প্রবা প্রতিবেদক
প্রকাশ : ১৪ জুলাই ২০২৫ ২১:৫৪ পিএম
যুক্তরাষ্ট্রের আরোপিত ৩৫ শতাংশ পাল্টা শুল্ক শূন্যে নামিয়ে আনার লক্ষ্যে নতুন করে তৃতীয় দফার আলোচনা শুরু করতে যাচ্ছে বাংলাদেশ। যুক্তরাষ্ট্র সফর শেষে দেশে ফিরে এ নিয়ে বিস্তারিত জানান বাণিজ্য উপদেষ্টা শেখ বশিরউদ্দীন।
সোমবার (১৪ জুলাই) সচিবালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেন, “আমাদের স্পষ্ট বার্তা- যুক্তরাষ্ট্রের শুল্ক কাঠামো যেন বৈষম্যমূলক না হয়। যৌক্তিক শুল্কের মানে আমাদের কাছে ‘শূন্য শতাংশ’।”
তিনি জানান, গত ৯ থেকে ১১ জুলাই যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে তিন দিনব্যাপী দ্বিতীয় দফার বৈঠক হয়েছে। এতে প্রায় ৪০ জন মার্কিন কর্মকর্তার সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে আলোচনা হয়েছে। তবে আলোচনার বিস্তারিত প্রকাশ না করে বলেন, বেশিরভাগ ইস্যুই ‘নন-ডিসক্লোজেবল’।
বাণিজ্য উপদেষ্টা জানান, আলোচনায় বাংলাদেশের পক্ষ থেকে যুক্তি তুলে ধরা হয়েছে যে, দেশটি ২০১৫ সাল থেকে শুল্ক-কর পরিশোধ করেই যুক্তরাষ্ট্রে রপ্তানি করে আসছে। এমনকি বাংলাদেশি প্রতিষ্ঠানগুলো কোনো ভর্তুকি ছাড়াই প্রতিযোগিতামূলক মূল্যে ব্যবসা পরিচালনা করছে। এ প্রেক্ষাপটে যুক্তরাষ্ট্রের বর্তমান পাল্টা শুল্কের হার অযৌক্তিক এবং বৈষম্যমূলক বলে মন্তব্য করেন তিনি।
চীনের সঙ্গে বাণিজ্য নিরুৎসাহিত করতে যুক্তরাষ্ট্র কোনো শর্ত দিচ্ছে কি না- এমন প্রশ্নে বশিরউদ্দীন বলেন, “এ বিষয়ে আমরা ‘নন-ডিসক্লোজার অ্যাগ্রিমেন্ট’-এর আওতায় আছি, তাই মন্তব্য করব না।”
তৃতীয় দফা আলোচনা শুরুর আগে দেশে ফিরে তিনি বিভিন্ন ব্যবসায়ী ও অর্থনীতিবিদদের সঙ্গে বৈঠক করেন। সেখানে রেসিপ্রোক্যাল ট্যারিফ অ্যাগ্রিমেন্টের খসড়া নিয়ে আলোচনা হয়। অংশ নেন ড. মাসরুর রিয়াজ, ড. সেলিম রায়হান, ড. আব্দুর রাজ্জাক, মোস্তফা আবিদ খানসহ ব্যবসায়ী নেতারা।
সরকারি প্রতিনিধিদলের সঙ্গে আলোচনায় ব্যবসায়ী সংগঠনগুলোও আশাবাদ ব্যক্ত করেছে। বিকেএমইএ সভাপতি মোহাম্মদ হাতেম বলেন, ‘সরকার যথেষ্ট গুরুত্ব দিয়ে বিষয়টি দেখছে। আগের মতো হতাশা নেই, বরং আলোচনার গতি দেখে আমরা আশাবাদী।’
উল্লেখ্য, গত ৭ জুলাই যুক্তরাষ্ট্রের ট্রেড রিপ্রেজেন্টেটিভ অফিস বাংলাদেশের কিছু পণ্যের ওপর পুনরায় ৩৫ শতাংশ পাল্টা শুল্ক আরোপ করে। এর প্রতিবাদে বাংলাদেশ দুই দফায় যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আলোচনা চালিয়েছে। এখন তৃতীয় দফা আলোচনার প্রস্তুতি চলছে।
বাণিজ্য মন্ত্রণালয় বলছে, উচ্চ শুল্ক কার্যকর থাকলে বাংলাদেশের রপ্তানি খাতের জন্য বড় ধাক্কা হতে পারে। তাই সরকারের সর্বোচ্চ প্রচেষ্টা থাকবে এই শুল্ক সম্পূর্ণ প্রত্যাহারের জন্য যুক্তরাষ্ট্রকে রাজি করাতে।