× ই-পেপার প্রচ্ছদ সর্বশেষ বাংলাদেশ রাজনীতি দেশজুড়ে বিশ্বজুড়ে বাণিজ্য খেলা বিনোদন মতামত চাকরি শিক্ষা আজকের কার্টুন ফিচার সকল বিভাগ ছবি ভিডিও লেখক আর্কাইভ কনভার্টার

ব্যাংকঋণে ভরসা খুঁজছে সরকার

আহমেদ ফেরদাউস খান

প্রকাশ : ২৫ মার্চ ২০২৫ ১২:৫৮ পিএম

আপডেট : ২৫ মার্চ ২০২৫ ১৩:০৭ পিএম

ছবি : সংগৃহীত

ছবি : সংগৃহীত

রাজস্ব আদায় ও বিদেশি বিনিয়োগ কমে যাওয়ায় ব্যাংকঋণেই ভরসা খুঁজছে সরকার। বিশ্লেষকরা বলছেন, অর্থবছরের শেষ সময়ে স্বাভাবিকভাবে সরকারের ঋণ বেড়ে যায়। তবে এখন পর্যন্ত যে ঋণ নিয়েছে, তা লক্ষ্যমাত্রার তুলনায় অনেক কম। সাবেক আওয়ামী লীগ সরকারের দেওয়া বাজেটে চলতি অর্থবছর ব্যাংক থেকে ১ লাখ ৩৭ হাজার ৫০০ কোটি টাকা ঋণের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়। তবে অন্তর্বর্তী সরকার লক্ষ্যমাত্রা কমিয়ে ৯৯ হাজার কোটি টাকা করেছে। তা ছাড়া দীর্ঘদিন ধরেই দেশে বিদেশি বিনিয়োগে মন্দাভাব চলছে। ব্যবসায় পরিবেশবান্ধব পরিস্থিতিরও কোনো উন্নতি নেই।

চলতি ২০২৪-২৫ অর্থবছরের শুরু থেকে গত ১০ মার্চ পর্যন্ত সরকার নিট ৩৮ হাজার ৫১০ কোটি টাকার ঋণ নিয়েছে, গত জানুয়ারি পর্যন্ত সরকারের ব্যাংকঋণ ছিল ১৩ হাজার ৫৭১ কোটি টাকা। অর্থাৎ প্রথম ৭ মাসে সরকার যে পরিমাণ ঋণ নিয়েছিল, শেষ এক মাস ১০ দিনে নিয়েছে তার প্রায় দ্বিগুণ।

ব্যাংক খাত থেকে ঋণ বাড়ার কারণের মধ্যে রাজস্ব আদায় কম হওয়া, সঞ্চয়পত্র থেকে প্রত্যাশিত ঋণ না পাওয়া এবং বিদেশি উৎস থেকে ঋণছাড় কমে যাওয়া উল্লেখযোগ্য।

তথ্য বলছে, চলতি ২০২৪-২৫ অর্থবছরের প্রথম ৬ মাসে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) রাজস্ব আদায় গত অর্থবছরের একই সময়ের চেয়ে এক হাজার ৫৪৩ কোটি টাকা কমে এক লাখ ৫৬ হাজার ৪৪৬ কোটি টাকায় নেমেছে। সঞ্চয়পত্র থেকে নিট ঋণ ঋণাত্মক। গত ডিসেম্বর পর্যন্ত ৬ মাসে যে ঋণ নেওয়া হয়েছে, তার চেয়ে এ খাতে আগের দায় শোধ হয়েছে ২ হাজার ২৪৪ কোটি টাকা বেশি। এ ছাড়া বিদেশি উৎস থেকে ঋণ ছাড় ও প্রতিশ্রুতি কমেছে। সব মিলিয়ে শেষদিকে এসে ব্যাংকঋণের নির্ভরতা কিছুটা বাড়ছে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের বিদেশি বিনিয়োগের হালনাগাদ তথ্যে দেখা যায়, চলতি ২০২৪-২৫ অর্থবছরের প্রথম সাত মাসে অর্থাৎ জুলাই-জানুয়ারি সময়ে ২৫ কোটি ২০ লাখ ডলারের নিট এফডিআই এসেছে।

ছয় মাসে অর্থাৎ জুলাই-ডিসেম্বর সময়ে এসেছিল ২১ কোটি ৬০ লাখ ডলার। এ হিসাবে দেখা যাচ্ছে, নতুন বছরের প্রথম মাস জানুয়ারিতে মাত্র ৩ কোটি ৬০ লাখ ডলারের নিট এফডিআই এসেছে বাংলাদেশে।

যা গত ২০২৩-২৪ অর্থবছরের জুলাই-জানুয়ারি সময়ে ৯০ কোটি ডলারের এফডিআই এসেছিল। ছয় মাসে অর্থাৎ জুলাই-ডিসেম্বর সময়ে এসেছিল ৭৪ কোটি ৪০ লাখ ডলার।

