× ই-পেপার প্রচ্ছদ সর্বশেষ বাংলাদেশ রাজনীতি দেশজুড়ে বিশ্বজুড়ে বাণিজ্য খেলা বিনোদন মতামত চাকরি শিক্ষা আজকের কার্টুন ফিচার সকল বিভাগ ছবি ভিডিও লেখক আর্কাইভ কনভার্টার

ছোলা খেজুরের দামে এবার উল্টোচিত্র!

প্রবা প্রতিবেদক, ঢাকা ও চট্টগ্রাম

প্রকাশ : ২২ ফেব্রুয়ারি ২০২৫ ০৯:২০ এএম

আপডেট : ২২ ফেব্রুয়ারি ২০২৫ ১১:১১ এএম

ছবি : সংগৃহীত

ছবি : সংগৃহীত

রমজান সামনে রেখে প্রতি বছরই ব্যাপকভাবে বেড়ে যায় ছোলা, মটর, চিনি, তেল, ডাল, খেজুরসহ বেশ কিছু পণ্যের চাহিদা। তার সঙ্গে পাল্লা দিয়ে বাড়ে এসব পণ্যের দামও। এ সময় বাজার নিয়ন্ত্রণে রাখতে সরকারিভাবে বিভিন্ন পদক্ষেপ নেওয়া হলেও বাস্তবে দেখা যায়, রোজা এলেই যেন কিছু কিছু পণ্যের দাম বাড়ানোর প্রতিযোগিতায় নেমে পড়েন একশ্রেণির অসাধু ব্যবসায়ী। প্রতিবারের মতো এবারও রমজানে ভোগ্যপণ্যের দাম সহনীয় পর্যায়ে রাখতে শুল্ককর কমানোসহ বেশ কিছু উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এখন পর্যন্ত বাজারের চিত্র হচ্ছে, এসব উদ্যোগের ফলে এবার ছোলা ও খেজুরের দাম বরং কিছুটা কমেছে।

খোঁজ নিয়ে দেখা যায়, গত সপ্তাহের তুলনায় এখন বাজারে কেজিপ্রতি খেজুরের দাম কমেছে ৫০ থেকে ১০০ টাকা। অন্যদিকে ছোলার দাম কমেছে কেজিপ্রতি ৩ থেকে ৪ টাকা। তবে ফলনের মৌসুম না হওয়ার কারণে লেবুর দাম অস্বাভাবিক বেড়েছে। গতকাল শুক্রবার বাজারভেদে এক হালি লেবু ৭০-৮০ টাকায় বিক্রি হতে দেখা গেছে। চিড়া ও মুড়ির দামও কিছু বেড়েছে। তা ছাড়া ভোজ্য তেলের সংকট এখনও কাটেনি। রাজধানীর কারওয়ান বাজার, মোহাম্মদপুর টাউন হল বাজার, বাদামতলীর পাইকারি আড়ত ও চট্টগ্রামের বিভিন্ন বাজার ঘুরে এমন চিত্র দেখা গেছে।

রাজধানীর বাজার

রমজানে ছোলা, মটর ও খেসারি ডালসহ বিভিন্ন পণ্যের চাহিদা বেড়ে যায়। এতে এসব পণ্যের দামও বাড়ে। কিন্তু এবার ছোলার দাম কমেছে। কারওয়ান বাজারে বুটের ডাল বিক্রি হচ্ছে ১২০ টাকা কেজিতে। ছোলা ১১৫ টাকা, যা দুই সপ্তাহ আগেও ছিল ১২০-১২৫ টাকা, মুগডাল ১৭০ টাকা, চিনি ১২৫ টাকা। খেজুরের মধ্যে দাবাস ৪৬০ থেকে ৪৮০ টাকা, জাহিদি ২০০ থেকে ২৬০ টাকা, আজোয়া ১ হাজার ৪০০ টাকা, মাশারুক ৭০০ থেকে ৮০০ টাকা, বরই খেজুর প্রতি কেজি ৫০০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে।

লেবু ছাড়াও বেড়েছে চিড়া, মুড়ি ও ফলের দাম

মুড়ি প্রকারভেদে ৮০ থেকে ১৪০ টাকা, চিড়া ৭০ থেকে ৮০ টাকা, চানাচুর ১৫০ থেকে ১৭০ টাকা, আখের গুড় ১৩০ থেকে ১৮০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। গত সপ্তাহের তুলনায় এসব পণ্যের দাম কেজিপ্রতি ২০ থেকে ৩০ টাকা বেড়েছে। বাজারগুলোতে বড় ও মাঝারি আকারের লেবু প্রতি হালি বিক্রি হচ্ছে ৮০ টাকা দরে। সেই হিসাবে এক পিস লেবুর দাম গুনতে হচ্ছে ২০ টাকা। বাজার সংশ্লিষ্টরা বলছেন, কিছুদিন আগেও যে লেবুর হালি বিক্রি হয়েছে ২০-৩০ টাকা, তা এখন বিক্রি হচ্ছে ৭০ থেকে ৮০ টাকায়।

