× ই-পেপার প্রচ্ছদ সর্বশেষ বাংলাদেশ রাজনীতি দেশজুড়ে বিশ্বজুড়ে বাণিজ্য খেলা বিনোদন মতামত চাকরি শিক্ষা আজকের কার্টুন ফিচার সকল বিভাগ ছবি ভিডিও লেখক আর্কাইভ কনভার্টার

বেনাপোল স্থলবন্দর

কমেছে আমদানি-রপ্তানি, বেড়েছে রাজস্ব

বেনাপোল (যশোর) প্রতিবেদক

প্রকাশ : ১৫ মার্চ ২০২৫ ২১:২১ পিএম

আপডেট : ১৫ মার্চ ২০২৫ ২১:২১ পিএম

প্রবা ফটো

প্রবা ফটো

দেশের সবচেয়ে বড় স্থলবন্দর বেনাপোল দিয়ে পণ্য আমদানি ও রপ্তানি কমেছে। তবে লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে রাজস্ব আয় বৃদ্ধি পেয়েছে। রাজস্ব আদায়ের প্রবৃদ্ধি বেড়েছে ১৩ দশমিক ১৯ শতাংশ।

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, দেশের রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর দুদেশের সম্পর্কের টানাপোড়েনের প্রভাব পড়েছে দেশের বৃহত্তম স্থলবন্দর বেনাপোলে।

বন্দর সূত্রে জানা যায়, ২০২৪-২৫ অর্থ বছরের প্রথম ৮ মাসে (জুলাই থেকে ফেব্রুয়ারি) ভারত থেকে মোট ২৭ লাখ ৪০ হাজার ৯৯ টন পণ্য রপ্তানি হয়েছে। গত ২০২৩-২৪ অর্থবছরের একই সময়ে মোট ২৯ লাখ ৪৩ হাজার ৭১ টন পণ্য রপ্তানি হয়েছিল। হিসাব অনুযায়ী গত অর্থবছরের তুলনায় ২০ হাজার ২৭১ টন পণ্য কম রপ্তানি হয়েছে।

২০২৪-২৫ অর্থ বছরের প্রথম ৮ মাসে ভারত থেকে মোট ১১ লাখ ৩৩ হাজার ৭৪৬ দশমিক ২৯  টন পণ্য আমদানি হয়েছে। গত ২০২৩-২৪ অর্থবছরের প্রথম ৮ মাসে মোট ১১ লাখ ৫২ হাজার  ৭৬৭ দশমিক ২৯ টন পণ্য আমদানি হয়েছিল। হিসাব অনুযায়ী গত অর্থবছরের তুলনায় একই সময়ে ১৯ হাজার ২০ দশমিক ৮২ টন কম আমদানি হয়েছে।

কাস্টমস সূত্রে জানা যায়, পণ্য আমদানি কমলেও চলতি অর্থবছরের প্রথম ৮ মাসে লক্ষ্যমাত্রার চেয়েও ২০৮.৬১ কোটি টাকা বেশি রাজস্ব আদায় হয়েছে। বেনাপোল কাস্টম হাউসে চলতি (২০২৪-২৫) অর্থবছরে রাজস্ব আদায়ের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে ৬ হাজার ৭০৫ কোটি টাকা। সেই আলোকে অর্থবছরের প্রথম আট মাসে রাজস্ব আহরণের লক্ষ্যমাত্রা ছিল ৪ হাজার ৪৫৩.৩১ কোটি টাকা। সেখানে আদায় হয়েছে ৪ হাজার ৬৬১.৯২ কোটি টাকা। যার মধ্যে জুলাই মাসে ৪১৩.২২ কোটি টাকা, আগস্ট মাসে ৪০১.৫৫ কোটি টাকা সেপ্টেম্বর মাসে ৪৮৯.১১ কোটি টাকা, অক্টোবর মাসে ৫২৪.৬৩ কোটি টাকা, নভেম্বর মাসে ৬১৪.৭১, ডিসেম্বর মাসে ৭৭৮.৯৫ কোটি টাকা, জানুয়ারি মাসে ৬২১.৬৩ কোটি টাকা এবং ফেব্রুয়ারি মাসে ৮১৮.০৫ কোটি টাকা রাজস্ব আদায় হয়েছে।

বেনাপোল সিঅ্যান্ডএফ এজেন্ট ব্যবসায়ী আমিনুল হক আনু বলেন, ‘দেশে ফ্যাসিস্ট সরকারের পতনের পরে দু-দেশের রাজনৈতিক টানাপোড়েন থাকার কারণে ভারত থেকে আমদানি কিছুটা কমলেও যোগাযোগ ব্যবস্থা সহজ হওয়ায় বেশিরভাগ আমদানিকারকরা বেনাপোল বন্দর ব্যবহারে আগ্রহী। তবে বেনাপোল কাস্টমস কর্তৃপক্ষ রাজস্ব ফাঁকিরোধে কড়াকড়ি আরোপ করায় অসাধু ব্যাবসায়ীরা বিপাকে পড়েছে।’

