বিএডিসির প্রকল্প
প্রবা প্রতিবেদক
প্রকাশ : ১৯ ফেব্রুয়ারি ২০২৫ ১৩:০৫ পিএম
প্রবা গ্রাফিক্স
খাদ্য নিরাপত্তার জন্য একমাত্র অবলম্বন কৃষি। মোট দেশজ উৎপাদনে (জিডিপি) এ খাতের অবদান প্রায় ১১ দশমিক ৩৭ শতাংশ। কিন্তু উন্নত বীজের অভাবে এ খাতকে গতিশীল করা যাচ্ছে না। বিপুল পরিমাণ বীজ বিদেশ থেকে আমদানি করতে হয়। নিম্নমানের বীজের কারণে ক্ষতিগ্রস্ত হয় কৃষক ও কৃষি। এই সমস্যা থেকে উত্তরণে সরকার ৪৭৪ কোটি টাকা ব্যয়ের একটি প্রকল্প গ্রহণ করেছে। এ প্রকল্পের মাধ্যমে ধান, গম ও ভুট্টার উন্নত বীজ উৎপাদন করা হবে। সম্প্রতি অনুষ্ঠিত জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির (একনেক) সভায় প্রকল্পটি অনুমোদন দেওয়া হয়। প্রকল্পটির উদ্যোগ নিয়েছে কৃষি মন্ত্রণালয়।
একনেকের উইং সূত্রে জানা গেছে, প্রকল্পটি বাস্তবায়নে মোট খরচ ধরা হয়েছে ৪৭৪ কোটি ৬৭ লাখ টাকা। প্রকল্পের মেয়াদকাল ধরা হয়েছে চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে ২০২৮ সালের ডিসেম্বর পর্যন্ত। চার বছর মেয়াদি এ প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করবে বাংলাদেশ কৃষি উন্নয়ন করপোরেশন (বিএডিসি)। দেশের তিন বিভাগের চারটি জেলার ১৪টি উপজেলায় প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করা হবে।
একনেক সভা সূত্রে জানা গেছে, প্রকল্পের মূল উদ্দেশ্য বলা হয়েছে, জাতীয়ভাবে উন্নত প্রযুক্তিতে গুণগত মানসম্পন্ন ধান, গম ও ভুট্টার বীজ উৎপাদন করা হবে। একই সঙ্গে চুক্তিবদ্ধ ও প্রশিক্ষিত চাষিদের কাছে এই বীজ বিতরণ করা হবে। এর মাধ্যমে দেশের বীজের বাড়তি চাহিদা পূরণ ও খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণসহ আর্থ-সামাজিক উন্নয়ন করা সম্ভব হবে।
জানতে চাইলে বিএডিসির পরিকল্পনা বিভাগের প্রধান মো. ফেরদৌস রহমান বলেন, ‘আমাদের মূল লক্ষ্য হলোÑ কৃষকদের ডাল ও তেলবীজের প্রক্রিয়াজাতকরণ, সংরক্ষণের কলাকৌশল ও কারিগরি জ্ঞান ও দক্ষতা প্রশিক্ষণের মাধ্যমে বৃদ্ধি করা। কৃষকদের কাছ থেকে উৎপাদিত ভালো জাতের ডাল ও তেলবীজ সংগ্রহ করে আরও বেশি তাদের কাছে পৌঁছে দেওয়া।’
তিনি বলেন, ‘আমাদের দেশের ডাল ও তেল বেশিরভাগই আমদানি করে আনতে হয়। এই প্রকল্পের মাধ্যমে আমাদের আমদানি-নির্ভরতা কমিয়ে আনতে সাহায্য করবে এবং ন্যায্যমূল্যে বীজ সরবরাহ করা হবে।’