টাউন হল বাজারে দেখা যায়, প্রতি কেজি মাল্টা ২৮০ টাকা, আপেল ৩৮০ থেকে ৪০০ টাকা, কমলা ৩৫০ টাকা, আঙ্গুর ৩৫০ টাকা, পাকা পেঁপে ১০০ টাকা, পেয়ারা ১০০ থেকে ১২০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।

বাদামতলীর পাইকারি বাজারের চিত্র 

রাজধানীর বাদামতলীর ফলের আড়তগুলো ঘুরে দেখা গেছে, দুই সপ্তাহের ব্যবধানে খেজুরসহ বিভিন্ন ফলের দাম কিছুটা বেড়েছে। তানভীর এন্টারপ্রাইজের মালিক মমিন ইসলাম জানান, গত দুই সপ্তাহ ধরে খেজুরের চাহিদা বাড়ছে। দাম আগের তুলনায় বেড়েছে। তার ধারণা রমজানে দাম আরও বাড়বে। 

বাদামতলী পাইকারি বাজারে দেখা গেছে, সাধারণ মানের খেজুরের ৪০ কেজির বস্তা বিক্রি হচ্ছে ৬ হাজার টাকায়। মরিয়ম খেজুর ৫ কেজির বক্সের দাম ২ হাজার ৫০০ টাকা। বড় মরিয়ম ৫ কেজির বক্স ৪ হাজার ৬০০ টাকা। কালমি মরিয়ম ৫ কেজির বক্স ৫ হাজার টাকায়, মাসরুক ৫ কেজির বক্স বিক্রি হচ্ছে ২ হাজার ৫০০ টাকায়, মাবরুম ৫ কেজির বক্স বিক্রি হচ্ছে ৫ হাজার ৫০০ টাকায়। আজোয়া খেজুর বিভিন্ন মানের বিক্রি হচ্ছে বিভিন্ন দামে। এর মধ্যে ৫ কেজির বক্স ৬ হাজার, ৫ হাজার, ৪ হাজার ২০০ টাকায়ও বিক্রি হচ্ছে। বাজারে সবচেয়ে বেশি দামে মেডজুল খেজুর বিক্রি হচ্ছে। ৫ কেজির বক্স ৭ হাজার ৫০০ টাকা।

সদরঘাটের বাজারগুলোতে খুচরা পর্যায়ে প্রতি কেজি আপেল বিক্রি হচ্ছে ৩২০-৩৪০ টাকা, যা দুই সপ্তাহ আগেও ২৭০-২৮০ টাকায় বিক্রি হয়েছে। প্রতি কেজি কমলা আগে ছিল ২৫০-২৭০ টাকা। এখন বিক্রি হচ্ছে ৩০০-৩২০ টাকা। চায়না কমলা বিক্রি হচ্ছে ৩৩০-৩৪০ টাকা কেজি দরে। যার আগে ৩০০ টাকা ছিল। মাল্টা প্রতি কেজি বিক্রি হচ্ছে ৩১০-৩৩০ টাকা। এক সপ্তাহ আগে দাম ছিল ২৫০-২৬০ টাকা। সবুজ আঙ্গুর বিক্রি হচ্ছে ৪৬০-৪৮০ টাকা কেজিতে। দুই সপ্তাহ আগে দাম ছিল ৪০০-৪১০ টাকা। প্রতি কেজি লাল আঙ্গুর বিক্রি হচ্ছে ৬২০-৬৩০ টাকা কেজি দরে। আগে ছিল ৫০০ টাকা।

ভোজ্য তেলের সংকট কাটছে না

ভোজ্যতেলের সংকট কাটছে না। শুল্ককর কমানোর পরও বাজারে মিলছে না সয়াবিন তেল। সরবরাহ সংকটের কারণে খুচরা মূল্যের চেয়ে লিটারপ্রতি ১০ থেকে ১৫ টাকা বেশি দামে সয়াবিন তেল কিনতে হচ্ছে ক্রেতাদের। বোতলের গায়ে মূল্য ১৭৫ টাকা থাকলেও বাজারে এখন প্রতি লিটার সয়াবিন তেল বিক্রি হচ্ছে ১৯০ টাকায়। এরপরও মুদি দোকানগুলোতে নেই পর্যাপ্ত সরবরাহ।