আর পুরো অর্থবছরে এসেছিল ১৪৭ কোটি (১.৪৭ বিলিয়ন) ডলার, যা ছিল আগের অর্থবছরের চেয়ে ৮ দশমিক ৮০ শতাংশ কম।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে সাবেক তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অর্থ উপদেষ্টা ও অর্থনীতিবিদ এ বি মির্জ্জা আজিজুল ইসলাম প্রতিদিনের বাংলাদেশকে বলেন, ‘বিনিয়োগের পরিবেশ থাকলে দেশি বিনিয়োগকারীরা বিনিয়োগ করেন। সেই পথ অনুসরণ করে বিদেশি বিনিয়োগকারীরাও বিনিয়োগ করেন। দেশি বিনিয়োগ না হলে বিদেশিরাও ওই দেশে বিনিয়োগ করতে আসেন না।’

তিনি বলেন, ‘অনিশ্চয়তা-অস্থিরতায় দেশের ব্যবসায়ী-উদ্যোক্তারা এখন নতুন বিনিয়োগ না করে বসে আছেন। অপেক্ষা করছেন, পরিবেশের উন্নতি হলে বিনিয়োগ করবেন। বিদেশি বিনিয়োগকারীরাও সেই একই পথ অনুসরণ করছেন। তাই এফডিআইয়ের এই করুণ দশা হয়েছে বাংলাদেশে।’

বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্যানুযায়ী, চলতি ২০২৪-২৫ অর্থবছরের গত ১০ মার্চ পর্যন্ত বাণিজ্যিক ব্যাংক থেকে সরকার ৮৫ হাজার ৬৬৩ কোটি টাকা ঋণ নিয়েছে। এ সময়ে বাংলাদেশ ব্যাংক থেকে আগে নেওয়া ঋণের ৪৭ হাজার ১৫৩ কোটি টাকা পরিশোধ করেছে। বাণিজ্যিক ব্যাংকের মাধ্যমে ঋণ নিয়ে কেন্দ্রীয় ব্যাংকে পরিশোধ করায় মুদ্রাবাজার সংকোচন হয়। অবশ্য এ সময়ে দুর্বল ব্যাংকগুলোকে টাকা ছাপিয়ে ২৯ হাজার ৪১০ কোটি টাকা দিয়েছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক। বাজারে মুদ্রা সরবরাহ বাড়াতে যা কিছুটা হলেও সহায়ক ভূমিকা রেখেছে।

বেসরকারি গবেষণা সংস্থা ইনস্টিটিউট ফর ইনক্লুসিভ ফাইন্যান্স অ্যান্ড ডেভেলপমেন্টের নির্বাহী পরিচালক ও বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক প্রধান অর্থনীতিবিদ ড. মোস্তফা কে মুজেরী প্রতিদিনের বাংলাদেশকে বলেন, ‘রাজস্ব আদায় বা বিদেশি বিনিয়োগÑ কোনোটাই এখন ভালো করছে না। তাই সরকার বাধ্য হয়েই ব্যাংক থেকে ঋণ নিচ্ছে। সরকারের যে এই ঘাটতি, সেটা পূরণের অন্য একটি উপায় হলো বাংলাদেশ ব্যাংকের মাধ্যমে টাকা ছাপানো। কিন্তু টাকা ছাপালে অধিক হারে মূল্যস্ফীতি বাড়িয়ে দেয়। বেসরকারি খাতের ঋণ কমিয়ে সরকারি খাতে দিলে মূল্যস্ফীতির ওপর প্রভাবটা কমবে।’

তিনি বলেন, ‘এসব সমস্যা সমাধানে সরকারের রাজস্ব আহরণ বাড়ানো প্রয়োজন। কিন্তু বাড়াবেন কীভাবে? ভ্যাট-ট্যাক্স বাড়ালে সাধারণ মানুষের জীবনের ওপর প্রভাব পড়বে। তাই নতুন কোনো কৌশল বের করতে পারলে ভালো হয়, যার মাধ্যমে রাজস্ব আহরণ বাড়বে কিন্তু সাধারণ মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত হবে না।’

করের আওতা বাড়ানোর তাগিদ দিয়ে তিনি বলেন, ‘কর দিতে যারা ফাঁকিবাজির পথ অবলম্বন করে তাদের করের আওতায় আনতে পারলে সবচেয়ে বেশি লাভ হবে। বিশাল একটা অংশ করের আওতার বাইরে। তাদেরকে করের আওতায় নিয়ে এলে রাজস্ব অনেক বেড়ে যাবে। সরকারের উচিত তাদের করের আওতায় নিয়ে আসা এবং রাজস্ব আদায় বাড়ানো।’

শেয়ার করুন-

মন্তব্য করুন

Protidiner Bangladesh

সম্পাদক : মারুফ কামাল খান

প্রকাশক : কাউসার আহমেদ অপু

রংধনু কর্পোরেট, ক- ২৭১ (১০ম তলা) ব্লক-সি, প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড) ঢাকা -১২২৯

যোগাযোগ

প্রধান কার্যালয়: +৮৮০৯৬১১৬৭৭৬৯৬ । ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন (প্রিন্ট): +৮৮০৯৬১১৬৭৭৮১০, +৮৮০১৮৮০৭৪৪৫৮০ | ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন (অনলাইন): +৮৮০১৮৮০৭৪৪৫৮০, +৮৮০১৭৯৯৪৪৯৫৫৯ । ই-মেইল: [email protected]

সার্কুলেশন: +৮৮০৯৬১১৬৭৭৮০৭, +৮৮০১৮৮০৭৪৪৩৩২ । ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন মূল্য তালিকা