× ই-পেপার প্রচ্ছদ সর্বশেষ বাংলাদেশ রাজনীতি দেশজুড়ে বিশ্বজুড়ে বাণিজ্য খেলা বিনোদন মতামত চাকরি শিক্ষা আজকের কার্টুন ফিচার সকল বিভাগ ছবি ভিডিও লেখক আর্কাইভ কনভার্টার

করপোরেট করহার কমানোর প্রস্তাব বিসিআইয়ের

প্রবা প্রতিবেদক

প্রকাশ : ২০ মার্চ ২০২৫ ২১:৩৩ পিএম

জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের প্রাক-বাজেট আলোচনায় বৃহস্পতিবার এনবিআর চেয়ারম্যান মো. আবদুর রহমান এবং বিসিআইয়ের সভাপতি আনোয়ার উল আলম চৌধুরীসহ ঢাকা ও ময়মনসিংহ বিভাগের চেম্বার নেতারা। ছবি: সংগৃহীত

জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের প্রাক-বাজেট আলোচনায় বৃহস্পতিবার এনবিআর চেয়ারম্যান মো. আবদুর রহমান এবং বিসিআইয়ের সভাপতি আনোয়ার উল আলম চৌধুরীসহ ঢাকা ও ময়মনসিংহ বিভাগের চেম্বার নেতারা। ছবি: সংগৃহীত

দেশি-বিদেশি বিনিয়োগ বাড়াতে ব্যবসাবান্ধব ও সহনশীল করপোরেট করহার নির্ধারণ জরুরি বলে মনে করে বাংলাদেশ চেম্বার অব ইন্ডাস্ট্রিজ (বিসিআই)। এজন্য ব্যক্তিশ্রেণির করদাতাদের জন্য বার্ষিক করমুক্ত আয়সীমা ৫ লাখ টাকার প্রস্তাব করেছে সংগঠনটি। পাশাপাশি প্রাইভেট কোম্পানির করপোরেট করহার কমিয়ে ২৫ শতাংশ এবং শেয়ারবাজারে তালিকাভুক্ত কোম্পানির ক্ষেত্রে ২০ শতাংশ করার প্রস্তাব দেওয়া হয়।

বৃহস্পতিবার (২০ মার্চ) জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) প্রাক্‌-বাজেট আলোচনায় বিসিআইয়ের পক্ষ থেকে এই সুপারিশ করা হয়। বিসিআইয়ের প্রতিনিধিদলের নেতৃত্ব দেন সংগঠনের সভাপতি আনোয়ার উল আলম চৌধুরী। রাজধানীর আগারগাঁওয়ের এনবিআর সম্মেলন কক্ষে ঢাকা ও ময়মনসিংহ বিভাগের সব চেম্বার নেতাদের সঙ্গে অনুষ্ঠিত এই বৈঠকে সভাপতিত্ব করেন এনবিআর চেয়ারম্যান আবদুর রহমান খান।

বিসিআই তাদের বাজেট প্রস্তাবে বলেছে, ভারতে বার্ষিক করমুক্ত আয়সীমা ১২ লাখ রুপি। মূল্যস্ফীতি ও জীবনযাত্রার ব্যয় বিবেচনায় ২০২৫-২৬ করবছরের জন্য বর্তমান ব্যক্তিশ্রেণির করদাতাদের করমুক্তসীমা ও বিদ্যমান আয়করের হার পুনর্নির্ধারণের প্রস্তাব করেছে সংগঠনটি।

বিসিআই মনে করে, এদেশে উচ্চ করহার নতুন বিনিয়োগে নিরুৎসাহিত করে। দেশি-বিদেশি বিনিয়োগ বাড়াতে ব্যবসাবান্ধব ও সহনশীল করপোরেট করহার নির্ধারণ জরুরি। বাংলাদেশের করপোরেট করহার আশপাশের দেশের তুলনায় অনেক বেশি। বিসিআই কোনো শর্ত ছাড়াই আড়াই শতাংশ হারে কমিয়ে প্রাইভেট লিমিটেড কোম্পানির জন্য ২৫ শতাংশ এবং পাবলিক লিমিটেড কোম্পানির জন্য ২০ শতাংশ করার প্রস্তাব করেছে বিসিআই। এতে স্থানীয় পর্যায়ে ব্যবসা উৎসাহিত হবে, দেশে বিনিয়োগ বাড়াতে সহায়ক ভূমিকা পালন করবে।

