সাক্ষাৎকার
আহমেদ ফেরদাউস খান
প্রকাশ : ১৪ জুলাই ২০২৫ ১৬:০৬ পিএম
অধ্যাপক মো. আল-আমিন, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়
দেশের ব্যাংক খাতে মন্দাভাব ধীরে ধীরে কাটছে। আমানতকারীরা আবার ব্যাংক খাতে আস্থা ফিরে পাচ্ছেন। সাধারণ মানুষও সঞ্চয়ে ফিরছেন। এই প্রবণতা আরও কীভাবে বাড়ানো যায়- এ বিষয় নিয়ে দৈনিক প্রতিদিনের বাংলাদেশের সঙ্গে কথা বলেছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অ্যাকাউন্টিং অ্যান্ড ইনফরমেশন সিস্টেমস বিভাগের অধ্যাপক মো. আল-আমিন। সাক্ষাৎকার নিয়েছেন আহমেদ ফেরদাউস খান।
প্রশ্ন : বর্তমান ডিজিটাল যুগে সঞ্চয়ের পদ্ধতিগুলো কতখানি এগিয়েছে বলে আপনি মনে করেন?
উত্তর : দেশের ব্যাংকগুলো নিয়ে স্টাডি করলে দেখা যায়, কম্পারেডলি সবার ডিপিএস প্রোডাক্টই কাছাকাছি। এখন যারা সহজভাবে যত বেশি কাজ করবে, তত বেশি তার প্রজেক্টে মানুষ আগ্রহী হবে। তাই ডিজিটাল করার তাগিদটা তাদের, যারা ব্যাংকিং খাতে এগিয়ে আছে এবং এগিয়ে থাকতে চায়, তারা এগিয়ে এলে অন্যরা তাদের ফলো করবে। তারা যদি দেখে এখানে বাড়ছে এবং মানুষ যদি দেখে এখানে বিড়ম্বনা কম হচ্ছে এবং ঘরে বসেই সব করা যাচ্ছে, তাহলে তারা এখানে আরও বিনিয়োগকারীদের আকৃষ্ট করতে পারবে। সেজন্য আমি মনে করি, একদিকে প্রোডাক্টগুলো কম্পারেটিভ করা, অন্যদিকে সহজভাবে প্রোডাক্টগুলোতে মানুষ অ্যাকসেস পেতে পারে। এই দুইটা এক করতে পারলে এখানে বড় ধরনের অ্যাসেট আসবে। অর্থাৎ ব্যাংকিং যত সহজ করবে, সঞ্চয় তত বাড়বে।
প্রশ্ন : ঋণ, আমানত, সঞ্চয়, বন্ড, এনজিও ও বীমায় সুদের হারের পার্থক্য কি কোনো সমস্যা তৈরি করছে?
উত্তর : প্রতিটি বডি সেক্টরওয়েজ আলাদাভাবে করা। তারা প্রতিটি জায়গায় তাদের নিজস্ব নিডস অনুযায়ী সেট করে। ধরেন, সরকারের যদি টাকার প্রয়োজন বেশি হয়, সরকার বিল-বন্ডের মাধ্যমে টাকা সংগ্রহ করে। তখন রেটটা দিতে হয় বাজারে যেটা আছে তা থেকে ডিফারেন্ট মুডে। সরকারের যেহেতু সম্পদের শট। এটা যখন বাড়ে, তখন অটোমেটিক্যালি ব্যাংকগুলো তাদের রেটও বাড়িয়ে দেয়। তাই বিবিধ কারণে একেকজন একেক কারণে সিদ্ধান্ত নেয় বলে রেট ডিফারেন্ট হয়। সবার জনবলও আলাদা, উদ্দেশ্যেও আলাদা, তাই রেটটাও আলাদা হয়।
প্রশ্ন : ব্যাংকের আমানত সংগ্রহে প্রচলিত পদ্ধতির বাইরে গিয়ে নতুন কোনো পদ্ধতি ব্যবহার করা যায় কি না?
