প্রবা প্রতিবেদক
প্রকাশ : ২৩ মার্চ ২০২৫ ১৯:২৬ পিএম
আপডেট : ২৩ মার্চ ২০২৫ ১৯:৪৭ পিএম
পায়রা সমুদ্রবন্দরের প্রথম টার্মিনাল প্রকল্পকে অর্থনীতির বিষফোঁড়া হিসেবে আখ্যায়িত করেছেন পরিকল্পনা উপদেষ্টা ড. ওয়াহিদউদ্দিন মাহমুদ। তিনি বলেন, ভুল প্রকল্প হলেও অনেক কাজ হয়েছে, অনেক টাকা খরচ হয়েছে। তাই বাধ্য হয়েই শেষ করতে হবে।
রবিবার (২৩ মার্চ) রাজধানীর আগারগাঁওয়ের জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির (একনেক) সভা শেষে ব্রিফিংয়ে এসব কথা বলেন তিনি। এর আগে প্রধান উপদেষ্টা ড. মোহাম্মদ ইউনূসের সভাপতিত্বে এনইসি সম্মেলন কক্ষে এ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়।
পরিকল্পনা উপদেষ্টা বলেন, পায়রা সমুদ্রবন্দর বলা হলেও মূলত একটি বিদ্যুৎকেন্দ্রের জন্য কয়লা আনতে এই বন্দর করা হচ্ছে। এটাকে সমুদ্রবন্দর তো দূরের কথা, নদীবন্দরও বলা যায় না। বাণিজ্য উপদেষ্টা তো বলেছিলেন নদীর নাব্য হিসেবে এটাকে ঘাট বলা যায়। এ প্রকল্পের জন্য প্রতি বছর ড্রেজিং করতে হবে। এতে প্রচুর অর্থ খরচ হবে। এটি বাদ দিয়ে প্লেনে কয়লা আনা যায়। যা হোক, ভুল প্রকল্প হলেও অনেক কাজ হয়েছে, অনেক টাকা খরচ হয়েছে। তাই বাধ্য হয়েই শেষ করতে হবে।
বিশ্বজুড়ে লকডাউন এবং সরবরাহ চেইনের ব্যাঘাতের কারণে যখন বড় বড় প্রকল্প বাস্তবায়নে সংকট চলছিল, তখন ২০২০ সালে নৌপরিবহন মন্ত্রণালয় পায়রা বন্দরের টার্মিনাল নির্মাণে চীনের প্রতিষ্ঠানগুলোর সঙ্গে চুক্তি সম্পন্ন করে। ওই সময় কাজ করতে না পারার কারণে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানগুলো নির্মাণ কাজ বিলম্বের ক্ষতিপূরণ বাবদ ৮৫৭ কোটি টাকা দাবি করে। এছাড়া মহামারি-পরবর্তী সময়ের জটিলতা, নির্মাণ বিলম্ব এবং টাকার অবমূল্যায়নের কারণে প্রকল্পের ব্যয় ১ হাজার ৪৪৬ কোটি টাকা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৫ হাজার ৪২৮ কোটি টাকা।
পরিকল্পনা উপদেষ্টা বলেন, দুদিন আগে সরকারি ক্রয় আইনের সংশোধনী প্রস্তাব অনুমোদন দিয়েছে উপদেষ্টা পরিষদ। ফলে দরপত্রে ১০ শতাংশ দরপ্রস্তাবের সীমা বাদ যাচ্ছে। ফলে একক ঠিকাদার চক্রের কাজ পাওয়া বন্ধ হবে। সেই সঙ্গে আইএমইডিকে শক্তিশালী করা হবে। প্রকল্প অনলাইনে থাকবে এবং শতভাগ দরপত্র ইজিপিতে যুক্ত করতে হবে।
