প্রবা প্রতিবেদক
প্রকাশ : ১৭ এপ্রিল ২০২৫ ২২:২৩ পিএম
রিয়েল এস্টেট বা আবাসন খাতে অনিয়ম রোধে বড় পদক্ষেপ নিয়েছে জাতীয় গৃহায়ন কর্তৃপক্ষ। সরকারের অনুমোদন ছাড়া প্রকল্প গ্রহণ এবং নিবন্ধনের মেয়াদ পেরিয়ে যাওয়ার অভিযোগে ৩৬টি ডেভেলপার কোম্পানির নিবন্ধন বাতিল করা হয়েছে। একই সঙ্গে অনিবন্ধিত ডেভেলপার এবং অননুমোদিত প্রকল্প থেকে প্লট বা ফ্ল্যাট কেনা থেকে বিরত থাকতে জনসাধারণকে সতর্ক করেছে সংস্থাটি।
বাতিল হওয়া কোম্পানিগুলো হলো- ভিশন ২১ ডিজাইন অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট, প্রিমিয়াম হাউজিং এস্টেট, এনা প্রপার্টিজ, গ্রেট ওয়ালস ল্যান্ড প্রপার্টি, গ্লোরিয়াস প্রপার্টিজ, ম্যাক্সিম হোল্ডিংস (প্রা.), তুরিন হাউজিং, বিওসিএল ল্যান্ডস ডেভেলপমেন্ট, বেস্টওয়ে ল্যান্ড প্রপার্টিজ, বেস্টওয়ে ফাউন্ডেশন, সাফিজ ল্যান্ডস ডেভেলপমেন্ট, আরডিপি প্রপার্টিজ, গার্ডিয়ান রিয়েল এস্টেট, ভেনাস হাউজিং অ্যান্ড রিয়েল এস্টেট ডেভেলপমেন্ট, এফআইসিএল রিয়েল এস্টেট অ্যান্ড ডেভেলপার, পারিজাত ডেভেলপমেন্ট অ্যান্ড ডিজাইন, দিশারী রিয়েল এস্টেট অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট, ভেনিস অব বেঙ্গল প্রপার্টিজ, বসুধা বিল্ডার্স, রূপান্তর ডিজাইন অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট, প্রান্তিক প্রপার্টিজ, নেটওয়ার্ক ২০০৮ বিডি, বসুতি বিল্ডার্স অ্যান্ড ডেভেলপার্স, এসএফএল চন্দ্রিমা সিটি, হীরাঝিল প্রপার্টি ডেভেলপমেন্ট, হার্ব হোল্ডিংস, নবোদয় হাউজিং, আমাদের বাড়ী, নবধারা হাউজিং, রিচমন্ড ডেভেলপার্স, পূবালী ল্যান্ড ডেভেলপমেন্ট, ড্রীম প্যারাডাইজ প্রপার্টিজ, সবুজ ছায়া আবাসন, ইউরো বাংলা হাউজিং, সৃজন হাউজিং, ম্যাগপাই হাউজিং- জাতীয় গৃহায়ন কর্তৃপক্ষের আওতাধীন এলাকায় এসব কোম্পানি কোনো ধরনের আবাসন কার্যক্রম চালাতে পারবে না। প্রতিষ্ঠানের পক্ষ থেকে জনসাধারণকে এসব প্রতিষ্ঠানের প্রকল্প থেকে ফ্ল্যাট বা প্লট ক্রয়ের আগে সতর্ক থাকার আহ্বান জানানো হয়েছে।
এ প্রসঙ্গে জাতীয় গৃহায়ন কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান সৈয়দ মো. নুরুল বাসির প্রতিদিনের বাংলাদেশকে বলেন, ‘আমরা কিছু এলাকাবাদে রাজধানী ঢাকাসহ সারা দেশের রিয়েল এস্টেট কোম্পানিগুলো নিবন্ধন দিয়ে থাকি। এজন্য কিছু শর্ত থাকে। লম্বা বিরতির দিয়ে কোম্পানিগুলোর নিবন্ধন নিয়ে পর্যালোচনা করা হয়েছে মন্ত্রণালয়ের নির্দেশে। অনেকেই শর্ত মানছে না। তবে তারা যত্রতত্র সাইনবোর্ড লাগাচ্ছে।’
তিনি বলেন, ‘প্রজেক্ট বাস্তবায়ন করার আগে জাতীয় গৃহায়ন কর্তৃপক্ষের অনুমতি নেওয়া লাগে। অনেকে সে অনুমতি নেয়নি। আবার নবায়ন করা লাগে। যারা এ ধরনের অনিয়ম করেছে, শর্তের লঙ্ঘন করেছে, সে প্রতিষ্ঠানগুলোর নিবন্ধন বাতিল করা হয়েছে। সব একই অভিযোগে নয়, বিভিন্ন অপরাধে তাদের নিবন্ধন বাতিল করা হয়েছে। তবে তারা যদি পুনরায় শর্ত পূরণে করে আবেদন করে তাহলে নিবন্ধন ফিরে পেতে পারে।’
