× ই-পেপার প্রচ্ছদ সর্বশেষ বাংলাদেশ রাজনীতি দেশজুড়ে বিশ্বজুড়ে বাণিজ্য খেলা বিনোদন মতামত চাকরি শিক্ষা আজকের কার্টুন ফিচার সকল বিভাগ ছবি ভিডিও লেখক আর্কাইভ কনভার্টার

মূল্যস্ফীতির ঊর্ধ্বগতিতে আগ্রহ কমছে এজেন্ট ব্যাংকিংয়ে

আহমেদ ফেরদাউস খান

প্রকাশ : ২২ এপ্রিল ২০২৫ ২১:৪৩ পিএম

মূল্যস্ফীতির ঊর্ধ্বগতিতে আগ্রহ কমছে এজেন্ট ব্যাংকিংয়ে

সাধারণ মানুষের কাছে ব্যাংকিং সেবা পৌঁছে দিয়েছে এজেন্ট ব্যাংকিং। ব্যাংকে টাকা জমা দেওয়া ও উত্তোলনে সাধারণ মানুষকে এখন আর জেলা কিংবা উপজেলা শহরে যেতে হয় না। ঘরের পাশেই পাচ্ছে সেবা। তারা সহজে ব্যাংকে টাকা জমা রাখতে ও তুলতে পারে। এ ছাড়া বিভিন্ন ব্যাংকের এজেন্ট ও আউটলেট থেকে ঋণ সুবিধাও পাচ্ছে। কিন্তু এরপরও এজেন্ট ব্যাংকিংয়ে আগ্রহ কমছে সাধারণ মানুষের। মূল্যস্ফীতির ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতায় টানা দুই মাস কমল লেনদেনের পরিমাণ। তবে কিছুটা বেড়েছে হিসাব সংখ্যা। 

খাতসংশ্লিষ্টরা বলছেন, এজেন্ট ব্যাংকিংয়ের কার্যক্রম কমার একটি কারণ হতে পারে চলমান মূল্যস্ফীতি। মূলত মূল্যস্ফীতি এতটাই বেশি যে, গ্রামের মানুষের জীবনযাত্রায় উচ্চ ব্যয় যোগ হচ্ছে। আর তা মেটাতে তারা ব্যয় সংকোচনে বাধ্য হচ্ছে, ফলে ব্যাংকিং লেনদেন কমছে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রতিবেদনে দেখা গেছে, এজেন্ট ব্যাংকিং গ্রাহকের বড় অংশই গ্রামে বাস করে। ২০২৫ সালের ফেব্রুয়ারি শেষে এজেন্ট ব্যাংকিংয়ে মোট হিসাবধারীর সংখ্যা দাঁড়ায় ২ কোটি ৪৪ লাখ ৭৬ হাজার ৩৫৬টি; যা আগের বছরের একই সময়ে ছিল ২ কোটি ১৯ লাখ ২৯ হাজার ৯৪৭টি। এক বছরে হিসাব বেড়েছে ২৫ লাখ ৪৬ হাজার ৪০৯টি। গত ডিসেম্বর শেষে এজেন্ট ব্যাংকিংয়ে হিসাবধারীর সংখ্যা ছিল ২ কোটি ৪০ লাখ ৭৮ হাজার ২৩০টি। সেটি তিন মাসে বেড়ে হয়েছে ৩ লাখ ৯৮ হাজার ১২৬টি। এছাড়া আগের মাসের তুলনায় ফেব্রুয়ারিতে ৮৬ হাজার ৭৫৬টি বেড়ে নারীদের হিসাব সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১ কোটি ২০ লাখ ৮৭ হাজার ৬৩২টিতে। আর পুরুষদের এ সংখ্যা ১ কোটি ১৯ লাখ ৮৯ হাজার ৪৩০টি। এ সময়ে গ্রামে গ্রাহক বেড়ে দাঁড়িয়েছে ২ কোটি ৯ লাখ ৪৩ হাজার ১৬৩টিতে। 

আমানত বাড়লেও এজেন্ট ব্যাংকিংয়ে লেনদেনে পড়েছে ভাটা। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের প্রতিবেদন বলছে, চলতি সালের ফেব্রুয়ারিতে আমানতের পরিমাণ দাঁড়ায় ৪১ হাজার ৩১৬ কোটি ২৩ লাখ টাকা। এক বছর আগে এ পরিমাণ ছিল ৩৬ হাজার ২৩৮ কোটি ৭২ লাখ কোটি টাকা; যা এই সময়ে বেড়েছে ৫ হাজার ৭৭৫ কোটি টাকা। আর ২০২৪ সালের ডিসেম্বর শেষে আমানতের পরিমাণ ছিল ৪১ হাজার ৯৫৫ কোটি ১৪ লাখ টাকা। এদিকে ফেব্রুয়ারিতে এজেন্ট ব্যাংকিংয়ে লেনদেন হয়েছে ৬২ হাজার ২৭৪ কোটি ৮৭ লাখ টাকা। তার আগের মাস জানুয়ারিতে হয় ৬৬ হাজার ২৬৫ কোটি ৪৫ লাখ টাকা। এক বছর আগে লেনদেন হয়েছিল ৬৯ হাজার ২৯৫ কোটি ৮৯ লাখ টাকা। আলোচ্য সময়ে কমেছে লেনদেন। এক মাসে কমেছে ৩ হাজার ৯৯০ কোটি ৫৮ লাখ টাকা। আর এক বছরে কমেছে ৭ হাজার ২১ কোটি ২ লাখ টাকা। 

