড়িতে বসেই অ্যাকাউন্ট খুলতে পারবেন, টাকা জমা ও উত্তোলন, লোন আবেদন, বিল পরিশোধ এমনকি ইনভেস্টমেন্টও করতে পারবেন মোবাইল থেকেই। যা ব্যাংকিং সেবা আরও সহজ করবে। 


জানা গেছে, মোবাইল ফিন্যান্সিয়াল সার্ভিস (এমএফএস) ও ইন্টারনেট ব্যাংকিংয়ের অগ্রগতির ধারাবাহিকতায় শতভাগ শাখাহীন ব্যাংকিং ব্যবস্থার দিকে যেতে ফের ডিজিটাল ব্যাংককে লাইসেন্স দেওয়ার পরিকল্পনা করছে বাংলাদেশ ব্যাংক। নতুন ধারার ব্যাংক হিসেবে পরিচিত ডিজিটাল ব্যাংকগুলো প্রতিবেশী দেশগুলোয় তথা সারা বিশ্বে জনপ্রিয় হলেও তা বাংলাদেশে নতুন ধারণা। তবে মোবাইল ফোন ব্যবহারকারী, এমএফএস, এজেন্ট ব্যাংকিং ও ইন্টারনেট ব্যাংকিংয়ের জনপ্রিয়তা এবং ডিজিটাল-ফার্স্ট গ্রাহকদের সংখ্যা দিন দিন বেড়ে যাওয়ায় আরও ডিজিটাল ব্যাংক প্রতিষ্ঠার জন্য বাংলাদেশ প্রস্তুত বলে মনে করা হচ্ছে।


২০২৩ সালে বাংলাদেশ ডিজিটাল নীতিমালা জারি করে ব্যাপক সাড়া পায়। এরপর আনুষ্ঠানিক কার্যক্রম শুরু হলেও সাবেক গভর্নর আব্দুর রউফ তালুকদার পালিয়ে যাওয়ার পর বর্তমান গভর্নর আহসান এইচ মনসুর পুরো কার্যক্রম স্থগিত রাখেন।


সম্প্রতি বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর আহসান এইচ মনসুর একটি গণমাধ্যমে সাক্ষাৎকারে জানান, বাংলাদেশ ব্যাংক আগস্ট মাসে ডিজিটাল ব্যাংকের লাইসেন্সের জন্য আবেদন গ্রহণ শুরু করতে যাচ্ছে। এর আগে যেসব প্রতিষ্ঠান ডিজিটাল ব্যাংকের লাইসেন্সের জন্য আবেদন করেছিল, তারাও নতুন করে আবেদন করতে পারবে। এরপর আমরা আবেদনগুলো যাচাই করে দ্রুতই বাছাইয়ের প্রক্রিয়ায় চলে যাব। ঠিক কতগুলো লাইসেন্স দেওয়া হবে, তা নির্দিষ্ট করে না জানালেও আবেদনের গুণগত মানের ওপরই চূড়ান্ত সংখ্যা নির্ভর করবে। 

তিনি বলেন, খুব বেশি লাইসেন্স হবে না। ধাপে ধাপে আমরা এগোব। সম্ভাব্য ডিজিটাল ব্যাংক পরিচালনাকারীদের ২-৩ হাজার কোটি টাকা বিনিয়োগের সক্ষমতা থাকতে হবে। ডিজিটাল ব্যাংকিংয়ে সফল হতে দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা প্রয়োজন। বিকাশকে মুনাফা করতে ১২ বছর অপেক্ষা করতে হয়েছে। নগদকেও হয়তো ১০ বছর অপেক্ষা করতে হবে।


গভর্নর বলেন, বর্তমানে এমএফএস প্রদানকারী প্রতিষ্ঠানগুলো সরাসরি ন্যানো লোন বিতরণ করতে পারবে না। এর জন্য তাদের ডিজিটাল ব্যাংক সাবসিডিয়ারি করতে হবে অথবা আলাদা লাইসেন্স নিতে হবে। এখন এমএফএসগুলো ৫০ হাজার টাকা পর্যন্ত ঋণ দিতে পারে। তবে গভর্নর ইঙ্গিত দিয়েছেন, ভবিষ্যতে সেটা ১ লাখ, দেড় লাখ বা ৫ লাখ টাকা পর্যন্ত করা হতে পারে। তবে এর জন্য প্রতিষ্ঠানগুলোর পর্যাপ্ত সক্ষমতা, বিনিয়োগ ও দক্ষতা থাকতে হবে।