সূত্র জানায়, বেসরকারি আবাসন খাতে শৃঙ্খলা ফেরাতে ডেভেলপার কোম্পানিগুলোকে নিয়মের মধ্যে আনার জন্য কাজ করছে অন্তর্বর্তী সরকার। নিয়ম না মানা প্রতিষ্ঠানগুলোর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে শুরু করেছে জাতীয় গৃহায়ন কর্তৃপক্ষ। বাতিল হওয়া ৩৬টি কোম্পানি বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের সময় নিবন্ধন পেয়েছিল। নিবন্ধনের শর্ত লঙ্ঘন করায় এসব কোম্পানির নিবন্ধন বাতিল করে সংস্থাটি। নিবন্ধন বাতিলের আগে কোম্পানিগুলোকে কয়েক দফা নোটিস দিয়েছিল সংস্থাটি। প্রতিটি কোম্পানিকে পৃথক পৃথক নোটিস দেওয়া হয়েছে বলে জানা গেছে।
নোটিসে বলা হয়, রিয়েল এস্টেট উন্নয়ন ও ব্যবস্থাপনা আইন, ২০১০ এর ধারা ৪ উপধারা (২)(ঘ) অনুসারে রাজউকসহ অন্যান্য উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ, সব সিটি করপোরেশন, সব পৌরসভা এবং ক্যান্টনমেন্ট বোর্ডের অধিক্ষেত্রভুক্ত এলাকা ব্যতীত বাংলাদেশের সমগ্র এলাকার জন্য জাতীয় গৃহায়ন কর্তৃপক্ষকে সরকার কর্তৃক ‘কর্তৃপক্ষ’ হিসেবে ঘোষণা করা হয়েছে।
উক্ত আইনের ধারা-৫ মোতাবেক জাতীয় গৃহায়ন কর্তৃপক্ষের অধিক্ষেত্রাধীন এলাকায় রিয়েল এস্টেট ব্যবসা পরিচালনার জন্য প্রত্যেক রিয়েল এস্টেট ডেভেলপারকে জাতীয় গৃহায়ন কর্তৃপক্ষ হতে নিবন্ধন গ্রহণ এবং প্রকল্প অনুমোদন বাধ্যতামূলক। নথি দৃষ্টি দেখা যায়, আপনার প্রতিষ্ঠান জাতীয় গৃহায়ন কর্তৃপক্ষ হতে রিয়েল এস্টেট ডেভেলপার হিসেবে নিবন্ধন গ্রহণ করেছে এবং তা উত্তীর্ণ হয়েছে। পরবর্তীতে উক্ত নিবন্ধন নবায়ন করা হয়নি। অথচ, নিবন্ধন সনদের শর্ত ও রিয়েল এস্টেট উন্নয়ন ও ব্যবস্থাপনা বিধিমালা, ২০১১ এর বিধি-৪ অনুযায়ী মেয়াদ পূর্তির ৬০ দিন পূর্বে নবায়নের আবেদনের বিধান রয়েছে।
এমতাবস্থায় রিয়েল এস্টেট উন্নয়ন ও ব্যবস্থাপনা বিধিমালা, ২০১১ এর বিধি ৫ অনুযায়ী বিধি-৪ ও নিবন্ধন সনদে উল্লিখিত শর্ত লঙ্ঘন করায় কেন আপনার প্রতিষ্ঠানের অনুকূলে ইস্যুকৃত নিবন্ধন সনদ বা নিবন্ধন নবায়ন সনদ বাতিল করা হবে না এর সন্তোষজনক জবাব আগামী ১৫ দিনের মধ্যে চেয়ারম্যান, জাতীয় গৃহায়ন কর্তৃপক্ষ বরাবরে দাখিলের জন্য নির্দেশক্রমে অনুরোধ করা হলো। ব্যর্থতায় জবাব সন্তোষজনক না হলে আইন বা বিধিমালার সংশ্লিষ্ট ধারা অনুযায়ী নিবন্ধন বা নিবন্ধন নবায়ন সনদ বাতিলসহ প্রযোজ্য পদক্ষেণ গ্রহণ করা হবে।
নিবন্ধন বাতিলের চিঠিতে বলা হয়েছে, ‘রিয়েল এস্টেট উন্নয়ন ও ব্যবস্থাপনা আইন, ২০১০’-এর ধারা ৪ উপধারা (২)(ঘ) এবং ‘রিয়েল এস্টেট উন্নয়ন ও ব্যবস্থাপনা বিধিমালা, ২০১১’-এর বিধি ৫ অনুযায়ী, নিম্নবর্ণিত ৩৬টি প্রতিষ্ঠানের নিবন্ধনের মেয়াদ পাঁচ বছর অতিক্রম করেছে। তাদেরকে ডাকা হলেও তারা শুনানিতে অংশ নেয়নি কিংবা সন্তোষজনক লিখিত জবাব দেয়নি। এজন্য ২৪২তম বোর্ড সভার ২১ নম্বর সিদ্ধান্ত ও ২৬৬তম বোর্ড সভার ২৭ নম্বর সিদ্ধান্ত অনুসারে এই কোম্পানিগুলোর নিবন্ধন বাতিল করা হয়।