উত্তর : মোবাইল ফাইন্যান্স সার্ভিসগুলো আমাদের দেশে আগের থেকে অনেক বেশি অ্যাকসেস বেড়েছে এবং এতে করে ঝুঁকিও বেড়েছে, দুইটাই পাশাপাশি। যারা সিকিউরিটি বেশি দিতে পারছে, তাদের প্রতি মানুষের আগ্রহও বেশি। এ খাতে যারা বেশি আধুনিক এবং নিরাপত্তা যারা বেশি দিচ্ছে, তাদের দিকে মানুষ বেশি ঝুঁকছে। তারাই এগিয়ে আছে। তাদের অনেকে ফলো করছে, যা যুগের সঙ্গে তাল মিলিয়েই করছে। বাংলাদেশে সবার আগে এটিএম বুথ নিয়ে আসছে ডাচ্-বাংলা ব্যাংক। এরপর অন্যরাও তাকে ফলো করছে এবং এজেন্ট ব্যাংকিং নিয়ে আসছে ব্যাংক এশিয়া। এটাতেও আগ্রহ থাকায় মানুষ তাকে ফলো করেছে। এখন তারা লিডিংরোলে আছে। এখন একেকটা প্রোডাক্ট একেকজনে এনে এখন লিড করছে। অনলাইন অটোমেশনে যারা বেশি ভালো করবে, তারাই লিডিংরোলে থাকবে। যে মেকানিজম উন্নত বিশ্বে আছে, সেটা দেশে হ্যাচল ফ্রি এনে সিকিউরিটি নিশ্চিত করতে পারলে মানুষ সেদিকেই ঝুঁকবে।
প্রশ্ন : কেন্দ্রীয় ব্যাংকের দিক থেকে কী ধরনের পদক্ষেপ নিলে সঞ্চয় বা আমানত প্রবাহ বাড়বে বলে মনে করেন?
উত্তর : কেন্দ্রীয় ব্যাংক আমানত বাড়ার ক্ষেত্রে ওইভাবে কিছু করে না। জাতীয় সঞ্চয় নির্ভর করে ফ্যাংশন ডিপোজাল ইনকাম কেমন আছে তার ওপর। মূল্যস্ফীতি থাকলে আমানত বৃদ্ধিতে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের তেমন কিছু করারও থাকে না।
প্রশ্ন : স্কুল ব্যাংকিংয়ে আমানত প্রবণতা বৃদ্ধিতে আরও কার্যকর কোনো পদক্ষেপ নেওয়া যায় কি না?
উত্তর : স্কুল ব্যাংকিং বা ১০ টাকার অ্যাকাউন্ট- এই ধরনের যে স্কিমগুলো আছে। তাতে যিনি এটাতে আগ্রহী হবে, উনি নিজে যদি আগ্রহী না হয়; তাহলে কিছু করার থাকে না। আপনি যতই ইন্টারেস্ট দেখান না কেন, কোনো লাভ নেই। কাজটা ততটা আগাবে না। বাংলাদেশ ব্যাংকের পক্ষ থেকে মানুষকে সচেতন করতে হবে। ব্যাংকিং সেক্টরটা লিড করতাছে কিছু সহজভিত্তিক স্কিম। রাষ্ট্রীয় ব্যাংকগুলো প্রত্যন্ত অঞ্চলে যায়। কিন্তু তা যথেষ্ট নয়। বাংলাদেশ ব্যাংকের পক্ষ থেকে ম্যাসিভ প্রচারণা দরকার। ব্যাংক লেনদেনটা কী? এটা কীভাবে করতে হয়? এটা সাধারণ মানুষকে জানাতে হবে। সাধারণ মানুষ জানলে এটা কাজে দেবে। এখন কিন্তু শিক্ষিত জনগোষ্ঠীর একটা অংশ আছে। তা ছাড়া অনেকেই নেই। ধরেন মাসের আড়তদার, গেরের ব্যবসায়ী, তারা বস্তা ভরে নিয়ে কাজ করছে। কিন্তু তারা ব্যাংকিং চ্যালেনের বিষয়ে প্রপারলি জানে না। এই জায়গাগুলো ব্যাংকিং সহজ করা এবং তাদের জানানো। যত বেশি প্রচারণ হবে, তত বেশি আমানত বাড়বে।
প্রশ্ন : নারীদের সঞ্চয় প্রবণতা বৃদ্ধির কারণ কী বলে মনে করেন?
উত্তর : যদি কর্মজীবী নারী হন। তাহলে পরিবারে তাদের অংশগ্রহণ খুব একটা থাকে না। ধরেন স্বামী যদি চাকরি বা ব্যবসা করেন। তাহলে তাদের সঞ্চয় প্রবণতা বেড়ে যায়। আরেকটা দিক হচ্ছে, আমাদের দেশে অনেকেই নানা স্কিমে সম্পদ করেন। সেখানে নারীদের অংশগ্রহণ বেশি হয়। তবে ঝুঁকিপূর্ণ জায়গায় নারীদের সঞ্চয় অনেক কম থাকে। যেমন পুঁজিবাজার। তারা নিরাপদ জায়গায় সঞ্চয় বেশি করে থাকেন। ট্রেজারি বিল বা বন্ডে নারীদের অংশগ্রহণ বেশি থাকে বলে আমি মনে করি।