× ই-পেপার প্রচ্ছদ সর্বশেষ বাংলাদেশ রাজনীতি দেশজুড়ে বিশ্বজুড়ে বাণিজ্য খেলা বিনোদন মতামত চাকরি শিক্ষা আজকের কার্টুন ফিচার সকল বিভাগ ছবি ভিডিও লেখক আর্কাইভ কনভার্টার

শুল্কহ্রাস সন্তোষজনক, পেছনের কারণও দেখতে হবে

ফারুক আহমাদ আরিফ

প্রকাশ : ০২ আগস্ট ২০২৫ ২০:১১ পিএম

শুল্কহ্রাস সন্তোষজনক, পেছনের কারণও দেখতে হবে

মার্কিন শুল্ক ৩৫ থেকে কমিয়ে ২০ শতাংশ করা বাংলাদেশের জন্য সন্তোষজনক। তবে শুল্কের বাইরে কোন কোন বিষয়ে সরকার প্রতিশ্রুতি দিয়ে এসেছে তা জনগণের কাছে প্রকাশ করা দরকার বলে মন্তব্য করেছেন রাজনীতিবিদরা। পাশাপাশি যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপীয় ইউনিয়নের বাইরে বাজার সৃষ্টি, পোশাক রপ্তানি ছাড়াও অন্যান্য পণ্য রপ্তানিতে মনোযোগ বৃদ্ধির পরামর্শ দিয়েছেন তারা। 

যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশি পণ্য রপ্তানির ওপর সম্পূরক শুল্ক কমিয়ে ২০ শতাংশ নির্ধারণ করার সংবাদকে দেশের জন্য ভালো খবর হিসেবে দেখছেন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। এজন্য তিনি অন্তর্বর্তীকালীন সরকারকে ধন্যবাদও জানান। গতকাল শুক্রবার রাজধানীর উত্তরার আজমপুরে আমির কমপ্লেক্সের সামনে মহানগর উত্তর বিএনপির উদ্যোগে জুলাই-আগস্ট গণঅভ্যুত্থানের বর্ষপূর্তি উপলক্ষে শহীদদের স্মরণে এক সমাবেশে তিনি এ কথা বলেন।

মির্জা ফখরুল ইসলাম বলেন, আজকে একটা ভালো খবর আছে, কয়েকদিন আগে আপনারা দেখেছেন যে, আমেরিকা আমাদের পণ্যের ওপর ট্যারিফ আরোপ করেছে। ট্যারিফ কী জানেন? আমরা যেসব পণ্য রপ্তানি করব তার ওপরে ৩৫ ভাগ ট্যাক্স নিয়ে নেবে। তার মানে ১০০ টাকার জিনিস ১৩৫ টাকা দাম হবে। ফলে আমাদের জিনিসটা আর বিক্রি হবে না। ওটাকে (যুক্তরাষ্ট্র ট্যারিফ) আমাদের পররাষ্ট্র দপ্তর এবং উপদেষ্টারা আলোচনা করে কমিয়ে ২০% পর্যন্ত নিয়ে এসেছেন। সেজন্য আমি অন্তর্বর্তীকালীন সরকারকে ধন্যবাদ জানাতে চাই। 

এ ব্যাপারে বিএনপির জাতীয় স্থায়ী কমিটির সদস্য আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেন, এখানে অনেকগুলো সিদ্ধান্ত হয়েছে। শুধু ‍ট্যারিফের কত পারসেন্ট কমানো হলো, সেটা সিদ্ধান্ত হয়নি। এ সিদ্ধান্তের পেছনে অনেক আলাপ-আলোচনা, আমেরিকানরা কী পাঠাতে পারবে? বিভিন্ন ক্ষেত্রে তাদের কী দাবিদাওয়া ছিল সেগুলো প্রকাশ হলে বোঝা যাবে। 

গতকাল শুক্রবার দুপুরে গুলশানে নিজ বাসায় সাংবাদিকদের কাছে এক প্রতিক্রিয়ায় এ অভিমত ব্যক্ত করেন তিনি। ট্রাম্প প্রশাসনের সঙ্গে বাণিজ্য আলোচনার পর বাংলাদেশি পণ্যের ওপর ২০ শতাংশ শুল্ক নির্ধারণের কথা জানিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র।

নির্ধারণ করা শুল্কের প্রতিযোগিতায় তুলনামূলকভাবে একটা সন্তোষজনক উল্লেখ করে আমীর খসরু বলেন, এটা জয়-পরাজয়ের কোনো বিষয় না। যে শুল্ক নির্ধারণ করা হয়েছে প্রতিযোগিতায় আমরা তুলনামূলকভাবে একটা সন্তোষজনক অবস্থানে আছি। আমাদের ২০ শতাংশ, পাকিস্তান ১৯ শতাংশ, ভিয়েতনামে ২০ শতাংশ, ভারত ২৫ শতাংশ। সার্বিকভাবে ট্যারিফের ফিগারটা প্রতিযোগিতার ক্ষেত্রে সন্তোষজনক। তবে যুক্তরাষ্ট্রের শুল্কের নতুন এই হারের পেছনে কী আছে সেই পুরো নেগোসিয়েশনের সার্বিক বিষয়টা আমাদের জানা নেই। আমরা শুধু ট্যারিফের বিষয়টা জানি। সার্বিক বিষয় জানার পরে এই বিষয়ে মন্তব্য করতে পারব। 