ওয়াহিদউদ্দিন মাহমুদ জানান, একনেকে ১৫ প্রকল্প অনুমোদন দেয়া হয়। এর মধ্যে ৮টি সংশোধিত আর ৭টি নতুন। সংশোধিত ও নতুন প্রকল্পগুলোর জন্য মোট ব্যয় ২১ হাজার কোটি টাকা। এর মধ্যে সরকারি অর্থায়ন ১৪ হাজার ১৯৩ কোটি ৫৭ লাখ টাকা, প্রকল্প ঋণ ৬ হাজার ৫৩৯ কোটি ২৯ লাখ টাকা ও সংস্থার নিজস্ব অর্থায়ন ৪০৬ কোটি ৫৯ লাখ টাকা।
সভায় অনুমোদিত প্রকল্পগুলোর মধ্যে রয়েছে- পায়রা সমুদ্র বন্দরের প্রথম টার্মিনাল এবং আনুষঙ্গিক সুবিধাদি নির্মাণ (২য় সংশোধিত) প্রকল্প; চট্টগ্রাম শাহ আমানত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে বিদ্যমান রানওয়ে ও টেক্সিওয়ের শক্তি বৃদ্ধিকরণ (১ম সংশোধিত) প্রকল্প; চট্টগ্রাম মহানগরীর কালুরঘাট এলাকায় পয়ঃশোধনাগার নির্মাণের জন্য ভূমি অধিগ্রহণ প্রকল্প; ঢাকায় জলবায়ু পরিবর্তনজনিত কারণে পানি সম্পদ ব্যবস্থাপনায় প্রাতিষ্ঠানিক সক্ষমতা বৃদ্ধিকরণ প্রকল্প; সায়েদাবাদ পানি শোধনাগার প্রকল্প ফেজ-৩ (২য় সংশোধিত) প্রকল্প; চায়না ফ্রেন্ডশিপ এক্সিবিশন সেন্টার নির্মাণ (২য় সংশোধিত) প্রকল্প; ডিজিটাল কানেকটিভিটি শক্তিশালীকরণে সুইচিং ও ট্রান্সমিশন নেটওয়ার্ক উন্নয়ন (৩য় সংশোধিত) প্রকল্প; পঞ্চবটি থেকে মুক্তারপুর সেতু পর্যন্ত সড়ক প্রশস্তকরণ ও দোতলা রাস্তা নির্মাণ প্রকল্প (১ম সংশোধন) প্রকল্প; রাঙামাটি মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতাল এবং নার্সিং কলেজ স্থাপন প্রকল্প; ঢাকা শহর সন্নিকটবর্তী এলাকায় ১০টি সরকারি মাধ্যমিক বিদ্যালয় স্থাপন প্রকল্প (২য় সংশোধিত) প্রকল্প; সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ফিডিং কর্মসূচি প্রকল্প; সারাদেশে অবস্থিত ক্ষতিগ্রস্ত খাদ্য গুদাম এবং অন্যান্য আনুষঙ্গিক অবকাঠামোর মেরামত ও সংস্কার প্রকল্প; জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে স্থাপিত রেকর্ড রুমসমূহ সংস্কার ও মেরামত প্রকল্প; দুধ ও মাংস উৎপাদন বৃদ্ধির লক্ষ্যে প্রভেন বুল তৈরি প্রকল্প এবং বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়েশ রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্রের ভৌত সুরক্ষা ব্যবস্থা নির্মাণ (২য় সংশোধিত) প্রকল্প।
এছাড়া কুষ্টিয়া জেলায় নতুন সার্কিট হাউজ নির্মাণ (১ম সংশোধিত) ৪র্থ বার বৃদ্ধি, চট্টগ্রাম সিটি আউটার রিং রোড (পতেঙ্গা হতে সাগরিকা) (৪র্থ সংশোধিত) ৪র্থ বার বৃদ্ধি এবং বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় (বিএসএমএমইউ)-এর অধীনে সুপার স্পেশিয়ালাইজড হাসপাতাল স্থাপন (২য় সংশোধিত) চতুর্থ বার মেয়াদ বৃদ্ধির প্রস্তাব সভায় পাস করা হয়।