প্রবা প্রতিবেদক
প্রকাশ : ০৯ মে ২০২৫ ১৭:০৪ পিএম
লালদিয়ার চরে চট্টগ্রাম বন্দরের কনটেইনার টার্মিনালে ৮০০ মিলিয়ন ডলার বিনিয়োগ হতে পারে বলে জানিয়েছেন বাংলাদেশ বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (বিডা) ও বাংলাদেশ অর্থনৈতিক অঞ্চল কর্তৃপক্ষের (বেজা) নির্বাহী চেয়ারম্যান চৌধুরী আশিক মাহমুদ বিন হারুন।
তিনি বলেন, ‘আমাদের দেশে বার্ষিক এফডিআই ৭০০ মিলিয়ন ডলারের বেশি নয়। একটি প্রকল্প থেকেই যদি ৮০০ মিলিয়ন ডলারের বিনিয়োগ আসে, তবে তা আমাদের অর্থনীতির জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এতে বিপুল কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি হবে। বিডার পক্ষ থেকে আমরা এই প্রকল্পের অগ্রগতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছি।’গতকাল বৃহস্পতিবার সকালে চট্টগ্রাম বন্দরের লালদিয়া চর ও বে টার্মিনাল পরিদর্শন শেষে তিনি একথা বলেন। এরপর তিনি চট্টগ্রাম বন্দর পরিদর্শন করেন। এ সময় প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিব শফিকুল আলম, উপ-প্রেস সচিব মোহাম্মদ আবুল কালাম আজাদ মজুমদার ও চট্টগ্রাম বন্দরের চেয়ারম্যান রিয়ার অ্যাডমিরাল এসএম মনিরুজ্জামান উপস্থিত ছিলেন। পরে তিনি বন্দরের কার্যক্রম পরিদর্শন করে দুপুরে নগরীর র্যাডিসন ব্ল বে ভিউ ব্যবসায়ী, শিল্পপতি ও সুশীল সমাজের সঙ্গে মতবিনিময় করেন।
চট্টগ্রাম বন্দরের নিউমুরিং কনটেইনার টার্মিনাল পরিদর্শন শেষে বিডা চেয়ারম্যান চৌধুরী আশিক মাহমুদ বিন হারুন সাংবাদিকদের বলেন, ঢাকা রাজনৈতিক রাজধানী আর চট্টগ্রাম হবে আমাদের বাণিজ্যিক রাজধানী। বাংলাদেশের যে সম্পূর্ণ উন্নয়ন লক্ষ্যের দিকে আমরা এগুচ্ছি, তার মূল অংশ চট্টগ্রাম। অর্থনৈতিক উন্নতির জন্য চট্টগ্রাম একটি অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র।’তিনি আরো বলেন, আমাদের লক্ষ্য হচ্ছে- দেশের মানুষের জন্য, বিশেষ করে চট্টগ্রামের জন্য কর্মসংস্থান তৈরি করা। অর্থনৈতিক উন্নয়ন সব সরকারের প্রথম এজেন্ডা দেওয়া উচিত আর অর্থনৈতিক উন্নয়নের জন্য এসব টার্মিনালকে আমরা যত বেশি বিশ্বমানের করতে পারব, তত বেশি ব্যবসার জন্য কন্ট্রিবিউশন করা যাবে।লালদিয়ার চরে প্রায় ৮০০ মিলিয়ন ডলার প্রত্যক্ষ বিদেশি বিনিয়োগ (এফডিআই) আসবে এবং বাংলাদেশের পক্ষ থেকে এখানে কোনো বিনিয়োগ করা হবে না জানিয়ে তিনি বলেন, ‘আমাদের ইতিহাস তৈরির সুযোগ আছে। বাংলাদেশকে ম্যানুফেকচারিং হাব করা সরকারের লক্ষ্য। লালদিয়া গ্রিন পোর্ট হবে। ৮০০ মিলিয়ন ডলার বিনিয়োগ হবে। বিষয়টি আমরা খুবই সিরিয়াসলি ট্র্যাক করার চেষ্টা করছি।’