বাংলাদেশ ব্যাংকের একজন কর্মকর্তা বলেন, প্রত্যন্ত অঞ্চলের মানুষের ব্যাংকের সঙ্গে লেনদেন সহজ করতেই মূলত এজেন্ট ব্যাংকিং চালু হয়েছে। এটা এখন সারা দেশে বেশ জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে। কারণ সাধারণ মানুষ হাতের কাছে ব্যাংকের সঙ্গে লেনদেন করতে পারছে। এমনকি সাধারণ মানুষ এখন এসব এজেন্ট ব্যাংকিং থেকে ঋণও নিতে পারছে। তবে মূল্যস্ফীতি অত্যধিক বেড়ে যাওয়ায় এখ এক্ষেত্রে মানুষের আগ্রহ কিছুটা কমছে। মূল্যস্ফীতি সহনীয় পর্যায়ে এলে এজেন্ট ব্যাংকিং আগের জায়গায় পৌঁছবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন। 

বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রতিবেদন বলছে, চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে এজেন্ট ব্যাংকিংয়ের আওতায় ঋণ বিতরণ হয়েছে ৯ হাজার ৩৩৩ কোটি টাকা। আর গত বছরের ডিসেম্বর শেষে বিতরণ হয়ছিল ১০ হাজার ৮০৩ কোটি টাকা। সেই হিসাবে তিন মাসে ঋণ বিতরণ কমেছে ১ হাজার ৫০০ কোটি টাকা।

পরিস্থিতি সামাল দিতে না পেরে কমেছে এজেন্ট ও আউটলেটের সংখ্যা। বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রতিবেদন অনুযায়ী, গত বছরের ডিসেম্বর শেষে এজেন্টের সংখ্যা ছিল ১৬ হাজার ১৯টি। আর ফেব্রুয়ারি শেষে এ সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১৫ হাজার ৮৬০টিতে। সেই হিসাবে তিন মাসে এজেন্টের সংখ্যা কমেছে ১ হাজার ৫৯০টি। এছাড়া ডিসেম্বর শেষে আউটলেটের সংখ্যা ছিল ২১ হাজার ২৪৮টি। আর ফেব্রুয়ারি শেষে দাঁড়িয়েছে ২১ হাজার ৪৩টি। তিন মাসে কমেছে ২০৫টি। 

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একটি বেসরকারি ব্যাংকের এক কর্মকর্তা বলেন, কিছু এজেন্ট ব্যাংকারের জালিয়াতি ও অনিয়মের তথ্য জানার পর ব্যাংকগুলো এজেন্ট ব্যাংকিং সেবা সম্প্রসারণে সতর্ক হচ্ছে। ব্যাংকগুলো উপশাখা খোলার দিকে জোর দেওয়ায় এজেন্ট ব্যাংকিংয়ের কার্যক্রম কমে যাচ্ছে। কারণ ব্যাংক তাদের এজেন্ট ব্যাংকারদের জালিয়াতির দায় নিতে চায় না। তাই উপশাখাকে গুরুত্ব দিচ্ছে।

সার্বিক বিষয়ে জানতে চাইলে গবেষণা ও নীতিসহায়ক সংস্থা ইনস্টিটিউট ফর ইনক্লুসিভ ফিন্যান্স অ্যান্ড ডেভেলপমেন্টের (আইএনএফ) সাবেক নির্বাহী পরিচালক ও বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক অর্থনীতিবিদ ড. মোস্তফা কে মুজেরী প্রতিদিনের বাংলাদেশকে বলেন, এজেন্ট ব্যাংকিংয়ের গ্রাহক মূলত প্রান্তিক মানুষ। মূল্যস্ফীতি বাড়লে তারা বড় সমস্যায় পড়ে। মূল্যস্ফীতি বৃদ্ধির প্রভাব পড়েছে তাদের ওপর। ফলে লেনদেন কমতে পারে। এছাড়া গত বছরের জুন থেকে ব্যাংকিং খাতে প্রতি মাসেই ঋণের সুদহার বাড়ছে। যার কারণে গ্রাহকরাও ঋণ নেওয়ার ক্ষেত্রে অনেক কিছু বিবেচনা করছেন। এসব কারণেই এজেন্ট ব্যাংকিংয়ের প্রতি আগ্রহ কমছে বলে তিনি মনে করেন।

উল্লেখ্য, বাংলাদেশে ২০১৪ সালের ১৭ জানুয়ারি প্রথম এজেন্ট ব্যাংকিং সেবা চালু করে ব্যাংক এশিয়া। তারা পরীক্ষামূলকভাবে মুন্সীগঞ্জ জেলার সিরাজদিখান উপজেলায় এই কার্যক্রম শুরু করে। ওই উপজেলার জৈনসার ইউনিয়নের ব্যবসায়ী ইসলাম শেখকে প্রথম এজেন্ট হিসেবে নিয়োগ করে ব্যাংকটি।

শেয়ার করুন-

মন্তব্য করুন

Protidiner Bangladesh

সম্পাদক : মারুফ কামাল খান

প্রকাশক : কাউসার আহমেদ অপু

রংধনু কর্পোরেট, ক- ২৭১ (১০ম তলা) ব্লক-সি, প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড) ঢাকা -১২২৯

যোগাযোগ

প্রধান কার্যালয়: +৮৮০৯৬১১৬৭৭৬৯৬ । ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন (প্রিন্ট): +৮৮০৯৬১১৬৭৭৮১০, +৮৮০১৮৮০৭৪৪৫৮০ | ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন (অনলাইন): +৮৮০১৮৮০৭৪৪৫৮০, +৮৮০১৭৯৯৪৪৯৫৫৯ । ই-মেইল: [email protected]

সার্কুলেশন: +৮৮০৯৬১১৬৭৭৮০৭, +৮৮০১৮৮০৭৪৪৩৩২ । ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন মূল্য তালিকা