প্রবা প্রতিবেদন
প্রকাশ : ০৭ ডিসেম্বর ২০২২ ১৯:২২ পিএম
আপডেট : ০৭ ডিসেম্বর ২০২২ ১৯:৫১ পিএম
রাজধানীর ইন্টারন্যাশনাল কনভেনশন সিটি বসুন্ধরায় এক্সপো জোনে এলএফএমইএবি আয়োজিত তিন দিনব্যাপী ‘লেদারটেক-২০২২’র উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্য দেন বাণিজ্যমন্ত্রী টিপু মুনশি। প্রবা ফটো
চামড়া শিল্পের উন্নয়ন ও রপ্তানি বৃদ্ধির প্রচুর সুযোগ রয়েছে। বর্তমানে চামড়াজাত পণ্য রপ্তানি ১০০ কোটি ডলারের বেশি। আগামী ২০৩০ সালে এ রপ্তানি হতে পারে ১০ বিলিয়ন বা এক হাজার কোটি ডলার বলে মন্তব্য করেছেন বাণিজ্যমন্ত্রী টিপু মুনশি।
বুধবার রাজধানীর ইন্টারন্যাশনাল কনভেনশন সিটি বসুন্ধরায় এক্সপো জোনে লেদারগুডস অ্যান্ড ম্যানুফ্যাকচারার্স অ্যান্ড এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (এলএফএমইএবি) আয়োজিত তিন দিনব্যাপী ‘লেদারটেক-২০২২’র উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ মন্তব্য করেন।
তিনি বলেন, চামড়া পণ্যের মান রপ্তানি বাজারের জন্য খুবই গুরুত্বপূর্ণ। আমাদের কাঁচামাল এবং দক্ষ জনশক্তি রয়েছে। নতুন প্রযুক্তির ব্যবহার করে আমরা চামড়া শিল্পকে অনেকদূর এগিয়ে নিতে পারি। আন্তর্জাতিক বাজারে চামড়া পণ্যের প্রচুর চাহিদা রয়েছে।
বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নির্দেশনায় দেশের গুরুত্বপূর্ণ স্থানে ১০০টি বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চল গড়ে তোলা হচ্ছে। অনেকগুলোর কাজ এখন শেষ পর্যায়ে। এগুলোতে অতি সহজেই চামড়া শিল্প গড়ে তোলা সম্ভব। ইতোমধ্যে অনেক দেশ বিনিয়োগের জন্য এগিয়ে এসেছে। দেশি-বিদেশি বিনিয়োগ আরও প্রয়োজন। বিনিয়োগকারীরা এখানে বিনিয়োগ করলে লাভবান হবেন। দেশের দক্ষ জনশক্তির কর্মসংস্থান হবে। এ শিল্পকে পরিকল্পিতভাবে এগিয়ে নেওয়ার জন্য সরকার ঢাকার হাজারিবাগ থেকে চামড়া শিল্প কলকারখানা সাভার ট্যানারিতে স্থানান্তর করেছে। এখন সেখানে উন্নত পরিবেশে আধুনিক সুযোগ-সুবিধায় লেদার শিল্প এগিয়ে যাচ্ছে। ব্যবসায়ীদের বিশেষ সুযোগ-সুবিধা প্রদান করা হচ্ছে।
তিনি বলেন, আগামী ২০২৬ সালে বাংলাদেশ এলডিসি গ্রাজুয়েশন করে উন্নয়নশীল দেশে পরিণত হবে। তখন বাংলাদেশের জন্য এলডিসিভুক্ত দেশের সুযোগ-সুবিধা থাকবে না। বিশ্ববাজারে প্রতিযোগিতা করেই এগিয়ে যেতে হবে। চলমান বিশ্বপরিস্থিতিতে ভিয়েতনাম ও চায়নার মতো দেশগুলো থেকে চামড়া শিল্প স্থানান্তর করা হচ্ছে। বাংলাদেশের জন্য এটা সুযোগ। এ সুযোগকে কাজে লাগাতে হবে। উন্নতমানের পণ্য উৎপাদন করে চামড়া শিল্পকে এগিয়ে নিতে হবে। দেশের আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলো এ ধরনের শিল্প উন্নয়নে সহায়তা দিচ্ছে। সরকারও প্রয়োজনীয় সহায়তা প্রদান করছে।
এলএফএমইএবির প্রেসিডেন্ট সৈয়দ নাসিম মঞ্জুরের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখেন বাংলাদেশ ট্যানার্স অ্যাসোসিয়েশনের (বিটিএ) চেয়ারম্যান শাহীন আহমেদ, ভারতের কমিটি অব অ্যাডমিনিস্ট্রেশন কাউন্সিল অব লেদার এক্সপোর্টসের সদস্য ভিপেন কুমার সেথ। অনুষ্ঠানে ভোট অব থ্যাংকস প্রদান করেন এএসকে ট্রেড অ্যান্ড এক্সিবিশনের ব্যবস্থাপনা পরিচালক টিপু সুলতান ভূঁইয়া।
উল্লেখ্য, অষ্টমবারের মতো আয়োজিত এ মেলায় ১০টি দেশের প্রায় ২০০টি প্রতিষ্ঠান অংশগ্রহণ করেছে। আগামী ৯ ডিসেম্বর পর্যন্ত দর্শনার্থীদের জন্য সকাল ১১টা থেকে সন্ধ্যা ৭টা পর্যন্ত মেলা খোলা থাকবে।