সম্প্রতি বাণিজ্য সচিব যুক্তরাষ্ট্র থেকে ২৫টি বোয়িং বিমান কেনার কথা বলেছেন। এটার সঙ্গে ট্যারিফ কমানোর কোনো সম্পর্ক আছে কি নাÑ এমন প্রশ্নের জবাবে আমীর খসরু বলেন, কিছু তো করতেই হবে। কারণ আমেরিকানদের পুরো ট্যারিফের বিষয়টা পণ্য রপ্তানির স্বার্থে। সেজন্য এই অতিরিক্ত ট্যারিফ আরোপ করা হয়েছে। কিন্তু সেটা করতে গিয়ে বাংলাদেশ কতটুকু অ্যাবজরভ করতে পারবে, আমাদের অর্থনীতি কতটুকু অ্যাবজরভ করতে পারবে, আমাদের ব্যবসায়ীরা কতটুকু অ্যাভজরভ করতে পারবেন, এগুলোই আলোচনার বিষয়। আমরা বিস্তারিত জানলে সেটার ওপর মন্তব্য করতে পারব। তিনি বলেন, তা ছাড়া অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের পুরো বিষয়টা খোলাসা করা উচিত।

এদিকে প্রতিদিনের বাংলাদেশের সঙ্গে আলাপকালে জাতীয় পার্টির মহাসচিব ব্যারিস্টার শামীম হায়দার পাটোয়ারী বলেন, আমাদের অর্থনীতি রেমিট্যান্স ও তৈরি পোশাক এই দুটি খাতের ওপর পুরোপুরি নির্ভরশীল। যে কারণে এ খাতে আঘাত এলে অর্থনীতি কলাপস করে। একটি দুটির ‍ওপর নির্ভর না করে বহুমুখী রপ্তানি না করলে আমরা কোনোভাবেই সঠিকভাবে দেশটাকে উন্নত করতে পারব না। শুল্ক ৩৫ থেকে ২০ শতাংশ কমেছেÑ এটি স্বস্তির বিষয়।

তিনি বলেন, আমরা পোশাকের বাইরে চামড়া, দক্ষ মানবসম্পদ রপ্তানি, কৃষিপণ্য, হস্তশিল্প, ফ্রোজেন ফিস, আম, দুগ্ধজাত পণ্য এসব রপ্তানি করতে পারতাম। এক সময় সিরামিক খাত ভালো ছিল। ফার্নিচার সেক্টর এখনও ভালো। 

তিনি বলেন, সরকার আলোচনার মাধ্যমে এটি করলে ভালো হতো। বিশেষ করে রাজনীতিবিদদের সঙ্গে আলোচনা ও অংশীদারত্ব দরকার ছিল। কনসালটেটিভ প্রসেসিং দরকার ছিল। 

জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক অধ্যাপক ও গণতান্ত্রিক অধিকার কমিটির সদস্য আনু মুহাম্মদ প্রতিদিনের বাংলাদেশকে বলেন, ট্রাম্পের সিদ্ধান্ত বিশ্বজুড়ে বড় ধরনের একটি অস্থিরতা তৈরি করেছে। খুবই অযৌক্তিক ও বলপ্রয়োগের মাধ্যমে স্বার্থ আদায়ের চেষ্টা করেছে সে। এসবের কারণে যুক্তরাষ্ট্রের অর্থনীতিও ক্ষতিগ্রস্ত হবে। এই চাপ তারা সব সময়ই দিয়ে আসছে। আর কিছুটা শুল্ক কমানো হবে এ ধরনের প্রস্তুতি তাদের ছিলই। বাংলাদেশের জন্য যা কমানো হয়েছে তা ভারত, ভিয়েতনাম ও পাকিস্তানের সঙ্গে সংগতিপূর্ণ। 

তিনি বলেন, ৩৫ শতাংশের তুলনায় ২০ শতাংশ করা ভালো হলেও আগের ১৫ শতাংশের তুলনায় বেশি। এখনকার তুলনায় চাপটা বাড়বে। সরকার আলোচনায় কী কী বিষয়ে প্রতিশ্রুতি দিয়ে এসেছে তা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন আনু মুহাম্মদ। বলেন, আমাদের উদ্বেগের বিষয় হচ্ছে সরকার কী কী প্রতিশ্রুতি দিয়ে এসেছে সেটি আমরা জানি না। অধ্যাপক আনু মুহাম্মদ বলেন, ট্রাম্পের সঙ্গে দেশের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ কী কী প্রতিশ্রুতি দিয়ে এসেছে তা তো জানানো হয়নি। ট্রাম্প যেসব দাবিদাওয়া দিয়েছিল সরকার সেসব বিষয়ে কী কী চুক্তি করে এসেছে তা জনগণের জানা দরকার।

শেয়ার করুন-

মন্তব্য করুন

Protidiner Bangladesh

সম্পাদক : মারুফ কামাল খান

প্রকাশক : কাউসার আহমেদ অপু

রংধনু কর্পোরেট, ক- ২৭১ (১০ম তলা) ব্লক-সি, প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড) ঢাকা -১২২৯

যোগাযোগ

প্রধান কার্যালয়: +৮৮০৯৬১১৬৭৭৬৯৬ । ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন (প্রিন্ট): +৮৮০৯৬১১৬৭৭৮১০, +৮৮০১৮৮০৭৪৪৫৮০ | ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন (অনলাইন): +৮৮০১৮৮০৭৪৪৫৮০, +৮৮০১৭৯৯৪৪৯৫৫৯ । ই-মেইল: [email protected]

সার্কুলেশন: +৮৮০৯৬১১৬৭৭৮০৭, +৮৮০১৮৮০৭৪৪৩৩২ । ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন মূল্য তালিকা