প্রবা প্রতিবেদন
প্রকাশ : ০৯ জুলাই ২০২৫ ১০:৩৭ এএম
ছবি: সংগৃহীত
ব্যাংকিং খাতে ডলারের দাম কমতে শুরু করেছে। এরই মধ্যে টানা দেড় সপ্তাহ ধরে প্রতি ডলারে গড়ে ৬০ পয়সা কমেছে। মঙ্গলবার বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলো গড়ে প্রতি ডলার বিক্রি করেছে ১২২ টাকা ৪০ পয়সা করে।
বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, মঙ্গলবার দিনের শুরুতে ডলারের দাম ছিল ১২২ টাকা ২৫ পয়সা। দুপুরে তা বেড়ে দাঁড়ায় ১২২ টাকা ৫৫ পয়সায়। দিন শেষে আবার তা নেমে আসে ১২২ টাকা ২৫ পয়সায়। দিনটিতে আন্তঃব্যাংক লেনদেন হয়েছে ৭ কোটি ১০ লাখ ডলার, যার গড় দর দাঁড়ায় ১২২ টাকা ৪০ পয়সা।
এদিকে বিশ্লেষকরা বলছেন, ব্যাংকিং চ্যানেলে রেমিটেন্স ও রপ্তানি আয় বৃদ্ধির ফলে ডলারের সরবরাহ বেড়েছে, যার ফলে ব্যাংকগুলোতে চাহিদা কিছুটা কমেছে। এ কারণেই দাম কমতে শুরু করেছে। এর পাশাপাশি কেন্দ্রীয় ব্যাংকের তদারকিও বড় ভূমিকা রেখেছে।
প্রসঙ্গত, গত মাসের মাঝামাঝি সময়ে আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) চাপে ডলারের মূল্য বাজারে ছেড়ে দেয় বাংলাদেশ ব্যাংক। তবে বাজার ছেড়ে দেওয়ার পরও ডলার নিয়ে কোনো অস্থিরতা তৈরি হয়নি, কারণ কেন্দ্রীয় ব্যাংক কঠোর নজরদারিতে ছিল।
আন্তর্জাতিক বাজারে ডলারের দাম কমা বাংলাদেশের জন্য বড় সুযোগ বলে মন্তব্য করে খাতসংশ্লিষ্টরা বলছেন, ‘ডলারের দরপতনের ফলে একদিকে আমাদের রপ্তানি প্রতিযোগিতা বাড়বে, অন্যদিকে আমদানিতেও খরচ কমবে। ফলে ডলারের সাশ্রয় হবে। যদিও আমদানি নির্ভর করে আরও বেশ কিছু বিষয়ের ওপর। কিন্তু রপ্তানিতে এটি বড় সম্ভাবনা তৈরি করবে। যেসব বাণিজ্যের মূল্য ডলারে নির্ধারিত হয়, সে ক্ষেত্রে আমাদের সুবিধা বাড়বে। তবে যেসব বাজারে স্থানীয় মুদ্রায় দাম নির্ধারিত হয়, সেখানে খুব বেশি লাভ হবে না। আমাদের আমদানি-রপ্তানি বাণিজ্য ডলারের মূল্যেই নির্ধারিত হয়।
অন্যদিকে বিশ্লেষকরা বলছেন, ডলারের দাম কমায় টাকার মান কিছুটা বাড়ছে, ফলে অবমূল্যায়নজনিত মূল্যস্ফীতির চাপও কিছুটা হ্রাস পাচ্ছে—যা দেশের সামষ্টিক অর্থনীতির জন্য স্বস্তির বার্তা বয়ে আনছে।