জানতে চাইলে কনজ্যুমারস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (ক্যাব) কেন্দ্রীয় কমিটির সহ-সভাপতি এসএম নাজের হোসাইন প্রতিদিনের বাংলাদেশকে বলেন, ‘রমজানে ভোগ্যপণ্যের দাম যাতে না বাড়ে সেজন্য প্রতি বছর সরকার নানা উদ্যোগ নেয়। কিন্তু ব্যবসায়ীরা এসব উদ্যোগ সফল হতে দেয় না। তারা একেকবার একেক পণ্য নিয়ে সংকট তৈরি করে সরকারের সব উদ্যোগ ব্যর্থ করে দেয়। এবারও ঠিক একই কাজ করেছে। ব্যবসায়ীদের দাবির মুখে ভোজ্য তেল আমদানিতে শুল্ককর কমানোর পরও তারা কৃত্রিম সংকট তৈরি করে বাজার অস্থিতিশীল করে রেখেছে। যে কারণে এখন মুদি দোকানে গিয়ে সয়াবিন তেল মিলছে না। সরকার ছোলা, খেজুরের দাম যে কিছুটা কমাতে সক্ষম হয়েছে সেটি ম্লান হয়ে যাচ্ছে ভোজ্য তেলের সংকটের কারণে।’

কমেছে ছোলার দাম

রমজান সামনে রেখে ছোলার আমদানি বাড়ায় চট্টগ্রামের খাতুনগঞ্জে বেড়েছে সরবরাহ। আর তাতে কমতে শুরু করেছে ছোলার দাম। বাজারে ছোলার দাম মানভেদে কেজিতে ৩ থেকে ৪ টাকা কমেছে বলে জানিয়েছেন ব্যবসায়ীরা। গত বৃহস্পতিবার খাতুনগঞ্জে প্রতি কেজি ছোলা বিক্রি হয়েছে ৮৫ টাকা থেকে সর্বোচ্চ ১০৫ টাকায়। সরবরাহ বাড়ায় বর্তমানে দাম কিছুটা কমলেও গত বছরের একই সময়ের তুলনায় এখনও ছোলার দাম অনেক বেশি। গত বছর রমজানের আগে পাইকারিতে প্রতি কেজি ছোলা বিক্রি হয়েছে ৮০ থেকে সর্বোচ্চ ৯৬ টাকায়। এই হিসাবে গত বছরের তুলনায় এখন কেজিতে ৭ থেকে ৮ টাকা বেশি দামে বিক্রি হচ্ছে ছোলা। 

কৃষি মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, দেশে ছোলার চাহিদা বছরে ১ লাখ ৫০ হাজার টন। এর মধ্যে শুধু রমজান মাসে চাহিদা থাকে প্রায় এক লাখ টন। এই হিসাবে দেশে প্রতি বছর এক লাখ ৮০ হাজার থেকে দুই লাখ মেট্রিক টন ছোলা আমদানি হয়। উদ্ভিদ সংঘ নিরোধ চট্টগ্রাম সমুদ্রবন্দরের তথ্য অনুযায়ী, চলতি অর্থবছরের গত সাড়ে সাত মাসে ছোলা আমদানি হয়েছে ২ লাখ ২৬ হাজার ৩৭৯ মেট্রিক টন। এর মধ্যে শুধু জানুয়ারি মাসে আমদানি হয়েছে এক ১৩ হাজার ৩০৪ মেট্রিক টন। এর বাইরে চলতি মাসের (ফেব্রুয়ারি) ১৬ দিনে ছোলা আমদানি হয়েছে ৮২ হাজার ৭১৭ মেট্রিক টন। সেই হিসাবে গত দেড় মাসে চট্টগ্রাম সমুদ্রবন্দর দিয়ে ছোলা আমদানি হয়েছে প্রায় ১ লাখ ৯৬ হাজার মেট্রিক টন, যা রমজানে ছোলার চাহিদার প্রায় দেড়গুণ।

