প্রবা ডেস্ক
প্রকাশ : ০৭ ডিসেম্বর ২০২২ ১৮:২৪ পিএম
আপডেট : ০৭ ডিসেম্বর ২০২২ ১৮:৫০ পিএম
ছবি : সংগৃহীত
রাশিয়ার গ্যাস সরবরাহ বন্ধ হওয়ায় পশ্চিমা দেশগুলোতে তীব্র হয়েছে জ্বালানি সংকট। ইউরোপের দেশগুলোতে গ্যাস বিল পরিশোধে জনগণকে অধিক পরিমাণ খরচ করতে হচ্ছে। এবার যুক্তরাজ্যের জ্বালানি সংকট ও খরচ কমাতে গ্যাস রপ্তানি বাড়াতে সম্মত হয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। বুধবার ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী ঋষি সুনাকের সঙ্গে বৈঠককালে ব্রিটেনে অধিক পরিমাণ গ্যাস রপ্তানি সংক্রান্ত চুক্তি স্বাক্ষর করেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন।
ব্রিটিশ গণমাধ্যম দ্য গার্ডিয়ানের এক প্রতিবেদনে বলা হয়, সুনাক ও বাইডেন জ্বালানি সুরক্ষা এবং সামর্থ্যের অংশীদারিত্ব চুক্তি স্বাক্ষর করেছেন। চুক্তির অধীনে যুক্তরাষ্ট্র আগামী বছর ২০২১ সালের তুলনায় যুক্তরাজ্যে দ্বিগুণেরও বেশি তরল প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) রপ্তানির লক্ষ্যমাত্রা নিয়ে কাজ করবে। এ ছাড়া মহাকাশ শিল্পকে ডিকার্বোনাইজ করা, বৈদ্যুতিক যানবাহনের ব্যবহার বৃদ্ধি এবং জ্বালানিসাশ্রয়ী যন্ত্রপাতির বিকাশের মতো সবুজ উদ্যোগকে ত্বরান্বিত করতেও সহযোগিতা করতে চায় দুই দেশ। পারমাণবিক, হাইড্রোজেন এবং কার্বন ক্যাপচার প্রকল্পে আরও সহযোগিতা করার পরিকল্পনাও রয়েছে দুই দেশের। বিশ্বব্যাপী রাশিয়ার জ্বালানির ওপর নির্ভরতা কমানোর লক্ষ্যে এরই মধ্যে ওয়েস্টমিনস্টার এবং হোয়াইট হাউসের কর্মকর্তাদের নেতৃত্বে গঠন করা হয়েছে একটি যৌথ অ্যাকশন গ্রুপ।
রাশিয়ার গ্যাসের ওপর ব্রিটেন খুব বেশি নির্ভরশীল ছিল না উল্লেখ করে ঋষি সুনাক বলেন, ‘ইউক্রেন আক্রমণের আগে ব্রিটেন খুব বেশি রাশিয়ার গ্যাসের ওপর নির্ভরশীল ছিল না। কিন্তু ইউক্রেনে আক্রমণের পরপরই ইউরোপীয় দেশগুলো গ্যাস স্টোরেজ পূরণ করতে তাড়াহুড়ো শুরু করে। ফলে সরবরাহ চাহিদা বেড়ে যাওয়ায় খুব দ্রুত গ্যাসের দাম বেড়েছে।’
তবে যুক্তরাজ্য ও যুক্তরাষ্ট্র একসঙ্গে এই বৈশ্বিক সংকট মোকাবিলা করবে জানিয়ে সুনাক আরও বলেন, ‘জ্বালানির বৈশ্বিক মূল্য নিশ্চিত করতে যুক্তরাজ্য ও যুক্তরাষ্ট্র একসঙ্গে কাজ করবে। আমাদের জাতীয় সরবরাহের নিরাপত্তা আর কখনও ব্যর্থ শাসনের বাতিক দ্বারা হেরফের করা যাবে না।’
এদিকে এই শীতে যুক্তরাজ্য কঠিন জ্বালানি সংকটের মুখোমুখি হতে পারে বলে অনুমান করছেন বিশেষজ্ঞরা। তবে ব্রিটিশ সরকার বলছে, গ্যাস চুক্তির অংশ হিসেবে যুক্তরাষ্ট্র আগামী বছর যুক্তরাজ্যের টার্মিনালগুলোর মাধ্যমে কমপক্ষে ৯০০-১০০০ কোটি ঘনমিটার (বিসিএম) এলএনজি রপ্তানির চেষ্টা করবে।
শিপ-ট্র্যাকিং পরিষেবা আইসিআইএস এলএনজি এজ তাদের একটি পরিসংখ্যানে বলছে, ২০২১ সালে ব্রিটেন যুক্তরাষ্ট্র থেকে ৩৯০ কোটি ঘনমিটার ( বিসিএম) এলএনজি আমদানি করেছে, যা যুক্তরাজ্যের মোট এলএনজি আমদানির ২৬ শতাংশ। ২০২২ সালের অক্টোবর পর্যন্ত যুক্তরাজ্য, যুক্তরাষ্ট্র থেকে ৯৭০ কোটি ঘনমিটার (বিসিএম) এলএনজি আমদানি করেছে, যা তাদের মোট আমদানির ৪২ শতাংশ।
বাইডেন ও সুনাক তাদের একটি যৌথ বিবৃতিতে বলেছেন, ‘ইউক্রেনে রাশিয়ার অবৈধ আগ্রাসনের ফলে সৃষ্ট বৈশ্বিক জ্বালানি সংকটের সময় আমাদের ভাগাভাগি করে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে হবে। আন্তর্জাতিক ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে মিত্রদেশগুলোর সহযোগিতা আগের চেয়ে আরও বেশি গভীর করা দরকার।’