প্রবা প্রতিবেদক
প্রকাশ : ২২ এপ্রিল ২০২৫ ১৮:২৩ পিএম
জাতীয় প্রেসক্লাবে জহুর হোসেন চৌধুরী হলে মঙ্গলবার আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে বক্তব্য দেন রিহ্যাব সভাপতি মো. ওয়াহিদুজ্জামান। প্রবা ফটো
২০২২-২০৩৫ সালের জন্য চূড়ান্ত করা ঢাকা মহানগর বিশদ অঞ্চল পরিকল্পনাকে (ড্যাপ) বৈষম্যমূলক ও ত্রুটিপূর্ণ দাবি করে, তা বাতিলের আহ্বান জানিয়েছেন আবাসন ব্যবসায়ীরা।
মঙ্গলবার (২২ এপ্রিল) জাতীয় প্রেসক্লাবে জহুর হোসেন চৌধুরী হলে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এ আহ্বান জানান রিয়েল এস্টেট অ্যান্ড হাউজিং অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (রিহ্যাব) নেতারা। সংবাদ সম্মেলনে ড্যাপ নিয়ে গভীর অসন্তোষ প্রকাশ করেন বক্তারা। তারা বলেন, আবাসন শিল্পে গতিশীলতা আনতে অন্তর্বর্তী সরকারকে দ্রুত পদক্ষেপ নিতে হবে।
রিহ্যাব সভাপতি মো. ওয়াহিদুজ্জামান বলেন, নতুন ড্যাপের ফার (ফ্লোর এরিয়া রেশিও) সংক্রান্ত বিধিনিষেধের কারণে আবাসন খাতে মারাত্মক স্থবিরতা দেখা দিয়েছে। ফলে বিনিয়োগ কমেছে, কর্মসংস্থান হ্রাস পেয়েছে এবং দেশের অর্থনীতি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। দিল্লিতে প্রতি বর্গকিলোমিটারে ৩৬২ জন মানুষ বসবাস করে। তারপরও তাদের ভবন নির্মাণের ক্ষেত্রে ফার বেশি। ঢাকায় প্রতি বর্গকিলোমিটারে বসবাস করে ১ হাজার ১১৯ জন। ফলে আমাদের কম জায়গায় বেশি ফার প্রয়োজন। ২০২২ সালে ড্যাপের প্রজ্ঞাপন হওয়ার পর জমির মালিকেরা ডেভেলপ করার জন্য আবাসন কোম্পানিকে জমি দিচ্ছেন না। এ কারণে নতুন আবাসন প্রকল্পের সংখ্যা কমে গেছে। এতে করে নতুন প্রকল্প শুরু করা যাচ্ছে না, ফলে আবাসন খাতসহ এর সাথে জড়িত প্রায় ২০০টির বেশি লিংকেজ শিল্প—যেমন রড, সিমেন্ট, ইট, কেবল, রং, টাইলস, লিফট, থাই অ্যালুমিনিয়াম, স্যানেটারি সামগ্রী ইত্যাদির বাজারে মারাত্মক মন্দাভাব চলছে।
তিনি বলেন, এই শিল্পে ৪০ লাখেরও বেশি মানুষের সরাসরি কর্মসংস্থান এবং প্রায় ২ কোটি মানুষের জীবিকা জড়িত। অথচ রডের চাহিদা ৫০ শতাংশ কমেছে। অনেক প্রতিষ্ঠান উৎপাদন কমিয়ে দিয়েছে, শ্রমিক ছাঁটাই শুরু হয়েছে। এই অবস্থা চলতে থাকলে আরও বড় বিপর্যয় আসবে।
তিনি আরও বলেন, বিগত কিছু স্বার্থান্বেষী মহলের চাপে ২০০৮ সালের ‘ঢাকা মহানগর ইমারত নির্মাণ বিধিমালা’ ও ‘মাস্টারপ্ল্যান ২০১০’ বাতিল করে বর্তমান ত্রুটিপূর্ণ ড্যাপ চালু করা হয়েছে, যা ভবন নির্মাণে ব্যাপক বৈষম্য সৃষ্টি করেছে এবং নগর উন্নয়নের গতি থমকে দিয়েছে।
রিহ্যাব সভাপতি বলেন, আমরা চাচ্ছি সরকার একটি বাস্তবসম্মত, জনবান্ধব এবং ব্যবসাবান্ধব বাজেট উপহার দিক। ভ্যাট-ট্যাক্স সংক্রান্ত জটিলতা দূর করে এই শিল্পে বিনিয়োগে উৎসাহ দিতে হবে। তবেই কর্মসংস্থান বাড়বে এবং অর্থনীতিও সচল থাকবে।
তিনি সরকারের প্রতি আহ্বান জানান, অস্থায়ী সরকার হলেও আবাসন খাত ও সংশ্লিষ্ট শিল্পগুলোর সংকট নিরসনে জরুরি ভিত্তিতে কার্যকর পদক্ষেপ নিতে হবে। এই খাত সচল না হলে জাতীয় অর্থনীতিতে দীর্ঘমেয়াদি নেতিবাচক প্রভাব পড়বে, যা দেশের উন্নয়ন থমকে দিতে পারে।
সংবাদ সম্মেলনে আরও উপস্থিত ছিলেন এফবিসিসিআই’র সাবেক পরিচালক নিয়াজ উদ্দিন, বাংলাদেশ স্টিল ম্যানুফ্যাকচারার্স অ্যাসোসিয়েশনের প্রতিষ্ঠাতা চেয়ারম্যান শেখ মাসাদুল আলম মাসুদ, বাংলাদেশ সিমেন্ট ম্যানুফ্যাকচারিং এসোসিয়েশনের নির্বাহী পরিচালক শঙ্খ কুমার রায়, বাংলাদেশ গ্লাস মার্চেন্ট এসোসিয়েশনের সভাপতি হোসেন আলমগীর, বাংলাদেশ টিম্বার মার্চেন্ট এসোসিয়েশনের কোষাধ্যক্ষ তানভীর মোহাম্মদ প্রমুখ।