প্রবা প্রতিবেদক
প্রকাশ : ০৭ মার্চ ২০২৫ ১২:২২ পিএম
ফাইল ফটো
অন্তর্বর্তী সরকারের নানামুখী পদক্ষেপে কমতে শুরু করেছে মূল্যস্ফীতির পারদ। গেল ফেব্রুয়ারি মাসে দেশে সার্বিক মূল্যস্ফীতির হার ছিল ৯ দশমিক ৩২ শতাংশ; যা আগের ২২ মাসের তুলনায় সর্বনিম্ন। এর আগে ২০২৩ সালের এপ্রিলে সার্বিক মূল্যস্ফীতি ছিল ৯ দশমিক ২৪ শতাংশ।
সার্বিক মূল্যস্ফীতি কমার পাশাপাশি ১০ মাস পর খাদ্য মূল্যস্ফীতি ১০ শতাংশের নিচে নেমেছে। ফেব্রুয়ারিতে খাদ্য মূল্যস্ফীতি কমে ৯ দশমিক ২৪ শতাংশে দাঁড়িয়েছে। গত বছরের মার্চ মাসের পর খাদ্যের মূল্যস্ফীতি আর এক অঙ্কের ঘরে নামেনি। তখন খাদ্য মূল্যস্ফীতির হার ছিল ৮ দশমিক ৮৭ শতাংশ।
বৃহস্পতিবার বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর (বিবিএস) মূল্যস্ফীতির হালনাগাদ প্রতিবেদনে এসব তথ্য উঠে এসেছে। মূল্যস্ফীতি ৯ দশমিক ৩২ শতাংশের অর্থ হলো ২০২৪ সালের ফেব্রুয়ারিতে যে পণ্য কিনতে ১০০ টাকা খরচ করতে হতো সেই একই ধরনের পণ্য ২০২৫ সালের ফেব্রুয়ারিতে কিনতে খরচ করতে হয়েছে ১০৯ টাকা ৩২ পয়সা।
বিবিএসের তথ্যমতে, গত আড়াই বছর ধরেই সার্বিক মূল্যস্ফীতির মাসিক হার ৯ শতাংশের ওপরে রয়েছে। তথ্য বলছে, জানুয়ারিতে দেশের সার্বিক মূল্যস্ফীতি ছিল ৯ দশমিক ৯৪ শতাংশ। ফেব্রুয়ারিতে ৯ দশমিক ৩২ শতাংশ। সে হিসাবে এক মাসের ব্যবধানে কমল শূন্য দশমিক ৬২ শতাংশ পয়েন্ট।
বিবিএসের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানান, শীতের শাকসবজির দাম বেশ কম। চালের বাজারও খুব বেশি পরিবর্তন নেই। এসব কারণে খাদ্যের মূল্যস্ফীতি কিছুটা কমেছে। বিবিএসের পরিসংখ্যান বলছে, ফেব্রুয়ারিতে এসে খাদ্য মূল্যস্ফীতি ১ দশমিক ৪৮ শতাংশ পয়েন্ট কমে দাঁড়ায় ৯ দশমিক ২৪ শতাংশে; যা জানুয়ারিতেও ছিল ১০ দশমিক ৭২ শতাংশ। তবে খাদ্যবহির্ভূত মূল্যস্ফীতি কিছুটা বেড়েছে। গত মাসে এ হার ছিল ৯ দশমিক ৩৮ শতাংশ। গত জানুয়ারি মাসে খাদ্যবহির্ভূত মূল্যস্ফীতির হার ছিল ৯ দশমিক ৩২ শতাংশ। হার কমলেও এখনও শহরের তুলনার গ্রামে মূল্যস্ফীতি বেশি। গ্রামে সাধারণ মূল্যস্ফীতির হার ৯ দশমিক ৫১ শতাংশ এবং শহরে ৯ দশমিক ৩৪ শতাংশ।
ফেব্রুয়ারিতে শহরের খাদ্য খাতে মূল্যস্ফীতি দাঁড়িয়েছে ৯ দশমিক ৪৭ শতাংশে। জানুয়ারিতে যা ছিল ১০ দশমিক ৯৫ শতাংশ। অর্থাৎ এক মাসে মূল্যস্ফীতি কমল ১ দশমিক ৪৮ শতাংশ পয়েন্ট।
অন্যদিকে গ্রামের খাদ্য মূল্যস্ফীতি ফেব্রুয়ারিতে ১ দশমিক ৪৬ শতাংশ পয়েন্ট কমে ৯ দশমিক ১৫ শতাংশে দাঁড়িয়েছে। জানুয়ারিতে যা ছিল ১০ দশমিক ৬১ শতাংশ। গ্রামে এর মধ্যে দশমিক ১২ শতাংশ পয়েন্ট খাদ্যবহির্ভূত খাতে মূল্যস্ফীতি বেড়ে ফেব্রুয়ারিতে দাঁড়িয়েছে ৯ দশমিক ৮৫ শতাংশ। জানুয়ারিতে যা ছিল ৯ দশমিক ৭৭ শতাংশ।
শহরে খাদ্যবহির্ভূত খাতে মূল্যস্ফীতি বেড়েছে দশমিক ২ শতাংশ পয়েন্ট। ফেব্রুয়ারিতে দাঁড়িয়েছে ৯ দশমিক ২৭ শতাংশ; বছরের প্রথম মাসে যা ছিল ৯ দশমিক ২৫ শতাংশ।
অন্তর্বর্তী সরকার ক্ষমতায় আসার পর সুদের হার বাড়িয়ে মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করা হয়। এনবিআরও তেল, আলু, পেঁয়াজ, ডিমসহ বেশ কিছু নিত্যপণ্যে শুল্ককর কমিয়ে দেয়। বাজারে নিত্যপণ্যের আমদানি প্রবাহ ঠিক রাখার চেষ্টা করা হয়। আগামী জুন নাগাদ মূল্যস্ফীতির হার ৬ থেকে ৭ শতাংশে নামিয়ে আনা সম্ভব হবে বলে আশা করছে সরকার।