বেনাপোল বন্দরের আমদানি-রপ্তানিকারক সমিতির সভাপতি আলহাজ মহসিন মিলন জানান, অন্তর্বর্তী সরকার দায়িত্ব গ্রহণের পর বাণিজ্য সম্প্রসারণে নানা উদ্যোগ নিয়েছে। গত দুই মাসে বেনাপোল বন্দরের শূন্য রেখায় চালু করা হয় বন্দর কার্গোভেহিকেল টার্মিনাল ও বন্দরে বসানো হয় স্ক্যানিং মেশিন। দ্রুত পণ্য খালাস ও বাণিজ্য সম্প্রসারণে জাতীয় রাজস্ব বোডের্র উদ্যোগে বেনাপোল কাস্টমস কর্তৃপক্ষ রাজস্ব ফাঁকিরোধে ও বাণিজ্য সহজীকরণে বিভিন্ন পদক্ষেপ গ্রহণ করেছেন। এতে বর্তমানে বাণিজ্যে অনেকটা গতি ফিরে হয়রানি কমেছে। যা সামনের দিনে প্রতিবন্ধকতা কাটিয়ে আমদানি-রপ্তানি বাড়াতে বড় ভূমিকা রাখবে।

তিনি আরও জানান, বিগত স্বৈরাচার হাসিনা সরকারের শেষ সময়ে পণ্য আমদানির জন্য ঋণপত্র (এলসি) খুলতে ব্যাংক থেকে চাহিদা অনুযায়ী ডলার পাওয়া যাচ্ছিল না। এ কারণে সে সময় পর্যাপ্ত এলসি খোলা সম্ভব ছিল না। কিন্তু বর্তমান সরকার দায়িত নেওয়ার পর ধীরে ধীরে ডলার সংকট কেটে গেছে। এখন আর আমদানিকারকদের এলসি খুলতে সমস্যা হচ্ছে না।

বেনাপোল স্থলবন্দরের পরিচালক (ট্রাফিক) মো. শামীম হোসেন জানান, ব্যবসা-বাণিজ্যের প্রসার ঘটানোর জন্য বেনাপোল স্থলবন্দরের পক্ষ থেকে সার্বক্ষণিক বন্দর খোলা রাখার ব্যাবস্থা করা হয়েছে। সপ্তাহে ৭ দিন ২৪ ঘণ্টা বন্দরে পণ্য লোড-আনলোড এবং আমদানি-রপ্তানি কার্যক্রম চালু রাখার ব্যাবস্থা করা হয়েছে। এছাড়া বন্দরে নতুন করে অবকাঠামো উন্নয়নের কাজ চলছে। এসব কাজ শেষ হলে বাণিজ্য সম্প্রসারণে বড় ভূমিকা রাখবে।

বেনাপোল কাস্টমস হাউসের কমিশনার মো. কামরুজ্জামান জানান, বৈধ আমদানি-রপ্তানি বাণিজ্য সহজীকরণের জন্য সময়োপযোগী প্রয়োজনীয় সংস্কার কার্য্যক্রম গ্রহণ করা হয়েছে। এতে বেনাপোলে সার্বিক আমদানি কমলেও রাজস্ব আদায় লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে চলতি বছরের ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত ২০৮.৬১ কোটি টাকা বেশি আদায় হয়েছে। রাজস্ব আদায়ের প্রবৃদ্ধি হয়েছে ১৩ দশমিক ১৯ শতাংশ। এরূপ পরিস্থিতি বিরাজ করলে অর্থবছর শেষে লক্ষ্যমাত্রা অর্জন সম্ভব হবে। এছাড়া রপ্তানি বাণিজ্যের ক্ষেত্রে অর্থবছরের প্রথম ৮ মাসে রপ্তানি পণ্যের পরিমাণ ৬ দশমিক ৮৯ শতাংশ কমলেও রপ্তানি পণ্যের মূল্য ২৮ দশমিক ০৭ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে।

দেশের মোট ২৪টি স্থলবন্দরের মধ্যে ভারতের সঙ্গে বাণিজ্য হয় ১৬টি বন্দর দিয়ে। এর মধ্যে সবচেয়ে বেশি বাণিজ্য হয় বেনাপোল-পেট্রাপোল বন্দরের মধ্যে।

এ বন্দরে আমদানি পণ্যের মধ্যে রয়েছে শিল্প কারখানার কাঁচামাল, তৈরি পোশাক, গার্মেন্টস, শিশু খাদ্য, মাছ, কেমিকেলসহ বিভিন্ন ধরনের পণ্য। আর রপ্তানি পণ্যের মধ্যে পাট, পাটের তৈরি পণ্য, গার্মেন্টস, তৈরি পোশাক, কেমিকেল, টিস্যু পেপার, মেলামাইন ও মাছ উল্লেখযোগ্য।

শেয়ার করুন-

মন্তব্য করুন

Protidiner Bangladesh

সম্পাদক : মারুফ কামাল খান

প্রকাশক : কাউসার আহমেদ অপু

রংধনু কর্পোরেট, ক- ২৭১ (১০ম তলা) ব্লক-সি, প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড) ঢাকা -১২২৯

যোগাযোগ

প্রধান কার্যালয়: +৮৮০৯৬১১৬৭৭৬৯৬ । ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন (প্রিন্ট): +৮৮০৯৬১১৬৭৭৮১০, +৮৮০১৮৮০৭৪৪৫৮০ | ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন (অনলাইন): +৮৮০১৮৮০৭৪৪৫৮০, +৮৮০১৭৯৯৪৪৯৫৫৯ । ই-মেইল: [email protected]

সার্কুলেশন: +৮৮০৯৬১১৬৭৭৮০৭, +৮৮০১৮৮০৭৪৪৩৩২ । ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন মূল্য তালিকা