প্রবা ডেস্ক
প্রকাশ : ০৫ ডিসেম্বর ২০২২ ১৭:৩৬ পিএম
আপডেট : ০৫ ডিসেম্বর ২০২২ ১৭:৫৪ পিএম
ছবি : সংগৃহীত
কার্যকর হলো উন্নত সাতটি দেশ ও ইউরোপীয় ইউনিয়নের সংগঠন জি-৭ এর বেঁধে দেওয়া রাশিয়ান জ্বালানি তেলের নতুন দাম। এখন জি-৭ এর সিদ্ধান্ত অনুযায়ী রাশিয়ান ক্রুড ব্যারেলপ্রতি বিক্রি করতে হবে ৬০ ডলারে। নতুন এ দাম আন্তর্জাতিক এনার্জি এজেন্সির নির্ধারণ করে দেওয়া দামের চেয়ে ৫ শতাংশ কম। তবে নির্ধারিত মূল্যমানের চেয়ে কম অথবা বেশি দামে যদি কোনো দেশ রাশিয়ান ক্রুড কেনে, তাহলে জ্বালানি তেলবাহী জাহাজ ও সরবরাহ প্রক্রিয়া বীমার আওতায় থাকবে না। অর্থাৎ রাশিয়ান জ্বালানি তেল সরবরাহ করতে গিয়ে কোনো কার্গো জাহাজ যদি ক্ষতির সম্মুখীন হয়, তাহলে তারা জি-৭ ও ইউরোপীয় ইউনিয়নের বীমা প্রকল্প থেকে কোনো ক্ষতিপূরণ পাবে না। তবে সব নিয়ম মেনেও রাশিয়ান ক্রুড কিনতে পারবে না ইউরোপীয় ইউনিয়ন ও জি-৭ ভুক্ত দেশগুলো। এদিকে জি-৭ এর সিদ্ধান্ত রাশিয়ার জ্বালানি তেলের বাজারে প্রভাব ফেলবে না বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।
বার্তা সংস্থা রয়টার্সের এক প্রতিবেদনে বলা হয়, বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের দাম স্থিতিশীল করতে এমন সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছে জি-৭। তবে মস্কো বলছে, ইউক্রেনে অভিযানে রাশিয়া যেন যথেষ্ট অর্থায়ন করতে না পারে , সেজন্যই এমন সিদ্ধান্ত নিয়েছে পশ্চিমা দেশগুলোর এ জোট।
এদিকে আন্তর্জাতিক এনার্জি এজেন্সির দ্বারা নির্ধারিত রাশিয়ান ক্রুডের দাম গড় মূল্যের চেয়েও ৫ শতাংশ কম নির্ধারণ করা হয়েছে। এ দামের অনুপাত সবসময় রাখতে আগামী জানুয়ারির মাঝামাঝি থেকে শুরু করে প্রতি দুই মাস পর দাম পর্যালোচনা করবে জি-৭। রাশিয়ান জ্বালানি তেলের মূল্যসীমায় কোনো পরিবর্তন এলে তা ইউরোপীয় ইউনিয়নের ২৭টি দেশ ও জি-৭ দ্বারা সম্মত হতে হবে।
জি-৭ এর পক্ষ থেকে জানানো হয়, রাশিয়ান ক্রুডের জন্য আর্থিক এবং শিপিং পরিষেবা সরবরাহ করার অনুমতি দেওয়া হবে, যদি এটি নির্ধারিত মূল্যমান বা তার নিচে কেনা হয়। নির্দিষ্ট তৃতীয়পক্ষের দেশের জ্বালানি নিরাপত্তার জন্য প্রয়োজনীয় নির্দিষ্ট প্রকল্পগুলোকে মূল্যসীমা থেকে অব্যাহতি দেওয়া যেতে পারে। মূল্যসীমা ৫ ডিসেম্বর থেকে কার্যকর হয়েছে। কিন্তু এতে ৪৫ দিনের একটি ট্রানজিশন পিরিয়ড রয়েছে, যা ৫ ডিসেম্বরের আগে লোড করা জাহাজগুলোকে তাদের পণ্য বহন করতে এবং ১৯ জানুয়ারির মধ্যে কোনো পরিণতি ছাড়াই আনলোড করার অনুমতি দেয়। যদি কোনো তৃতীয়পক্ষের দেশ পতাকাবাহী জাহাজ ইচ্ছাকৃতভাবে মূল্যসীমার ওপরে রাশিয়ান ক্রুড বহন করে, তাহলে ইউরোপীয় ইউনিয়ন (ইইউ) কর্তৃপক্ষ কার্গো আনলোড করার পর ৯০ দিনের জন্য জাহাজের বীমা, অর্থায়ন এবং পরিষেবা প্রদান নিষিদ্ধ করবে। ইইউ পতাকাযুক্ত জাহাজগুলো যদি একই কাজ করে, তাহলে জাতীয় আইন অনুসারে তাদের জরিমানা করা হবে। ইতোমধ্যে ইউরোপীয় ইউনিয়নের নিষেধাজ্ঞা ভঙ্গকারী সংস্থাগুলোর জন্য বিশ্বব্যাপী টার্নওভারের ৫ শতাংশ জরিমানা নির্ধারণ করতে কাজ চলছে।
এদিকে জি-৭ এর সিদ্ধান্তে কী প্রতিক্রিয়া জানাবে তা বিশ্লেষণ করছে মস্কো। অনেক বিশ্লেষক এবং ওপেক মন্ত্রীরা বলছেন, দামের সীমা বিভ্রান্তিকর এবং সম্ভবত অকার্যকর। মস্কো তার বেশিরভাগ জ্বালানি তেল চীন ও ভারতের মতো দেশগুলোতে বিক্রি করে। যারা ইউক্রেনে রাশিয়ার আক্রমণকে নিন্দা করতে অস্বীকৃতি জানিয়েছে। ফলে জি-৭ এর বেঁধে দেওয়া মূল্যসীমায় রাশিয়ার জ্বালানি তেলের বাজারে খুব একটা প্রভাব পড়বে না।
এদিকে বৈশ্বিক জ্বালানি তেলের বাজার বুঝতে সময় নিচ্ছে জ্বালানি তেল উৎপাদন ও রপ্তানিকারক দেশ মধ্যপ্রাচ্য ও রাশিয়ার মিত্রদের সংগঠন ওপেক প্লাস। জোটটির পক্ষ থেকে বলা হয়, ওপেকপ্লাস প্রতিদিন ২০ লাখ ব্যারেল কম জ্বালানি তেল উৎপাদনের নীতি অপরিবর্তিত রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। জোটভুক্ত দেশের প্রধানমন্ত্রীরা আগামী ১ ফেব্রুয়ারি পর্যবেক্ষণ কমিটির বৈঠক করবেন। ৩-৪ জুন পূর্ণাঙ্গ বৈঠক হওয়ার কথা। জি-৭ কর্তৃক রাশিয়ান ক্রুড বিক্রির বিষয়য়ে যে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে, তা মূলত ভ্লাদিমির পুতিনকে রাজস্ব থেকে বঞ্চিত করার পদক্ষেপ।