২০২৩ সালের ১৪ জুন বাংলাদেশ ব্যাংক ‘ডিজিটাল ব্যাংক’ গঠনের জন্য গাইডলাইন প্রণয়ন করে। পরে একই বছরের ২১ জুন থেকে ১৭ আগস্ট পর্যন্ত আবেদন গ্রহণ করা হয়। এই সময়ে ৫২টি আবেদন জমা পড়ে। এর মধ্যে আটটি প্রাথমিক অনুমোদন পায় এবং দুটি ব্যাংক লেটার অব কনসেন্ট (এলওসি) পায়। ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট শেখ হাসিনার নেতৃত্বাধীন সরকারের পতনের পরপরই বাংলাদেশ ব্যাংক নগদ ডিজিটাল ব্যাংকের লাইসেন্স স্থগিত করে। পরে গত বছরের আগস্টে বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার পর আহসান এইচ মনসুর ডিজিটাল ব্যাংকের লাইসেন্স দেওয়ার পুরো প্রক্রিয়া পর্যালোচনার ঘোষণা দেন।


বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, গত সেপ্টেম্বর পর্যন্ত দেশের ৬১টি ব্যাংকের শাখা ছিল ১১ হাজার ২০০টির বেশি। এদের অর্ধেকের বেশি ছিল শহরাঞ্চলে। অর্থনীতিতে হুন্ডির মাধ্যমে লেনদেন প্রায় ৫২ শতাংশ উল্লেখ করে এই পরিস্থিতি ব্যাংকিং সেবার বাইরে থাকা লাখ লাখ মানুষের কাছে নগদের মতো ডিজিটাল ব্যাংকগুলোকে পৌঁছানোর সুযোগ করে দেবে।

প্রতি চার গ্রাহকের একজন পুরোমাত্রায় ডিজিটাল ব্যাংক ব্যবহার করছেন। জরিপ করা ২৮ দেশে ডিজিটাল ব্যাংকে অ্যাকাউন্ট আছেÑ এমন গ্রাহকের সংখ্যা মোট জনসংখ্যার ২৩ শতাংশ। তাদের সংখ্যা আনুমানিক ৪৫ কোটি। বিশ্বব্যাপী ডিজিটাল ব্যাংকগুলো সঞ্চয়, ক্রেডিট কার্ড, ব্যক্তিগত ঋণ ও বিনিয়োগসহ নানান আর্থিক পরিষেবা দিয়ে থাকে। গ্রাহকরা মোবাইল অ্যাপ ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার মতো প্রযুক্তি ব্যবহার করে আরও সহজ ও সুবিধাজনক ব্যাংকিং সেবা নিতে পারছেন।


বৈশ্বিক ডেটা ও বিজনেস ইন্টেলিজেন্স প্লাটফর্ম স্ট্যাটিসটা ডটকমের মতে, চলতি বছর ডিজিটাল ব্যাংকগুলোর বিশ্বব্যাপী ন্যূনতম সুদ আয় ৮২২ বিলিয়ন ডলারে পৌঁছাবে। আরেকটি সুবিধা হলো ডিজিটাল ব্যাংকগুলো থেকে ২৪ ঘণ্টাই সেবা পাওয়া যায়। প্রযুক্তিপ্রেমী নতুন প্রজন্মের জীবনযাত্রার সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে তারা দ্রুত আর্থিক সেবা দিতে পারে।


এ বিষয়ে বাংলাদেশ অ্যাসোসিয়েশন অব সফটওয়্যার অ্যান্ড ইনফরমেশন সার্ভিসেসের (বেসিস) সাবেক সভাপতি একেএম ফাহিম মাশরুর বলেন, ‘ডিজিটাল ব্যাংকগুলো সুবিধা পেলে ক্ষুদ্র ও মাঝারি উদ্যোক্তারা ক্ষুদ্রঋণ প্রতিষ্ঠানগুলোর নেওয়া ২০ থেকে ২৬ শতাংশ সুদের হারের তুলনায় কম সুদে ঋণ পেতে পারবেন।’


বিশ্বব্যাংক ঢাকা কার্যালয়ের সাবেক মুখ্য অর্থনীতিবিদ ড. জাহিদ হোসেন প্রতিদিনের বাংলাদেশকে বলেন, ‘এটি দেশে অনেকটা অপরিচিত। ডিজিটাল ব্যাংকগুলো কী কী সেবা নিয়ে আসছে, যা প্রচলিত ব্যাংকগুলো দেয় না এখন তাই দেখার বিষয়।’

শেয়ার করুন-

মন্তব্য করুন

Protidiner Bangladesh

সম্পাদক : মারুফ কামাল খান

প্রকাশক : কাউসার আহমেদ অপু

রংধনু কর্পোরেট, ক- ২৭১ (১০ম তলা) ব্লক-সি, প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড) ঢাকা -১২২৯

যোগাযোগ

প্রধান কার্যালয়: +৮৮০৯৬১১৬৭৭৬৯৬ । ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন (প্রিন্ট): +৮৮০৯৬১১৬৭৭৮১০, +৮৮০১৮৮০৭৪৪৫৮০ | ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন (অনলাইন): +৮৮০১৮৮০৭৪৪৫৮০, +৮৮০১৭৯৯৪৪৯৫৫৯ । ই-মেইল: [email protected]

সার্কুলেশন: +৮৮০৯৬১১৬৭৭৮০৭, +৮৮০১৮৮০৭৪৪৩৩২ । ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন মূল্য তালিকা