এ ব্যাপারে কৃষি মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব (প্ল্যানিং অনুষদ) মো. মাহাবুবুল হক পাটওয়ারী বলেন, ‘এই প্রকল্পে ডাল ও তেলবীজ উৎপাদনের মাধ্যমে কৃষককে স্বনির্ভর করে গড়ে তোলা হবে। বীজ উৎপাদন করে সেটা ডিলারের মাধ্যমে কৃষকদের কাছে বিক্রি করা হবে। এতে করে আমদানির ওপর চাপ কমবে এবং স্বল্পমূল্যে কৃষকদের ভালো বীজ সরবরাহ করা যাবে। বাংলাদেশের যেসব জেলাতে ভালো ডাল ও তেলবীজ উৎপাদন হয়, সেখানে ডিলারের মাধ্যমে বিক্রি করা হবে।’
তিনি আরও বলেন, ‘আমাদের বর্তমানে প্রায় ৮০ শতাংশের ওপরে আমদানি করে ডাল ও তেলবীজ সরবরাহ করা হয়। তাই আমাদের লক্ষ্য হলো, আমদানি-নির্ভরতা কমিয়ে আনা। তার সঙ্গে স্বল্পমূল্যে কৃষকের কাছে উন্নতমানের বীজ সরবরাহ করা। এতে করে কৃষকরা যেমন উপকৃত হবে, পাশাপাশি আমাদের দেশের উৎপাদনও অনেক বাড়বে।’
প্রকল্পের মূল কার্যক্রমে উল্লেখ করা হয়েছে, চুক্তিবদ্ধ চাষিদের মাধ্যমে ১ লাখ ৩৬ হাজার টন ধান, গম ও ভুট্টা বীজ উৎপাদন, সংরক্ষণ ও সরবরাহ করা। এ ছাড়া ১ হাজার ২০০ টন হাইব্রিড ভুট্টাবীজ ক্রয়, লোডিং-আনলোডিং শেড, পাকা রাস্তা, হেরিংবোন বড় রাস্তা ও ড্রেন নির্মাণ করা হবে।
মূল কার্যক্রমে আরও উল্লেখ করা হয়েছে, বীজ উৎপাদনকারী চুক্তিবদ্ধ চাষি এবং কর্মকর্তাদের প্রশিক্ষণ দেওয়া, ক্লিনার কাম গ্রেডার মেশিন, ডিজিটাল ওজন যন্ত্র, ময়েশ্চার মিটার, পিউরিটি বোর্ড, ডিজিটাল সিড কাউন্টার, সিড ডিভাইডার, ডানেজ, ত্রিপলু, ফিউমিগেশন শিট ইত্যাদি ক্রয় ও বিতরণ করা।
বীজ আনা-নেওয়ার জন্য বিভিন্ন ধরনের গাড়ি কেনা ও ভাড়া করা হবে। এর মধ্যে একটি জিপ গাড়ি, একটি ডাবল কেবিন পিকআপ, ছয়টি ট্রাক (প্রতিটির ধারণক্ষমতা থাকবে ৫ থেকে ৭ টন) এবং ৬টি ট্রাক (ধারণক্ষমতা ১০ থেকে ১২ টন)। এই পরিবহনগুলো ভাড়ায় নেওয়া হবে। এ ছাড়া কর্মকর্তাদের মাঠ পর্যায়ে যাতায়াত ও অন্যান্য কার্যক্রম পরিচালনা করার জন্য ১২৫ সিসির ১৬টি মোটরসাইকেল ও ১২টি বাইসাইকেল কেনা হবে।
প্রকল্প প্রস্তাবে উদ্যোগী সংস্থা কৃষি মন্ত্রণালয় বলেছে, ক্রমবর্ধমান জনসংখ্যার চাপে দেশে কৃষিজমির পরিমাণ কমছে। জনসংখ্যার খাদ্য চাহিদা মেটানোর জন্য একরপ্রতি ফলন বাড়ানোই একমাত্র পথ। এজন্য উন্নতমানের বীজ কৃষকদের কাছে সরবরাহ করার মাধ্যমে অধিক উৎপাদন নিশ্চিত করা সম্ভব। চাষিদের উন্নতমানের বীজ সরবরাহ করার জন্য সরকারি খাতে বীজ ব্যবস্থাপনা শক্তিশালী করা আবশ্যক। বিএডিসি চুক্তিবদ্ধ চাষিদের বিভিন্ন ফসলের ভিত্তি বীজ সরবরাহ করে।
উদ্যোগী সংস্থা আরও মনে করছে, যেহেতু বীজ উৎপাদনের জন্য সরকারিভাবে পর্যাপ্ত খামার বা জমি নেই, সেহেতু কন্ট্রাক্ট গ্রোয়ার্স পদ্ধতি অবলম্বন ছাড়া দেশের সাধারণ কৃষকদের ভালো বীজের (পরীক্ষিত ও প্যাকেটজাত) চাহিদা পূরণের বিকল্প নেই।