তিনি আরও বলেন, ‘আমাদের দীর্ঘ মেয়াদি পরিকল্পনা নিতে হবে। পোর্ট ক্যাপাসিটি এখন লিমিটেড। ছয় গুণ করার পরও আমরা ভিয়েতনামের ধারে কাছেও যাব না। তাই এক্সপার্ট প্রতিষ্ঠানকে দায়িত্ব দিতে হবে, যাতে কম জায়গায় বেশি অপারেশন করা যায়। বাংলাদেশকে একটি উৎপাদন কেন্দ্র হিসেবে গড়ে তুলতে হলে বন্দরসমূহের উন্নয়ন জরুরি। এজন্য বিশ্বসেরা বন্দর পরিচালনাকারী প্রতিষ্ঠানগুলোর সঙ্গে আমাদের কাজ করতে হবে।’
বিডা চেয়ারম্যান জানান, দেশে একটি মুক্ত বাণিজ্য অঞ্চল গঠনে একটি কমিটি গঠন করা হয়েছে এবং সম্ভাব্য স্থান হিসেবে আনোয়ারা পরিদর্শন করা হয়েছে। ২০২৪ সালে লালদিয়া টার্মিনালে কার্যক্রম শুরু করে এপিএম টার্মিনালস। শুরুতে ৩০০ থেকে ৪০০ মিলিয়ন ডলার বিনিয়োগের কথা থাকলেও আজ বেজা চেয়ারম্যান জানিয়েছেন, বিনিয়োগের পরিমাণ বাড়িয়ে ৮০০ মিলিয়ন ডলার করা হয়েছে।
এপি মোলার মায়ের্স্ক-এর সহযোগী প্রতিষ্ঠান এপিএম টার্মিনালস বাংলাদেশে প্রথমবারের মতো পাবলিক-প্রাইভেট পার্টনারশিপ (পিপিপি) ও সরকার-থেকে-সরকার ভিত্তিতে বিওটি (বিল্ড-অপারেট-ট্রান্সফার) পদ্ধতিতে এই প্রকল্প বাস্তবায়ন করবে।
পরে ব্যবসায়ীদের সঙ্গে মতবিনিময়কালে আশিক চৌধুরী বলেন, এ সরকার বলেন, আগামী সরকার বলেন, আগামী পাঁচ-সাতটা সরকারের কিন্তু সবচেয়ে বড় এজেন্ডা থাকতে হবে কর্মসংস্থান। সেটাকে প্রাইমারি গোল ধরে আমাদের ডিসিশন যেদিকে, যেভাবে নেওয়া দরকার, সেভাবেই নিতে হবে। পোর্টগুলোকে এফিশিয়েন্ট করলে যদি আমাদের ট্রেড বাড়ে, তাহলে এমপ্লয়মেন্ট বাড়বে। আমরা যদি পোর্টগুলো করতে পারি, শুধু বে-টার্মিনালেই ২৫ হাজারের কর্মসংস্থান হবে।
সংবাদ সম্মেলনে বিডা চেয়ারম্যান বলেন, আমাদের প্রধান লক্ষ্য বাংলাদেশকে গ্লোবাল ম্যানুফ্যাকচারিং হাবে পরিণত করা। এটি করতে কতদিন সময় লাগবে, সেটি আমরা নিশ্চিত নই, কারণ এটি নির্ভর করবে অন্য যেসব ফ্যাক্টর আছে, সেগুলোর উন্নয়নের ওপর। তবে বন্দরের সক্ষমতা বাড়াতে আমরা যেসব উদ্যোগ নিয়েছি; এই বিষয়ে বলব, আগামী ৫-৭ বছরের মধ্যে সবগুলো কাজ শেষ হয়ে যাবে। আমরা আশা করছি, ২০৩০ সালের মধ্যে আমাদের শেষ করতে পারব।
আশিক চৌধুরী বলেন, আমরা যেই প্রত্যাশা নিয়ে এগিয়ে যাচ্ছি। সেটি যদি ঠিকভাবে এগিয়ে নিতে পারি, তাহলে চট্টগ্রামে অনেক বিনিয়োগ হবে। গত দুই মাস আমি বিশ্বের বেশ কয়েকটি বন্দর ঘুরে দেখেছি। ওই সব বন্দর ঘুরে দেখিছি, তাদের বন্দর অপারেশনের প্রযুক্তি অনেক এগিয়ে গেছে। সেই প্রযুক্তিটা স্থানান্তরটাও আমাদের করতে হবে। নলেজ স্থানান্তরও করাতে হবে। ফলে আমাদের এমন হওয়া উচিত, আমাদের বন্দরে যেসব শ্রমিকরা কাজ করেন, তাদের একটি বিদেশি কোম্পানি প্রশিক্ষণ দেবে। তাদের নিয়ে বিশ্বের বড় বড় বন্দরে নিয়ে যাবে না। কারণ আমরা তো জানি, আমাদের শ্রমিকরা পারিশ্রমিকের বিপরীতে যেই যেই পরিমাণ কাজ করেন। সেটি অন্যান্য দেশের তুলনায় অনেক কম। তাই আমরা যদি বিশ্বের অন্যান্য বন্দরের শ্রমিকদের মতো একই দক্ষতায় নিয়ে আসতে পারি; তাহলে এই শ্রমিকদের প্রশিক্ষণ দিয়ে বিশ্বের বিভিন্ন বন্দরে পাঠাতে পারব।