× ই-পেপার প্রচ্ছদ সর্বশেষ বাংলাদেশ রাজনীতি দেশজুড়ে বিশ্বজুড়ে বাণিজ্য খেলা বিনোদন মতামত চাকরি শিক্ষা আজকের কার্টুন ফিচার সকল বিভাগ ছবি ভিডিও লেখক আর্কাইভ কনভার্টার

ইভ্যালিতে আটকে থাকা টাকা ও গ্রাহক তালিকা চায় বাণিজ্য মন্ত্রণালয়

প্রবা প্রতিবেদন

প্রকাশ : ০৫ ডিসেম্বর ২০২২ ১৯:১৬ পিএম

আপডেট : ০৫ ডিসেম্বর ২০২২ ১৯:৫৬ পিএম

ছবি : সংগৃহীত

ছবি : সংগৃহীত

দেশের কিছু ই-কমার্স প্রতিষ্ঠানের প্রতারণায় ক্ষতিগ্রস্ত গ্রাহকদের অর্থ ফেরত দেওয়ার উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। ইতোমধ্যে কিউকম, আলিশা মার্টসহ ১৩টি প্রতিষ্ঠানের গ্রাহকদের প্রায় ১৯৩ কোটি টাকা ফেরত দেওয়া হয়েছে। তবে আইনি বাধায় ই-কমার্সের জায়ান্ট কোম্পানি ইভ্যালি থেকে ক্ষতিগ্রস্ত গ্রাহকদের অর্থ ফেরাতে এতদিন কোনো উদ্যোগ নেওয়া যাচ্ছিল না। অবশেষে সে বাধা কেটেছে। তাই ইভ্যালির পেমেন্ট গেটওয়েতে আটকে থাকা টাকা ফেরতের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এরই অংশ হিসেবে পেমেন্ট গেটওয়েতে ই-ভ্যালির আটকে থাকা টাকার পরিমাণ এবং গ্রাহক তালিকার তথ্য আগামী ১১ ডিসেম্বরের মধ্যে দাখিল করতে চিঠি দিয়েছে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের ই-কমার্স সেল।

সম্প্রতি বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের উপসচিব মুহাম্মদ সাঈদ আলী স্বাক্ষরিত এ সংক্রান্ত একটি চিঠি ইভ্যালি চেয়ারম্যান শামীমা নাসরিনকে পাঠানো হয়েছে। চিঠিতে বলা হয়েছে, ইভ্যালির পেমেন্ট গেটওয়েতে আটকে থাকা টাকার পরিমাণ এবং গ্রাহক তালিকার তথ্য আগামী ১১ ডিসেম্বরের মধ্যে মন্ত্রণালয়ে পাঠানোর জন্য অনুরোধ করা হলো।

বাণিজ্য মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, সম্প্রতি ইভ্যালির নতুন চেয়ারম্যান শামীমা নাসরিন আমাদের সঙ্গে দেখা করে মন্ত্রণালয়ের সহযোগিতা কামনা করেছেন। সে সময় ইভ্যালি নিয়ে তার ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা জানতে চাওয়া হয়। বিষয়টি মন্ত্রণালয়কে বিস্তারিত লিখিতভাবে উপস্থাপনের জন্য ইভ্যালির চেয়ারম্যানকে বলা হয়েছে।

এ ছাড়া ই-কমার্স খাতের বিভিন্ন কোম্পানির পাওনাদারদের অর্থ ফেরতে গতি বাড়াতে এখন চারটি লক্ষ্য সামনে নিয়ে এগোচ্ছে সরকার। এগুলো হলোক্ষতিগ্রস্তদের অর্থ ফেরত দেওয়ার জন্য শিগগির বাণিজ্য মন্ত্রণালয় থেকে ই-কমার্স প্রতিষ্ঠান আলাদিনের প্রদীপ ও ‘সিরাজগঞ্জ শপের গ্রাহক তালিকা এবং ব্যাংক হিসাবের স্টেটমেন্ট চাওয়া হবে। এ ছাড়া ধামাকা শপিংয়ের ঋণ সম্পর্কিত ও গ্রাহকের কাছে দেনার বিস্তারিত তথ্য চাওয়া হবে। দালাল প্লাস, আলাদিনের প্রদীপ, ধামাকা শপিং ও সিরাজগঞ্জ শপের সঙ্গে পৃথক বৈঠক করবে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়। পাশাপাশি ডিজিটাল কমার্স খাতে গ্রাহক সচেতনতা বাড়াতে গণমাধ্যমে প্রচার বাড়ানোর উদ্যোগ নেওয়া হবে।

বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের ডব্লিউটিও সেলের মহাপরিচালক ও কেন্দ্রীয় ই-কমার্স সেলের প্রধান মো. হাফিজুর রহমানের সভাপতিত্বে ই-কমার্স প্রতিষ্ঠানের অনৈতিক ব্যবসার কারণে যেসব ভোক্তা প্রতারিত হয়েছেন, তাদের অধিকার সুরক্ষায় গঠিত কমিটির সম্প্রতি অনুষ্ঠিত সভায় গ্রাহকদের অর্থ ফেরতে গতি আনতে এ চার সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়। 

