ঔদ্ধত্যপূর্ণ আচরণ
প্রবা প্রতিবেদক
প্রকাশ : ১৫ জুলাই ২০২৫ ২২:২৩ পিএম
জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) সংস্কার আন্দোলন ও চেয়ারম্যান মো. আবদুর রহমানের অপসারণ দাবিতে অনুষ্ঠিত বিক্ষোভে অংশ নেওয়া কর বিভাগের ১৪ জন কর্মকর্তাকে সাময়িক বরখাস্ত করেছে সরকার। এর মধ্যে মঙ্গলবার (১৫ জুলাই) দুপুরে আটজন এবং রাতে আরও ছয়জন কর্মকর্তার বিরুদ্ধে বরখাস্তের আদেশ জারি করা হয়।
সরকারি চাকরি আইন, ২০১৮-এর ৩৯(১) ধারা অনুযায়ী, তাদের বিরুদ্ধে ‘ঔদ্ধত্যপূর্ণ আচরণের’ অভিযোগ এনে বিভাগীয় কার্যধারা শুরুর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে এবং প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, তারা খোরপোষ ভাতা পাবেন।
দুপুরে বরখাস্ত হওয়া কর্মকর্তারা হলেন- ঢাকা কর অঞ্চল-২ এর যুগ্ম কর কমিশনার মাসুমা খাতুন, কর অঞ্চল-১৫ এর মুরাদ আহমেদ, কুষ্টিয়া কর অঞ্চলের মোহাম্মদ মোরশেদ উদ্দীন খান, নোয়াখালী কর অঞ্চলের মোনালিসা শাহরীন সুস্মিতা, কক্সবাজার কর অঞ্চলের মো. আশরাফুল আলম প্রধান, খুলনার মো. শিহাবুল ইসলাম, রংপুরের মোসা. নুশরাত জাহান শমী এবং কুমিল্লার ইমাম তৌহিদ হাসান শাকিল।
রাতে বরখাস্ত হওয়া ছয়জন হলেন- এনবিআরের দ্বিতীয় সচিব মো. শাহাদাত জামিল, অতিরিক্ত কর কমিশনার মির্জা আশিক রানা (কর অঞ্চল-৮), হাছান মুহম্মদ তারেক রিকাবদার (নিরীক্ষা, গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদপ্তর, মূসক), সিফাত-ই-মরিয়ম (ন্যাশনাল সিঙ্গেল উইন্ডো প্রকল্প), রাজস্ব কর্মকর্তা সবুজ মিয়া এবং শফিউর বশর।
এদের বিরুদ্ধে অভিযোগ, গত ২৪ জুন এনবিআর ভবনে দুটি বদলি আদেশকে ‘প্রতিহিংসা ও নিপীড়নমূলক’ দাবি করে তা প্রকাশ্যে ছিঁড়ে ফেলে তারা প্রতিবাদে অংশ নেন।
এর আগে ২২ জুন বদলির ওই আদেশে পাঁচ কর্মকর্তা-শাহ মোহাম্মদ ফজলে এলাহী, মো. শিহাবুল ইসলাম, মো. আবদুল্লাহ ইউসুফ, ইমাম তৌহিদ হাসান শাকিল এবং নুসরাত জাহান শমীকে বিভিন্ন কর অঞ্চলে তাৎক্ষণিকভাবে বদলি করা হয়।
এনবিআরের কর্মকর্তাদের দাবি, এসব বদলির সিদ্ধান্ত আন্দোলন দমনের উদ্দেশ্যে নেওয়া হয়েছে এবং এটি কর্তৃপক্ষের প্রতিহিংসাপরায়ণতার বহিঃপ্রকাশ। এনবিআর চেয়ারম্যানের অপসারণের দাবিতে চলা আন্দোলন ২৯ জুন স্থগিত হলেও এর পরপরই শীর্ষ পর্যায়ের চার কর্মকর্তাকে বাধ্যতামূলক অবসরে পাঠানো হয় এবং আরও ১১ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে তদন্তে নামে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)।
কর্মকর্তাদের মধ্যে বিরাজমান ক্ষোভের বহিঃপ্রকাশ ঘটে যখন তারা প্রকাশ্যে বদলির আদেশ ছিঁড়ে ফেলে প্রতিবাদ জানান। এর প্রেক্ষিতে এনবিআরের ইতিহাসে অন্যতম বড় পরিসরের শৃঙ্খলামূলক পদক্ষেপ হিসেবে ১৪ জনকে একযোগে সাময়িক বরখাস্ত করা হলো।