কমেছে খেজুরের দাম

ছোলা, মটরের মতো সরবরাহ বাড়ায় বাজারে কিছুটা কমেছে খেজুরের দাম। খেজুরের অন্যতম পাইকারি বাজার চট্টগ্রামের পুরাতন রেলস্টেশন সংলগ্ন ফলমন্ডি এলাকার বিভিন্ন দোকানে খোঁজ নিয়ে জানা যায়, জাতভেদে কেজিপ্রতি খেজুরের দাম কমেছে ৫০ থেকে ১০০ টাকা। ব্যবসায়ীরা বলছেন, সরকার শুল্ককর কমানোর পাশাপাশি রমজান সামনে রেখে আমদানি বেড়ে যাওয়ায় দাম কমেছে। খেজুরের পর্যাপ্ত সরবরাহ আছে জানিয়ে ব্যবসায়ীরা বলেন, সামনেও দাম আর বাড়বে না।

সরকারি তথ্য অনুযায়ী, দেশে খেজুরের বার্ষিক চাহিদা ৯০ হাজার থেকে এক লাখ টন। এর মধ্যে রমজানে খেজুরের চাহিদা থাকে ৫০ থেকে ৫৫ হাজার মেট্রিক টন। চট্টগ্রাম সমুদ্রবন্দর দিয়ে খেজুর আমদানির তথ্য বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে, চলতি অর্থবছরের গত সাড়ে ৭ মাসে ৩৭ হাজার ৫৭০ মেট্রিক টন খেজুর আমদানি হয়েছে। যার প্রায় ৮০ শতাংশ আমদানি হয়েছে গত দেড় মাসে। এর মধ্যে জানুয়ারি মাসে আমদানি হয়েছে ১৪ হাজার ৮৪৯ মেট্রিক টন। আর ফেব্রুয়ারি মাসের গত ১৬ দিনে আমদানি হয়েছে ১৬ হাজার ৭৯৪ মেট্রিক টন। 

ব্যবসায়ীরা যা বলছেন

বাংলাদেশ ফ্রেশ ফ্রুটস ইমপোর্টার অ্যাসোসিয়েশনের সাংগঠনিক সম্পাদক ও চট্টগ্রাম ফল ব্যবসায়ী সমিতির সাধারণ সম্পাদক মুহাম্মদ তৌহিদুল আলম বলেন, রমজান সামনে রেখে মূলত বাজারে খেজুরের সরবরাহ বেড়েছে। গত বছরের তুলনায় শুল্ককর কিছুটা কম হওয়ায় দামও কিছুটা কমেছে। রমজানের আগের কয়েক দিন প্রচুর খেজুর আমদানি হবে। আশা করছি, এবার বাজারে খেজুরের কোনো সংকট হবে না।

অন্যান্য পণ্য

রাজধানীর বাজারগুলোতে ব্রি২৮ চাল ৬০ টাকা, মিনিকেট ৭৮ টাকা, নাজিরশাইল ৮২ টাকা, চিনিগুড়া চাল ১২০ টাকা দরে কেজিপ্রতি হারে বিক্রি হচ্ছে। প্যাকেটের আটা ৫০ টাকা এবং ময়দা ৬৫ টাকা কেজিপ্রতি দরে বিক্রি হচ্ছে। তবে ডাল ও চিনির দাম কিছুটা কমেছে। মসুর ডাল ১০৫ টাকা। পেঁয়াজ ৩৮ থেকে ৪২ টাকা, বেগুন ৪০ টাকা, রসুন ১৩০ থেকে ১৫০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। এদিকে মাংসের বাজারে দেখা যায়, প্রতি কেজি গরুর মাংস ৭৫০ থেকে ৭৮০ টাকা, ছাগলের মাংস ১ হাজার ১০০ থেকে ১ হাজার ২০০ টাকা, ব্রয়লার ১৯০ টাকা ও সোনালি মুরগি ৩০০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে।

শেয়ার করুন-

মন্তব্য করুন

Protidiner Bangladesh

সম্পাদক : মারুফ কামাল খান

প্রকাশক : কাউসার আহমেদ অপু

রংধনু কর্পোরেট, ক- ২৭১ (১০ম তলা) ব্লক-সি, প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড) ঢাকা -১২২৯

যোগাযোগ

প্রধান কার্যালয়: +৮৮০৯৬১১৬৭৭৬৯৬ । ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন (প্রিন্ট): +৮৮০৯৬১১৬৭৭৮১০, +৮৮০১৮৮০৭৪৪৫৮০ | ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন (অনলাইন): +৮৮০১৮৮০৭৪৪৫৮০, +৮৮০১৭৯৯৪৪৯৫৫৯ । ই-মেইল: [email protected]

সার্কুলেশন: +৮৮০৯৬১১৬৭৭৮০৭, +৮৮০১৮৮০৭৪৪৩৩২ । ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন মূল্য তালিকা