সভায় বাণিজ্য মন্ত্রণালয়, মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ, তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি বিভাগ, আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগ, বাংলাদেশ ব্যাংক, পুলিশের প্রধান কার্যালয়, প্রতিরক্ষা গোয়েন্দা পরিদপ্তর (ডিজিএফআই), জাতীয় নিরাপত্তা গোয়েন্দা সংস্থা (এনএসআই), পুলিশের বিশেষ শাখা (এসবি), বাংলাদেশ ফিন্যান্সিয়াল ইন্টেলিজেন্স ইউনিট (বিএফআইইউ), জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর), জাতীয় টেলিযোগাযোগ পর্যবেক্ষণকেন্দ্র (এনটিএমসি), পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি), কনজ্যুমারস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (ক্যাব) প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।

বাণিজ্য মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, ২০২১ সালের ৩০ জুনের আগে যেসব গ্রাহক পণ্য কেনার জন্য সরাসরি ই-কমার্স প্রতিষ্ঠানে অর্থ দিয়ে প্রতারিত হয়েছেন, সরকার তাদের দায়িত্ব নিচ্ছে না। ৩০ জুনের পর ই-কমার্স প্রতিষ্ঠান থেকে পণ্য কেনার জন্য চালু হয় লেনদেন পরিশোধকারী প্রতিষ্ঠান (পেমেন্ট গেটওয়ে)। অর্থ পরিশোধ করলেও পণ্য না পাওয়ায় বিভিন্ন ই-কমার্স প্রতিষ্ঠানের কাছে পেমেন্ট গেটওয়েতে আটকে থাকা গ্রাহকদের পাওনা ছিল ৫২৫ কোটি টাকা। পেমেন্ট গেটওয়েগুলো হচ্ছে, ‘বিকাশ’, ‘নগদ’, ‘সফটওয়্যার শপ লিমিটেড (এসএসএল)’, ‘সূর্যমুখী লিমিটেড’ ও ‘ফস্টার করপোরেশন’। শুধু পেমেন্ট গেটওয়েতে আটকে থাকা টাকা গ্রাহকদের ফেরত দেওয়া যাবে কি না, সে ব্যাপারে আইন মন্ত্রণালয় থেকে পরীক্ষা-নিরীক্ষা (ভেটিং) করায় বাণিজ্য মন্ত্রণালয়। আবার বাংলাদেশ ব্যাংকেরও অনাপত্তি নেই। দুই জায়গা থেকে সম্মতি পাওয়ার পরই টাকা ফেরত দেওয়ার উদ্যোগটি নেয় বাণিজ্য মন্ত্রণালয়।

কেন্দ্রীয় ই-কমার্স সেলের সর্বশেষ তথ্যানুযায়ী, ২১ হাজার ২৮৩ জন ক্ষতিগ্রস্ত গ্রাহককে ১৯৩ কোটি ৬৬ লাখ টাকা ফেরত দিয়েছে ১৩টি ই-কমার্স প্রতিষ্ঠান। সবচেয়ে বেশি অর্থ ফেরত দিয়েছে কিউকম। প্রতিষ্ঠানটি ১৭ হাজার ১৭৫ জন গ্রাহককে ১৩৯ কোটি টাকা ফেরত দিয়েছে। অর্থ ফেরতে দ্বিতীয় স্থানে রয়েছে আলিশা মার্ট। এ প্রতিষ্ঠানটি ২ হাজার ২১৮ জন গ্রাহককে ৩৯ কোটি ১৮ লাখ টাকা ফেরত দিয়েছে। এরপরই রয়েছে দালাল প্লাস। প্রতিষ্ঠানটি ৯২২ জন গ্রাহককে ১২ কোটি ২৩ লাখ টাকা ফেরত দিয়েছে। বাকি ১০টি প্রতিষ্ঠান যে টাকা দিয়েছে, তা কোটির কম। এগুলো হলোবুমবুম প্লাস, আনন্দের বাজার, থলে ডটকম, ধামাকা, শ্রেষ্ঠ ডটকম, আলিফ ওয়ার্ল্ড, বাংলাদেশ ডিল, সোফেটিক, ৯৯-গ্লোবাল ও আদিয়ান মার্ট।

শেয়ার করুন-

মন্তব্য করুন

Protidiner Bangladesh

সম্পাদক : মারুফ কামাল খান

প্রকাশক : কাউসার আহমেদ অপু

রংধনু কর্পোরেট, ক- ২৭১ (১০ম তলা) ব্লক-সি, প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড) ঢাকা -১২২৯

যোগাযোগ

প্রধান কার্যালয়: +৮৮০৯৬১১৬৭৭৬৯৬ । ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন (প্রিন্ট): +৮৮০৯৬১১৬৭৭৮১০, +৮৮০১৮৮০৭৪৪৫৮০ | ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন (অনলাইন): +৮৮০১৮৮০৭৪৪৫৮০, +৮৮০১৭৯৯৪৪৯৫৫৯ । ই-মেইল: [email protected]

সার্কুলেশন: +৮৮০৯৬১১৬৭৭৮০৭, +৮৮০১৮৮০৭৪৪৩৩২ । ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন মূল্য তালিকা