প্রবা প্রতিবেদন
প্রকাশ : ০৪ ডিসেম্বর ২০২২ ১৮:৫১ পিএম
আপডেট : ০৪ ডিসেম্বর ২০২২ ১৯:৫৩ পিএম
বাংলাদেশ ব্যাংকের জাহাঙ্গীর আলম কনফারেন্স হলে নিয়মিত ব্যাংকার্স সভা শেষে এবিবির চেয়ারম্যান ও ব্র্যাক ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক সেলিম আরএফ হোসেন ও বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্বাহী পরিচালক ও নবনিযুক্ত মুখপাত্র মো. মেজবাউল হক।
ব্যাংকের সর্বোচ্চ সুদহার নিয়ে দুই রকম বক্তব্য দিচ্ছে অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ-এবিবি ও নিয়ন্ত্রক সংস্থা বাংলাদেশ ব্যাংক। মৌখিক নির্দেশনা অনুযায়ী ভোক্তাঋণের সুদহার ১২ শতাংশে উন্নীত করেছে ব্যাংকগুলো। কিন্তু বাংলাদেশ ব্যাংক বলছে, এ ধরনের কোনো মৌখিক নির্দেশনা দেওয়া হয়নি। খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, এরই মধ্যে ভোক্তা (ব্যক্তিগত, গাড়ি ইত্যাদি) ঋণের সুদের হার বৃদ্ধির সিদ্ধান্ত বাস্তবায়ন করে ফেলেছে অনেক ব্যাংক।
বাংলাদেশ ব্যাংকের জাহাঙ্গীর আলম কনফারেন্স হলে নিয়মিত ব্যাংকার্স সভা শেষে এবিবির চেয়ারম্যান ও ব্র্যাক ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক সেলিম আরএফ হোসেন বলেন, ভোক্তাঋণের সর্বোচ্চ সুদের হার মৌখিকভাবে ১২ শতাংশ পর্যন্ত উন্নীত করার অনুমতি দিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক। এরই মধ্যে আমরা বাস্তবায়নও করেছি। সম্প্রতি বিভিন্ন ব্যাংকে অনিয়মের বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, কেন্দ্রীয় ব্যাংক তদারকি করছে। কোনো ব্যত্যয় বা অনিয়ম পেলে নিশ্চয় আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি আরও বলেন, মাসখানেক আগে আমানতকারীরা টাকা উঠিয়ে নিচ্ছিল। কিন্তু বিশ্বাসের সেই সংকট কেটে গেছে। আমানতকারীরা পুনরায় টাকা ফেরত দিচ্ছেন, ব্যাংকে রাখছেন। এ ছাড়া বাণিজ্য ঘাটতি অনেকটাই কমে এসেছে। সহসাই ডলারসহ সামষ্টিক অর্থনৈতিক সংকট কেটে যাবে বলে আশা প্রকাশ করেন ব্র্যাক ব্যাংকের এমডি।
বৈঠক শেষে বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্বাহী পরিচালক ও নবনিযুক্ত মুখপাত্র মো. মেজবাউল হক জানান, ব্যাংকঋণের সুদহার বৃদ্ধির বিষয়ে কোনো মৌখিক নির্দেশনা দেওয়া হয়নি। সর্বোচ্চ ৯ শতাংশ সুদের বিষয়টি সার্কুলার জারি করে বাস্তবায়ন করা হয়েছিল। ভোক্তাঋণের ক্ষেত্রে বাড়ানোর প্রয়োজন হলে আবারও প্রজ্ঞাপন জারি করা হবে।
তিনি বলেন, আজকের সভার মূল বিষয়বস্তু ছিল আগামী রমজানকেন্দ্রিক আমদানি-রপ্তানি স্বাভাবিক রাখা। ছোলা ও ডালসহ প্রয়োজনীয় পণ্য আমদানিতে যে ধরনের সহযোগিতা প্রয়োজন, সব ধরনের সাপোর্ট দিয়ে যাবে বাংলাদেশ ব্যাংক। পাশাপাশি যাতে দেশে কোনো খাদ্যসংকট তৈরি না হয়, সেজন্য কৃষিঋণ বৃদ্ধির নির্দেশনা দিয়েছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক। যারা লক্ষ্যমাত্রা অর্জন করতে পারছে না, তাদের টাকা অন্য ব্যাংকের মাধ্যমে হলেও কৃষকের কাছে পৌঁছানোর সিদ্ধান্ত হয়েছে।
সাংবাদিকদের প্রশ্নের উত্তরে তিনি বলেন, ইদানীং টাকা জমা দিতে গেলে বিভিন্ন আমানতকারী ব্যাংকারদের জবাবদিহির শিকার হচ্ছেন। তাই অন্তত ১০ লাখ টাকা পর্যন্ত জমা দিতে যাওয়া কোনো গ্রাহককে অতিরিক্ত প্রশ্নের মুখোমুখি না করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। তিনি আরও বলেন, হুন্ডি বন্ধ করার জন্য সর্বোচ্চ সতর্কতা অবলম্বন করছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক। এর মাধ্যমে যাতে কোনো টাকা পাচার না হয়, সে বিষয়ে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের তদারকি অব্যাহত রয়েছে।
ইসলামী ব্যাংকের অনিয়মের বিষয়ে মেজবাউল হক জানান, ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশের একটি অন্যতম বৃহত্তম ব্যাংক। এখানে গ্রাহকদের আমানতের পূর্ণ নিশ্চয়তা রয়েছে। সেখানে কোনো দুর্নীতি হয়েছে কি না সে বিষয়ে তদন্ত করছে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের ইন্সপেকশন বিভাগ। ইন্সপেকশন শেষ হলে সে বিষয়ে জানানো হবে বলে মন্তব্য করেছেন নতুন মুখপাত্র।