এনবিআরে জমা দেওয়া বাজেট প্রস্তাবে একাধিক প্রস্তাব করেছে বিসিআই। এর মধ্যে অন্যতম হলো বার্ষিক টার্নওভার ১৫ কোটি টাকার নিচেÑ এমন প্রতিষ্ঠানকে ৮ বছর মেয়াদ পর্যন্ত আয়কর অবকাশ এবং বিশেষ রেয়াতি ১ শতাংশ হারে টার্নওভার কর। ১ থেকে ৩ শতাংশ হারে পণ্যের কাঁচামাল, উপকরণ, মেশিনারিজ ও যন্ত্রপাতি আমদানির সুবিধা দেওয়া। যেসব খাতের বার্ষিক টার্নওভার ৫০ কোটি টাকার নিচে, তাদের পণ্য খাতে ৩ শতাংশ ও সেবা খাতে ৫ শতাংশ রেয়াতি হারে মূসক এবং ১ থেকে ৩ শতাংশ হারে পণ্যের কাঁচামাল, উপকরণ, মেশিনারিজ ও যন্ত্রপাতি আমদানির সুবিধা দেওয়া। যাদের বার্ষিক টার্নওভার ৩০০ কোটি টাকার নিচে, তাদের পণ্য খাতে ৪ শতাংশ ও সেবা খাতে ৫ শতাংশ রেয়াতি হারে মূসক এবং ১ থেকে ৩ শতাংশ হারে পণ্যের কাঁচামাল, উপকরণ, মেশিনারিজ ও যন্ত্রপাতি আমদানির সুবিধা দেওয়া। যাদের বার্ষিক টার্নওভার ৩০০ কোটি টাকার ওপরে তাদের ওপর সাধারণভাবে প্রযোজ্য মূসকের হার এবং ১ থেকে ৩ শতাংশ হারে পণ্যের কাঁচামাল, উপকরণ, মেশিনারিজ ও যন্ত্রপাতি আমদানির সুবিধা দেওয়া। এ ছাড়া অনুন্নত এলাকার শিল্প খাতকে ৮ কর মেয়াদ পর্যন্ত বিশেষ কর অবকাশ এবং শ্রেণিভেদে বিশেষ রেয়াতি ৩ শতাংশ হারে টার্নওভার কর এবং ১ থেকে ৩ শতাংশ হারে পণ্যের কাঁচামাল, উপকরণ, মেশিনারিজ ও যন্ত্রপাতি আমদানির সুবিধা দেওয়া।

এ ছাড়া স্থানীয় বাজার সুরক্ষিত রাখতে কাগজ আমদানিতে কর বাড়ানোর প্রস্তাব দিয়েছে পেপার মিলস অ্যাসোসিয়েশন। তবে পত্রিকা মালিকদের সঙ্গে যৌথ আলোচনা করে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন এনবিআর চেয়ারম্যান। তিনি বলেন, জাতীয় স্বার্থ বিবেচনা করা হবে।

এনবিআর চেয়ারম্যান ব্যবসায়ীদের স্মরণ করিয়ে দেন, ২০২৬ সালে নভেম্বর এলডিসি উত্তরণ করছে বাংলাদেশ। ব্যবসায়ীদের কাছে প্রকৃত আয়-ব্যয়ের হিসাব দাবি করেন এনবিআর চেয়ারম্যান।

তিনি বলেন, প্রতিষ্ঠানগুলোয় আর্থিক স্বচ্ছতা নিশ্চিত হলে, করহার কমালেও রাজস্ব আহরণে প্রভাব পড়বে না। আবদুর রহমান খান বলেন, ব্যবসায়ীরা তথ্য লুকানোর কারণে কর কর্মকর্তারাও কিছু বিষয় চাপিয়ে দেন। অংশীজনদের নিয়ে একসঙ্গে কাজের ক্ষেত্রে এনবিআরের দুর্বলতা আছে। ট্যাক্স নেট বাড়ানোর জন্য কর্মকর্তারা মাঠপর্যায়ে কাজ করছে। করের আওতা বাড়াতে জনগণকে উদ্বুদ্ধ করতে চেম্বার ও অ্যাসোসিয়েশনসহ সবাইকে এক হয়ে কাজ করতে হবে। কর রেয়াতের সংস্কৃতি থেকে বের হয়ে আসতে হবে।

পোশাক খাতের জন্য বিশেষ করহার থাকা উচিত নয় জানিয়ে আবদুর রহমান আরও বলেন, এ খাতের ব্যবসায়ীদের বিষয়টিতে ঐকমত্য হওয়া দরকার। তবে কাস্টমসসহ কিছু ক্ষেত্রে অযৌক্তিক কর রয়েছে, যা বৈষম্য তৈরি করছে। সবাইকে করের আওতায় আনতে পারলে এই বৈষম্য দূর হবে।

শেয়ার করুন-

মন্তব্য করুন

Protidiner Bangladesh

সম্পাদক : মারুফ কামাল খান

প্রকাশক : কাউসার আহমেদ অপু

রংধনু কর্পোরেট, ক- ২৭১ (১০ম তলা) ব্লক-সি, প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড) ঢাকা -১২২৯

যোগাযোগ

প্রধান কার্যালয়: +৮৮০৯৬১১৬৭৭৬৯৬ । ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন (প্রিন্ট): +৮৮০৯৬১১৬৭৭৮১০, +৮৮০১৮৮০৭৪৪৫৮০ | ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন (অনলাইন): +৮৮০১৮৮০৭৪৪৫৮০, +৮৮০১৭৯৯৪৪৯৫৫৯ । ই-মেইল: [email protected]

সার্কুলেশন: +৮৮০৯৬১১৬৭৭৮০৭, +৮৮০১৮৮০৭৪৪৩৩২ । ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন মূল্য তালিকা