লালমনিরহাট প্রতিবেদক
প্রকাশ : ২৫ জুন ২০২৫ ২০:৫১ পিএম
আপডেট : ২৫ জুন ২০২৫ ২১:০৩ পিএম
লালমনিরহাটের পাটগ্রামের বুড়িমারী স্থল শুল্ক স্টেশনের একাধিক কর্মকর্তার বিরুদ্ধে ঘুষ বাণিজ্যসহ নানা অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। আমদানিকারক ও সিঅ্যান্ডএফ এজেন্টদের অভিযোগ, ঘোষিত এলসি ও বিল অব এন্ট্রির ভিত্তিতে ব্যাংকে যথাযথ পরিশোধ করার পরও প্রতি ফাইল ও পণ্যের টনপ্রতি অতিরিক্ত টাকা দাবি করা হয়।
বিশ্বস্ত সূত্র ও একাধিক সিঅ্যান্ডএফ এজেন্ট জানান, রাজস্ব কর্মকর্তা জহির রায়হান সিদ্দিক, রফিকুল ইসলাম এবং সহকারী রাজস্ব কর্মকর্তা এসএম রুহিনুল ইসলাম এ ধরনের আর্থিক অনিয়মে জড়িত। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক ব্যবসায়ী জানান, ঘুষ দিতে অস্বীকৃতি জানালে তাদের ফাইল আটকে রাখা হয়, ব্যবসা-সংশ্লিষ্ট কার্যক্রমে প্রতিবন্ধকতা তৈরি করা হয় এবং পণ্য ও গাড়ি পরীক্ষার নামে হয়রানি করা হয়।
তারা আরও জানান, গত শনিবার টাকা দাবিকে কেন্দ্র করে সিঅ্যান্ডএফ প্রতিনিধির সঙ্গে বাকবিতণ্ডায় জড়ান রাজস্ব কর্মকর্তারা। এ সময় প্রকাশ্যে ফাইল ছুড়ে মারার ঘটনাও ঘটে। ব্যবসায়ীদের অভিযোগ, এসব কর্মকর্তার ঔদ্ধত্যপূর্ণ আচরণে আমদানি-রপ্তানি বাণিজ্যের স্বাভাবিক পরিবেশ বিঘ্নিত হচ্ছে। ফলে ব্যবসায়ীরা বুড়িমারী বন্দর থেকে মুখ ফিরিয়ে নিচ্ছেন। বন্দর কর্তৃপক্ষও স্বীকার করেছে, বিভিন্ন কারণে বুড়িমারী দিয়ে আমদানি-রপ্তানি বাণিজ্য আগের তুলনায় কমে গেছে। ভারত ও ভুটান থেকে ডলোমাইট, লাইমস্টোন ও জিপসাম পাথরের আমদানি উল্লেখযোগ্য হারে হ্রাস পেয়েছে।
ব্যবসায়ীরা আশঙ্কা প্রকাশ করে বলেন, এসব কর্মকর্তার বেপরোয়া দুর্নীতি শুধু ব্যবসার পরিবেশ ক্ষতিগ্রস্ত করছে না, এতে সরকারের ভাবমূর্তিও ক্ষুণ্ন হচ্ছে। তবে রাজস্ব কর্মকর্তা জহির রায়হান সিদ্দিক অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, আমি শুধু যথাযথ কাগজপত্র চাই, অনেকে সেটাই মেনে নিতে পারেন না। তাই আমার বিরুদ্ধে মিথ্যা অভিযোগ ছড়ানো হচ্ছে। রফিকুল ইসলামও বলেন, সিঅ্যান্ডএফ প্রতিনিধিদের সঙ্গে কোনো বিতর্ক হয়নি। এসব অভিযোগ ভিত্তিহীন।
এ বিষয়ে সহকারী কমিশনার (এসি) রাহাত হোসেন প্রথমে বিষয়টি এড়িয়ে গেলেও পরে বলেন, আপনাদের মাধ্যমে বিষয়টি জানলাম। অভিযোগের সত্যতা পেলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।